রাষ্ট্রবিজ্ঞান
1 min read

সমাজতন্ত্র ও গণতন্ত্রের মধ্যে পার্থক্য

সমাজতন্ত্র এবং গণতন্ত্রের মধ্যে মূল পার্থক্য- গণতন্ত্র হল একটি রাজনৈতিক আদর্শ, বিপরীতে সমাজতন্ত্র হল একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। সমাজতন্ত্রে অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপগুলো রাষ্ট্রের মালিকানাধীন এবং কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়। অন্যদিকে, গণতন্ত্রে নাগরিকরা সরাসরি তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ করে এবং প্রতিনিধিদের নির্বাচন করার অধিকার রাখে।
এই আর্টিকেলে, সমাজতন্ত্র এবং গণতন্ত্রের সংজ্ঞা এবং উভয়ের মধ্যে মৌলিক পার্থক্যসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করা হল।

সমাজতন্ত্র কাকে বলে?

বিশুদ্ধ সমাজতান্ত্রিক (socialism) ব্যবস্থায়, সমস্ত উৎপাদন এবং বন্টনের সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় সরকার দ্বারা নেওয়া হয় এবং ব্যক্তিরা খাদ্য থেকে স্বাস্থ্যসেবা পর্যন্ত সবকিছুর জন্য রাষ্ট্রের উপর নির্ভর করে। সরকার পণ্য ও পরিষেবাগুলোর পরিমাণ এবং মূল্য নির্ধারণ করে।
এই ব্যবস্থায়, প্রতিটি ব্যক্তি তার সামর্থ্য অনুযায়ী গ্রহণ করে এবং অবদান রাখে। ফলে, সব রকমের বৈষম্য বিলুপ্ত হয়। এছাড়া শক্তি, আবাসন এবং যাতায়াতের মতো অত্যাবশ্যক পণ্য এবং পরিষেবাগুলো কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার মাধ্যমে বিতরণ করা হয়।

গণতন্ত্র কাকে বলে?

গণতন্ত্র (democracy) হল একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা যা একজন ব্যক্তির স্ব-বিকাশ এবং স্বাধীনতার অধিকারকে সমর্থন করে এবং যেখানে আইন, নীতি, নেতৃত্ব এবং রাষ্ট্রের প্রধান উদ্যোগগুলো জনগণ দ্বারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সমাজতন্ত্র এবং গণতন্ত্রের পার্থক্য

সমাজতন্ত্র ও গণতন্ত্রের মধ্যে প্রধান পার্থক্যসমূহ নিম্মে বর্ণনা করা হল।
১. সমাজতন্ত্র ও গণতন্ত্রের মধ্যে প্রধান পার্থক্য তাদের আদর্শে। বিশেষ করে, সমাজতন্ত্র একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা যখন গণতন্ত্র একটি রাজনৈতিক দর্শন।
২. সমাজতন্ত্র হল পণ্য ও সেবার উৎপাদন ও বন্টন নিয়ন্ত্রণের একটি পদ্ধতি। বিপরীতে, গণতন্ত্র হলো রাজনৈতিক ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের একটি পদ্ধতি।
৩. সমাজতন্ত্র পরিচালিত হয় লাভের জন্য কিন্তু গণতন্ত্র পরিচালিত হয় জনগণের কল্যাণের জন্য।
৪. সমাজতন্ত্র একটি অর্থনৈতিক ধারণা কিন্তু গণতন্ত্র একটি রাষ্ট্রবিজ্ঞান।
৫. সমাজতন্ত্রে, ব্যবসার মুনাফা সমাজের সকল ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়। গণতন্ত্রে, সরকারী পদক্ষেপ এবং নীতি নাগরিকদের দ্বারা নির্ধারিত হয়
৬. সমাজতন্ত্রের অর্থনৈতিক নীতি হল: ব্যক্তিগত মালিকানা হ্রাস, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন একচেটিয়া পণ্য এবং পরিষেবার উৎপাদন বৃদ্ধি, সামাজিক কল্যাণ, কর আদায়, এবং মুক্ত বাজারে সরকারের হস্তক্ষেপ বৃদ্ধি ইত্যাদি।
বিপরীতে, গণতন্ত্রের মাধ্যমে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা, ব্যক্তির স্ব-বিকাশ এবং স্বাধীনতার অধিকারকে সমর্থন এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় হস্তক্ষেপ করতে পারে।
5/5 - (11 votes)