কোনো শব্দের যতটুকু অংশ একটানে বা এক ঝোঁকে উচ্চারিত হয়, তাকে অক্ষর বলে। ছন্দ বিজ্ঞানে অক্ষরকে ‘দল’ বলা হয়। যেমন :আমি। আমি = আ+মি (এখানে দুটি অক্ষর আছে)।

অক্ষর কত প্রকার ও কি কি?

অক্ষর দুই প্রকার। যথা– ক. স্বরান্ত অক্ষর এবং খ. ব্যঞ্জনান্ত অক্ষর।
ক. স্বরান্ত অক্ষর : যে অক্ষরের শেষে স্বরধ্বনি উচ্চারিত হয়, তাকে স্বরান্ত অক্ষর বলে। যেমন- ভাষা = ভ + আ + ষ + আ; আশা = আ + শ + আ।
খ. ব্যঞ্জনান্ত অক্ষর : যে অক্ষরের শেষে ব্যঞ্জন ধ্বনি উচ্চারিত হয়, তাকে ব্যঞ্জনান্ত অক্ষর বলে। যেমন শীতল = শী + তল; পবন = প + বন।

ধ্বনি ও অক্ষরের মধ্যে পার্থক্য কি?

ধ্বনি ও অক্ষরের মধ্যে পার্থক্য হলোঃ

ধ্বনি

  • ভাষার ক্ষুদ্রতম একক হচ্ছে ধ্বনি। ধ্বনির লিখিত রূপকে বর্ণ বলে। ধ্বনি দুভাগে বিভক্ত। যেমন– স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জন ধ্বনি।
  • ধ্বনি হচ্ছে ভাষার মূল একক।
  • ধ্বনিতে একটিমাত্র প্রতীক বা বর্ণ ব্যবহৃত হয়।
  • মানুষ তার মনের ভাব অন্যের কাছে প্রকাশ করতে গেলে বাগযন্ত্রের মাধ্যমে যে অর্থদ্যোতক শব্দ সৃষ্টি করে সেই সার্থক শব্দই হল ধ্বনি।
  • ধ্বনির উদাহরণ : অ, ক।

অক্ষর

  • অক্ষর হচ্ছে এক বা একাধিক ধ্বনির সমষ্টি, যা বাগযন্ত্রের সামান্য প্রয়াসে উচ্চারিত হয়। অক্ষর দুভাগে বিভক্ত। যেমন– ১. স্বরান্ত ও ২. ব্যঞ্জনান্ত।
  • অক্ষর হচ্ছে শব্দের একক।
  • অক্ষরের লিখিত রূপে এক বা একের অধিক বর্ণ ব্যবহৃত হয়।
  • কোন শব্দ উচ্চারণের সময় আমরা সে শব্দকে ভেঙে উচ্চারণ করি। উচ্চারণের এই ভাঙা অংশটিকে অক্ষর বলে।
  • অক্ষরের উদাহরণ ‘আকাশ’ শব্দে দুটি অক্ষর আছে ‘আ’ এবং ‘কাশ’।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x