রোজা
1 min read

ইফতারের দোয়া। ইফতারের নিয়ত বাংলা এবং আরবি অর্থসহ

 ইফতারের দোয়া। ইফতারের নিয়ত বাংলা এবং আরবি অর্থসহ নিজে জানুন এবং অন্যকে জানান-

ইফতারের পূর্বে যে দোয়া পড়বেন

ইফতারের পূর্বে এই দোয়া পড়িতে হয়,

বাংলা উচ্চারণ: ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু, ওয়া আ’লা রিযক্বিকা আফত্বারতু।’

বাংলা অর্থ: ‘আল্লাহর নামে (শুরু করছি); হে আল্লাহ! আমি তোমারই জন্যে রোজা রেখেছি এবং তোমারই দেওয়া রিজিক দ্বারা ইফতার করছি। (আবু দাউদ মুরসাল, মিশকাত)

ইফতারের সময় দোয়া কবুল হয়

ইফতারের সময় দোয়া কবুল হয় তাই এ সময় বেশি বেশি দুআ-ইস্তিগফার করতে থাকবে। বিশেষত এই দোয়া করবে-

اَللهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ بِرَحْمَتِكَ الَّتِيْ وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ أَنْ تَغْفِرَ لِيْ. رواه ابن ماجه، وقال البوصيري في الزوائد : هذا هديث صحيح، ورجاله ثقات.

হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে তোমার সেই রহমতের উসীলায় প্রার্থনা করছি যা সকল বস্ত্ততে পরিবেষ্টিত, তুমি আমাকে মাফ করে দাও।-সুনানে ইবনে মাজাহ পৃ. ১২৫, হাদীস : ১৭৫৩

ইফতারের সময় যে দোয়া পড়তে হয়

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া আলা রিযক্বিকা ওয়া আফতারতু বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমীন।’

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমারই সন্তুষ্টির জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমারই দেয়া রিযিক্বের মাধ্যমে ইফতার করছি।

ইফতারের দোয়া বাংলা অর্থসহ

আমরা অনেকেই আছি মাঝেমধ্যে ইফতারের দোয়া ভুলে যাই। তাই আমরা এখানে ইফতারের দোয়ার বাংলা উচ্চারণ, ইফতারের দোয়ার বাংলা অর্থ এবং আরবি দোয়া আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি।

ইফতারের দোয়া বাংলা উচ্চারণ

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া আলা রিযক্বিকা ওয়া আফতারতু বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমীন। (সুনানে আবু দাউদ হাদীস : ২৩৫৮)

ইফতারের দোয়া বাংলা অর্থ

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমারই সন্তুষ্টির জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমারই দেয়া রিযিক দ্বারাই ইফতার করছি। (সুনানে আবু দাউদ হাদীস : ২৩৫৮)

ইফতারের দোয়া আরবিতে

اَللهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَعَلىٰ رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ.

বিঃদ্রঃ ইফতার গ্রহণের সময় এ দোয়া পড়বে- ইফতারে দোয়া

 

ইফতারের পর যে দোয়া পড়তে হয়

ইফতারের পর নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দোয়া পড়তেন-

ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوْقُ وَثَبَتَ الْأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللهُ. رواه أبو داود، وصححه الحاكم في المستدرك، ولم يتعقبه الذهبي.

উচ্চারণ: ‘জাহাবাজ জামাউ; ওয়াবতালাতিল উ’রুকু; ওয়া ছাবাতাল আঝরূ ইনশাআল্লাহ।’

অর্থ: ‘(ইফতারের মাধ্যমে) পিপাসা দূর হল, শিরা-উপশিরা সতেজ হল আর আল্লাহ তাআলা চান তো রোযার সওয়াব লিপিবদ্ধ হল। (সুনানে আবু দাউদ ১/৩২১, হাদীস : ২৩৫৭; মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস : ১৫৭৬)

ইফতার অর্থ কি

ইফতার শব্দটি আরবি ﻓﻄﺮ ফাতর থেকে এসেছে, ‘ইফতার’ শব্দের অর্থ হলোঃ ভঙ্গ করা,ছিঁড়ে ফেলা, রোযা ত্যাগ করা। অর্থাৎ ইফতার অর্থ রোযা ত্যাগ করার বা ছাড়ার জন্য খাদ্য গ্রহণ করা।

ফিতর আরো যে অর্থ দেয় তা হলো এমন খাদ্য যা দ্বারা রোযা ভঙ্গ করা হয়। আরবি শব্দ ‘ইফতার’ অর্থ হলো – রোযা ত্যাগ করা। অর্থাৎ ইফতার অর্থ রোযা ত্যাগ করার বা ছাড়ার জন্য খাদ্য গ্রহণ করা।

সন্ধ্যায় রোজার উপবাস ভাঙা করা হয় যে খাবারের সঙ্গে তাই হল ইফতার। অর্থাত্ সূর্যাস্তের পর যে খাবার খাওয়া হয় তাই হল ইফতার। মূলত খেজুর খেয়েই রোজা খোলার রীতি প্রচলিত রয়েছে।

সুনান আবূ দাউদের ২ খন্ডের কিতাবুস সিয়ামের ২৩৪৯ নং হাদীস থেকে জানা যায়, রাসূল (সঃ) ইফতারীতে উত্তম খেজুর খেতেন। তিনি ভালো মানের খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। যদি তিনি টাটকা খেজুর না পেতেন তাহলে শুকনো খেজুর খেতেন।

টাটকা খেজুর খাওয়া সর্বোত্তম, আপনি যদি টাটকা খেজুর না পান তাহলে শুকনো খেজুর দিয়ে ইফতার করুন, আর যদি তাও না পান তাহলে পানি দিয়ে ইফতার করুন, এটাই সুন্নাত।

আপনি যদি পানিও না পান তাহলে হালাল যেকোনো খাবার দিয়ে ইফতার

করতে পারেন। আবার কোনোকিছুই পেলেন না। যেমন সফরে বা যানবাহনে ইফতারের সময় হলো, তাহলে আপনি মানসিকভাব রোযা ছাড়ার নিয়ত করুন এবং তাড়াতাড়ি যে হালাল খাবার পান তা খেয়ে নিন।

ইফতারের নিয়ত

অর্থ : ‘আল্লাহর নামে (শুরু করছি); হে আল্লাহ! আমি তোমারই সন্তুষ্টির জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমারই দেয়া রিযিক্বের মাধ্যমে ইফতার করছি।’

ইফতারের নিয়ত বাংলা

উচ্চারণ : ‘আসতাগফিরুল্লাহাল আজিম, আল্লাজি লা ইলাহা ইল্লাহু আল-হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম, ওয়া আতুবু ইলাইহি লা হাওলা ওয়ালা কুয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়্যিল আজিম।’

ইফতারের নিয়ত আরবি

اَللهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَعَلىٰ رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ.

ইফতারের ফজিলত

ইফতার করা যেমন ফজিলতের, ইফতার করানোও তেমনি বরকতের। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, তার গুনাহ মাফ হয়ে যাবে, সে জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভ করবে এবং রোজাদারের সওয়াবের সমপরিমাণ সওয়াব সে লাভ করবে। তবে ওই রোজাদারের সওয়াব কম করা হবে না।’

সাহাবায়ে কিরাম বললেন, ‘ইয়া রাসুলুল্লাহ (সা.)! আমাদের অনেকেরই রোজাদারকে ইফতার করানোর সামর্থ্য নেই।’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘পানিমিশ্রিত এক পেয়ালা দুধ বা একটি খেজুর অথবা এক ঢোঁক পানি দ্বারাও যদি কেউ কোনো রোজাদারকে ইফতার করায়, তাতেও সেই পরিমাণ সওয়াব পাবে। আর যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে তৃপ্তিসহকারে আহার করাবে, আল্লাহ তাআলা তাকে আমার হাউসে কাউসার থেকে এমন পানীয় পান করাবেন, যার ফলে সে জান্নাতে প্রবেশ করার পূর্ব পর্যন্ত তৃষ্ণার্ত হবে না।’ (মুসনাদে আহমাদ)।

ইফতারের দোয়া ছবি

ইফতারের সময় যে যে কাজগুলো করতে হয়

১. ইফতারের সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করা।

২. অন্য কাজে ব্যস্ত না হয়ে ইফতারে মনোযোগ দেওয়া।

৩. বেশি বেশি দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা করা।

৪. খেজুর কিংবা সাদা পানি দিয়ে ইফতার করে মাগরিবের নামাজ আদায় করা।

৫. ইফতারের সময় ভারী খাবার না খাওয়া। মাগরিবের নামাজ আদায় করে তারপরে তৃপ্তিসহ খাবার খাওয়া। তাতে শরীর সুস্থ ও সবল থাকে।

সেহরি ও ইফতারের দোয়া

ইফতারের দোয়াঃ

আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া আলা রিযক্বিকা ওয়া আফতারতু বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমিন।

সেহরির দোয়াঃ

نَوَيْتُ اَنْ اُصُوْمَ غَدًا مِّنْ شَهْرِ رَمْضَانَ الْمُبَارَكِ فَرْضَا لَكَ يَا اللهُ فَتَقَبَّل مِنِّى اِنَّكَ اَنْتَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْم
উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন আছুম্মা গাদাম মিন্ শাহরি রমাজানাল মুবারাকি ফারদাল্লাকা, ইয়া আল্লাহু ফাতাকাব্বাল মিন্নি ইন্নিকা আনতাস্ সামিউল আলিম।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আগামীকাল পবিত্র মাহে রমজানের নির্ধারিত ফরজ রোজা রাখার নিয়ত করলাম। অতএব তুমি আমার রোযা তথা পানাহার থেকে বিরত থাকাকে কবুল কর, নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী।

Rate this post