পড়াশোনা
1 min read

ব্যাকটেরিয়া কি? ব্যাকটেরিয়ার ইতিহাস, উপকারিতা ও অপকারিতা। (Bacteria in Bengali)

Updated On :

ব্যাকটেরিয়া হলো এক প্রকারের আদি নিউক্লিয়াসযুক্ত, অসবুজ, এককোষী অণুজীব, যার নিউক্লিয়াসটি সুগঠিত নয়। অণুবীক্ষণযন্ত্র ছাড়া এদের দেখা যায় না। এদের আয়তন ০.২μ থেকে ৫μ পর্যন্ত হয়ে থাকে। জীবজগতের এগুলোই সরলতম ও ক্ষুদ্রতম জীব বলে পরিচিত।

ব্যাকটেরিয়ার ইতিহাস (History of Bacteria)

১৬৭৫ খ্রিস্টাব্দে ওলন্দাজ বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ফন লিউয়েনহুক (Antony Von Leeuwenhoek) সর্বপ্রথম তাঁর আবিষ্কৃত অণুবীক্ষণযন্ত্রের নিচে এক ফোঁটা পানিতে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি এগুলোর নাম দেন animalcule বা ক্ষুদ্র প্রাণী। তাই তাঁকে ব্যাকটেরিওলজির জনক বলা হয়। লিউয়েনহুক আবিষ্কৃত এসব অণুজীব পরবর্তী প্রায় ২০০ বছর অজানাই রয়ে যায়। ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে জার্মান বিজ্ঞানী এরেনবার্গ (C.G. Ehrenberg) সর্বপ্রথম “bacteria” শব্দটি ব্যবহার করেন।

পরবর্তীকালে ১৮৬৪ খ্রিস্টাব্দে লুই পাস্তুর (Louis Pasteur) ও ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে রবার্ট কখ (Robert Koch) প্রমাণ করেন যে অত্যন্ত ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক জীব বিভিন্ন প্রাণিদেহে নানা রকম রোগ সৃষ্টিতে সক্ষম। ১৮৭৯ খ্রিস্টাব্দে ইলিয়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্জিল নামক একজন গবেষক সর্বপ্রথম প্রমাণ করেন ব্যাকটেরিয়া নামক ক্ষুদ্র জীব উদ্ভিদেও রোগ সৃষ্টি করে।

 

 

ব্যাকটেরিয়ার বৈশিষ্ট্য (Characteristics of Bacteria)

ব্যাকটেরিয়ার বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপঃ

  • ব্যাকটেরিয়া অত্যন্ত ছোট আকারের জীব, সাধারণত ০.২ – ৫ মাইক্রোমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে, অর্থাৎ এরা আণুবীক্ষণিক (microscopic)।
  • এরা এককোষী জীব, তবে একসাথে অনেকগুলো কলোনি করে বা দল বেঁধে থাকতে পারে।
  • ব্যাকটেরিয়া আদিকেন্দ্রিক (প্রাককেন্দ্রিক = Prokarytic)। কোষে 70s রাইবোজোম থাকে; কোনো ঝিল্লিবদ্ধ অঙ্গাণু থাকে না।
  • ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীরের প্রধান উপাদান পেপটিডোগ্লাইক্যান বা মিউকোপেপটাইড, সাথে পলিস্যাকারাইড, মুরামিক অ্যাসিড (Muramic acid) এবং টিকোয়িক অ্যাসিড (Teichoic acid) থাকে।
  • এদের বংশগতীয় উপাদান (genetic material) হলো একটি দ্বিসূত্রক, কার্যত বৃত্তাকার ডিএনএ অণু, যা ব্যাকটেরিয়াল ক্রোমোজোম হিসেবে পরিচিত। এটি সাইটোপ্লাজমে অবস্থিত, এতে ক্রোমোজোমাল হিস্টোন-প্রোটিন থাকে না। ব্যাকটেরিয়ার কোষে ডিএনএ অবস্থানের অঞ্চলকে নিউক্লিয়য়েড বলা হয়।
  • এদের বংশবৃদ্ধির প্রধান প্রক্রিয়া দ্বি-ভাজন (binary fission)।
  • এদের কতক পরজীবী ও রোগ উৎপাদনকারী, অধিকাংশই মৃতজীবী এবং কিছু স্বনির্ভর (autophytic)।
  • এরা সাধারণত বেসিক রং ধারণ করতে পারে (গ্রাম পজিটিভ বা গ্রাম নেগেটিভ)।
  • ফায ভাইরাসের প্রতি এরা খুবই সংবেদনশীল।
  • এদের অধিকাংশই অজৈব লবণ জারিত করে শক্তি সংগ্রহ করে।
  • ব্যাকটেরিয়া প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার জন্য এন্ডোস্পোর বা অন্তরেণু গঠন করে। এ অবস্থায় এরা ৫০ বছর পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে।
  • এদের কতক বাধ্যতামূলক অবায়বীয় অর্থাৎ অক্সিজেন থাকলে বাঁচতে পারে না। কতক সুবিধাবাদী অবায়বীয় অর্থাৎ অক্সিজেনের উপস্থিতিতেও বাঁচতে পারে। কতক বাধ্যতামূলক বায়বীয় অর্থাৎ অক্সিজেন ছাড়া বাঁচতে পারে না।

ব্যাকটেরিয়ার উপকারিতা (Benefits of Bacteria)

ব্যাকটেরিয়া আমাদের বিভিন্নভাবে উপকার করে থাকে। ব্যাকটেরিয়া হতে বিভিন্ন রোগের অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ প্রস্তুত করা হয়। এছাড়াও ব্যাকটেরিয়া হতে কলেরা, টাইফয়েড, যক্ষ্মা, ডি.পি.টি ইত্যাদি রোগের প্রতিষেধক টিকা তৈরি করা হয়। উদ্ভিদ ও প্রাণীর মৃতদেহ, বর্জ্য পদার্থ ইত্যাদি পচনের মাধ্যমে জৈব পদার্থকে দ্রুত রূপান্তরিত করে পয়ঃনিষ্কাশনে ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করা হয়। চামড়া হতে লোম ছড়ানো ও পাট পচিয়ে আঁশ ছাড়ানোর কাজেও ব্যাকটেরিয়া ভূমিকা পালন করে।

দুধ হতে মাখন, দই, পনির প্রভৃতি প্রস্তুতে ব্যাকটেরিয়ার কার্যকারিতা প্রয়োজন। আমাদের অন্তে E.coli ও অন্যান্য ব্যাকটেরিয়া বিভিন্ন ভিটামিন প্রস্তুত ও সরবরাহ করে। মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে ব্যাকটেরিয়ার অবদান অনেক। মাটির জৈব পদার্থ সঞ্চয়ে ব্যাকটেরিয়ার প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে। ব্যাকটেরিয়া মাটির উপাদান হিসেবেও কাজ করে। কিছু ব্যাকটেরিয়া মাটিতে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে উর্বরতা বৃদ্ধি করে। সমুদ্রের তেল অপসারণে, পতঙ্গনাশক হিসেবেও ব্যাকটেরিয়ার ব্যবহার উল্লেখযোগ্য। ধান ও গমের উৎপাদন বাড়াতেও ব্যাকটেরিয়া প্রয়োগে সুফল পাওয়া গেছে। এছাড়াও জিন প্রকৌশলেও ব্যাকটেরিয়ার গুরুত্ব অপরিসীম।

ব্যাকটেরিয়ার অপকারিতা (Disadvantages of Bacteria)

  1. ব্যাকটেরিয়া মানুষের দেহে যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, কলেরা, টাইফয়েড, ডায়রিয়া, ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ইত্যাদি মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করে।
  2. গরু, মহিষ, ভেড়ার এনথ্রাক্স, মুরগির কলেরা রোগ ব্যাকটেরিয়া সৃষ্টি করে।
  3. উদ্ভিদ ও ফসলের অনেক রোগ সৃষ্টি করে। যেমন : গমের টুংরো রোগ, ধানের ব্লাইট ইত্যাদি।
  4. খাদ্যদ্রব্য ও শাকসবজি পচনে ব্যাকটেরিয়া ভূমিকা পালন করে।
  5. আবার কিছু ব্যাকটেরিয়া আছে যারা পানি দূষণ করে।

শেষ কথা:
আশা করি আপনাদের এই আর্টিকেলটি পছন্দ হয়েছে। আমি সর্বদা চেষ্টা করি যেন আপনারা সঠিক তথ্যটি খুজে পান। যদি আপনাদের এই “ব্যাকটেরিয়া কি? ব্যাকটেরিয়ার ইতিহাস, উপকারিতা ও অপকারিতা। ” আর্টিকেলটি পছন্দ হয়ে থাকলে, অবশ্যই ৫ স্টার রেটিং দিবেন।

5/5 - (62 votes)