আমাদের সমাজের মানুষ বিভিন্নরকম ঝামেলায় জর্জরিত।এই ঝামেলা সৃষ্টির পিছনেও মানুষই জড়িত।আইয়ামে জাহেলিয়া বা অজ্ঞতার যুগের কাজকর্ম মানুষ এখনো করে থাকে।যার কারণে সমাজের উন্নতি না হয়ে সমাজ আইয়ামে জাহেলিয়া বা অজ্ঞতার যুগেই পড়ে রয়েছে।

দেখুন তো আইয়ামে জাহেলিয়া বা অজ্ঞতার যুগের নিদর্শন গুলো আপনার সাথে মিলে কি না ?

যদি মিলে যায় তাহলে সেটা কে আজই না বলুন,তা নাহলে আপনি অজ্ঞ।

১) মদ্যপান

আইয়ামে জাহেলিয়া বা অজ্ঞতার যুগে মানুষ অতিমাত্রায় মাদকাসক্ত ছিল।
উপরের লাইনটি আবার পড়ুন।
বিনোদন মূলক কাজের মধ্যে মদ্যপান ছিল অন্যতম। মদ্যপান করে তারা নর্তকীদের সাথে অশ্লীল কাজ করতো। ঐতিহাসিক মুহাম্মদ রেজা-ই-করিম বলেন, মদ্যপান,জুয়া খেলা ও সংগীতের প্রতি আইয়ামে জাহেলিয়া বা অজ্ঞতার যুগের মানুষ ব্যাপক আসক্ত ছিল।

আপনি তো আইপিএল,ফুটবল ম্যাচে ইত্যাদি তে বাজি ধরেন তাই না?

আইয়ামে জাহেলিয়া বা অজ্ঞতার যুগের ধনী মানুষদের অবসর কাটতো পারস্য ও গ্রিস হতে নিয়ে আসা নর্তকী ও গায়িকাদের নৃত্যগীত উপভোগের মাধ্যমে। সে সমাজে যারা এগুলো থেকে দূরে থাকতো তাদের অবজ্ঞা করা হতো🤣

ঐতিহাসিক খোদাবক্স এর ভাষ্যমতে,
WAR,Women and Wine were Three absorbing passion of the Arabs.

আপনারও যদি আইয়ামে জাহেলিয়া বা অজ্ঞতার যুগের লোকদের মতো এই তিনটিই প্যাশন থাকে তাহলে আপনি সহজ বাংলায় মূর্খ।

২) অভিশপ্ত সুদ প্রথা

আইয়ামে জাহেলিয়া বা অজ্ঞতার যুগে সমাজে শোষণের অন্যতম হাতিয়ার ছিল এই সুদপ্রথা।
তারা উচ্চহারে সুদের কারবার করতো।অতিরিক্ত সুদের হারের কারণে কেউ সুদ পরিশোধ করতে অক্ষম হলে তার সম্পত্তি ও নিতোই তার সাথে স্ত্রী, সন্তানকেও দখল করে নিতো।কারণ,সেই সময় মানুষও কেনাবেচা হতো অর্থাৎ ক্রীতদাস প্রথা চালু ছিলো। এই সুদ চক্রে নিপতিত হয়ে অনেক মানুষ নিঃস্ব হয়ে গিয়েছে।

আপনি কি সমিতি চালান,সুদি ব্যাংকে চাকরি করেন,গাছ না লাগিয়ে টাকা লাগান ?
তাহলে, এখনই জেনে নিন আপনি সহজ বাংলায় একজন মূর্খ।

৩) গোত্রপ্রীতি

সে যুগে সবাই গোত্রের প্রতি আনুগত্য করতো।গোত্রপতি যা বলতো তারা সেটা মাথা পেতে মেনে নিতো।
এখন এটা কিছুটা আপডেট হয়েছে। আপনার এলাকায় দেখেন না কেউ সারাদিন একজনের পিছনে পিছনে ঘুরছে,সে যা বলছে সেটাই করছে হোক সেটা মন্দ তার কোন পরোয়া করছে না? সে একটা মূর্খ।

৪) রাহাজানি

মারামারি, লুটপাট, জোরপূর্বক অন্যের সম্পত্তি দখল,হাঙ্গামা এটা ছিল আইয়ামে জাহেলিয়া বা অজ্ঞতার যুগের নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার।
মারামারি ক্ষেত্রে আপনি তো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কিছু মানুষের কথা জানেনই আর সম্পত্তি দখল কে করতে চায় সেটাও জানেন।এরাই মূর্খ।
এসব কুকর্মে যারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করতো তাদেরকেই সমাজের সম্মানিত হিসেবে বিবেচনা করা হতো।
এখনও তো এটাই চলে তাই না?
এছাড়াও সেই যুগের মানুষের মধ্যে আত্নঅহৎকার, চরিত্রহীনতা,পরনিন্দা পরশ্রীকাতরতা ছিল।
আপনার মধ্যে এগুলো নেই তো?

৫) বৈবাহিক অবস্থা

অজ্ঞতার যুগে কোন সুষ্ঠু বিবাহ প্রথা ছিলো না। সে যুগে নারীরা একাধিক পতি রাখতে পারতো এবং ইচ্ছে হলেই তালাক দিতে পারতো। তসলিমা নাসরিন,মালালা ইউসুফ জাইরা যে রকম চায় আর কি🙃
ভাবা যায়, এক স্ত্রী কর্তৃক বহু স্বামী থাকতো যার কারণে ভাই-বোনেরও বিয়ে হতো।

৬) ব্যভিচার

স্বামীরা আইয়ামে জাহেলিয়া বা অজ্ঞতার যুগে তাদের স্ত্রীদের বীরপুত্র লাভের আশায় অন্যের সাথে অবৈধ কাজে লিপ্ত হওয়ার অনুমতি দিতো। নারী জাতিকে ঘৃণিত ও অভিশপ্ত জীবন-যাপন করতে হতো। রাসূল (সঃ) আবির্ভাবের পর নারী জাতির মর্যাদা বৃদ্ধি করেন।

৭) কন্যাসন্তানদের জীবন্ত কবর দান

সেই আইয়ামে জাহেলিয়া বা অজ্ঞতার যুগে কন্যা সন্তান জন্মদান কে অভিশাপ মনে করা হতো। দারিদ্র্য, ব্যভিচার আর শত্রু গোত্রের দ্বারা অপহৃত, লুণ্ঠিত হওয়ার ভয়ে নবজাতক কন্যা সন্তান কে জীবন্ত কবর দিতো।
কারণ,তিনটি ভালোভাবে লক্ষ্য করুন।তিনটির মধ্যে একটি হচ্ছে ব্যভিচার।আপনাকে কত কষ্ট করে বড় করে আপনার পিতা-মাতা। আর আপনি বড় হয়ে প্রেম করেন,ব্যভিচার করতে আপনার অন্তর ভয়ে কাপে না?
যে ব্যভিচার করে সে মূর্খ।আপনার বিশ্বাস না হলে বিতর্কে আসুন প্রমাণ করে দিবো।
আরেকটি কারণ হচ্ছে দারিদ্র্য। এখন আপনি আপডেট হয়ে দুইটির বেশি সন্তান নিতে চান না দারিদ্র্যের ভয়ে অথচ এটা আইয়ামে জাহেলিয়া যুগের একটি নিদর্শন যা আপনার মধ্যে বিদ্যমান। কারণ,আল্লাহ তায়ালা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন

“দারিদ্র্যের ভয়ে তোমার সন্তানদিগকে হত্যা করো না। আমিই তাদের এবং তোমার জীবিকা সরবরাহ করি।”

নিজের চিন্তা-চেতনাকে পরিশুদ্ধ করে একবার ভাবুন আইয়ামে জাহেলিয়া বা অজ্ঞতার যুগের কোন নিদর্শন আপনার মধ্যে রয়েছে কি না?
থাকলে সেটা অবশ্যই পরিত্যাগ করে সুন্দর জীবন-যাপন করুন।মনে রাখবেন,উপরোক্ত নিদর্শন গুলো থাকার কারণেই কিন্তু সেই যুগ বলা হয় আইয়ামে জাহেলিয়া বা অজ্ঞতার যুগ।

মুসাফির সাজ্জাদ
৭ জুলাই,২০২১

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x