জীববিজ্ঞান
1 min read

গ্রেগর জোহান মেন্ডেল কে ছিলেন?

জীবের চরিত্রগত ও গঠনগত বৈশিষ্ট্যাবলী এক প্রজন্ম থেকে পরবর্তী প্রজন্মে প্রায় অপরিবর্তিত অবস্থায় সঞ্চারিত হয়। এই ব্যবস্থাকে বলা হয় বংশগতি। আর বিজ্ঞানের যে শাখায় বংশগতির নিয়মাবলী আলোচনা করা হয়

তাকে বলা হয় জীনতত্ত্ব বা জেনেটিক্স। অর্থাৎ বংশগতি নিয়ন্ত্রনে সক্ষম, ক্রোমোজোমের একক অংশ জিনের গঠন কাজ কার্যপদ্ধতি এবং বংশগতি ক্ষেত্রে জিনের (মেন্ডেলের ফ্যাক্টর)  ভুমিকা ও কার্যপ্রণালী সম্পর্কে বিজ্ঞানের যে শাখায় আলোচনা করা হয় তাকে জিনতত্ব বলা হয়।

এই জিনতত্ব বা জেনেটিক্সের জনক হলেন বিজ্ঞানী গ্রেগর জোহান মেন্ডেল। আসুন দেখি তিনি কে ছিলেন ?
গ্রেগর জোহান মেন্ডেল ১৮২২ সালের ২২ জুলাই তৎকালীন অস্ট্রোহাঙ্গেরিয়ার হিনজেনডর্ফ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমান এই গ্রামটি চেকশ্লোভাকিয়ার অন্তর্ভুক্ত। মেন্ডেলের পিতা এন্টন মেন্ডেল একজন পেশাদার মালী ও কৃষক ছিলেন। ভালভাবে প্রাইমারী ও হাইস্কুল পাশ করার পর ১৮৪০ সালে তিনি রেকর্ড নম্বর পেয়ে ডিগ্রী পাশ করেন ও ২ বছর পরে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন। ১৮৫৭ সালে তিনি pisum sativum প্রজাতির মটরশুঁটি গাছের বংশগতি বিষয়ক গবেষনা শুরু করেন। দীর্ঘকাল অশেষ শ্রম ওও সাধনার বলে তিনি বংশগতির দুটি সুত্র আবিস্কার করেন। তিনি ১৮৬৫ সালে ব্রুনের সোসাইটি অব ন্যাচারাল সায়েন্স এ তার গবেষনালব্ধ ফলাফল পেশ করেন। কিন্তু তখন জিন সমন্ধে বিজ্ঞানীদের ধারনা না থাকায়, তার দেয়া ব্যাখ্যা তৎকালীন বিজ্ঞানীদের সমর্থন লাভে ব্যর্থ হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি ব্রাইট রোগে আক্রান্ত হন এবং ১৮৮৪ সালের ৫ জানুয়ারী ব্রুনে মারা যান। তাকে ব্রুনের কেন্দ্রীয় সমাধিস্থলে সমাহিত করা হয়। মেন্ডেলের মৃত্যুর পর প্রায় ১৬ বছর পর হলান্ডের হুগো দ্যা ভ্রিজ, জার্মানীর কার্ল লরেন্স এবং অস্ট্রিয়ার এরিখ শেরমাখ- এই তিনজন বিজ্ঞানী পৃথক পৃথকভাবে মেন্ডেলের কাজের পুনরাবিষ্কার করেন। এর পরপরই মেন্ডেলের সুত্রগুলো বিজ্ঞানীদের সমর্থন লাভ করে। মেন্ডেলের তত্বসমুহ বর্তমানে বংশগতিবিদ্যার ভিত্তি হিসেবে ধরা হয় এবং তাঁকে বংশগতিবিদ্যার জনক হিসেবে সন্মানিত করা হয়।

সুত্রঃ
১/উচ্চমাধ্যমিক প্রানিবিজ্ঞান- অধ্যাপক গাজী আজমল।
২/ উচ্চমাধ্যমিক প্রানিবিজ্ঞান- নাসিম বানু ম্যাডাম।

শেষ কথা:
আশা করি আপনাদের এই আর্টিকেলটি পছন্দ হয়েছে। আমি সর্বদা চেষ্টা করি যেন আপনারা সঠিক তথ্যটি খুজে পান। যদি আপনাদের এই “গ্রেগর জোহান মেন্ডেল কে ছিলেন?” আর্টিকেলটি পছন্দ হয়ে থাকলে, অবশ্যই ৫ স্টার রেটিং দিবেন।

5/5 - (38 votes)