Class 7 - ডিজিটাল প্রযুক্তি
1 min read

৭ম শ্রেণির ডিজিটাল প্রযুক্তি শিখন অভিজ্ঞতা ১ সেশন ৩ উত্তর (PDF)

৭ম শ্রেণির ডিজিটাল প্রযুক্তি শিখন অভিজ্ঞতা ১ সেশন ৩ উত্তর : আমরা আমাদের নির্ধারণ করা সমস্যাটির পেছনের কারণ খুঁজে বের করে এর সঠিক সমাধান কী হতে পারে সেটিও বের করার চেষ্টা করব। আমরা যে সমাধানটি পাব, সে সমাধানটি সবাইকে জানানোর জন্য একটি সচেতনতামূলক কনটেন্ট তৈরি করব এবং সেমিনারে উপস্থাপন করব। সবার আগে আমাদের একটু বুঝে নিতে হবে, জরিপ ব্যাপারটি কী!

প্রশ্ন: জরিপ কী?
উত্তর: কোন একটি নির্দিষ্ট সমস্যা সম্পর্কে সে সমস্যাটির সঙ্গে পরিচিত/সম্পর্কিত ব্যক্তিদের মতামত, দৃষ্টিভঙ্গি, আচরণ ইত্যাদি কিছু ধারাবাহিকভাবে প্রশ্নের মাধ্যমে খুঁজে বের করার কৌশল বা পদ্ধতি হল জরিপ।

৭ম শ্রেণির ডিজিটাল প্রযুক্তি শিখন অভিজ্ঞতা ১ সেশন ৩ উত্তর

উদাহরণ: মনে করি, আমি একটি সমস্যা নিয়ে অনুসন্ধান বা তথ্য সংগ্রহ করতে চাই, আমার সমস্যাটি হলো- “মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস কমেছে, নাকি বেড়েছে তা অনুসন্ধান” । এখন আমি অনুসন্ধান করতে চাই বা অভ্যাস কমে যাওয়া বা বেড়ে যাওয়ার কারণ কী”।

এটি খুঁজে বের করার জন্য একটি পদ্ধতি হতে পারে জরিপ । আমি মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী, তাদের এর কারণ খুঁজে বের করতে পারি। অর্থাৎ, কোনো একটি নির্দিষ্ট সমস্যা সম্পর্কে সে সমস্যাটির সঙ্গে পরিচত/সম্পকিতি ব্যক্তিদের- প্রশ্নের মাধ্যমে খুঁজে বের করার কৌশল বা পদ্ধতি হলো জরিপ।

জরিপের প্রশ্নের ধরন

১. বর্ণনামূলক জরিপ:
প্রশ্ন: মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের বই পড়ায় আগ্রহী করতে কী করা উচিত বলে আপনি মনে করেন?
সম্ভাব্য উত্তর: আমি মনে করি, শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবই আরো বেশি আনন্দময় এবং উপভোগ্য করে তোলা উচিত। এতে শিক্ষার্থীরা বই পড়তে আনন্দবোধ করবে এবং তাদের মধ্যে নিয়মিত বই পড়ার আগ্রহ তৈরি হবে।

২. বহুনির্বাচনী জরিপ:
প্রশ্ন: আপনি কী পাঠ্যপুস্তক ব্যতিত নিয়মিত অন্য কোন বই (গল্পের বা অন্যান্য) বই পড়ে?
সম্ভাব্য উত্তর:
ক. হ্যাঁ 
খ. না
গ. মাঝে মাঝে

লক্ষ্য রাখব আমরা সমস্যটির যে সমাধান খুঁজছি, তা হলো আমাদের আচরণের পরিবর্তনের সমাধান। যেমন: সমস্যা যদি হয় “পানি অপচয়” আমার সমাধান হয়তো এ রকম হতে পারে, “দাঁত ব্রাশ করার সময় পানির কল বন্ধ রাখতে হবে’। অথবা সমস্যা যদি হয় ‘বৃক্ষ নিধন” তাহলে সমাধান হতে পারে, প্রতিটি শিশু জন্মালে তার নামে পাঁচটি করে গাছ লাগানো’। অর্থ্যাৎ আমরা এমন সমস্যা নির্ধারণ করব যা আমাদের আচরণের পরিবর্তনের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব।

জরিপের মাধ্যমে পেছনের কারণ ও সমাধান অনুসন্ধান

আমার দলের নির্ধারিত সমস্যার কারণ অনুসন্ধান ও সমাধান খুঁজতে নিজেদের জন্য জরিপের প্রশ্ন তৈরি করি-

জন্য কমপক্ষে দশটি প্রশ্ন তৈরি করব। জরিপের প্রশ্ন তৈরি হয়ে গেলে নিচের ঘরে প্রশ্নগুলো লিখে নিতে পারি, অতিরিক্ত কাগজের দরকার হলে কিছু প্রশ্ন খাতায় লিখে এই বইয়ের সমান করে কেটে এখানে কাগজটি আঠা বা পিন দিয়ে যুক্ত করে দেব।

আমার দলের নির্ধারিত সমস্যার কারণ অনুসন্ধান ও সমাধান নিয়ে একটি জরিপ নিচে তুলে ধরা হল:

সমস্যা: বাল্যবিয়ে (সেশন-২ এ উল্লেখকৃত)

১. আপনি কী বাল্যবিয়ে সম্পর্কে কিছু বলতে পারবেন?
উত্তর: ধন্যবাদ। বাল্যবিয়ে হচ্ছে আমাদের সমাজের এমন একটি রীতি, যেখানে প্রাপ্ত বয়স হওয়ার পূর্বেই মেয়েদের বিয়ে দেওয়া হয়।

২. আপনি কী বাল্যবিয়ে সমর্থন করেন?
উত্তর: ক. হ্যাঁ খ. না 

৩. আপনি বাল্যবিয়ে কেন সমর্থন করেন/করেন না?
উত্তর: আমি বাল্যবিয়ে সমর্থন করি না। কারণ এটি একটি সামাজিক ব্যাধী। বাল্যবিয়ের ফলে মেয়েদের ভবিষ্যৎ অকালেই নষ্ট হয়ে যায়। তারা সামনের দিকে এগোতে পারে না। শারীরিক অসুস্থ্যতা এবং পুষ্টিহীনতার কারণে অনেক বাল্যবিয়ের শিকার মেয়েরা সন্তান জন্মদানের সময় মৃতুর কোলে ঢলে পড়ে।

৪. বাল্যবিয়ে কোথায় বেশি হয়?
উত্তর : ক. শহরাঞ্চলে খ. গ্রাামাঞ্চলে 

৫. আপনার মতে বাল্যবিয়ে কেন হয়ে থাকে?
উত্তর: পরিবার দরিদ্র বা আর্থিকভাবে অসচ্ছল হলে বাবা মেয়ের পড়ালেখা এবং ভরণ-পোষণ করতে পারেন না। তাই বাবা-মা বাধ্য হয়ে মেয়েকে বাল্যবিয়ে দিয়ে থাকেন।

৬. বাংলাদেশ সরকার বাল্যবিয়ের ক্ষেত্রে কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে থাকে?
উত্তর: ক. প্রতিরোধমূলক  খ. উৎসাহমূলক

৭. আপনি কী মনে করেন, বাল্যবিয়ে মেয়েদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দেয়? কেন?
উত্তর: হ্যাঁ, আমি মনে করি, বাল্যবিয়ে মেয়েদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দেয়। কারণ, খুবই অল্প বয়সে মেয়েদের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় তারা বেশিদূর পর্যন্ত পড়ালেখা করতে পারে না। ফলে তারা অন্ধকার ভবিষ্যদের দিকে ধাবিত হয়।

৮. বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সরকারের আইন কেমন হওয়া উচিৎ বলে আপনি মনে করেন?
উত্তর: ক. কঠোর  খ. সহনশীল

৯. বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে আমরা কী করতে পারি?
উত্তর: আমাদের সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের কাছে বাল্যবিয়ের কুফল সম্পর্কে ধারণা পৌঁছে দিতে হবে। পাশাপাশি ঘরে ঘরে গিয়ে সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে হবে। এতে করে কিছুটা হলেও বাল্যবিয়ে রোধ করা সম্ভব হবে।

১০. আপনি কী আপনার দিক থেকে বাল্যবিয়ে দূরীকরণে কাজ করবেন?
উত্তর: ক. হ্যাঁ  খ. না

প্রশ্ন তৈরি হয়ে গেলে আমরা এই জরিপটি অনলাইন জরিপ ফর্মের রূপে অনলাইন জরিপে রূপান্তর করব। ইন্টারনেটে বেশ কিছু জরিপ ওয়েবসাইট এবং ত্যাপলিকেশন রয়েছে, যেগুলো আমরা ব্যবহার করতে পারব। দলের সবাই মিলে বিদ্যালয়ের কম্পিউটার ব্যবহার করে শিক্ষকের সহায়তায় এই কাজটি করতে পারি। ফর্ম বানানো হয়ে গেলে ২০ জনকে এই ফর্মটি পূরণ করার জন্য পাঠাব। এই ২০ জন হবে আমার নির্ধারিত সমস্যাটির সাঙ্গে সম্পর্কিত ব্যভি।

৭ম শ্রেণির ডিজিটাল প্রযুক্তি শিখন অভিজ্ঞতা ১ সেশন ৩ উত্তর

কোনো দলের যদি বিদ্যালয় বা বাড়িতে কোথাও ইন্টারনেট না থাকে, সেক্ষেত্রে তারা কাগজে সুন্দর করে গুছিয়ে ফর্মটি হাতে লিখবে। আমরা যেহেতু এই জরিপ ২০ জনকে পাঠাব, তাই ফর্মটির ২০টি অনুলিপির প্রয়োজন হবে। তাই আমরা দলের সবাই কাজটি ভাগ করে নেব।

অনলাইন জরিপ ফর্ম করার নিয়ম

১, Name of Form’ এর উপর ক্লিক করলে আমি আমার ফর্ম-এর শিরোনাম দিতে পারব।

২. Form Description এ আমার এই জরিপটি কি নিয়ে তা সংক্ষেপে লিখব।

৩, Email এ আমার নিজের বা অভিভাবকের বা শিক্ষকের ইমেইল ঠিকানা দিব, এই ইমেইলেই পুরনকৃত ফর্মগুলো জমা হবে।

৪. Untitled Question ক্লিক করে আমি আমার প্রশ্নটি এখানে লিখব । কোন কোন ফর্ম এ ”+” এ রকম যোগ চিহ্ন থাকে, সেখানে ক্লিক করেও একটি একটি করে প্রশ্ন লেখা যাবে।

৫. এরকম ∇ ত্রিভুজটার মধ্যে ক্লিক করে আমরা নির্দেশনা দিয়ে দিতে পারব আমার প্রশ্নটি কী ধরনের । এটি নৈর্ব্যত্তিক বা Multiple Choice নাকি ‘বর্ণনামূলক প্রশ্ন বা Short answer.

৬. নৈর্বক্তিক ধরনের প্রশ্ন হলে আমার সম্ভাব্য উত্তর বা option দিয়ে দিতে হবে। একটি option লিখে Enter চাপলেই আরেকটি উত্তর লেখার জায়গা হয়ে যাবে।

৭. Required’ অর্থ হচ্ছে, এই প্রশ্নের উত্তর আমার অবশ্যই প্রয়োজন। এ ছাড়া স্টার চিহ্ন দিয়েও একই ব্যাপার বোঝানো হয়।

৮. ফর্ম সম্পূর্ণ তৈরি করা হয়ে গেলে Send এ ক্লিক করে আমি যাদের কাছে তথ্য জানতে চাই, তাদের এটি পাঠাব। এটি পাঠাতে তাদের ইমেইল ঠিকানা আমার প্রয়োজন হবে।

ANSWER SHEET

Rate this post