Blog
1 min read

ই কমার্স কি? প্রকার, সুবিধা-অসুবিধা ও উদাহরণ

ই কমার্স বিশ্ব অর্থনীতিতে দ্রুত বর্ধনশীল শিল্পগুলির মধ্যে একটি। প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে ই-কমার্স বিশ্ব অর্থনীতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। মানুষ এখন ঘরে বসেই হাতের মোবাইল দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন অনলাইন স্টোর থেকে পছন্দের জিনিস কেনাকাটা করতে পারে।
তথ্য মতে, ই-কমার্স প্রতি বছর প্রায় ২৩% হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এই দশকের শেষ নাগাদ এটি $২৭ ট্রিলিয়ন শিল্পে পরিণত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই আর্টিকেলে, আমরা আলোচনা করব- ই-কমার্স? ই-কমার্সের প্রকারভেদ, ই-কমার্সের সুবিধা ও অসুবিধা, বাংলাদেশের জনপ্রিয় কিছু ই-কমার্স সাইট ইত্যাদি।

ই-কমার্স কি?

ই-কমার্স বা ইলেকট্রনিক কমার্স হল ইন্টারনেটের মাধ্যমে পণ্য বা পরিষেবা কেনা-বেচা।গ্রাহকরা তাদের পছন্দের পণ্য ক্রয় করতে ওয়েবসাইট বা অনলাইন মার্কেটপ্লেসে আসেন এবং অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করে পণ্য ক্রয় করেন। পণ্য অর্ডার করার পর গ্রাহকের নির্দিষ্ট ঠিকানায় পাঠানো হয়।
আপনি যখন দারাজ অ্যাপ বা তাদের ওয়েবসাইট থেকে কোন কিছু অর্ডার করে ক্রয় করেন, এটি ই-কমার্স এর একটি ক্লাসিক উদাহরণ।
কিছু জনপ্রিয় ই-কমার্স সাইট যেমন,
আমাজন
দারাজ
শপিফাই
রকমারি.কম
বিক্রয়.কম
এখনি.কম
প্রিয়শপ.কম
উপহারবিডি
ই-বে
ফাইবার
আপওয়ার্ক

ই-কমার্স কিভাবে কাজ করে?

গ্রাহকরা অনলাইনে গুগল সার্চের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত ই-কমার্স সাইটে আসেন। নির্দিষ্ট পণ্যের নাম ব্রাউজ করে অর্ডার সম্পন্ন করেন। যাইহোক, তিনটি ধাপে ই কমার্স সাইটে পণ্য কেনা বেচা হয়।
পণ্যের অর্ডার: প্রথমে, গ্রাহক আপনার ওয়েবসাইট বা ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে পণ্যের অর্ডার দেয়।
অর্ডার প্রক্রিয়া: পণ্যের অর্ডার এর পরে, পেমেন্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। অনলাইনে বিকাশ বা নগদ অথবা অন্যন্য পেমেন্ট গেটওয়ে মাধ্যম ব্যবহার করে গ্রাহক পণ্যের দাম পরিশোধ করে।
অর্ডার ডেলিভারি: ই-কমার্স প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ হল ডেলিভারি। গ্রাহক সন্তুষ্টির কথা বিবেচনায় আপনাকে দ্রুত ডেলিভারি নিশ্চিত করতে হবে।

ই-কমার্সের প্রকারভেদ

ই-কমার্সকে চারটি প্রধান শ্রেণীতে ভাগ করা যায়। যেমন,
১. ব্যবসা থেকে ব্যবসা (Business to Business)
এটি ব্যবসা থেকে ব্যবসা লেনদেন। এখানে কোম্পানিগুলো একে অপরের সাথে ব্যবসা করে যেখানে ভোক্তা জড়িত নয়।
২. ব্যবসা থেকে ভোক্তা (Business to Consumer)
ভোক্তা থেকে ব্যবসা। এখানে কোম্পানি তাদের পণ্য এবং পরিষেবা সরাসরি ভোক্তার কাছে বিক্রি করবে। ভোক্তা তাদের ওয়েবসাইট ব্রাউজ করে পণ্য দেখে তারপর তারা তাদের অর্ডার দেয় এবং কোম্পানি সরাসরি তাদের কাছে পণ্য পাঠায়। উদাহরণ হল দারাজ, অ্যামাজন, Flipkart ইত্যাদি।
৩. ভোক্তা থেকে ভোক্তা (Consumer to Consumer)
ভোক্তা থেকে ভোক্তা, যেখানে ভোক্তারা একে অপরের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে পণ্য ক্রয় বিক্রয় করে। এই প্রক্রিয়ায় কোনো কোম্পানি জড়িত নয়। এ পদ্ধতিতে, সাধারণত, মোবাইল, কার, বাইক, ইলেকট্রনিক্স ইত্যাদি পণ্য কেনাবেচা হয়। OLX, Quikr ইত্যাদি এই মডেল অনুসরণ করে।
৪. ভোক্তা থেকে ব্যবসা (Consumer to Business)
এটি B2C এর বিপরীত। ভোক্তা কোম্পানিকে একটি ভাল পণ্য বা পরিষেবা প্রদান করে। উদাহরণ স্বরূপ, একজন আইটি ফ্রিল্যান্সার যিনি একটি কোম্পানির কাছে তার সফটওয়্যার ডেমো করে বিক্রি করেন। এটি একটি C2B লেনদেন হবে।

ই-কমার্সের সুবিধা:

  • গ্লোবাল রিচ: ই-কমার্স ভৌগলিক প্রতিবন্ধকতা দূর করে। ই-কমার্স এর মাধ্যমে বিশ্বের যেকোন স্থানের পণ্য ঘরে বসে অর্ডার করা যায়।
  • খরচ কম: ই-কমার্স ব্যবসা প্রচলিত ব্যবসার তুলনায় পরিচালনা খরচ কম থাকে। কারণ এটিতে ব্যবসার নির্দিষ্ট অবস্থান, কর্মী বা ইউটিলিটির প্রয়োজন হয় না।
  • ২৪/৭ কেনাকাটা করার সুবিধা: গ্রাহকরা ২৪/৭ কেনাকাটা করতে পারেন। এতে সাধারণ দোকানের মত বন্ধ হওয়া অথবা দীর্ঘ লাইনের বাঁধা থাকে না।
  • শপিং কার্ট: গ্রাহকরা তাদের ভার্চুয়াল শপিং কার্টে পণ্য যোগ করতে পারেন এবং কেনাকাটা করার জন্য প্রস্তুত হলে চেকআউটে এগিয়ে যেতে পারেন।
  • অর্ডার ট্র্যাকিং: গ্রাহকরা রিয়েল টাইমে তাদের অর্ডারের অবস্থান ট্র্যাক করতে পারেন এবং শিপিং, ডেলিভারি এবং আপডেট সম্পর্কে নোটিফিকেশন পেতে পারেন।
  • ডিসকাউন্ট: ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলি গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে ডিসকাউন্ট, কুপন সুবিধা দিয়ে থাকে।
  • রিভিউ এবং রেটিং: গ্রাহকরা পণ্যের রিভিউ এবং রেটিং দেখে ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এতে বিশ্বাস এবং স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করে।

ই-কমার্সের অসুবিধা

  • সাইবার নিরাপত্তা এবং ডেটা গোপনীয়তা: ই-কমার্স সাইটে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত এবং সংবেদনশীল তথ্যের আদান-প্রদান হয়, যা সাইবার আক্রমণ, ডেটা লঙ্ঘন এবং জালিয়াতির ক্ষেত্রে উদ্বেগ তৈরি করে।
  • ইন্টারঅ্যাকশনের অভাব: ই-কমার্সে পণ্য সরাসরি স্পর্শ করা যায় না, যা ফিজিক্যাল স্টোরগুলি অফার করে।
  • লজিস্টিকস এবং শিপিং: দক্ষ এবং নির্ভরযোগ্য শিপিং এবং ডেলিভারি প্রক্রিয়াগুলি গ্রাহকের সন্তুষ্টির জন্য অপরিহার্য, তবে সেগুলি পরিচালনা করা জটিল এবং ব্যয়বহুল হতে পারে।
  • প্রযুক্তিগত জটিলতা: একটি কার্যকর ই-কমার্স ওয়েবসাইট বা অ্যাপ তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং চলমান আপডেটের প্রয়োজন।
  • প্রযুক্তির উপর নির্ভরতা: ই-কমার্স প্রযুক্তি এবং ইন্টারনেট সংযোগের উপর নির্ভরশীল। প্রযুক্তিগত সমস্যা, ডাউনটাইম ব্যবসায়িক ক্রিয়াকলাপ এবং গ্রাহকের অভিজ্ঞতাকে ব্যাহত করতে পারে।
  • রিটার্ন এবং গ্রাহক পরিষেবা: রিটার্ন পরিচালনা করা এবং অনলাইন গ্রাহক পরিষেবা প্রদান করা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।

বাংলাদেশের সেরা ই-কমার্স সাইট

দারাজ বাংলাদেশ: বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম এবং জনপ্রিয় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম, বিস্তৃত পণ্য অফার করে।
Ajkerdeal: একটি বিশিষ্ট অনলাইন মার্কেটপ্লেস যেখানে ইলেকট্রনিক্স থেকে ফ্যাশন পণ্যের বৈচিত্র্যপূর্ণ নির্বাচন রয়েছে।
প্রিয়শপ.কম: মানসম্পন্ন পণ্য এবং নির্ভরযোগ্য গ্রাহক পরিষেবার উপর ফোকাস করার জন্য পরিচিত।
Bikroy.com: বিভিন্ন জিনিস ক্রয় ও বিক্রয়ের জন্য সেরা ই কমার্স সাইট।
রকমারি.কম: রকমারি মূলত একটি অনলাইন বই বিক্রয় সাইট।
5/5 - (11 votes)