মাথায় চুল গজানোর উপায়

16

চুল পড়া সমস্যা অথবা মাথার চুল পাতলা হয়ে যাওয়া এমন সমস্যা অনেকেরই আছে। আর এ চিন্তায় চুলপড়া আরো বেড়ে যায়। এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার দুটি উপায় আছে। প্রথমটি হলো চুল ঝরে যাওয়া রোধ করা, দ্বিতীয় টি হল নতুন চুল গজানো। এ কারণে আমরা অনেকে অনেক কিছু করে থাকি। কিন্তু আসল সমাধান পাই না। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক কিভাবে নতুন চুল গজানো সম্ভব।

বিভিন্ন কারণে চুল পড়তে পারে। তবে আমাদের বয়স বাড়ার কারণে বা বংশগত বা পরিবেশের প্রভাবে চুল পড়ে যায়। এ কারণে অনেকের মন খারাপ হয়,মনে হয় যদি চুলগুলো আবার ফিরে পেতাম। মাথার ত্বকে যদি উদ্দীপনা দিতে পারেন তাহলে নতুন চুল গজানো সম্ভব। তাছাড়া চুলের গোড়ায় রক্ত সঞ্চালন এর ব্যবস্থা রয়েছে এটাকে বাড়ানো গেলেও নতুন চুল গজানো সম্ভব। চলুন তাহলে জেনে নেই –

নতুন চুল গজানোর টিপস

পদ্ধতি – 1

প্রথম উপায় হল চুল ম্যাসাজ করা। নিয়মিত চুল ম্যাসাজ করতে হবে, এতে স্ক্যাল্পে রক্ত সঞ্চালন বাড়বে স্ক্যাল্প উদ্দীপিত হবে। ভিটামিন ই চুলের জন্য প্রয়োজনীয় নিউট্রিশনের যোগান দেয়। তাই 1 টেবিল চামচ ভিটামিন ই নিয়ে মাথায় ম্যাসাজ করতে থাকুন।

আপনি চাইলে ভিটামিন ই এর সাথে চা এর নির্যাস যোগ করতে পারেন। এ দুটো ভালোভাবে মিশিয়ে হাতের তালু এবং আঙুলের সাহায্যে পুরো মাথায় ম্যাসাজ করুন। এভাবে কিছুক্ষণ ম্যাসাজ করার পর মোটা দাঁতের চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ে নিন।এর অল্প কিছুক্ষণ পর চুলে ভালোভাবে শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। নতুন চুল গজানোর জন্য দিনে তিনবার ম্যাসাজ করতে হবে।

পদ্ধতি – 2

চুলের গোড়ায় হেয়ার ফলিকল থাকে আর ভাইব্রেশনের মাধ্যমে যদি ফলিকল উদ্দীপিত করা যায় তাহলে নতুন চুল গজানো সম্ভব।

বাজারে ভাইব্রেটিং ম্যাসেজার কিনতে পাওয়া যায় । এর সাহায্যে স্ক্যাল্পে চক্রাকারে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে মাথায় ভাইব্রেটিং ম্যাসাজ নিতে পারবেন। যে জায়গায় বেশি চুল পড়ে সেখানে একটু বেশি মনোযোগ দিন। এভাবে কয়েক মিনিট করুন। ভালো ফল পেতে দিনে তিনবার করুন।

পদ্ধতি – 3

এমন শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন যা আপনার স্ক্যাল্পের মৃতকোষগুলো ঝরে যেতে সাহায্য করবে। মৃতকোষগুলো স্ক্যাল্পের ফলিকল ব্লক করে রাখে। যার জন্য নতুন চুল গজায় না। তাই শ্যাম্পু নিয়ে মাথায় ম্যাসাজের মত করে লাগিয়ে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। এভাবে দিনে একবার করবেন।

সাধারণ যত্ন

  • নিয়মিত চুল পরিষ্কার করতে হবে ও আঁচড়াতে হবে। তবে অতিরিক্ত আঁচড়ানো চুলপড়া বাড়িয়ে দিতে পারে।
  • চুলের গোড়ায় পেঁয়াজের রস লাগিয়ে 15 /20 মিনিট রেখে দিন। এরপর ধুয়ে ফেলুন। এভাবে নিয়মিত ব্যবহার করলে নতুন চুল গজাবে।
  • মেহেদী পাতা বেটে কিছুদিন মাথায় দিতে পারেন। শুকিয়ে গেলে শ্যাম্পু করে ফেলুন।
  • শুকনো আমলকি পানিতে ভিজিয়ে সে পানি মাথায় লাগাতে পারেন।
  • এছাড়া খাঁটি কালোজিরার তেল ব্যবহার করতে পারবেন।

নতুন চুল গজানোর জন্য খাদ্যাভাসের পরিবর্তন

প্রোটিন

চুল মূলত কেরাটিন দিয়ে গঠিত। এটি অ্যামিনো এসিড দিয়ে তৈরি এক ধরনের প্রোটিন। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। অর্থাৎ চুল গজানোর জন্য আপনার শরীরে পর্যাপ্ত অ্যামিনো এসিড সরবরাহ করতে হবে। আপনার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় মাছ, মাংস, ডিম, দুধ ইত্যাদি রাখার চেষ্টা করুন।

আয়রন ও জিংক

আয়রন ও জিংক মাথার কোষে অক্সিজেন পরিবহন করে, নতুন টিস্যু তৈরিতে সহায়তা করে ও ক্ষয়রোধে সহায়তা করে। আয়রন ও জিংক নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। তাই যেসব খাদ্যে আয়রন ও জিংক বিদ্যমান সেসব খাদ্য (মটরশুঁটি, বাদাম, কলিজা, মাংস ইত্যাদি) খেতে হবে।

ভিটামিন সি

চুলের বৃদ্ধি ও গজানোর জন্য প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি (পেয়ারা, লেবু,কমলা, আনারস, কামরাঙ্গা, কাঁচা মরিচ ইত্যাদি) সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।

কালোজিরা

কালোজিরা নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে । মাথায় কালোজিরার তেল ব্যবহার করা এবং খাবারে কালোজিরা ব্যবহার খুব ভালো উপকার দেয়।

Previous articleশীতে শিশুর যত্নে খাদ্য তালিকা!
Next articleকোরআন প্রতিযোগিতায় ১১১ দেশের মধ্যে তৃতীয় ঢাকার তাকরীম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here