জীববিজ্ঞান
1 min read

রক্ত, রক্তরস ও রক্তকণিকা কি একই জিনিস?

রক্তবাহিকার মাধ্যমে রক্ত মানবদেহের সর্বত্র সঞ্চালিত হয়। রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের fluid connective tissue বা তরল যোজক কলা। রক্ত সামান্য ক্ষারীয় (pH ৭.৩৬-৭.৪৫), যার তাপমাত্রা ৩৬-৩৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস।
একজন পুর্নবয়স্ক মানুষের দেহে গড়ে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে ( যা মানুষের শরীরের মোট ওজনের প্রায় ৮%)।

এখন আসি রক্তে কি কি উপাদান আছে? রক্তকে টেস্টটিউবে নিয়ে প্রতি মিনিটে ৩০০০ বার করে ৩০ বার ঘুরালে রক্ত দুই স্তরে বিভক্ত হয়ে পড়ে। টেস্টটিউব এর উপরে থাকে ৫৫% হালকা হলুদ অংশ  এবং নিচে থাকে ৪৫% গাঢ়তর অংশ।  এই হালকা হলুদ বর্ণের তরল অংশকে বলা হচ্ছে রক্তরস বা plasma আর গাঢ়তর অংশটুকু হল রক্তকনিকা বা blood corpuscles.

তাহলে এতক্ষন জানলাম রক্ত দুটি অংশে বিভক্ত: রক্তরস ও রক্তকনিকা। এখন দেখব রক্তরস ও রক্তকনিকায় কি কি উপাদান আছে?
ক। রক্তরস বা plasma:
১।পানি(৯০-৯২%)
২। কঠিন পদার্থ (৮-১০%)
কঠিন পদার্থের মধ্যে রয়েছে অজৈব পদার্থ (১%) ও জৈব পদার্থ।
অজৈব পদার্থগুলো হল– Na, K, Ca, Mg, P, Cu, Fe etc.
আর জৈব পদার্থের মধ্যে রয়েছে 
প্রোটিন- সিরাম অ্যালবুমিন, সিরাম গ্লোবিউলিন, প্রোথ্রম্বিন, ফাইব্রিনোজেন।
অপ্রোটিন- ইউরিয়া, অ্যামোনিয়া, ইউরিক এসিড, ক্রিয়েটিনিন, জ্যানথিন, হাইপোজ্যানথিন গ্লুকোজ, প্রশমিত স্নেহদ্রব্য, কোলেস্টেরল, হরমোন, এনজাইম, বিলিরুবিন, বিলিভার্ডিন অ্যান্টিটক্সিন, অ্যাগ্লুটিনিন ইত্যাদি।

রক্তরসের কাজঃ
i) রক্তের অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষা করে।
ii) হরমোন এনজাইম লিপিড প্রভৃতি বিভিন্ন অংগে বহন করে
iii) পরিপাকের পর খাদ্যসার রক্তরসে দ্রবীভূত হয়ে দেহের বিভিন্ন টিস্যু ও অংগে বাহিত হয়।
iv) কলা থেকে বর্জ্যদ্রব্য বের করে রেচন বা নিস্কাশনের জন্য কিডনিতে নিয়ে যায়।
v) হাইড্রোজেন আয়নের সমতা রক্ষা করে এবং রক্ত জমাট বাঁধতে সহায়তা করে।

খ। রক্তকনিকা বা blood corpuscles:
রক্তকনিকা তিন প্রকারঃ
১। লোহিত রক্তকনিকা বা Erythrocyte বা red blood cell (RBC):- RBC তে হিমোগ্লোবিন নামক লাল রঞ্জক থাকায় রক্ত লাল হয়। বিভিন্ন বয়সে RBC’র সংখ্যা বিভিন্ন। প্রতিঘন মিলিমিটার রক্তে ভ্রুণদেহের ক্ষেত্রে ৮০-৯০ লক্ষ এবং পুর্নবয়স্ক দেহে ৪০-৫০ লক্ষ।
২। শ্বেত রক্তকনিকা বা Leucoocyte বা White blood cell (WBC): WBC দুই ধরনের granulocyte বা দানাদার এবং agranulocyte বা অদানাদার।
Granulocyte আবার দু’ধরনের -লিম্ফোসাইট ও মনোসাইট এবং Agranulocyte তিন ধরনের – নিউট্রফিল, ইউসিনোফিল, ও বেসোফিল।
৩। অনুচক্রিকা বা thrombocytes বা platelats.
এটি সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম রক্তকনিকা। এর সংখ্যা প্রতিঘন মিলিমিটার রক্তে ২.৫-৫ লক্ষ।

রক্তকনিকার কাজঃ
লোহিত কনিকা-
১। এর হিমোগ্লোবিন ফুসফুস থেকে দেহকোষে অধিকাংশ অক্সিজেন এবং সামান্য পরিমাণ কার্বন ডাই অক্সাইড পরিবহন করে।
২। এর প্লাজমামেমব্রেনে এন্টিজেন যুক্ত থাকে যা এন্টিবডি তৈরী করে। আর এই এন্টিজেন- এন্টিবডির উপস্থিতির ভিত্তিতে রক্তের গ্রুপ(blood group) তৈরী হয়।
শ্বেত কণিকা –
৩। ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ভক্ষন করে ধ্বংস করে।
৪। এন্টিবডি তৈরী করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
অনুচক্রিকা –
৫। ক্ষতস্থানে রক্ত জমাট বেধে রক্তক্ষরণ বন্ধ করে।
৬। রক্তনালীর ক্ষতিগ্রস্ত এন্ডোথেলিয়াল আবরণী পুনর্গঠন করে।
(এখন আপনিই বলুন রক্ত, রক্তরস ও রক্তকনিকা কি এক জিনিস?)

সুত্রঃ
উচ্চমাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান, গাজী আজমল।
Microbiology an introduction, Gerard J. Tortora.

 

শেষ কথা:
আশা করি আপনাদের এই আর্টিকেলটি পছন্দ হয়েছে। আমি সর্বদা চেষ্টা করি যেন আপনারা সঠিক তথ্যটি খুজে পান। যদি আপনাদের এই “রক্ত, রক্তরস ও রক্তকণিকা কি একই জিনিস?” আর্টিকেলটি পছন্দ হয়ে থাকলে, অবশ্যই ৫ স্টার রেটিং দিবেন।

5/5 - (47 votes)