পৃষ্ঠটানের ব্যবহার
Uses of surface tension

দৈনন্দিন জীবনের কতগুলো বাস্তব ঘটনা যা পৃষ্ঠটান যারা প্রভাবিত হয়। তরলের পৃষ্ঠটানের সাহায্যে এই সকল ঘটনা বাখ্যা করা যায়।

১। পানির তলে পোকামাকড়ের চলাচলঃ

আমরা পানির উপরিতলে পোকামাকড় চলাফেরা করতে দেখি। এই পোকামাকড় পানির মধ্যে ডুবে না কেন? এর কারণ কিন্তু পৃষ্ঠটান। আমরা জানি পৃষ্ঠটান নানা কারণে প্রভাবিত হয় — এর মধ্যে অন্যতম একটি কারণ হলো পৃষ্ঠটানজনিত পানির উর্ধ্বমুখী বল। পোকামাকড় যখন পানির উপর দিয়ে চলাচল করে তখন এর ওজন (MW) নিচের দিকে ক্রিয়াশীল হয়, অপরদিকে পোকামাকড়ের উপর পৃষ্ঠটানজনিত উর্ধ্বমুখী বল (F) উপরের দিকে ক্রিয়াশীল হয়। পৃষ্ঠটানের দরুন পানির উপরিতল নিচের দিকে বেঁকে যায়। এই উর্ধ্বমুখী বল (F) এবং ওজন (W) এর মান সমান হওয়ার কারণেই পোকামাকড় পানির উপরে ভেসে থেকে চলাচল করতে পারে।

২। সাবানের ফেনাঃ

ফাপা একটি কঁাচনলের একপ্রান্ত সাবান পানিতে ডুবিয়ে ফু দিলে সাবানের গোলাকার বুদবুদ সৃষ্টি হয়। অথবা কাপড় কাচার সময় কাপড়ে সাবান পানি লেগে থাকলে সেখানেও সাবানের বুদবুদ সৃষ্টি হতে দেখা যায়। এক্ষেত্রে সাবান পানির পাতলা ও গোলাকার পর্দা দ্বারা আবদ্ধ কিছু পরিমাণ বায়ু থেকে সাবানের বুদবুদ ওঠে। এই সাবান বুদবুদের দুটি পৃষ্ঠ থাকে, একটি ভেতরের পৃষ্ঠ, অপরটি বাইরের পৃষ্ঠ। ভেতরের চাপ বাইরের চাপ অপেক্ষা বেশি বলে বুদবুদ প্রসারিত হতে চায়। কিন্তু পর্দার পৃষ্ঠটান একে সংকুচিত করতে চায়। বুদবুদের সাম্যাবস্থায় এই দুটি বিপরীতমুখী বলের মান সমান হয়। পৃষ্ঠটান অপেক্ষা ভেতরের চাপ বেশি হলে তা ফেটে যাবেন।

৩। গাছে পানির পরিবহনঃ

গাছে পানির পরিবহন ব্যাখ্যা করার আগে আমরা কৈশিক নল ও কৈশিকতা কী তা বোঝার চেষ্টা করব। কৈশিক নল হলো সুষম, সূক্ষ্ম ছিদ্রবিশিষ্ট সরু নল। আর কৈশিকতা বলতে এই নলের মধ্যে তরলের উর্ধ্বারোহণ বা অবনমনকে বোঝায়। গাছের মূল থেকে শুরু করে কাণ্ড ও শাখা প্রশাখাতে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছিদ্র থাকে। এই সকল ছিদ্র কৈশিক নল হিসেবে ক্রিয়া করে। ফলে মাটি থেকে পানি বা জলীয় অংশ এই সরু ছিদ্র পথে কৈশিকতার কারণে মূল থেকে কাণ্ড ও গাছের অন্যান্য অংশে পানির পরিবহন হয় বা পানি ছড়িয়ে পড়ে ।

৪। তরলের পৃষ্ঠে সূচের অবস্থানঃ

পানির উপরিতলে একটি পাতলা কাগজ রেখে তার উপর গ্রিজ মাখানো একটি সূচ স্থাপন করলে দেখা যাবে যে, কাগজ পানিতে ডুবে গেছে, কিন্তু সূচ পানিতে ভাসছে, তবে পানির তল নিচের দিকে কিছু বেঁকে গেছে। তরলে পৃষ্ঠটান (T) এর দরুন সূচের উপর মোট উর্ধ্বমুখী বল (F) সূচের ওজন (W) – এর সমান হয় অর্থাৎ F = W হয় এই কারণে সূচকে পানিতে ভাসতে দেখা যায়।

৫। ছাতার কাপড় বা তাবুর কাপড়ের মধ্য দিয়ে পানি প্রবেশ করতে না পারাঃ

ছাতার কাপড় বা তাবুর কাপড়ের যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছিদ্র থাকে তার মধ্য দিয়ে বায়ু সহজে চলাচল করতে পারলেও বৃষ্টির পানি সইজে প্রবেশ করতে পারে না। এর কারণ হলো বৃষ্টির পানি পৃষ্ঠটানের জন্য ছোট ছোট গোলাকার বিন্দুর আকার ধারণ করে এবং কাপড়ের উপর দিয়ে গড়িয়ে পড়ে যায়।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x