সুপার কম্পিউটার (Super computer) হচ্ছে সবচেয়ে শক্তিশালী, দ্রুত গতিতে কাজ করতে পারে এবং ব্যয়বহুল কম্পিউটার। এ কম্পিউটার প্রতি সেকেন্ডে বিলিয়ন বিলিয়ন হিসাব করতে সক্ষম। সারা বিশ্বে সুপার কম্পিউটারের সংখ্যা খুব বেশি নয়। সুপার কম্পিউটারের সাহায্যে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও জটিল বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের কাজ করা যায়। বর্তমানে ব্যবহৃত সুপার কম্পিউটারগুলােতে একসঙ্গে একাধিক প্রসেসর ব্যবহার করা হয়। সূত্র বৈজ্ঞানিক গবেষণা, বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ, নভােযান, জঙ্গি বিমান এবং ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, মহাকাশ গবেষণা, পরমাণু গবেষণা ইত্যাদি ক্ষেত্রে সুপার কম্পিউটার ব্যবহৃত হয়।

বর্তমান বিশ্বের দ্রুততম সুপার কম্পিউটার হলো Subway TaihuLight (চীন) আমেরিকা ও জাপানের অনেকগুলি প্রতিষ্ঠান সুপার কম্পিউটার তৈরি করে। এদের মধ্যে আমেরিকার Cray Research Inc, Data Control Corporation এবং জাপানের Nippon Electric Company’র নাম উল্লেখযােগ্য। CRAY-1, CYBER-205 ইত্যাদি সুপার কম্পিউটারের উদাহরণ। সম্প্রতি ভারত ‘পরম’ নামে সুপার কম্পিউটার তৈরি করে সারা বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের ল্যাবে IBM RS/6O00 SP মডেলের একটি সুপার কম্পিউটার রয়েছে। ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটির আবহাওয়া ও জলবায়ু বিষয়ক বিজ্ঞানের অধ্যাপক ড.কৃষ্ণমােৰ্তি ২০০৬ সালে বিসিসিকে পুরাতন মডেলের এ সুপার কম্পিউটারটি স্থাপনে সহায়তা করেন।

সুপার কম্পিউটারের বৈশিষ্ট্য

  • এটি সবচেয়ে বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন এবং দামি কম্পিউটার।
  • অত্যন্ত দ্রুত গতিতে কাজ করে। যেমন- ওয়াই-এমপি/সি৯০ সুপার কম্পিউটার এক সেকেন্ডে ২.১ বিলিয়ন ক্যালকুলেশন করতে পারে।
  • জটিল ও সূক্ষ্ম গণনার কাজে ব্যবহার করা হয়।
  • প্রতি সেকেন্ডে এক ট্রিলিয়ন পর্যন্ত কাজ করতে পারে।
  • এটি কম্পিউটার পরিবারের বড় সদস্য।
  • এ জাতীয় কম্পিউটারের কাজ করার ক্ষমতা যেকোনো কম্পিউটারের চেয়ে বেশি।
  • এ জাতীয় কম্পিউটার যেকোনো ধরনের কাজ অতিদ্রুত করতে পারে।
  • এ জাতীয় কম্পিউটারে একসাথে অনেক লোক কাজ করতে পারে।
  • সর্বাধিক তথ্য ধারণ ক্ষমতার অধিকারী।
  • একসাথে একাধিক প্রসেসর ব্যবহার করা হয়।
  • ভেক্টর প্রসেসিং টেকনিক ব্যবহার করা হয়।
  • গতি বৃদ্ধির জন্য সাধারণ ক্যাবলের পরিবর্তে ফাইবার ক্যাবল ব্যবহার করা হয়।
  • আর্টিফিসিয়াল ইনটেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন।

সুপার কম্পিউটারের কাজ ও ব্যবহার : এটি মহাকাশ গবেষণা, সামরিক আক্রমণ ও প্রতি আক্রমণের নকশা, আবহাওয়া, ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, চন্দ্রের দূরত্ব নির্ণয়, মহাকাশ যান উৎক্ষেপণ, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ইত্যাদি বিষয়ক বড় মাপের কাজের জন্য ব্যবহৃত হয়। উদাহরণ : CRAY-1, CM-200, 4D/480, CYBER-205, PARAM 8600 ইত্যাদি।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x