প্রাণিবিজ্ঞান

বয়ঃসন্ধিকাল কি এবং কাকে বলে | বয়ঃসন্ধিকালীন পরিবর্তন নারী ও পুরুষ দেহে

1 min read

বয়ঃসন্ধিকাল কি এবং কাকে বলে | বয়ঃসন্ধিকালীন পরিবর্তন নারী ও পুরুষ দেহে

বয়ঃসন্ধিকাল কি এবং কাকে বলে

শৈশব ও কিশোর বয়স অতিবাহিত হওয়ার পর মানুষের দেহে শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের সাথে সাথে শারীরবৃত্তীয় অনেক পরিবর্তন শুরু হয়। তখন গৌণ যৌন বৈশিষ্ট্যসমূহের বিকাশ ঘটে। জীবনের যে পর্যায়ে নারী ও পুরুষের দেহে গৌণ যৌন বৈশিষ্ট্যের বিকাশসহ প্রজনন তন্ত্রের অঙ্গগুলো সক্রিয়তা লাভে সমর্থ হয় তাকে বয়ঃসন্ধিকাল বলে।

আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভৌগোলিক অবস্থার কারণে নারী পুরুষের বয়ঃসন্ধিকাল এক রকম হয় না। আমাদের দেশে ছেলেরা ১৩-১৫ বছরের মধ্যে এবং মেয়েরা ১১-১৪ বছরের মধ্যে বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছায়।

নারী ও পুরুষের দেহে বয়ঃসন্ধিকালীন পরিবর্তন

(ক) মেয়েদের উল্লেখযোগ্য গৌণ যৌন বৈশিষ্ট্যের বিকাশ-

  • ১. বগল, শ্রোণীদেশ ও যৌনাঙ্গকে ঘিরে লোম গজায়।
  • ২. মুখমণ্ডল, কোমর, নিতম্বসহ সারাদেহে প্রচুর চর্বি জমা হওয়ার কারণে নারীদেহ কোমল হয় এবং নারী সুলভ চেহারার বিকাশ ঘটে।
  • ৩. মেয়েলী কন্ঠস্বর প্রকাশ পায়।
  • 8. স্তন গ্রন্থিতে মেদ সঞ্চিত হয় ও উন্নত হয়।
  • ৫. হৃদপিণ্ডের গতি, রক্তচাপ ও শ্বাস-প্রশ্বাস হার বৃদ্ধি পায়।
  • ৬. ডিম্বাশয় থেকে হরমোন উৎপন্ন ও ক্ষরণের হার বৃদ্ধি পায়।
  • ৭. রজঃচক্র শুরু হয়।
  • ৮. আনুষঙ্গিক জননাঙ্গ সুগঠিত ও কার্যক্ষম হয়ে ওঠে।
  • ৯. নারী সুলভ মানসিকতার প্রকাশ ঘটে।
  • ১০. বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ অনুভূত হয়।

মেয়েদের বয়ঃসন্ধিতে হরমোনের ভূমিকা

মেয়েদের বয়ঃসন্ধিতে বিভিন্ন গৌণ যৌন লক্ষণসমূহ নানা প্রকার হরমোন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। মেয়েদের ক্ষেত্রে FSH (Follicle Stimulating Hormone) ডিম্বাশয়ে পৌঁছে ডিম্বাশয়ের ফলিকল কোষ থেকে ইস্ট্রোজেন হরমোনের নিঃসরণ ঘটায়। ইস্ট্রোজেনের প্রভাবে স্তন বিকাশ, ডিম্বাশয়ের পরিপকৃতা, ডিম্বাণু উৎপাদন, জরায়ু প্রাচীর পরিপক্কতা ও আনুষঙ্গিক জননাঙ্গের পূর্ণ বিকাশ ঘটে। ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরণ উভয় মিলে মেয়েদের রজঃচক্র (Menstrual cycle) নিয়ন্ত্রণ করে।

(খ) ছেলেদের উল্লেখযোগ্য গৌণ যৌন বৈশিষ্ট্যের বিকাশ –

  • ১. মুখমণ্ডলে দাঁড়ি-গোঁফ, বগল, শ্রোণীদেশ ও যৌনাঙ্গকে ঘিরে লোম গজায়।
  • ২. দেহের পেশীগুলো বলিষ্ঠ ও সুগঠিত হয়।
  • ৩. মুখ ও পেটে চর্বি সঞ্চিত হয়।
  • ৪. কণ্ঠস্বর গাঢ়, ভারী ও স্বাভাবিক থাকে।
  • ৫. হৃদপিণ্ডের গতি ও বিপাকীয় হার বৃদ্ধি পায়। রক্তের লোহিত কণিকা বৃদ্ধি পায়।
  • ৬. শুক্রাশয় হতে হরমোন ক্ষরিত হয়, শুক্রাণু ও বীর্য উৎপন্ন হয়।
  • ৭. নারীর প্রতি আকর্ষণ অনুভূত হয় ৷
  • ৮. স্বভাব কর্কশ হয় । বিচিত্র খেয়ালের উদ্ভব হয়। শক্তি প্রতিযোগিতার মনোভাব সৃষ্টি হয়।

ছেলেদের বয়ঃসন্ধিতে হরমোনের ভূমিকা

Role of hormone in male puberty

ছেলেদের বয়সন্ধিতে বিভিন্ন গৌণ যৌন লক্ষণসমূহ নানা প্রকার হরমোন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাসের নিউরোসিক্রেটিক কোষ প্রারম্ভিক ভূমিকা পালন করে। বয়সন্ধিকালে ঋণাত্মক ফিডব্যাকের প্রভাবে হাইপোথ্যালামাসের GNR (Gonadotrophin Releasing Factor) ক্ষরণ বৃদ্ধি পাওয়ায় FSH (Follicle Stimulating Hormone) ও LH (Lutcinizing Hormone) ক্ষরণ বৃদ্ধি পায়। FSH ও LH এর প্রভাবে শুক্রাশয় উদ্দীপ্ত হয় ফলে বয়ঃসন্ধির শেষের দিকে গোনাড নিঃসৃত হরমোনের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় শুক্রাশয়সহ আনুষঙ্গিক যৌনাঙ্গগুলোর পূর্ণ বিকাশ ঘটে। টেস্টোস্টেরণ হরমোন ছেলেদের দাড়ি- গোফসহ দেহের বিভিন্ন অংশে লোমের বিকাশ, কন্ঠস্বরের পরিবর্তন ও পেশী বলিষ্ঠ করে।

Rate this post
Mithu Khan

I am a blogger and educator with a passion for sharing knowledge and insights with others. I am currently studying for my honors degree in mathematics at Govt. Edward College, Pabna.