জীববিজ্ঞান

নিউরন কি এবং এর গঠন ও কাজ।

1 min read

আজকে আমরা জানবো নিউরন কি এর গঠন ও কাজ সম্পর্কে।

স্নায়ুকলা কি

বহুসংখ্যক স্নায়ুকোষ বা নিউরন এর সমন্বয়ে স্নায়ুটিস্যু গঠিত হয়।

যে কলা দেহের সব ধরনের সংবেদ এবং উদ্দীপনা গ্রহণ করে এবং তা পরিবহনের মাধ্যমে উদ্দীপনা অনুসারে উপযুক্ত প্রতিবেদন সৃষ্টি করে থাকে, তাকে স্নায়ুটিস্যু বা স্নায়ুকলা।

নিউরন -ই হলো স্নায়ুতন্ত্রের গঠন এবং কাজের একক।

স্নায়ুকলার কাজঃ

১. এটি উদ্দীপনা গ্রহন করে তা মস্তিষ্কে প্রেরণ করে।

২. উদ্দীপনা বা কোনো একটি ঘটনাকে মস্তিষ্কে ধারণ করে রাখে।

৩. দেহের বিভিন্ন ধরনের শারীরবৃত্তীয় কাজ গুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করে।

নিউরন কি?

স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যকরী একককে নিউরন বা স্নায়ুকোষ বলা হয়।

একটি মস্তিষ্ক কোটি কোটি স্নায়ুকোষ বা নিউরন দিয়ে তৈরি। এই একটি মাত্র মানব মস্তিষ্কে রয়েছে ১০০ কোটি স্নায়ুকোষ বা নার্ভ সেল। আর এই স্নায়ুকোষ গুলো একটি আরেকটির সাথে সংযুক্ত রয়েছে  শত শত কোটি স্নায়ুতন্তু দিয়ে।

নিউরন এর গঠন কি

প্রতিটি নিউরন দুটি অংশ নিয়ে গঠিত। যথা-

১. কোষদেহ এবং

২. প্রলম্বিত অংশ।

চিত্রঃ একটি নিউরন

নিউরন এর কোষদেহ কি?

স্নায়ুকোষ দেখতে অনেকটা-

  • তারকাকার,
  • গোলাকার,
  • ত্রিকোণাকার অথবা শঙ্কুর মতো হতে পারে।

কোষদেহ লাইপো-প্রোটিন দিয়ে গঠিত একক পর্দা দিয়ে আবৃত থাকে। কোষদেহের ভিতরে যে সাইটোপ্লাজমীয় দানাযুক্ত ও তন্তুময় অংশ থাকে তাকে বলা হয় নিউরোপ্লাজম। নিউরোপ্লাজমে অসংখ্য নিউক্লিওপ্রোটিন নির্মিত দানা থাকে যাকে নিজল বা নিসল দানাও বলা হয়ে থাকে।

এই নিজল দানা ছাড়াও নিউরোপ্লাজমে অসংখ্য সুক্ষ্ম-সুক্ষ্ম সুতার ন্যায় তন্তু দেখা যায় এগুলিকে নিউরোফাইব্রিল বলে। স্নায়ুকোষে একটি বড় গোলাকার বা ডিম্বাকার নিউক্লিয়াস থাকে। যে অংশে নিউক্লিয়াস থাকে, তাকে বলা হয় সোমা।

কোষদেহের নিউরোপ্লাজমে অসংখ্য মাইটোকন্ড্রিয়া ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়। এছাড়া রয়েছে গলগি বস্তু। এতে সেন্ট্রোজোম/সেন্ট্রোসোম থাকলেও তা নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে।

কাজ

কোষদেহের প্রধান কাজ-

  • অ্যাক্সন ও ডেনড্রনের মধ্যে সংযোগ রক্ষা করা এবং
  • ডেনড্রন কর্তৃক গৃহীত উদ্দীপনাকে অ্যাক্সনে প্রেরণ করা ।

নিউরন এর প্রলম্বিত অংশ কি?

প্রলম্বিত অংশ দুই রকমের হতে পারে। যেমন−

১। ডেনড্রন

২। অ্যাক্সন।

১। ডেনড্রন

নার্ভ কোষদেহের প্লাজমা মেমব্রেনের প্রলম্বিত অংশের সরু শাখাগুলিকে বলা হয় ডেনড্রন। প্রতিটি ডেনড্রন আবার আরও সুক্ষ্ম সুক্ষ্ম শাখা প্রশাখায় বিভক্ত । এইগুলিকে ডেনড্রাইটস বলা হয় । ডেনড্রনের মধ্যে নিজল দানা ও নিউরোফাইব্রিল সমৃদ্ধ নিউরোপ্লাজম এর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

কাজ

  • পেশী বা অন্য কোনও কোষ থেকে স্নায়ু উদ্দীপনা গ্রহণ করে এবং তা কোষ দেহে প্রেরণ করে।

২। অ্যাক্সন

প্রতিটি স্নায়ুকোষে দেহের অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ, শাখা বিহীন বা অল্প শাখাযুক্ত প্রবর্ধকের নাম হলো অ্যাক্সন।

সাধারণত কোষদেহের যে অংশ থেকে অ্যাক্সন সৃষ্টি হয়, তাকে অ্যাক্সন হিলক্ বলে।

অ্যাক্সনের প্রতিটি খণ্ড মায়োলিন শিথ নামক অংশ দ্বারা আবৃত থাকে। মায়োলিন শিথের ওপরের আবরণকে বলা হয় নিউরিলেমা। র‍্যানভিয়ারের নোড দ্বারা প্রতিটি খণ্ড যুক্ত থাকে। এই খণ্ড গুলোর ভিতরে অবস্থান করে সোয়ান কোষ।

এই সূত্রের শেষ প্রান্তের দিকে অ্যাক্সন শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়ে যায়। এই শাখা বা প্রশাখার শেষ প্রান্তকে বলা হয় মূলত অ্যাক্সন প্রান্ত। প্রতিটি অ্যাক্সনের ভিতরে থাকে অ্যাক্সোপ্লাজম। অ্যাক্সোপ্লাজমকে ঘিরে যে আবরণী থাকে, তাকে অ্যাক্সোলেমা বলে ।

কাজ

  • এটি উদ্দীপনা পরিবহন করে এবং স্নায়ুসন্ধির মাধ্যমে স্নায়ু-উদ্দীপনাকে পেশি বা অন্য কোনও স্নায়ুকোষে প্রেরণ করতে সাহায্য করে।

কাজের প্রকৃতি অনুসারে স্নায়ুকোষ কে ৩ টি ভাগে ভাগ করা যায়৷ যথা-

১. সংজ্ঞাবহ স্নায়ুকোষ(sensory neuron)

২. আজ্ঞাবহ স্নায়ুকোষ(motor neuron)

৩. সহযোগী স্নায়ুকোষ ।

. সংজ্ঞাবহ নিউরন কি (Sensory neuron):

এই স্নায়ুকোষগুলো অনুভূতি-গ্রাহক থেকে স্নায়ুস্পন্দন গ্রহন করে তা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে বহন করে। সংজ্ঞাবহ স্নায়ুকোষের দ্বারা সঙ্কেত সমূহ বাইরের দিক থেকে ভিতরে দিকে প্রবাহিত হয়। এই কারণে একে অন্তর্বাহী স্নায়ুকোষ বলা হয়ে থাকে। একই রকমভাবে স্নায়ুকোষ থেকে উদ্দীপনা গ্রহণ করে বলে একে কখনো কখনোও গ্রাহক স্নায়ুকোষ ও বলা হয়।

২. আজ্ঞাবহ নিউরন কি (Motor neuron): 

মোটর স্নায়ুকোষগুলো কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র থেকে স্নায়ুস্পন্দন বহন করে । আজ্ঞাবহ স্নায়ুকোষ দ্বারা স্নায়ুস্পন্দন দেহের ভেতর থেকে বাইরে পরিবাহিত হয় বলে একে বহির্বাহী স্নায়ুকোষ  বলে। এই রকমের স্নায়ুকোষ কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র থেকে পাঠানো স্নায়ু স্পন্দন গুলোকে পাঠায় বলে একে ফল প্রদায়ক স্নায়ুকোষ বলে ।

৩. সহযোগী নিউরন কি (Adjust or Interconnecting neuron):

আন্তঃসংযোজক স্নায়ুকোষগুলো সংজ্ঞাবহ ও আজ্ঞাবহ স্নায়ুকোষগুলোর মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে। এই ধরনের স্নায়ুকোষ সবসময় কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে অবস্থান করে।

কোষদেহ থেকে উৎপন্ন প্রলম্বিত অংশের সংখ্যানুযায়ী স্নায়ুকোষকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়।যথা-

১. মেরুবিহীন নিউরন (Apolar neuron): কোষদেহে কোনো প্রলম্বিত অংশ থাকে না।

২. এক-মেরুবর্তী নিউরন (Unipolar neuron): কোষদেহে যখন একটিমাত্র  অ্যাক্সন থাকে।

৩. দ্বি-মেরুবর্তী নিউরন (Bipolar neuron): কোষদেহে দুই দিকে যখন প্রলম্বিত অংশ থাকে অর্থাৎ একদিকে একটি অ্যাক্সন এবং অপরদিকে একটি ডেনড্রন থাকে ।

৪. মেকি-এক-মেরুবর্তী নিউরন (Pseudo-unipolar neuron): প্রাথমিক অবস্থায় দুটি প্রলম্বিত অংশ থাকে, যারা বয়ঃবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পরস্পর মিলিত হয়ে একটি প্রলম্বিত অংশে পরিণত হয় ।

৫. বহু মেরুবর্তী নিউরন (Multipolar neuron): কোষদেহে যখন একাধিক প্রলম্বিত অংশ থাকে যেমন: একটি অ্যাক্সন এবং অসংখ্য ডেনড্রন বা ডেনড্রাইট থাকে ।

উল্লেখ্য  দুটি স্নায়ুকোষের ভিতরে কিছুটা ফাঁকা জায়গা থাকে। এই ফাঁকা জায়গাকে বলা হয় সিন্যাপস। এই ফাঁকা জায়গায়  কিছু রাসায়ানিক দ্রব্য থাকে। এই রাসায়নিক দ্রব্যাদির হ্রাস বৃদ্ধির কারণে মানুষের নানা ধরনের আকাঙ্ক্ষা, বিষন্নতার সৃষ্টি হয়। এই জাতীয় রাসায়নিক দ্রব্যাদির ভিতরে রয়েছে সেরোটনিন, এনকেফালিন, গাবা ইত্যাদি।

আজকে এই পর্যন্তই শেষ করছি। আশা করছি নিউরন কি এই সম্পর্কে আপনাদের বিস্তারিত ধারনা দিতে পেরেছি। ধন্যবাদ।

5/5 - (31 votes)
Mithu Khan

I am a blogger and educator with a passion for sharing knowledge and insights with others. I am currently studying for my honors degree in mathematics at Govt. Edward College, Pabna.