পড়াশোনা
1 min read

রসায়ন প্রশ্ন ও উত্তর (পর্ব-৩০) Chemistry Question and Answer

প্রশ্ন-১। বিওডি (BOD) কি?
উত্তরঃ BOD হলো Biological Oxygen Demand অর্থাৎ জৈব রাসায়নিক অক্সিজেনের চাহিদা।

প্রশ্ন-২। কোল গ্যাস কি?
উত্তরঃ কোল গ্যাস হচ্ছে হাইড্রোজেন, মিথেন, কার্বন মনোক্সাইড, ইথিলিন, অ্যাসিটিলিন, বেনজিন বাষ্প, নাইট্রোজেন, কার্বনডাইঅক্সাইড, অক্সিজেন ইত্যাদি গ্যাসের মিশ্রণ। ইহা প্রধানত জ্বালানীরূপে ও আলোক উৎপাদকরূপে ব্যবহৃত হয়। কয়লার অন্তর্ধূমে পাতন করলে এটি উদ্বায়ী ও অনুদ্বায়ী দুই প্রকারের পদার্থ সৃষ্টি করে। শৈত্য প্রয়োগে উদ্বায়ী পদার্থের এক অংশ তরলরূপে পৃথক হয়। অবশিষ্ট গ্যাসীয় অংশ কোল গ্যাস নামে পরিচিত। কোল গ্যাসের উৎপাদন খনিজ কয়লার প্রকৃতি ও অন্তর্ধূম পাতনের তাপমাত্রার উপর নির্ভরশীল।
প্রধানতঃ কার্বনমনোক্সাইডের উপস্থিতির জন্য কোল গ্যাস বিষাক্ত হয়।

প্রশ্ন-৩। প্রোপাইল গ্যালেট কি?
উত্তরঃ প্রোপাইল গ্যালেট একটি এস্টার শ্রেণিভুক্ত রাসায়নিক পদার্থ যা প্রিজারভেটিভ হিসেবে খাদ্যে ব্যবহার করা হয়।

প্রশ্ন-৪। এক মোল কাকে বলে?
উত্তরঃ কোন যৌগের আণবিক ভরকে গ্রামে প্রকাশ করলে যে পরিমাণ পাওয়া যায় সে পরিমাণকে তার এক মোল বলে।

প্রশ্ন-৫। সাসপেনশন ও ইমালশন কী একই?
উত্তরঃ সাসপেনশন হলো কঠিন-তরল বস্তুর মিশ্রণ। অপরদিকে ইমালশন হলো তরল বস্তুর একই প্রকৃতির মিশ্রণ। যেমন- অ্যান্টাসিড বা পানিতে Mg(OH)2 এর মিশ্রণ হচ্ছে সাসপেনশন এবং পানির বোতলে তেল ভরে প্রচন্ড আলোড়িত করলে যে মিশ্রণ পাওয়া যায় তাই হচ্ছে ইমালশন।

প্রশ্ন-৬। মরিচা বলতে কী বোঝ?
উত্তরঃ ধূসর কালচে রঙের লোহার তৈরি রড কিছুদিন বাইরে রেখে দিলে এর ওপর হালকা লাল রঙের যে আস্তরণ পড়ে তাকে মরিচা বলে। মরিচা আয়রন অক্সাইড নামের একটি যৌগিক পদার্থ।

প্রশ্ন-৭। অবলোহিত রশ্মি বা IR কাকে বলে?
উত্তরঃ 2.5-25um তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোকে অবলোহিত রশ্মি বা IR বলে।

প্রশ্ন-৮। ওজোন কি?
উত্তরঃ ওজোন একটি বিষাক্ত গ্যাস যা তিনটি অক্সিজেন মৌল নিয়ে গঠিত।

প্রশ্ন-৯। তরল কেলাস অবস্থা কাকে বলে?
উত্তরঃ যে অবস্থায় কোন পদার্থ তরল পদার্থের মতো প্রবাহিত হতে পারে আবার কঠিন পদার্থের মতো ত্রিমাত্রিক আণবিক গঠন অর্জন করে তাকে পদার্থের তরল কেলাস অবস্থা বলে।

প্রশ্ন-১০। আইসোটোন কি?
উত্তরঃ যেসব পরমাণুর নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ও ভর সংখ্যা ভিন্ন হয় তাদেরকে আইসোটোন বলা হয়।

প্রশ্ন-১১। Milk of lime বলতে কি বুঝায়? ট্যানিং-এ Milk of lime কেন গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তরঃ Milk of lime বলতে মূলত সোডিয়াম সালফাইড, সায়ানাইড, স্যামিন ইত্যাদি যুক্ত চুনের পানিকে [Ca(OH)2)] বুঝায়। ট্যানিং প্রক্রিয়ায় ‘সোকিং’ ধাপ এর পর লাইমিং করা আবশ্যক। লাইমিং ধাপে, milk of lime মূলত নিম্নলিখিত কারণে বেশ গুরুত্বপূর্ণ–

  • এটি চামড়ার পশম, নখ ও ক্যারাটাইনাস জাতীয় পদার্থ দূরীভূত করে।
  • কিছু দ্রবীভূত প্রোটিন, যেমন– মিউসিনকে বিমুক্ত করে।
  • চামড়ার আঁশ বা ফাইবারকে ভালোভাবে আলাদা করে মসৃণতর করে।
  • গ্রিজ জাতীয় পদার্থ ও ফ্যাটকে কিছু পরিমাণ নির্গত করে।
  • কোলাজেন তৈরির মাধ্যমে ট্যানিং কার্যকরী করে।

প্রশ্ন-১২। পর্যায় সূত্রটি লিখ।
উত্তরঃ মৌলসমুহের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মাবলী তাদের পারমাণবিক সংখ্যা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে আবর্তিত হয়।

প্রশ্ন-১৩। কঠিন জ্বালানী অপেক্ষা তরল জ্বালানী ব্যবহারের সুবিধা লিখ।
উত্তরঃ কঠিন জ্বালানী অপেক্ষা তরল জ্বালানী ব্যবহারের সুবিধাগুলো নিম্নে তুলে ধরা হলোঃ
১) তরল জ্বালানীর তাপন মূল্য অপেক্ষাকৃত বেশি।
২) তরল জ্বালানীর দহনের সময় কোন ছাই গঠন করে না।
৩) এর প্রজ্জ্বলন ও নির্বাপণ অনেক সহজ এবং দহন অনেক দ্রুত গতি সম্পন্ন।
৪) জ্বালানীর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে প্রজ্জ্বলিত শিখাকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
৫) পাইপের মাধ্যমে এর পরিবহন অনেক সহজ।
৬) এটি ব্যবহারে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা সহজ
৭) তরল জ্বালানীর দহনের জন্য অনেক কম পরিমাণ বাতাস প্রয়োজন।
৮) এটি ব্যবহারে শ্রমিক খরচ অনেক কম হয়।

প্রশ্ন-১৪। পরমাণু ও ন্যানো পার্টিকেলের মধ্যে পার্থক্য কি?
উত্তরঃ পরমাণু ও ন্যানো পার্টিকেলের মধ্যে পার্থক্য নিচে দেওয়া হলোঃ
১. পরমাণু মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণিকা অপরদিকে ন্যানো পার্টিকেল শূন্যমাত্রিক অনিয়তাকার বা অর্ধস্ফটিক আকারের পদার্থ।
২. পরমাণু আকার নির্ভর নয় অপরদিকে ন্যানোপার্টিক্যাল আকার নির্ভর (1 থেকে 100 nm এর মধ্যে)।
৩. পরমাণু নিষ্ক্রিয় হতে পারে কিন্তু ন্যানো কণার সক্রিয়তা সাধারণ পদার্থের তুলনায় অনেক বেশি।

প্রশ্ন-১৫। কঠিন চুনাপাথরের বিয়োজন ঘটে কত তাপমাত্রায়?
উত্তরঃ 800°C।

প্রশ্ন-১৬। কয়লা ব্যবহারের প্রধান সমস্যা কি?
উত্তরঃ কয়লা ব্যবহারের প্রধান সমস্যা হলো এতে কার্বন নিঃসরণের মাত্রা অত্যাধিক বেশি ঘটে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার করলে অসম্পূর্ণ দহনের ফলে প্রচুর বর্জ্য উৎপাদন হয়।

প্রশ্ন-১৭। অম্ল-ক্ষারক নির্দেশিক কি?
উত্তরঃ অম্ল-ক্ষারক টাইট্রেশনের সময় তুল্যতা বিন্দু নির্ণয়ের জন্য কিছু কিছু যৌগ ব্যবহৃত হয় যারা নিজেদের বর্ণ পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রশমনের শেষ বিন্দু নির্দেশ করে। এসব যৌগকে প্রশমন বা অম্ল-ক্ষারক নির্দেশিক বলা হয়। যেমন- লিটমাস, ফেনলফথ্যালিন, মিথাইল অরেঞ্জ ইত্যাদি অম্ল ক্ষারক নির্দেশক।

প্রশ্ন-১৮। HPLC প্রযুক্তির সার্থকতার মূল কারণ কি?
উত্তরঃ HPLC প্রযুক্তির সার্থকতার মূল কারণ দুটি। যথা–
১. স্থির দশা হিসেবে ব্যবহৃত ক্ষুদ্র সুষম কণা, যার ফলে নিম্নতর আবর্তনজনিত এব
২. দ্রুত ভর স্থানান্তর অর্জিত হয়।

প্রশ্ন-১৯। সক্রিয় ক্লোরিন কাকে বলে?
উত্তরঃ ক্লোরিন ফ্রি-র‍্যাডিক্যাল (Cl) কে সক্রিয় ক্লোরিন বলে।

প্রশ্ন-২০। বিজারণ বিভব কাকে বলে?
উত্তরঃ যে প্রবণতার সাহায্যে একটি তড়িৎদ্বার ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে বিজারণ বিভব বলে।

Rate this post