একটি দেশ যখন নিজ আধিপত্যের জোরে অন্য কোনো দেশে উপনিবেশ প্রতিষ্ঠা করে তখন সেই শাসনকে ঔপনিবেশিক শাসন বলে।

ঔপনিবেশিক শাসনের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে দখলদার শক্তি যতদিন শাসক হিসেবে থাকে ততদিন সেই দেশের ধন-সম্পদ নিজ দেশে পাচার করে। তারপর যখন জনগণ তাদের শাসনে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে তখন তারা নিজ দেশে ফিরে যায়।

বাংলায় ঔপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠার কারণ
বাংলায় ঔপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠার কারণ নিম্নে বর্ণনা করা হলো—

১. প্রায় দুইশ বছরের স্বাধীন সুলতানি আমল ছাড়া বহিরাগত শাসকদের দীর্ঘ শাসনকালে বাংলার সাধারণ মানুষ চরম অর্থনৈতিক শোষণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এ কারণে জনগণ শাসকদের প্রতি বিমুখ ও উদাসীন ছিল। ফলে ইংরেজদের আক্রমণে নবাবের পতন বা স্বাধীনতার অবসান সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা বা আগ্রহ ছিল না। ইংরেজরা এ সুযোগটিকে কাজে লাগিয়েছে।

২. দীর্ঘদিন ধরে পুঁজি পাচারের ফলে বাংলার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্থবিরতা এত প্রকট ও গভীর ছিল যে, বাণিজ্য বিস্তারের ফলে সৃষ্ট নতুন সুযোগ কাজে লাগানোর মতো উদ্দীপনা তাদের মধ্যে ছিল না।

৩. উদীয়মান অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি হিসেবে ইংরেজদের উত্তরোত্তর শক্তি বৃদ্ধি, তাদের ধূর্ত পরিকল্পনা বোঝার মতো কোনো রাজনৈতিক ও সমাজিক শক্তি দেশে ছিল না।

৪. নবাব আলীবর্দী খাঁর মৃত্যুর পর সিরাজউদ্দৌলা ক্ষমতায় আরোহণ করেন। বাংলার শাসকদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও চক্রান্ত এত গভীর ছিল যে, তরুণ অনভিজ্ঞ নবাব সিরাজের পক্ষে তা মোকাবিলা করা সম্ভব হয়নি। এর ফলে পলাশির যুদ্ধে নবাবের পরাজয় হয়। এভাবে বাংলায় শুরু হয় ঔপনিবেশিক শাসন।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x