তথ্য প্রযুক্তি
1 min read

ইন্টারনেটে নিরাপদ থাকতে যে বিষয়গুলো করণীয়

বর্তমান যুগ ইন্টারনেটের যুগ । ইন্টারনেট পুরো দুনিয়া জালের মত ছড়িয়ে আছে । আধুনিক যুগে ইন্টারনেট ছাড়া কোন কিছুই ভাবা যায় না ।আমরা প্রত্যেক দিনই কোনো না কোনোভাবেই ইন্টারনেটের ব্যবহার করে থাকি । কিন্তু ইন্টারনেটের ব্যবহারের যেমন ভালো সুবিধা রয়েছে তেমনি এর রয়েছে খারাপ দিক । তাই আমি এই পোষ্টের মাধ্যমে ইন্টারনেটে নিরাপদ থাকতে যে বিষয়গুলো করণীয় তা আপনাদের মাঝে তুলে ধরব যাতে করে আপনারা ইন্টারনেটের সুফল সম্পর্কে ভালো দিকগুলো জানতে পারেন  বা নিরাপদে থাকতে বা ইন্টারনেট নিরাপদে ব্যবহার করতে পারবেন কোনরকম  ঝুঁকি ছাড়াই । আর এই সুযোগে বিভিন্ন প্রকার দুর্বোত্তরা  বিভিন্ন উপায়ে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের চোখে ধুলা দিয়ে বিভিন্ন প্রকার প্রতি  ক্ষতি  সাধন করেছে । তাই এই সমস্যা থেকে সমাধান বা নিরাপদ থাকার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করব এই পোষ্টের মাধ্যমে ।

১.ওয়াইফাই ব্যবহারের ক্ষেত্রে  সাবধান থাকুন

ওয়াইফাই মূলত তারবিহীন  যন্ত্র । উচ্চগতির ইন্টারনেটের ব্যবহার করা  হয় । আজকাল বিভিন্ন স্থানে অফিস আদালত বাসা বাড়ি সব স্থানে ফ্রি ওয়াইফাই পাওয়া যায় ।তাই ওয়াইফাই এর হটস্পট ব্যবহারের সময় সাবধানতা অবলম্বন করুন ।ওয়াইফাই যেমন ইন্টারনেট সুবিধা দিয়ে থাকি তেমনি এর কিছু অসুবিধা রয়েছে ।

২.অনলাইন অ্যাকাউন্টে  ২  স্টেপ  ভেরিফিকেশন চালু করুন

এই পদ্ধতিতে টু স্টেপ ভেরিফিকেশন বিভিন্ন ওয়েবসাইট গুলো ইউজারকারির পাসওয়ার্ড ছাড়াও একটি উপায়ে পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হয় । ভেরিফিকেশন  সিকিউরিটি কোড বলা হয় যা প্রতিবারই সার্ভার থেকে পাঠানো হয় । এটি ব্যবহার করলে  প্রতিবার  নতুন ডিভাইস সাইন ইন করার সময় ইউজারনেম পাসওয়ার্ড ইনপুট করার পরেও  আপনাকে  আরেকটি পিন কোড দিতে হবে । এসএমএস এর মাধ্যমে আসে । তাই এভাবে আপনার একাউন্টটি হ্যাকিং এর হাত থেকে রক্ষা পেতে পারে । আপনার মোবাইল ফোনটি হ্যাকারে হাতে যাওয়ার সম্ভাবনা কম । তাই নিচে বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে ২ স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু করতে চাইলে  নিচের  তালিকা গুলো দেখুন :

  • Whatsapp
  •  Gmail
  •  Facebook
  •  microsoft out look

 

3. বিশ্বস্ত ইন্টারনেট ব্রাউজার ব্যবহার করুন

ইন্টারনেট ব্রাউজার বলতে আমরা সকলেই জানি গুগল ক্রোম, মজিলা ফায়ারফক্স , মাইক্রোসফট  অ্যাপ , মজিলা ফায়ারফক্স কে সবচেয়ে বেশি বিবেচনা করা যায় এর ব্যবহারের জন্য । এমনকি গুগল প্লে স্টোর থেকে  ইউসি  ব্রাউজার  একবার মুছে দেওয়া হয়েছিল । মূলত uc browser হলো বিভিন্ন প্রকারের বিজ্ঞাপন নিউজ ভিডিও কনটেইন দেখানো হয় যা অনেকেই পছন্দ করেনা । তাই বুঝে শুনে ব্রাউজার ব্ব্যবহার করতে হবে । ইউসি  ব্রাউজারের  বিরুদ্ধে  ব্যবহারকারীদের সাথে প্রতারণা অভিযোগ এসেছিল । তাই ব্যবহারকারীকে বুঝে শুনে এর ব্যবহার করতে হবে ।

4.পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করুন

আমরা অনেকেই বিভিন্ন রকমের একাধিক সাইটের জন্য পাসওয়ার্ড মনে রাখার জন্য একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করি । নিজের পাসওয়ার্ড মনে রাখার ঝামেলা এড়াতে একটি পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করুন । একাধিক সাইটের জন্য একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা মোটেই ঠিক না এতে আপনার ওই পাসওয়ার্ডটি  বের  হয়ে গেলে আপনার  সকল  অনলাইন অ্যাকাউন্ট ঝুঁকিতে পড়বে। বিভিন্ন প্রকার ব্রাউজার যেমন , google chrome , firefox , microsoft  ইত্যাদি পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করতে হবে আপনি চাইলেই সব সেবা ব্যবহার করতে পারেন । প্রয়োজনে নিরাপদ স্থানে আপনার পাসওয়ার্ড লিখে রাখুন এবং অবশ্যই কঠিন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন । তাহলে আপনার সকল অনলাইন একাউন্ট থেকে রেহাই পেতে পারেন ।

5. ডাউনলোডের ক্ষেত্রে সাবধান হন

আজকাল  আমরা বিভিন্ন ইন্টারনেট সাইড ব্রাউজ করে অনেক কিছু ডাউনলোড  করে থাকে  এবং অনেক কিছুই বিজ্ঞাপনের ডাউনলোডের অফার দেখবেন এগুলোতে ক্লিক করার আগে আপনাকে ভাবতে হবে যে এগুলো কি পরিচিত সাইট ছাড়া অন্য কোন সাইট থেকে ডাউনলোড এর ক্ষেত্রে সতর্কতা হতে হবে । বিভিন্ন সাইটে ক্রাক,  প্রবৃত্তির কথা বলে ভাইরাস ধরিয়ে দেওয়া হয় । আপনি নির্ভরযোগ্য সাইড ছাড়া অন্য কোথাও কোন ভাবে ডাউনলোড করবেন না । অপরিচিত সাইড থেকে কোন কিছু ডাউনলোড করলেও এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারেন এর থেকে আপনি রেহাই পেতে পারেন ।

6.ব্রাউজারের এডড্রেস  বার খেয়াল করুন

অনেক ধরনের হ্যাকার আছে বিভিন্ন জনপ্রিয় সাইটের মত সাইট ব্যবহার করে সেখানে লোকজনকে নিয়ে লগইন করতে বলে ভিজিটররা তখন না বুঝে তাদের ইউজারনেম পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করার ব্যর্থ প্রচেষ্টা করে । এই সমস্যা থেকে দূরে থাকতে অনলাইনে তথ্য দেওয়ার আগে ব্রাউজ এড্রেস বার  খেয়াল করুন যে আপনি কোন সাইটে আছেন । এক্ষেত্রে আপনাকে একটি   পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করতে হবে । আপনার পাসওয়ার্ড সেভ করা সাইটের লগইন পেজে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাসওয়ার্ড না দেখাবে তখন এড্রেস বা দেখে নিশ্চিত হয়ে নিজে আপনি আসলে কোন সাইটে আছেন । অ্যাড্রেচে শুরুতে সবুজ রঙ্গে https  থাকাটা খুবই জরুরী । লেখা সাইট গুলো ব্রাউজ করার সময় ইন্টারনেট কানেকশন হ্যাক করে তৃতীয় পক্ষ আপনার গোপনীয় তথ্য পিন বা পাসওয়ার্ড জেনে ফেলতে পারে এতে আপনার সকল তথ্য হ্যাক হয়ে যাবে ।

7.এন্টি ভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার করা

নিজেকে নিরাপদ রাখতে এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার করতে হবে । যদি সব ধরনের নিরাপত্তা এন্টিভাইরাস দিতে সক্ষম নয় । তারপরও শতকরা ৯০ শতাংশ হুমকি মোকাবেলায় সক্ষমতায়ে রয়েছে । তাই আপনি কিছু অর্থ ব্যয়ের মাধ্যমে এন্টিভাইরাস কিনে নিতে পারেন কিংবা ইন্টারনেট থেকে বিনামূল্যে ইন্সটল করতে পারেন ।

অনেক সময় সাইবার আক্রমণকারীরা আপনার  ইমেইল  চুরি   করতে পারে । ইন্টারনেটে এই যুগে একজন মা কিংবা বাবাকে ইন্টারনেটের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে আচরণ করতে হয় তাই সন্তানদের ইন্টারনেট

বিশেষভাবে সহায়তা করতে পারে কানেক্ট সেফটি নামক সাইট সফটওয়্যারটি এতে শিশুদেরকে নিরাপদ রাখার বিভিন্ন কার্যপ্রণালী দেওয়া রয়েছে এই অ্যাপে । এগুলো ছাড়াও ইন্টারনেটে নিরাপত্তা শিশুদেরকে গুগলের ইউটিউব এর ব্যবহার করতে দেওয়া যেতে পারে যা ইউটিউবের  kit app  তবে তাদেরকে মোটেই  প্রকৃত  ইউটিউব ব্যবহার করতে দেওয়া যাবে না ।ইন্টারনেট ছাড়া এক মুহূর্ত এখন চলে না আমাদের পড়াশোনা, কাজের পাশাপাশি বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম ইন্টারনেট। ইন্টারনেটে আমরা  সবাই কি  নিরাপদ । মোটেও তা না তাই সবাইকে নিরাপত্তার ব্যবহার সচেতনা করার জন্য ইন্টারনেট দিবস  পালন করা হয় । ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হচ্ছে সচেতনতা । ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য অনলাইন নিরাপত্তার  বিষয়ে  ভালো ধারণা থাকা প্রয়োজন । কম্পিউটার , স্মার্টফোন ব্যবহারের করলেও ইন্টারনেট ব্যবহারে অবশ্য সতর্ক হতে হবে । পাশাপাশি সন্তানদের নিরাপত্তা ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ  দিতে  তাদের ব্রাউজিং সফটওয়্যার দেখা উচিত । তাই বিভিন্ন ধরনের অনলাইনে নিরাপদ রাখতে যে বিষয়গুলো প্রয়োজন ;

  • সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বন্ধু নির্বাচনে সচেতন হতে হবে , কারো বিষয়ে ভালো করে জানা না থাকলে তাকে বন্ধু তালিকায় স্থান না দেওয়াই ভালো
  •  লটারি বা বিভিন্ন পুরস্কারের প্রলবনে পাঠানো ইমেইল বা বার্তা খোলা যাবে না । একটি বিষয়ে মনে রাখলেই ভালো অনলাইনে নানা ধরনের পুরস্কার দিয়ে মূলত ব্যবহারকারীদের যন্ত্রে  মেলুয়ার  ভাইরাস হামলা চালানো হয়ে থাকে।
  •  ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচিত হওয়া অপরিচিত কাউকে একান্ত ব্যক্তিগত কোন তথ্য ছবি বা ভিডিও পাঠানো থেকে বিরত থাকতে হবে ।
  • নিরাপত্তা ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য অবশ্যই কম্পিউটার মুঠোফোনে এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার করতে হবে
  •  অপরিচিত স্থানে গিয়ে ওয়াইফাই সংযোগ দিয়ে ইন্টারনেট ব্যবহার করা যাবে না
  •  প্রয়োজন শেষে হলে অবশ্যই মুঠোফোনের ব্লুটুথ জিপিএস ফিচারটি বন্ধ রাখতে হবে

 

তাই আশা করি আমার এই পোষ্টের মাধ্যমে ইন্টারনেটের নিরাপদ থাকতে যে বিষয়গুলো জরুরী তা আপনাদের মাঝে তুলে ধরলাম । কেননা ইন্টারনেটের যুগে হ্যাকারের কোন অভাব নেই তাই এই পদ্ধতি গুলো মেনে চললে আপনি ইন্টারনেটে নিরাপদ থাকতে পারবেন এতে করে আপনাকে কোন প্রকার ঝামেলা পোহাতে হবে না আশা করি আপনারা বুঝতে পেরেছেন এবং বুঝতে পারবেন এই পোস্টের মাধ্যমে ।

Rate this post