b

বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতি কাকে বলে? (What is called Binary Number System in Bengali/Bangla?)

যে সংখ্যা পদ্ধতিতে সংখ্যা গণনা করার জন্য ২টি অঙ্ক বা প্রতীক ব্যবহৃত হয় তাকে বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতি বলে। যেমন-(১০১০)২। বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতিতে যেহেতু ০ এবং ১ এই দুইটি প্রতিক বা চিহ্ন ব্যবহার করা হয় তাই এর বেজ বা ভিত্তি হচ্ছে ২। ইংল্যান্ডের গণিতবিদ জর্জ বুল বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতি উদ্ধাবন করেন। বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতি সবচেয়ে সরলতম সংখ্যা পদ্ধতি। বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতির ০ এবং ১ এই দুটি মৌলিক চিহ্নকে বিট বলে এবং আট বিটের গ্রুপ নিয়ে গঠিত হয় একটি বাইট।

সকল ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস শুধুমাত্র দুটি অবস্থা অর্থাৎ বিদ্যুতের উপস্থিতি এবং অনুপস্থিতি বুজতে পারে। বিদ্যুতের উপস্থিতিকে ON, HIGH, TRUE কিংবা YES বলা হয় যা লজিক লেভেল ১ নির্দেশ করে এবং বিদ্যুতের অনুপস্থিতিকে OFF, LOW, FALSE কিংবা NO বলা হয় যা লজিক লেভেল ০ নির্দেশ করে। লজিক লেভেল ০ এবং ১ বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতির সাথে সামঞ্জন্যপূর্ণ। তাই কম্পিউটার বা সকল ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইসে বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়।

বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতির ভিত্তি ২ কেন? (Why is the base-2 for binary number system?)

বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতিতে মাত্র দুটি চিহ্ন থাকায় এর ভিত্তি ২। কোনাে সংখ্যা পদ্ধতি যতগুলাে চিহ্ন বা প্রতীকের ওপর নির্ভর করে প্রতিষ্ঠিত হয়, তাকে ঐ সংখ্যা পদ্ধতির ভিত্তি বলে। বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতির প্রতীক হলাে ০ এবং ১, ০ এবং ১ এ দুটি প্রতীক ব্যবহার করে কম্পিউটারের সব ধরনের হিসাব নিকাশ বা যে কোনাে কাজ বাইনারি পদ্ধতিতে করা যায়। এ জন্যই বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতির ভিত্তি ২।

 

বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য (Characteristics of binary number system)

  • বাইনারি নাম্বার সিস্টেমের বেস বা ভিত্তি হচ্ছে ২।
  • এ পদ্ধতিতে ০ এবং ১ মোট ২টি মৌলিক অঙ্ক আছে।
  • বাইনারি সংখ্যার মাধ্যমে কম্পিউটারের সমস্ত যোগ বিয়োগ ও অন্যান্য কার্যাদি সম্পন্ন করা হয়।

বাইনারি ও অক্টাল সংখ্যা পদ্ধতির মধ্যে পার্থক্য কি? (What is the difference between binary number system and octal number system?)

যে সংখ্যা পদ্ধতিতে সংখ্যা গণনা করার জন্য ২টি অঙ্ক বা প্রতীক ব্যবহৃত হয় তাকে বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতি বলে। বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতিতে ব্যবহৃত প্রতীক বা অঙ্কগুলো হলো 0 এবং 1। বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতির বেজ ২।
অপরদিকে, যে সংখ্যা পদ্ধতিতে সংখ্যা গণনা করার জন্য ৮টি অঙ্ক বা প্রতীক ব্যবহৃত হয় তাকে অক্টাল সংখ্যা পদ্ধতি বলে। এই পদ্ধতিতে ব্যবহৃত অঙ্ক বা প্রতীকগুলো হলো 0, 1, 2, 3, 4, 5, 6, ও 7। এই পদ্ধতিতে সর্বমোট ৮টি অঙ্ক ব্যবহার করা হয় বলে এর বেজ ৮। 

দশমিক থেকে বাইনারিতে রূপান্তর

  • পূর্ণ দশমিক সংখ্যাকে বাইনারি সংখ্যায় রূপান্তর করার জন্য দশমিক সংখ্যাকে ২ দিয়ে ভাগ করে ভাগশেষ নিতে হবে।
  • ভাগফলকে পুনরায় ২ দিয়ে ভাগ করে ভাগশেষকে নিতে হবে, ভাগফল শূন্য না হওয়া পর্যন্ত এই পদ্ধতির পুনরাবৃত্তি করতে হবে।
  • সর্বশেষ ভাগশেষ গুলোকে শেষ থেকে প্রথম দিকে ধারাবাহিক ভাবে সাজিয়ে লিখলে ১ ও ০ এর সমন্বয়ে যে সংখ্যাটি পাওয়া যাবে তাই দশমিক সংখ্যার সমান বাইনারি সংখ্যা।

 

বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতি সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর

বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতিতে কতটি অঙ্ক ব্যবহৃত হয়?

উত্তরঃ দুইটি।

কম্পিউটার ডেটা সংরক্ষণের জন্য কোন সংখ্যা পদ্ধতি ব্যবহার করে?

উত্তরঃ বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতি।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x