প্রশ্ন-১। বঙ্গানুবাদ কাকে বলে?
উত্তরঃ বঙ্গানুবাদ শব্দটির অর্থ হলো বাংলায় অনুবাদ। সাধারণত অনুবাদ বলতে আমরা বুঝি এক ভাষাকে অন্য ভাষায় রূপান্তর করা। অতএব, পৃথিবীর যে কোনো ভাষাকে বাংলা ভাষায় রূপান্তর করাকেই বঙ্গানুবাদ বলে।

প্রশ্ন-২। ধ্বনি বিকার কাকে বলে?
উত্তরঃ পদের অন্তর্গত কোনো বর্ণ নতুন রূপ ধারণ করলে তাকে ধ্বনিবিকার বা বর্ণবিকৃতি বলে। যেমন- শাক > শাগ, কপাট > কবাট, লেবু > নেবু।

প্রশ্ন-৩। অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ কাকে বলে?
উত্তরঃ বর্ণের প্রথম, তৃতীয় ও পঞ্চম বর্গকে বলতে আস্তে উচ্চারণ করতে হয় বলে এগুলোকে অল্পপ্রাণ বলে। আবার, বর্গের দ্বিতীয় ও চতুর্থ বর্ণ বলতে জোরে উচ্চারণ করতে হয় বলে এগুলোকে মহাপ্রাণ বলে।

প্রশ্ন-৫। ভাব-সম্প্রসারণ কি?
উত্তরঃ ভাবের সুসঙ্গত সার্থক প্রসারণই ভাব-সম্প্রসারণ। আবৃতকে উন্মোচিত, সংকেতকে নির্ণীত করে তুলনীয় দৃষ্টান্ত ও প্রবাদ প্রবচনের সাহায্যে সহজ ভাষায় ভাবের বিন্দুকে বিস্তার সাধন করার নাম ভাব-সম্প্রসারণ।

প্রশ্ন-৬। কার কি?
উত্তরঃ স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপ হলো কার। কোন ব্যঞ্জনবর্ণের সাথে স্বরবর্ণ যুক্ত হলে স্বরবর্ণটি সংক্ষিপ্ত রূপ ধারণ করে। তখন এগুলোকে ‘কার’ বলা হয়। অ-এর কোন সংক্ষিপ্ত রূপ নেই। বাংলা ভাষায় কার মোট ১০টি।

প্রশ্ন-৭। মিশ্র বা সংকর শব্দ কাকে বলে?
উত্তরঃ যে সকল শব্দ বিভিন্ন ভাষার শব্দের সমন্বয়ে গঠিত সেসব শব্দকে মিশ্র বা সংকর শব্দ বলে। যেমন– হাট-বাজার দুটি ভিন্ন শব্দ নিয়ে গঠিত। হাট শব্দটি বাংলা আর বাজার শব্দটি ফারসি।

প্রশ্ন-৮। বর্ণ কাকে বলে? স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণ কয়টি?
উত্তরঃ মানুষের মুখের ভাষাকে লিখে প্রকাশ করার জন্য যেসব সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করা হয়, তাদেরকে বর্ণ বলে। যেমন : অ, আ, ক, খ ইত্যাদি।

বাংলা ভাষায় মোট ৫০টি বর্ণ আছে। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১১টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি। এই বর্ণগুলোকে একসাথে বর্ণমালা বলা হয়।

প্রশ্ন-৯। বিপরীতার্থক শব্দ কাকে বলে?
উত্তরঃ যেসব শব্দ অন্য কোন একটি শব্দের সম্পূর্ণ উল্টো বা বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে সেসব শব্দকে বিপরীতার্থক শব্দ বলে। যেমন- ‘আমদানি’ বললে যে অর্থ প্রকাশ করে, ‘রপ্তানি’ বললে তার বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে। তাই আমদানি শব্দের বিপরীত শব্দ হলো রপ্তানি।

প্রশ্ন-১০। বিস্ময়সূচক বাক্য কাকে বলে?
উত্তরঃ যে বাক্যে আশ্চর্যজনক কিছু বোঝায় তাকে বিস্ময়সূচক বাক্য বলে। যেমন- তাজ্জব ব্যাপার! হুররে, আমরা জিতেছি!

প্রশ্ন-১১। যৌগিক ক্রিয়া কাকে বলে?
উত্তরঃ একটি সমাপিকা ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া যদি একসাথে একটি বিশেষ বা সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে, তবে তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে। যেমন–
ক. তাগিদ দেওয়া অর্থে : ঘটনাটা শুনে রাখ।
খ. নিরন্তরতা অর্থে : তিনি বলতে লাগলেন।

প্রশ্ন-১২। যৌগিক বাক্য কাকে বলে?
উত্তরঃ দুই বা ততোধিক সরল বা জটিল বাক্য নিরপেক্ষভাবে মিলিত হয়ে যে পূর্ণ বাক্য গঠন করে, তাকে যৌগিক বাক্য বলে। যেমন : সে গরিব কিন্তু সৎ।

প্রশ্ন-১৩। মৌলিক শব্দ কাকে বলে? মৌলিক শব্দের উদাহরণ।
উত্তরঃ যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে। যেমন : মা, বাবা, ভাই, বোন, হাত, পা, নাক, কান, গাছ, মাটি, গোলাপ, লাল ইত্যাদি। মৌলিক শব্দগুলোই ভাষার মূল উপকরণ।

প্রশ্ন-১৪। পরাশ্রয়ী বর্ণ কাকে বলে? পরাশ্রয়ী বর্ণ কয়টি?
উত্তরঃ যে সব বর্ণ স্বাধীনভাবে আলাদা বর্ণ হিসেবে ভাষায় ব্যবহৃত হয় না, কিন্তু তাদের দ্যোতিত ধ্বনি অন্য ধ্বনির সাথে মিলিত হয়ে একসাথে উচ্চারিত হয় সেগুলোকে পরাশ্রয়ী বর্ণ বলে। পরাশ্রয়ী বর্ণ তিনটি। এগুলো হলো– ং, ঃ, ঁ।

প্রশ্ন-১৫। পুরুষ কাকে বলে?
উত্তরঃ যাকে আশ্রয় করে ক্রিয়া সম্পাদিত হয়, তাকে পুরুষ বলে। যেমন– আমি যাই, তুমি যাও, সে যায় ইত্যাদি। এই তিনটি বাক্য ভিন্ন ভিন্ন ধরনের এবং এদের কর্তাও ভিন্ন ভিন্ন ধরনের। এই ভিন্ন ভিন্ন ধরনের কর্তাই হলো পুরুষ।

প্রশ্ন-১৭। প্রযোজক ধাতু কাকে বলে? প্রযোজক ধাতুর অপর নাম কি?
উত্তরঃ মৌলিক ধাতুর পরে প্রেরণা অর্থে (অন্যকে নিয়োজিত করা অর্থে) ‘আ’ প্রত্যয় যোগ করলে যে ধাতু গঠিত হয়, তাকে প্রযোজক ধাতু বলে। প্রযোজক ধাতুর অপর নাম হলো ণিজন্ত ধাতু।

প্রশ্ন-১৯। অনুসর্গ কাকে বলে?
উত্তরঃ যেসব অব্যয় বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের অনুতে বা পরে বসে শব্দ-বিভক্তির ন্যায় কাজ করে, তাদের অনুসর্গ বলে। এর অপর নাম কর্মপ্রবচনীয়। যেমনঃ বিনা, সনে, তরে, জন্য, অপেক্ষা, প্রতি, বাবদ ইত্যাদি। অনুসর্গ পদের পরে বসে বলে এদের পরসর্গও বলা হয়।

প্রশ্ন-২০। অসমাপিকা ক্রিয়া কাকে বলে?
উত্তরঃ যে ক্রিয়া দ্বারা বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ প্রকাশ পায় না, আরো কিছু বলার আকাঙ্খা থাকে, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে। যেমনঃ আসিফ যাবে……. । অনিকা খাবে…… । এখানে ‘যাবে’ এবং ‘খাবে’ ক্রিয়াপদ দ্বারা বাক্য দু’টির অর্থ সম্পূর্ণ প্রকাশ পায়নি। আরো কিছু বলার আছে বলে মনে হয়। অতএব, ‘যাবে’ এবং ‘খাবে’ ক্রিয়াদ্বয় অসমাপিকা ক্রিয়া।

প্রশ্ন-২১। আবেগসূচক বাক্য কাকে বলে?
উত্তরঃ যে বাক্য দ্বারা আবেগ, অনুভূতি, দুঃখ, বেদনা, ঘৃণা ইত্যাদি প্রকাশ পায়, তাকে আবেগসূচক বাক্য বলে। যেমনঃ হুররে! আমরা খেলায় জিতেছি। বাহ! কী সুন্দর পাখি।

প্রশ্ন-২২। ব্যাকরণিক শব্দশ্রেণি কাকে বলে?
উত্তরঃ ব্যাকরণগত চরিত্র ও ভূমিকা অনুযায়ী বাংলা ভাষার শব্দসমূহকে যে কয়ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে, তাকেই ব্যাকরণিক শব্দশ্রেণি বলে।

প্রশ্ন-২৩। ণত্ব বিধান কাকে বলে?
উত্তরঃ যে রীতি অনুসারে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের বানানে ‘ন’ স্থানে ‘ণ’ ব্যবহৃত হয়, তাকে ণ-ত্ব বিধান বলে। যেমন : মরণ, অর্পণ, পূর্বাহ্ন, রক্ষিণী ইত্যাদি।

প্রশ্ন-২৪। ক্লীবলিঙ্গ কাকে বলে?
উত্তরঃ যে সব পদ দ্বারা পুরুষ জাতি বা স্ত্রী জাতি কিছুই বোঝায় না, সে সব পদকে ক্লীবলিঙ্গ বলে। যেমন- মাটি, পাথর, বই, খাতা, কলম, আলো, রোদ, চেয়ার, ফুল, ফল ইত্যাদি।

প্রশ্ন-২৫। নাম প্রকৃতি কাকে বলে?
উত্তরঃ যে সব শব্দ দ্বারা বস্তু, প্রাণী, জাতি, স্থান, গুণ বা দোষের নাম বুঝায়, তাকে নাম প্রকৃতি বলে। যেমন– বই, পাথর, লাল, কাল, ঢাকা ইত্যাদি।

প্রশ্ন-২৬। নির্ধারক বিশেষণ কাকে বলে?
উত্তরঃ দ্বিরুক্ত শব্দ ব্যবহার করে যখন একের বেশি কোনো কিছুকে বোঝানো হয়, তখন তাকে নির্ধারক বিশেষণ বলে। যেমন : ‘ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল।

তাড়নজাত ধ্বনি ও পার্শ্বিক ধ্বনি কাকে বলে?
উত্তরঃ তাড়নজাত ধ্বনি : জিহ্বার উল্টো পিঠ দ্বারা উপরের দন্তমূলে দ্রুত আঘাত করে যে ধ্বনি উচ্চারিত হয়, তাকে তাড়নজাত ধ্বনি বলে। যেমন : ড়, ঢ়।
পার্শ্বিক ধ্বনি : জিহ্বার দু’পাশ দিয়ে বায়ু নিঃসৃত হয়ে যে ধ্বনি উচ্চারিত হয়, তাকে পার্শ্বিক ধ্বনি বলে। যেমন : ল।

সাধিত শব্দ কাকে বলে? কয় প্রকার ও কি কি?
উত্তরঃ মৌলিক শব্দ ছাড়া অন্য সব শব্দকেই সাধিত শব্দ বলে। যথা- হাতা, গরমিল, দম্পতি ইত্যাদি।
সাধিত শব্দ দুই প্রকার : নাম শব্দ ও ক্রিয়া।

দ্বিরুক্ত কী?
উত্তরঃ দ্বিরুক্ত অর্থ দুবার উক্ত অর্থাৎ একই শব্দ দুবার বলা হয়েছে এমন। বাংলা ভাষায় কোন শব্দ, পদ বা অনুকার শব্দ এককভাবে যে অর্থ প্রকাশ করে সেগুলো পাশাপাশি দুবার ব্যবহৃত হলে ঠিক সে অর্থ প্রকাশ না করে অন্য কোনো সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে। এ ধরনের শব্দের পর পর দুবার প্রয়োগেই দ্বিরুক্ত শব্দ বা শব্দদ্বৈত গঠিত হয়। যেমন– আমার জ্বর জ্বর লাগছে।’ অর্থাৎ, প্রকৃত জ্বর না বুঝিয়ে জ্বরের ভাব বুঝানো হয়েছে। তেমনি– ঘুম ঘুম, শীত শীত, গরম, গরম ইত্যাদি।

ধ্বনি কাকে বলে?
উত্তরঃ কোনো ভাষার উচ্চারিত শব্দকে বিশ্লেষণ করলে যে উপাদানসমূহ পাওয়া যায় সেগুলোকে পৃথকভাবে ধ্বনি বলে।

সন্ধির প্রয়োজনীয়তা লিখ।
উত্তরঃ ভাষাকে সহজ, সমৃদ্ধ ও গতিশীল করার জন্য সন্ধির প্রয়োজনীয়তা বা গুরুত্ব অপরিসীম। যেমন–

  • সন্ধি ভাষাকে সমৃদ্ধ করে, সে জন্য সন্ধির প্রয়োজন রয়েছে।
  • সন্ধি স্বাভাবিক উচ্চারণে সহজ প্রবণতা আনে এবং ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন করে। সেজন্য দ্রুত উচ্চারণের সুবিধার জন্য এবং ভাষাকে শ্রুতিমধুর করার জন্য সন্ধির প্রয়োজন রয়েছে।
  • কোন লিখিত বিষয় সন্ধির সাহায্যে সহজেই বোধগম্য হয়।
  • শব্দের শৃঙ্খলা আনার জন্যও সন্ধির প্রয়োজন রয়েছে।
  • নতুন শব্দ গঠনের নিমিত্ত সন্ধির প্রয়োজন রয়েছে।

 

বাংলা বাক্যে উর্ধ্বকমা বা লোপচিহ্নের ব্যবহার সম্পর্কে লেখো।
উত্তরঃ উর্ধ্বকমা (’) বর্তমানকালে খুব কম ব্যবহৃত হলেও পুরোনো বাংলা লেখায়, বিশেষভাবে ক্রিয়া ও সর্বনাম পদের সংক্ষিপ্ত রূপে ( হইতে হ’তে, তাহারা তা’রা, দুইটি দু’টি) বহুলভাবে ব্যবহৃত হতো। আবার কিছু সুপরিচিত অব্দসংখ্যা (১৯৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর ‘৭১ এর ১৬ ডিসেম্বর) সংক্ষেপে লিখতে এটা ব্যবহৃত হয়।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x