পড়াশোনা
1 min read

ডেটা এনক্রিপশন (Data encryption) কি? ডেটা এনক্রিপশনের ব্যবহার ও প্রয়ােজনীয়তা

ডেটা এনক্রিপশন হলো একটি প্রক্রিয়া, যেখানে প্লেইন টেক্সট (Plain text) ডেটাগুলো সাইফার টেক্সট (Cipher text) ডেটাতে রূপান্তরিত হয়। সুতরাং, ডেটা এনক্রিপশন বা ডেটা এনক্রিপ্ট করা মানে হলাে ডেটাকে মানুষের জন্য বোঝার অনুপযোগী করে তােলা। ডেটা এনক্রিপ্ট করা হলে সেগুলাে আর কোন মানুষ বুঝতে পারে না। সেগুলাে বুঝতে এনক্রিপ্ট করা ডেটাগুলাে আবার ডিক্রিপ্ট করতে হয়। এর ফলে ডেটাগুলাে বোঝার উপযোগী হয়ে উঠে অর্থাৎ প্রকৃত রূপে ফিরে আসে।

ডেটা এনক্রিপশনের মাধ্যমে ডেটার গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়। এটি হলো কোন তথ্যে অবাঞ্ছিত প্রবেশ থেকে রক্ষা পাবার জন্য এনকোডিং এর প্রক্রিয়া। তথ্য সঞ্চালনের ক্ষেত্রে এনক্রিপশন বিশেষভাবে প্রয়োগ করা হয়। এতে এক ধরনের ডেটা সিকুয়েন্স রাখা হয়। এই ডেটা সিকুয়েন্সকে বলা হয় এনক্রিপশন কী। ডেটাবেজে ডেটার নিরাপত্তা বিধান করার জন্য ডেটা এনক্রিপ্ট করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। উপযুক্ত ডিসাইফার কোড বা ডিক্রিপ্ট পদ্ধতি জানা না থাকলে ঐ ডেটা কেউ অ্যাকসেস করতে পারলেও ব্যবহার করতে পারবে না। এনক্রিপ্ট করা ডেটা ব্যবহারের পূর্বে তা ডিসাইফার কোড দিয়ে ডিক্রিপ্ট করে নিতে হবে।
ডেটা এনক্রিপশনের ব্যবহার
  • গোপনীয় ডেটাকে সুরক্ষা দিয়ে অন্যের চোখে পড়া বা অন্যের অ্যাকসেসকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সাধারণত ডেটা এনক্রিপশন ব্যবহৃত হয়। এটি সর্বক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হতে পারে।
  • ক্লায়েন্ট এবং অন্যান্য গোপনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ও আর্থিক তথ্যাদি প্রেরণে ব্যাংকগুলোতে এনক্রিপশন ব্যবহৃত হয়।
  • বিদেশে অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের দূতাবাসগুলোতে নিরাপদ মেসেজ পাঠাতে বিভিন্ন দেশের সরকার ডেটা এনক্রিপশন পদ্ধতি ব্যবহার করে।
  • গোপন যোগাযোগের জন্য সামরিক বাহিনীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সংস্থাতে ডেটা এনক্রিপশন পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়।
  • অধিকাংশ ই-মেইল প্রোগ্রাম ডেটা প্রেরণ ও গ্রহণের ক্ষেত্রে ডেটা এনক্রিপশন প্রদান করে, যাতে করে তৃতীয় কোনো পক্ষের দ্বারা ই-মেইলগুলো পড়া সম্ভব না হয়।
  • যে সমস্ত সাইটে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যাদি যেমন– ঠিকানা ও ক্রেডিট কার্ড নাম্বার ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করা হয় সাধারণত সেসব সাইটে ডেটা এনক্রিপশন ব্যবহৃত হয়।

ডেটা এনক্রিপ্ট করার প্রয়ােজনীয়তাঃ ডেটা হারিয়ে গেলে বা হ্যাক অর্থাৎ চুরি হয়ে গেলেও যেন সেগুলাে ব্যবহার অনুপযােগি থাকে এজন্যই মূলত ডেটা এনক্রিপ্ট করা হয়। সহজ ভাষায় বলা যায়, অননুমােদিত কেউ যেন ডেটাগুলাে প্রদর্শন বা ব্যবহার করতে না পারেন, সেজন্য ডেটা এনক্রিপ্ট করা হয়। ডেটা আদান-প্রদান করার সময় অননুমােদিত কেউ ডেটাগুলাে পেয়ে গেলেও যেন সেগুলাে ব্যবহার অনুপযােগি থাকে, এজন্যও ডেটা এনক্রিপ্ট করা হয়।

ডেটা এনক্রিপশন যেভাবে কাজ করেঃ ডেটা এনক্রিপশন বিভিন্নভাবে কাজ করতে পারে। যেমন- সিজার কোড পদ্ধতিতে এনক্রিপ্ট করা ডেটাগুলাে যেন মানুষ বুঝতে না পারে, সেজন্য ডেটা এনক্রিপশন সিস্টেম প্রকৃত ডেটাগুলাের উপর একটি প্রলেপ দিয়ে দেয়, যে প্রলেপটি ডেটা অর্থাৎ টেক্সট এর অনুরূপ হলেও সেগুলাে আদৌ অর্থবহ অর্থাৎ মানুষের বুঝার উপযােগি নয়। System নামক ডেটাকে এনক্রিপ্ট করা হলে হয়তাে সেটি tztufin অর্থাৎ প্রতিটি বর্ণ তার পরের বর্ণে রূপান্তরিত হয়ে গেলাে, যা দেখে কোন মানুষের বুঝার কোন উপায় নেই যে এই ডেটাটি হলাে System. এটি বুঝার জন্য পুনরায় tztufin-কে ডিক্রিপ্ট করে নিতে হবে, তাহলে সেটি System হিসেবে প্রদর্শিত হবে। এ রকম বিভিন্ন পদ্ধতিতে এনক্রিপশন কাজ করে।

ডেটা এনক্রিপশনের উপায়সমূহ : ডেটা এনক্রিপ্ট করার জন্য অনেকগুলাে পদ্ধতিই প্রচলিত আছে। যথা–
১. সিজার কোড (Caesar Code)
২. ডেটা এনক্রিপশন স্ট্যান্ডার্ড (Data Encryption Standard – DES)
৩. ট্রিপল ডিইএস (Triple DES)
৪. অ্যাডভান্সড এনক্রিপশন স্ট্যান্ডার্ড (Advanced Encryption Standard – AES)
৫. ইন্টারন্যাশনাল ডেটা এনক্রিপশন স্ট্যান্ডার্ড (International Data Encryption Algorithm – IDEA)

Rate this post