ইন-ভিট্রো (In-vitro) সংরক্ষণ বলতে কাঁচের বোতলে উদ্ভিদ সংরক্ষণ ব্যবস্থাকে বোঝায়। প্রকৃত অর্থে এটি টিস্যু কালচার। যে সব প্রজাতির বংশবৃদ্ধির একমাত্র উপায় অঙ্গজ প্রজনন, শুধু সে সব উদ্ভিদ সংরক্ষণে এটিই একমাত্র উপায়।

In-vitro সংরক্ষণের আর একটি পদ্ধতি হচ্ছে হিম সংরক্ষণ বা ক্রায়োপ্রিজারভেশন (cryopreservation)। ক্রায়োপ্রিজারভেশন প্রতিক্রিয়ায় জীবিত বস্তু যেমন, উদ্ভিদের ক্ষেত্রে-ভাজক টিস্যু, কোষের প্রোটোপ্লাস্ট। ভ্রুণ অথবা একটি মাত্র কোষ এবং প্রাণীর ক্ষেত্রে শুক্রাণু, ডিম্বাণু, ভ্রুণ ইত্যাদিকে দীর্ঘদিন অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রায় সংরক্ষণ ও মজুদ রাখা যায়।

সাধারণত তরল নাইট্রোজেনে খুব শীতল অবস্থায় (–১৯৬° সেঃ) রেখে সংরক্ষিত জীবজ বস্তুর সকল জৈবনিক বিক্রিয়া ও বিপাকীয় (metabolic) কর্মকাণ্ড নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্থগিত করে দেওয়া হয়। এতে সংরক্ষিত জীবজ বস্তু যাতে বিনষ্ট না হয় সেদিকেও যথাযথ নজর রাখা হয়। কোনো প্রকার ক্ষতি ছাড়া এ প্রক্রিয়ায় সংরক্ষিত জীবজ বস্তুকে পুনরুজ্জীবিত করা হয়। বর্তমানে এটি বহুল প্রচলিত ইন-ভিট্রো সংরক্ষণ পদ্ধতি।

বর্তমানে আমাদের দেশে মৎস্য সম্পদ উন্নয়নে ক্রায়োপ্রিজারভেশন পদ্ধতির উপযোগিতা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সিলভার কার্প, কমন কার্প, রুই, কাতলা ও মৃগেল মাছের শুক্রাণু সংরক্ষণে এ প্রক্রিয়ায় উপযোগিতা দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের মহিষের শুক্রাণু সংরক্ষণ সাফল্যের সাথে চলে আসছে। বিশ্বের বেশ কিছু দেশে বিপন্ন জীব এবং অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছে এমন সব প্রাণীর গ্যামেট ও ভ্রুণকে ক্রায়োপ্রিজারভেশনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের জন্য সংরক্ষণ করে রাখা হচ্ছে।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x