পড়াশোনা
1 min read

কম্পিউটার ভাইরাসের প্রকারভেদ।

কম্পিউটারের ক্ষতিকারক একটি সফটওয়্যার হলো কম্পিউটার ভাইরাস। প্রতিদিন কিছু কম্পিউটার অপরাধী নতুন নতুন ভাইরাস (VIRUS) তৈরি করছে। এসব ভাইরাসের বিস্তার বিভিন্নভাবে অতিদ্রুত ঘটে থাকে। কম্পিউটারে আক্রমণের ধরন অনুসারে ভাইরাস বিভিন্ন ধরনের হতে পারে, যা নিচে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো–

১. ট্রোজান হর্স ভাইরাস (Trogan Horse Virus) : গ্রিক পুরাণের ট্রোজান ঘোড়ার নাম অনুসারে এ ভাইরাসের নামকরণ করা হয়েছে। এ ভাইরাস খুবই মারাত্মক। এর প্রধান উদ্দেশ্যই হচ্ছে একটি নির্দিষ্ট ফলাফলের দিকে ধাবিত হয়। ট্রোজান হর্স ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত কোনো প্রোগ্রাম চালু করলে ফাইল বা ডিস্ক নষ্ট হতে পারে। আবার কখনও এ ভাইরাস সমস্ত হার্ডডিস্ক ফরমেট করে ফেলতে পারে।

২. বুট সেক্টর ভাইরাস (Boot Sector Virus) : বুট সেক্টর কম্পিউটারের হার্ডডিস্কের একটি অংশ। কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেম কীভাবে কাজ করবে, তা নিয়ন্ত্রণ করাই হলো বুট সেক্টরের কাজ। আর বুট সেক্টর ভাইরাস সরাসরি কোনো ফ্লপি বা হার্ডডিস্কের বুট সেক্টরকে নিজেদের কোড দ্বারা পরিবর্তন করে এবং অপারেটিং সিস্টেমের একটি অংশ হয়ে যায়। এ জাতীয় ভাইরাস প্রথমে নিজেদেরকে মেমোরিতে স্থাপন করে এবং পর্যায়ক্রমে কম্পিউটারের বুটিং সেক্টরকে ধ্বংস করে ফেলে।

৩. পার্টিশন সেক্টর ভাইরাস (Partition Sector Virus) : হার্ডডিস্কের প্রথম সেক্টর হলো পার্টিশন সেক্টর। এটি ডিস্ক সম্পর্কিত তথ্য ধারণ করে থাকে। আর কোনো কম্পিউটার পার্টিশন সেক্টর ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হলে কম্পিউটারের হার্ডডিস্কের পার্টিশন সেক্টরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

৪. ম্যাক্রো ভাইরাস (Macro Virus) : ম্যাক্রো ভাইরাস হলো প্রথম ভাইরাস যা ডেটা ফাইলগুলোকে আক্রান্ত করে থাকে। ম্যাক্রো ভাইরাস ম্যাক্রো অবজেক্ট থেকে তৈরি হয় এবং ব্যবহৃত ফ্লপি ডিস্ক ইন্টারনাল নেটওয়ার্ক কিংবা ইন্টারনেটে ফাইল ডাউনলোড করা থেকে এ ভাইরাস ছড়ায়। বর্তমান সময়ে এ ধরনের ভাইরাসের আক্রমণ প্রায়ই লক্ষ করা যায়।

৫. প্রোগ্রাম ভাইরাস (Program Virus) : প্রোগ্রাম ভাইরাস তাদের ভাইরাস কোড এক্সিকিউটেবল ফাইলের প্রথম বা শেষে যুক্ত করে। অতঃপর মূল প্রোগ্রামের কোনো অংশবিশেষ তাদের নিজস্ব কোড দ্বারা প্রতিস্থাপিত করে ফেলে।

৬. ফাইল ভাইরাস (File Virus) : যেসব ফাইলের এক্সটেনশন .exe ও  .com; সেসব ফারুক এ ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়। আক্রান্ত প্রোগ্রাম রান করলে প্রথমে ভাইরাস রান করে অরিজিনাল প্রোগ্রামকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং পরে তার অনুরূপ তৈরি করার জন্য এর কোডকে অন্য ফাইল বা ডিস্কে কপি করে।

৭. ওভার রাইটিং ভাইরাস (Over Writing Virus) : ওভার রাইটিং ভাইরাস আক্রান্ত ফাইলকে নিজস্ব কোড দ্বারা ওভার রাইট (Ovar Write) করে ফেলে। তাই প্রোগ্রামের আর কোনো কাজ থাকে না। এ জাতীয় ভাইরাস উইন্ডোজ ৯৫ ডস সেশনে এবং উইন্ডোজ এনটি ডস এমুলিশন এনভায়রনমেন্টে রান করে।

৮. জেনারেল পারপাস ভাইরাস (General Purpose Virus) : জেনারেল পারপাস ভাইরাস মূলত বুট সেক্টর ভাইরাস ও কমান্ড পারপাস ভাইরাসের মতো গোপন পথে কম্পিউটারে প্রবেশ করে এবং অনেক ক্ষতি করে। এ ভাইরাস আক্রমণের ক্ষতি দূর করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে।

৯. কমান্ড পারপাস ভাইরাস (Command Purpose Virus) : কমান্ড পারপাস ভাইরাস File I/O Sys, Ms-Dos Sys, IBMBIO.Com ও IBMDOS.Com ফাইলগুলো নষ্ট করে থাকে। বুটিং সিস্টেম চালু অবস্থায় এই ভাইরাস কম্পিউটারে প্রবেশ করে এবং বিশেষ ক্ষতি করে।

১০. পলিমরফিক ভাইরাস (Polymorphic Virus) : এ জাতীয় ভাইরাস স্ক্যানিং এর সময় নিজেদের পরিবর্তন করে স্ক্যানারকে ফাঁকি দিয়ে থাকে। কারণ এদের কোড কোনো নির্দিষ্ট প্যাটার্নে থাকে না। আর এ কোড এনক্রিপটিং পদ্ধতিতে পরিবর্তিত হয়ে পরিচালিত হয়।

Rate this post