ইন্টারনেট ব্যবহার করে অথচ বিটকয়েন নাম শুনেনি এমন মানুষ কম-ই আছে। তাছাড়া যারা অনলাইনে লেনদেনের সাথে জড়িত তারা মোটামোটি সবাই বিটকয়েন সম্পর্কে অল্প-স্বল্প জানেন। মূলত বিটকয়েন হচ্ছে বিশ্বের সর্বপ্রথম ওপেন-সোর্স ক্রিপটোকারেন্সি, যা লেনদেনের জন্য অন্য কোন অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের সাহায্য লাগে না। এটি কোনো দেশের সরকার কর্তৃক ইস্যুকৃত কারেন্সি নয়। তবে বর্তমানে বিটকয়েন-ই একমাত্র ক্রিপ্টোকারেন্সি নয়, এমন আরো কিছু ক্রিপ্টোকারেন্সি রয়েছে। বিটকয়েন সম্পর্কে আমরা অনেক কিছু জানলেও এখনো কেউ জানে না কে সর্বপ্রথম এর প্রচলন করেন।

তাই আজকে আমরা বিটকয়েন সম্পর্কে এমনি ৫টি অজানা তথ্য জানবো যেগুলো আপনি আগে হয়তো কখনো শুনেননি। তাহলে চলুন শুরু করা যাক,,,,,,,,!!!

১. বিটকয়েনের যাত্রা

বিটকয়েনের যাত্রা শুরু হয় অল্প কয়েক বছর আগে। ২০০৯ সালে সাতোশি নাকামোতো ছদ্মনামে কোন এক ব্যক্তি এই মুদ্রাব্যবস্থার প্রচলন করেন। এই মুদ্রা ও এর প্রবর্তককে ঘিরে রয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। তবে আজ পর্যন্ত কেউ জানে না কে সেই প্রচলনকারী। অদূর ভবিষ্যতে জানা যাবে কিনা তাও আমরা কেউ জানি না।

২. বিটকয়েন মূল্য

আপনি যদি ভাবেন, 1 বিটকয়েন হয়তো অল্প কিছু টাকা। তাহলে আপনি ভুল। 1 বিটকয়েনের বাজার মূল্য প্রায় $3860 ডলার, যা বাংলাদেশী টাকায় 3 লক্ষ টাকার চেয়েও অল্প বেশি। 1 বিটকয়েনের দাম এতো টাকা হলেও বিটকয়েন লেনদেন করতে কারো সমস্যা হয় না। কারণ যেকেউ চাইলে 0.1 বিটকয়েন থেকে শুরু করে 0.00000001 বিটকয়েন পর্যন্ত লেনদেন করতে পারে। তবে বিটকয়েনের দামও টাকার মতো বাড়ে-কমে। যেকোন সময় এর দাম বাড়তে পারে আবার যেকোন সময় কমতেও পারে।

৩. লেনদেন ট্র‍্যাকিং করা

অনেকেই মনে করেন বিটকয়েন গোপনে লেন-দেন হয়। কিন্তু তা সত্য নয়। মূলত বিটকয়েন লেনদেন হয় পাবলিকলি। প্রতিটি বিটকয়েনের লেনদেনই ব্লকচেইনে এন্ট্রি হয়ে যায়, যেসব তথ্য বুদ্ধিমান ব্যবহারকারীরা সময় দিলেই ট্রেস করতে পারেন। অতএব, এটি একটি ভুল ধারণা যে, বিটকয়েন লেনদেন ট্র‍্যাকিং সম্ভব নয়।

৪. বিটকয়েনের মতো অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সি

বিটকয়েন-ই একমাত্র ক্রিপ্টোকারেন্সি নয়। বিটকয়েনের মতো আরো বেশ কিছু ক্রিপ্টোকারেন্সি বর্তমানে প্রচলিত আছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-

  • স্টেলার
  • ইথারিয়াম
  • লাইটকয়েন ইত্যাদি।

তবে বিটকয়েনই সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রিপ্টোকারেন্সি।

৫. বিটকয়েন নিয়ন্ত্রণ

বিটকয়েন ক্রিপ্টোকারেন্সি হলেও যেকোন দেশ এটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এই পর্যন্ত অনেক দেশেই বিটকয়েন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশে বিটকয়েন সহ এরকম অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সি অবৈধ ঘোষনা করেছেন এবং এগুলো লেনদেন না করতে সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। 2014 সালে বাংলাদেশ ব্যাংক AFP এবং টেলিগ্রাফের একটি রিপোর্টে বিটকয়েন লেনদেনকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে জানিয়েছিল।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x