সমাজবিজ্ঞান

জঙ্গিবাদ কাকে বলে? | জঙ্গিবাদের বৈশিষ্ট্য

1 min read

জঙ্গিবাদ কাকে বলে?

জঙ্গিবাদ বলতে বোঝায়, ইসলামী ব্যক্তি, দল বা সরকার কর্তৃক ইসলামী সহিংস, আগ্রাসী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড। বিভিন্নরকম গোপন সংগঠন যেগুলো সশস্ত্র হিসেবে পরিচিত তারাও জঙ্গির অন্তর্ভূক্ত।

বুৎপত্তিগত বিচারে ‘জঙ্গ’ থেকেই জঙ্গি শব্দের উদ্ভব। শব্দটি মূলত ফার্সি ভাষার, যার অর্থ যুদ্ধ বা লড়াই। সে হিসাবে ‘জঙ্গি’ অর্থ সাধারণভাবে যোদ্ধা বা লড়াকু।

জঙ্গিবাদের বৈশিষ্ট্য

বতমানের জঙ্গিবাদের মধ্যে এমন কিছু বৈশিষ্ঠ্য দেখা যায় যার ফলে সাড়া বিশ্বে জঙ্গিবাদ বিপদজনক হিসেবে দেখা হয়।

  • এরা ইসলামী আদশে বিশ্বাস করে তাই ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তাদের এই আদশ একটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। আবার শুধু মুসলমান রাষ্ট্রগুলোর মধ্যেই তাদের আদশ সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং সাড়া বিশ্বে তারা ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তাই বিভিন্ন দেশের সরকারকে উৎখাত করে এরা রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করতে চায়। যা বিশ্বের শাসক শ্রেণীর জন্য হুমকি।
  •  এসব জঙ্গিরা উগ্রবাদী ও মৌলবাদী। তারা ইসলামের অনুসারে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। কিন্তু তাদের উগ্রবাদী ও মৌলবাদী আচরণ বিশ্ববাসীকে ভীত করে তোলে।
  • তারা ইসলামের কথা বললেও ইসলাম অনুসরণ করে না। ইসলামের বিধিবিধান তারা মান্য করে না। ফলে মুসলমানরাও বিভ্রান্তিতে আছে আসলে তারা ইসলামের নামে কি চায়।
  • সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয় হল তাদের কমকান্ড। তারা বতমান সময়ের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসীগোষ্ঠী। তাদের ভয়ানক হামলাগুলোর মধ্যে আত্মঘাতী বোমা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি আলোচিত।
  • অতকিত হামলা করে তারা মানুষ হত্যা করে, রাষ্ট্রে সম্পদ লুট করে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ধ্বংস্ব করে।
  • বিশ্বে বিভিন্ন শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তারা বিভিন্ন ধরণের উস্কানিমূলক বক্তব্য দেয়। আর বিভিন্ন হামলার জন্য তারা হুমকি দেয়।
  • সবচেয়ে বড় ব্যাপার হল সমারিক শক্তির দিক থেকে তারা শক্তিশালী। অনেক দেশের সরকারের চেয়ে তারা বেশি শক্তিশালী। বিভিন্ন দেশের সরকার তাদের দমন করতে ব্যথ হয়। উদাহরণ হিসেবে আফগানিস্তানের নাম আসবে।
  • তারা এখন বিশ্বে শান্তি বিনষ্ঠকারী সংগঠন। বিশ্বকে তারা তাদের কমকান্ড ও বক্তব্য দ্বারা অস্থির ও হুমকির মুখে ফেলে দেয়। অপহরণ করে এরা মুক্তিপন দাবি করে; মুক্তিপণ না দিলে এরা শিরচ্ছেদ করে এবং তা প্রচার করে তাদের সম্পকে ভীতি তৈরি করে।
  • সব দেশে মুসলমান থাকায় তারা তাদের আদশকে সাড়া বিশ্বে ছড়িয়ে দেয়। আর তারাও প্রভাবিত হয়ে জঙ্গিদের আদশ প্রতিষ্ঠা করার জন্য কাজ করে। এই কারণে পশ্চিমা দেশগুলো জঙ্গিদের নিয়ে বেশি চিন্তিত। কারণ তাদের দেশের সরকারকে হঠিয়ে তারা ক্ষমতায় গিয়ে ইসলামী রাষ্ট্র গড়ে তোলতে চায়।
  • তারা সাংগঠনিকভাবেও শক্তিশালী। প্রতিনিয়তই তাদের সদস্য সংখ্যা বাড়ছে আবার নতুন নতুন জঙ্গি সংগঠনের জন্ম লাভ করছে। বিশ্বের শাসকরা জঙ্গি সংগঠনকে দমন করলেও তাদের আদশকে দমন করতে পারে না।
Rate this post
Mithu Khan

I am a blogger and educator with a passion for sharing knowledge and insights with others. I am currently studying for my honors degree in mathematics at Govt. Edward College, Pabna.