Health

চকলেট কী? চকলেট এর ইতিহাস, উপাদান ও প্রকারভেদ কি কি?

1 min read

চকলেট কি?

অতীতের চকলেট এর সঙ্গে বর্তমান দিনের চকলেটের মিল খুবই কম।

ইতিহাস থেকে জানা যায় অতীতের চকলেট বলতে মূলত মিষ্টি স্বাদযুক্ত কিছু না বরং তিক্ত স্বাদযুক্ত পানীয় ছিলো।

চকলেট তৈরী করা হয়ে থাকে কোকো গাছের ফল থেকে। সেন্ট্রাল ও দক্ষিন আমেরিকায় এই গাছ বেশি দেখা যায়। একটি গাছে ৪০ টির মতো বিন থাকে।

সেই বিন শুকিয়ে পুড়িয়ে কোকো বিন বানানো হয়। তবে কে প্রথম এই উপায় আবিষ্কার করেছিলেন তা জানা যায়নি।

Chocolate

চকলেট এর ইতিহাস

খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ থেকেই প্রাচীন ওলমেক সভ্যতার মানুষেরা নৌযান ভরে কোকো ফল নিয়ে আসতেন।

ধারনা করা হয় যে ওলমেকরা এই কোকো দিয়ে তাদের বিভিন্ন উৎসবে পানীয় তৈরী করতো।

তাছাড়া  মায়া সংস্কৃতিতে চকলেটের গুরুত্ব ছিল, তবে এটি শুধু সম্পদশালী ও ক্ষমতাধরদের জন্য সংরক্ষণ করা হতো না, বরং প্রায় সবাই স্বাদ নিতে পারার মতোই সহজলভ্য ছিল।

মায়া সভ্যতার সময়কালের চকলেট ছিল ঘন ও ফেনাময়; এমনকি তার সঙ্গে লাল মরিচ, মধু কিংবা পানি মেশানো হতো।

অন্যদিকে আজটেক সভ্যতার লোকেরা বিশ্বাস করতেন চকলেট হলো স্বয়ং ঐশ্বরিক উপহার।

আজটেক সংস্কৃতিতে কোকো বিনকে স্বর্ণের চেয়ে দামি হিসেবে গণ্য করা হতো এবং এটিকে মুদ্রা হিসেবেও ব্যবহার করতেন।

চকলেট এর উপাদান

কি ধরণের চকলেট তৈরি হবে তার উপর ভিত্তি করে চকলেটে বিভিন্ন উপাদান ব্যবহৃত হয়।

এটা অবশ্য আরও নির্ভর করে চকলেটের ব্রান্ডের উপর।

তবে আজকাল আমরা যে চকলেট খাই তা মূলত মিষ্টিযুক্ত চকলেট এবং এই সমস্ত চকলেট কোকো পাউডার, কোকো বাটার, অন্যান্য ফ্যাট, এবং চিনি একত্রে মিশিয়ে তৈরি করা হয়।

মিল্ক (milk chocolate) , হাল্কা মিষ্টি, মিষ্টিহীন, ডার্ক(dark chocolate)  সব চকলেটেই সাধারণত বিভিন্ন ঘনমাত্রায় এবং বিভিন্ন হারে কোকো পাউডার ব্যবহৃত হয়।

কিন্তু সাদা চকলেটে (white chocolate) মূলত কোকো বাটার বা কোকো ফ্যাট, চিনি আর দুধ ব্যবহৃত হয়। কোকো পাউডার সাদা চকলেটে(white chocolate)  ব্যবহৃত হয় না।

বিভিন্ন ধরণের চকলেটে অন্যান্য সাধারণ উপাদানগুলি হচ্ছে দুধ, ক্রীম, বাটার, কোকো বাটার, মিল্ক ফ্যাট বা কঠিন মিল্ক, চিনি, কৃত্রিম মিষ্টি, রং এবং প্রিজারভেটিভ সমূহ।

মিল্ক চকলেটগুলিতে চকলেটের সাথে অতিরিক্তভাবে পাউডার মিল্ক বা কন্ডেন্স মিল্ক যোগ করা হয়।

চকলেটে বিশেষ করে ৫ টি উপাদান ব্যবহার করতে হয়

যেমনঃ

১. কোকো পাউডার

২. কোকো লিকার

৩.কোকো বাটার

৪. চিনি

৫. দুধ

এখানে কোকো পাউডার আর কোকো লিকার হচ্ছে চকলেটের প্রধান উপাদান। চিনি ব্যবহার করা হয় চকলেটকে তার নিজস্ব মিষ্টিস্বাদ যুক্ত করে তোলার জন্য। এছাড়াও ভ্যানিলা নামক উপাদানটিও থাকতে পারে চকলেটে।

চকলেট এর উপকারিতা

১। কোকো বা ডার্ক চকলেট(Dark chocolate)  আমাদের দেহের সংবহন তন্ত্রের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

২। এটি আমাদের নির্দিষ্ট কিছু হৃদযন্ত্রের সমস্যা কমিয়ে আনতে পারে এবং মোটা-চিকন সব ধরণের ওজনের মানুষের রক্তচাপ কমাতে সক্ষম।

৩. এটি আমাদের বোধশক্তির ক্ষমতা কে উন্নত করে।

৪. ডার্ক চকলেটে প্রাপ্তবয়স্কদের কোলেস্টেরল মাত্রা কমাতে পারে।

৫. আমাদের শরীরের ভর সূচকের বা বিএমআই-এর মান কম হবার সাথে চকলেট খাওয়া দারুনভাবে সম্পর্কিত।

চকলেটের অপকারিতা

১. আমাদের বুকজ্বালা-পোড়া করার জন্য দায়ী।

২. আমাদের দেহকে মোটা করে দেওয়ার জন্যে দায়ী।

৩. চকলেট এবং কোকো সাধারণত সীমিত থেকে অধিক পরিমাণে অক্সালেট ধারণ করে থাকে। এই অক্সালেট জন্যে আমাদের কিডনিতে পাথর হওয়ার একটি ঝুঁকি থাকে।

চকলেট এর প্রকারভেদ

ডার্ক চকলেট

ডার্ক চকলেট গ্রহণের পরপরই শরীর থেকে টক্সিক উপাদান বের হয়ে যায়।

ফলে দেহের ক্যান্সার সেল জন্ম নেওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়।

ডার্ক চকলেটের উপকারিতা

১. ডার্ক চকলেটে আছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। যা শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে।

২.এটি তৈরির মূল উপাদান হলো কোকোয়া। যা ফ্লাভিনয়েডে ভরপুর থাকে। এই উপাদানটি ত্বককে সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি থেকে রক্ষা করতে সক্ষম।

৩. এই চকলেটটি খাওয়ার পরপরই শরীরে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের যোগান হয়। এতে করে সারা শরীরে রক্তের প্রভাহ বেড়ে যায়।

৪. নিয়মিত ডার্ক চকলেট খেলে চুল মজবুত হয় সেইসঙ্গে চুল পড়ার সমস্যাও কমতে শুরু করে।

৫.  চকলেটে থাকা ফ্লেবিনয়েড ব্রেনের ফাংশনের উন্নতি ঘটায়। এর ফলে স্মৃতিশক্তি এবং মনযোগেরও বিকাশ ঘটে।

৬. নিয়মিত ডার্ক চকলেট খেলে শরীরের অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। এর ফলে দেহের ক্ষতিকর টক্সিক উপাদান দেহ হতে বেরিয়ে যায়।

সাদা চকলেট

এটি মূলত চিনি, দুধ, কোকো মাখন দিয়ে তৈরী ।এটি তুলনামূলক  ক্ষতি্কর কেননা এটি দুধ চর্বি রক্ষণাবেক্ষণ দ্বারা সৃষ্ট হয়, যা ক্যালোরির মধ্যে বেশ উচ্চ।

স্থুলতায়  ভুগছেন এমন মানুষের জন্য এটি ব্যবহারের সুপারিশ করা হয় না। হোয়াইট চকোলেটে বৃহৎ পরিমাণে ব্যবহৃত ফ্যাট এবং কার্বোহাইড্রেট কন্টেন্ট শরীরের ওজন বৃদ্ধি করতে পারে।

কোকো মাখন, সাদা চকোলেট ধারণকারী, এলার্জি ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য হুমকি হতে পারে, এটি গুরুতর জ্বালা হতে পারে, অলৌকিকতা উত্সাহিত বা রক্ত ​​চাপ বৃদ্ধি করতে পারে।

সুতরাং এর যেমন উপকারী দিক আছে তেমনি অপকারী দিক রয়েছে।তাই পর্যাপ্ত পরিমান চকলেট গ্রহন করাই উত্তম।

সেরা কিছু চকলেটের নাম

এতো এতো বিভিন্নতার মধ্যে সেরা চকলেটটি খুজে বের করা আসলেও খুব কঠিন একটি কাজ। তারপরও কিছু উল্লেখযোগ্য নাম নিম্নরূপ-

১। অ্যামেডেই

মানুষের পাঁচটি ইন্দ্রিয়তেই তোলপাড় ফেলে দেয় এই যুক্তিতেই বিশ্বাসী এই চকলেটের নির্মাতারা।তাই চকলেটটি দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি কামড় দেওয়ার পর এর কুড়মুড় শব্দটাও যেন শুনতে বেশ ভালোলাগে।

২। লিওনিডাস

এই চকলেটের নির্মাতাদের স্লোগানটি হচ্ছে- ‘ডেমোক্রেসি ইন চকলেট’ অর্থাৎ, ‘চকলেটের গণতন্ত্র’।তাঁরা মনে করেন যে, তাঁদের চকলেট সবার জন্য সমান পরিমান সুস্বাদু। ইতিমধ্যেই বিশ্বের দেড়হাজার চকলেটের দোকানে লিওনিডাস পাওয়া যাচ্ছে খুব সহজেই। এর রেসিপিতে ৭০ শতাংশই থাকে কোকোয়া ।

৩। বভেটি

ইতালীয় এই প্রতিষ্ঠানটি বিচিত্র স্বাদের মোট ১৫০ ধরনের চকলেট বার তৈরি করেছে।সবচেয়ে আকর্ষনীয় যে বিষয়টি তা হলো, তাঁদের চকলেটের রেসিপির তালিকায় নাকি ধনিয়াও রয়েছে। এই ধনিয়ার সুবাস চকলেটে একটা ভিন্নস্বাদ নিয়ে আসে বলে তাদের ধারনা।

৪। ভালরোনা

একে বলা হয় চকলেটের জগতের রোলস রয়েস (একটি বিলাসবহুল গাড়ি)।১৯২২ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে চকলেট তৈরি করে আসছে। গত ৯০ বছর স্বাদ আর গন্ধ নিয়ে নানান গবেষণা চালিয়ে মজাদার সব চকলেট তৈরি করেছে এই ফরাসি প্রতিষ্ঠানটি।

৫। মিশেল ক্লুইজেল চকলেটস

মিশেল ক্লুইজেলের পরিবার বহু বছর ধরেই মূলত পেস্ট্রি তৈরি করে আসছে। পেস্ট্রির পাশাপাশি তাদের বানানো চকলেটও বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।ক্যারামেল ,মাশরুম এবং ক্যাপাচিনোর স্বাদ তাদের চকলেটের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

৬। শারফেন বারগার

এই চকলেটে্র বার তৈরি করেন একটি বিখ্যাত আমেরিকান প্রতিষ্ঠান।প্রতিটি কামড়েই রয়েছে দুধ আর কিছুটা লবণাক্ত বাদামের স্বাদ ।

৭। রিপাবলিকা ডেল কাকাও

কোকোয়া, চিনি এবং প্রচুর পরিমাণে কোকোয়া বাটার দেওয়ায় এই চকলেটটি কিছুটা তিতকুটে মনে হতে পারে। তবে এটাই নাকি এই চকলেটের আসল রহস্য।

আশা করি চকলেটের ব্যাপারে আপনাদের বিস্তারিত ধারনা দিতে পেরেছি । লিখাটি যদি ভালো লেগে থাকে তবে নিজের বন্ধু বান্ধব ও পরিবার পরিজনের সাথে শেয়ার করে পাশে থাকবেন। ধন্যবাদ

5/5 - (22 votes)
Mithu Khan

I am a blogger and educator with a passion for sharing knowledge and insights with others. I am currently studying for my honors degree in mathematics at Govt. Edward College, Pabna.