পড়াশোনা
1 min read

তরঙ্গ কাকে বলে? তরঙ্গ কত প্রকার ও কি কি? What is Wave?

Updated On :

তরঙ্গ কাকে বলে? (What is Wave called in Bengali/Bangla?)

যে পর্যাবৃত্ত আন্দোলন কোনো জড় মাধ্যমের একস্থান থেকে অন্যস্থানে শক্তি সঞ্চারিত করে কিন্তু মাধ্যমের কণাগুলোকে স্থানান্তরিত করে না তাকে তরঙ্গ (Wave) বলে।

পুকুরের স্থির পানিতে ঢিল ফেলা হলে ঢিলটি পানি স্পর্শ করলে ঐ স্থানের পানির কণাগুলো আন্দোলিত হয়। এ কণাগুলো আবার পার্শ্ববর্তী স্থির পানির কণাগুলোকে আন্দোলিত করে। এভাবে কণা থেকে কণাতে স্থানান্তরিত আন্দোলন অবশেষে পুকুরের পাড়ে পৌঁছে। কিন্তু এই আন্দোলনের ফলে পানির কোনো কণাই তার সাম্যাবস্থান থেকে বেশি দূরে যায় না।

তরঙ্গের প্রকারভেদ (Types of wave)
তরঙ্গ দুই প্রকার। যথা– ১) অনুপ্রস্থ তরঙ্গ ২) অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ।

অনুপ্রস্থ তরঙ্গ : যে তরঙ্গ কম্পনের দিকের সাথে লম্বভাবে অগ্রসর হয় তাকে অনুপ্রস্থ তরঙ্গ বলে। পানির তরঙ্গ অনুপ্রস্থ তরঙ্গের উদাহরণ।

অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ : যে তরঙ্গ কম্পনের দিকের সাথে সমান্তরালভাবে অগ্রসর হয় তাকে অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ বলে। বায়ু মাধ্যমে শব্দের তরঙ্গ অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গের উদাহরণ।

অনুপ্রস্থ তরঙ্গে উৎপন্ন সর্বোচ্চ বিন্দুকে তরঙ্গশীর্ষ ও সর্বনিম্ন বিন্দুকে তরঙ্গপাদ বলা হয়। তেমনিভাবে অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গের অনুরূপ রাশি হলো সঙ্কোচন ও প্রসারণ।

অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ ও অনুপ্রস্থ তরঙ্গের মধ্যে পার্থক্য কি কি?

নিম্নে অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ ও অনুপ্রস্থ তরঙ্গের মধ্যে পার্থক্য দেওয়া হলো –

অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ অনুপ্রস্থ তরঙ্গ
যে তরঙ্গ কম্পনের দিকের সাথে সমান্তরালভাবে অগ্রসর হয়, তাকে অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ বলে। যে তরঙ্গ কম্পনের দিকের সাথে লম্বভাবে অগ্রসর হয়, তাকে অনুপ্রস্থ তরঙ্গ বলে।
উদাহরণ – বায়ু মাধ্যমে শব্দের তরঙ্গ, স্প্রিং তরঙ্গ। উদাহরণ – পানির তরঙ্গ, আলোক তরঙ্গ।
অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গে সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে তরঙ্গ সঞ্চালিত হয়। অন্যদিকে অনুপ্রস্থ তরঙ্গ মাধ্যমে তরঙ্গশীর্ষ ও তরঙ্গপাদ উৎপন্ন করে সঞ্চালিত হয়।
একটি সংকোচন ও একটি প্রসারণ নিয়ে তরঙ্গদৈর্ঘ্য গঠিত। অন্যদিকে একটি তরঙ্গশীর্ষ ও একটি তরঙ্গপাদ নিয়ে তরঙ্গদৈর্ঘ্য গঠিত।
তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য (Characteristics of wave)
তরঙ্গ শক্তি সঞ্চালন করলেও মাধ্যমের কণাগুলোকে স্থানান্তরিত করে না। তরঙ্গের প্রতিফলন, প্রতিসরণ ও উপরিপাতন ঘটে এবং এর বেগ মাধ্যমের প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে। প্রকারভেদের ওপর নির্ভর করে তরঙ্গ সঞ্চালনে মাধ্যমের প্রয়োজন হতে পারে, যেমন, যান্ত্রিক তরঙ্গ; তবে তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গসমূহ সঞ্চালনে মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না।
  • মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দন গতির ফলে তরঙ্গ সৃষ্টি হয়ে থাকে কিন্তু মাধ্যমের কণা স্থান পরিবর্তন করে না।
  • তরঙ্গের কম্পন, বিস্তার ও তরঙ্গদৈর্ঘ্য আছে।
  • তরঙ্গ স্থির বা অগ্রগামী হতে পারে।
  • সকল তরঙ্গই তথ্য ও শক্তি সঞ্চারণ করে।
  • তরঙ্গ প্রবাহের দিক থাকে।
  • তরঙ্গ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি সঞ্চারণ করতে পারে।
  • তরঙ্গের প্রতিফলন, প্রতিসরণ, অপবর্তন ও ব্যতিচার ঘটে।
  • যান্ত্রিক তরঙ্গ সঞ্চালনের জন্য কোন না কোন মাধ্যমের প্রয়োজন হয়।
  • তরঙ্গের বেগ কেমন হবে তা মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল।

 

তরঙ্গ মাধ্যম

তরঙ্গ যে জড় মাধ্যম দ্বারা সঞ্চারিত হয় তাকে তরঙ্গ মাধ্যম বলে। তরঙ্গ মাধ্যমকে নিম্নোক্তভাবে ভাগ করা যায়। যথাঃ

  1. সীমিত মাধ্যম
  2. অসীম মাধ্যম
  3. সরলরৈখিক মাধ্যম
  4. হোমোজেনিয়াস বা সম মাধ্যম ও
  5. আইসোট্রপিক মাধ্যম

তরঙ্গ সৃষ্টির কারণ

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে তথ্য ও শক্তি আদান প্রদানের অন্যতম মাধ্যম হলো তরঙ্গ। এমনকি তরঙ্গ ব্যতীত আমরা সূর্য থেকে তাপ বা আলো কোনোটাই পেতাম না। কোন শব্দ কিংবা কথা শুনতে পারতাম না। তাই তরঙ্গ সৃষ্টি হয়।

তরঙ্গ সংক্রান্ত কয়েকটি সংজ্ঞাঃ
  •  পূর্ণ দোলন (Complete oscillation) : সরল ছন্দিত স্পন্দন সম্পন্ন কোনো বস্তু একটি নির্দিষ্ট বিন্দু থেকে যাত্রা শুরু করে একই নিয়মে একটি নির্দিষ্ট পথে আবার ঐ বিন্দুতে ফিরে এলে তাকে পূর্ণ দোলন বলে।
  •  পর্যায়কাল (Time period) : পর্যাবৃত্ত গতি সম্পন্ন কোন বস্তুর একটি পূর্ণ কম্পন বা পর্যায় সম্পন্ন করতে যে সময় লাগে তাকে পর্যায়কাল বলে।
  •  কম্পাঙ্ক (Frequency) : তরঙ্গস্থিত স্পন্দিত একটি বস্তু প্রতি সেকেন্ডে যতগুলো পূর্ণ তরঙ্গ সৃষ্টি হয় তাকে তরঙ্গের কম্পাঙ্ক বলে।
  •  বিস্তার (Amplitude) : তরঙ্গস্থিত স্পন্দিত একটি বস্তু কণার সাম্যাবস্থান থেকে পরিমাপিত যেকোন এক দিকের সর্বাধিক সরণকে ঐ তরঙ্গের বিস্তার বলে।
  •  দশা (Phase) : তরঙ্গ সঞ্চালনকারী কোনো কণার যেকোনো মুহূর্তের গতির সম্যক অবস্থানকে তার দশা বলে।
  •  আদি দশা (Epoch) : তরঙ্গস্থিত স্পন্দিত একটি বস্তুকণার সময় পরিমাপ শুরুর পূর্বের দশাকে তরঙ্গের আদি দশা বলে।
  •  তরঙ্গ বেগ (Wave Velocity) : নির্দিষ্ট দিকে তরঙ্গ একক সময়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে তরঙ্গ বেগ বলে।
  •  তরঙ্গ দৈর্ঘ্য (Wave length) : তরঙ্গস্থিত স্পন্দিত একটি বস্তুকণা যে সময়ে একটি পূর্ণ কম্পন সম্পন্ন করে সে সময়ে তরঙ্গ যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে ঐ তরঙ্গের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বলে।
  •  তরঙ্গমুখ (Wavefront) : তরঙ্গস্থিত সমদশাসম্পন্ন বস্তুকণাগুলো যে তলে অবস্থান করে তাকে তরঙ্গের তরঙ্গমুখ বলে।

এ সম্পর্কিত বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তরঃ–

১। বাতাসে সৃষ্ট শব্দ তরঙ্গ কোন জাতীয় তরঙ্গ?

ক) যান্ত্রিক তরঙ্গ

খ) বেতার তরঙ্গ

গ) আড় তরঙ্গ

ঘ) তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ

সঠিক উত্তর : ক) যান্ত্রিক তরঙ্গ

২। তরঙ্গ এক স্থান হতে অন্য স্থানে কী স্থানান্তরিত করে?

ক) ভর    খ) বিস্তার

গ) তরঙ্গ দৈর্ঘ্য    ঘ) শক্তি

সঠিক উত্তর : ঘ) শক্তি

৩। নিচের কোন তরঙ্গ তরঙ্গচূড়া ও তরঙ্গখাঁজ উৎপন্ন করে সঞ্চালিত হয়?

ক) অনুপ্রস্থ তরঙ্গ    খ) লম্বিক তরঙ্গ

গ) যান্ত্রিক তরঙ্গ    ঘ) দীঘল তরঙ্গ

সঠিক উত্তর : ক) অনুপ্রস্থ তরঙ্গ

FAQ’s

১। তরঙ্গ বেগ কাকে বলে?

তরঙ্গ সঞ্চারিত হওয়ার সময় নির্দিষ্ট দিকে একক সময়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে তরঙ্গ বেগ বলে।

২। পানির ঢেউ অনুপ্রস্থ তরঙ্গ কেন?

পানির ঢেউ অনুপ্রস্থ তরঙ্গ কারণ এই জাতীয় তরঙ্গ পানির কণার স্পন্দনের দিকের সাথে লম্বভাবে অগ্রসর হয় এবং পর্যায়ক্রমে তরঙ্গশীর্ষ ও তরঙ্গপাদ থাকে। তাই পানির ঢেউ একটি অনুপ্রস্থ তরঙ্গ।

 

শেষ কথা:
আশা করি আপনাদের এই আর্টিকেলটি পছন্দ হয়েছে। আমি সর্বদা চেষ্টা করি যেন আপনারা সঠিক তথ্যটি খুজে পান। যদি আপনাদের এই “তরঙ্গ কাকে বলে?” আর্টিকেলটি পছন্দ হয়ে থাকলে, অবশ্যই ৫ স্টার রেটিং দিবেন।

5/5 - (222 votes)