দূরবীক্ষণ বা দূরবীন যন্ত্র কাকে বলে? কত প্রকার ও কি কি? Telescope in Bangla

admin
3 Min Read

দূরবীক্ষণ যন্ত্র কি বা কাকে বলে? (What is Telescope in Bengali/Bangla?)

একটি বস্তু অনেক দূরে থাকার কারণে আমাদের চোখে যে বীক্ষণ কোণ উৎপন্ন হয় তা অত্যন্ত ছোট হয়। ফলে দূরের অনেক বড় বস্তুকেও ছোট ও অস্পষ্ট দেখায়। বহু দূরের এসব বস্তু দেখার জন্য আমরা দূরবীক্ষণ যন্ত্র বা দূরবীণ ব্যবহার করি। সুতরাং, যে যন্ত্রের সাহায্যে অনেক দূরের বস্তুকে স্পষ্ট দেখা যায় তাকে দূরবীক্ষণ যন্ত্র বলে। এ পর্যন্ত অনেক ধরনের দূরবীক্ষণ যন্ত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। দূরবীক্ষণ যন্ত্রকে আমরা প্রধানতঃ দুই ভাগে ভাগ করতে পারি। যথা : (ক) প্রতিসারক দূরবীক্ষণ যন্ত্র, (খ) প্রতিফলক দূরবীক্ষণ যন্ত্র।

প্রতিসারক দূরবীক্ষণ যন্ত্রে অভিলক্ষ্য হিসেবে বড় উন্মেষ ও ফোকাস দূরত্বের লেন্স ব্যবহার করা হয়। এটি আবার তিন প্রকার। যথা : (১) নভোদূরবীক্ষণ যন্ত্র (২) ভূ-দূরবীক্ষণ যন্ত্র (৩) গ্যালিলিওর দূরবীক্ষণ যন্ত্র।

প্রতিফলক দূরবীক্ষণ যন্ত্রে অভিলক্ষ্য হিসেবে অবতল দর্পণ ব্যবহার করা হয়। এটিও তিন প্রকার যথা : (১) নিউটনের দূরবীক্ষণ যন্ত্র, (২) হার্সেলের দূরবীক্ষণ যন্ত্র (৩) গ্রেগরীর দূরবীক্ষণ যন্ত্র।

নভো-দূরবীক্ষণ যন্ত্র

চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, নক্ষত্র প্রভৃতি নভোমণ্ডলীয় বস্তু পর্যবেক্ষণে যে দূরবীক্ষণ যন্ত্র ব্যবহৃত হয় তাকে নভো-দূরবীক্ষণ যন্ত্র বলে। এই ধরনের দূরবীক্ষণ যন্ত্রের অপর নাম জ্যোতি বিদ্যা সংক্রান্ত দূরবীক্ষণ যন্ত্র। ডেনমার্কের বিখ্যাত জ্যোতির্বিদ কেপলার 1611 খ্রিস্টাব্দে সর্বপ্রথম এই যন্ত্র তৈরি করেন।

দূরবীক্ষণ বা দূরবীন যন্ত্র কাকে বলে? কত প্রকার ও কি কি? Telescope in Bangla

ব্যবহার বিধি : প্রথমে লক্ষ্যবস্তুকে ভিউ ফাইন্ডারের সাহায্যে দেখে নিয়ে দূরবীক্ষণ যন্ত্রকে সে দিকে ঘুরানো হয়। এরপর দূরবীক্ষণের সাহায্যে বস্তুটিকে দেখা হয় এবং অভিনেত্রকে সামনে পিছে সরিয়ে প্রতিবিম্বকে সুবিধা মতো স্থানে স্থাপন করা হয়। একে ফোকাসিং বলে। ফোকাসিং সাধারণত দু’ভাগে করা হয়ে থাকে, যথা: চোখের স্পষ্ট দর্শনের ন্যূনতম দূরত্বে এবং অসীমে। এতে লক্ষ্যবস্তুর স্পষ্ট উল্টো প্রতিবিম্ব দেখা যায়। অসীমে ফোকাসিংকে স্বাভাবিক ফোকাসিং এবং স্পষ্ট দর্শনের ন্যূনতম দূরত্বে ফোকাসিংকে নিকট ফোকাসিং বলে।

নভো-দূরবীক্ষণ যন্ত্রের সুবিধা : নভো-দূরবীক্ষণ যন্ত্রে চারটি সুবিধা পরিলক্ষিত হয়; যথা–
(ক) এটি অধিক পরিমাণে বিবর্ধন সৃষ্টি করে,
(খ) এর দৃষ্টিক্ষেত্র প্রশস্ত,
(গ) প্রতিবিম্ব প্রায় ত্রুটি মুক্ত এবং
(ঘ) প্রয়োজনে ক্রসওয়ার এবং মাইক্রোমিটার স্ক্রু ব্যবহার করা হয়।

নভো-দূরবীক্ষণ যন্ত্রের অসুবিধা : এই যন্ত্রের দুটি অসুবিধা পরিলক্ষিত হয়; যথা–
(ক) নলটি খুবই দীর্ঘ হওয়ায় যন্ত্রটি বেশ বড় হয়, এবং
(খ) এই যন্ত্র বস্তুর উল্টা প্রতিবিম্ব সৃষ্টি করে বলে ভূ-পৃষ্ঠের দূরের বস্তু পর্যবেক্ষণে ব্যবহারযোগ্য হয় না।

Share this Article
Leave a comment
x