অর্থনীতি

ইসলামি অর্থনীতি কি | ইসলামি অর্থনীতির বৈশিষ্ট্যসমূহ ও গুরুত্ব

1 min read

ইসলামি অর্থনীতি কি | ইসলামি অর্থনীতির বৈশিষ্ট্যসমূহ

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। ইসলামি জীবন বিধানে মানবজীবনের সামগ্রিক সমস্যাবলির সমাধান রয়েছে। বিভিন্ন অর্থব্যবস্থার মধ্যে ইসলামি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বা ইসলামি অর্থনীতি একটি ব্যতিক্রমধর্মী অথচ ন্যায়নীতির পরিপ্রেক্ষিতে পরিচালিত সমাজব্যবস্থা, যা একমাত্র মহান আল্লাহর নির্দেশিত বিধি মোতাবেক পরিচালিত হয়ে থাকে।

ইসলামি অর্থনীতি কি

ইসলামি অর্থনীতি হল এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, যার মৌলিক বিধান নীতিমালা এবং কর্ম পদ্ধতি ইসলামি শরীয়তের উপর প্রতিষ্ঠিত। ইসলামি জীবনবোধ থেকেই ইসলামের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার উৎপত্তি। তাই ইসলামি অর্থনীতিতে ইসলামের মূল দর্শন ও ভাবধারার সাথে সামঞ্জস্য রেখেই অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চালানো হয়। এ ব্যবস্থায় আল্লাহ তায়ালার বিধিবিধানের ভিত্তিতে জীবিকা অর্জন ও অর্থনৈতিক কার্যাবলি পরিচালিত হয়। এটা মানবজীবনের সামাজিক, ধর্মীয়, নৈতিক অর্থাৎ, সামগ্রিক ক্ষেত্রের সাথে সম্পৃক্ত। পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করা হয়েছে, “আকাশ মণ্ডল ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্ব একমাত্র আল্লাহরই।” আল্লাহ তায়ালার এ মালিকানার প্রেক্ষিতে আল্লাহর নির্দেশিত পথে মানুষ উৎপাদন, বিনিময়, বণ্টন, ভোগ প্রভৃতি অর্থনৈতিক কার্যাবলি সম্পাদন করবে। ইসলামি অর্থব্যবস্থার মূল কথা এটাই। আধুনিক ইসলামি অর্থনীতিবিদগণ ইসলামি অর্থনীতির সংজ্ঞা বিভিন্নভাবে প্রদান করেছেন। ইসলামি অর্থনীতির সংজ্ঞা দিতে গিয়ে ডা. এম. এ. মান্নান বলেছেন, “ইসলামি অর্থনীতি হল এমন একটি সমাজবিজ্ঞান যা ইসলামের আলোকে জনগণের অর্থনৈতিক সমস্যাবলি আলোচনা করে।” প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক খুরশীদ আহমদ তাঁর ‘Islamic Economics’ নামক গ্রন্থে বলেছেন, “ইসলামি কাঠামোতে পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর মূল্যবোধের গভীরে দৃঢ়ভাবে পদচারণা করে ইসলামি অর্থনীতি কাজ করে।” তুরস্কের অর্থনীতিবিদ ড. সাবাহ ইলদীন জাইমের মতে, “ইসলামি অর্থনীতি বলতে ইসলামি শরীয়তের দৃষ্টিতে মানুষের অর্থনৈতিক সমস্যা ও তার আচরণের সুসংবদ্ধ বিশ্লেষণ ও অধ্যয়নকে বুঝায়।”

উপরিউক্ত সংজ্ঞাগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ইসলামি অর্থনীতির মূলভিত্তি হল ইসলামি শরীয়ত। সুতরাং বলা যায়, ইসলামি অর্থনীতি হল একটি আদর্শভিত্তিক অর্থব্যবস্থা। ইসলামি অর্থনীতিতে পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ও ইসলামি শরীয়তের ভিত্তিতে মানুষের সকল অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হয়।

ইসলামি অর্থনীতির বৈশিষ্ট্যসমূহ বিশ্লেষণ কর

ইসলামি অর্থনীতি পৃথিবীর যাবতীয় সম্পদ মানবজাতির কল্যাণে ব্যবহারের উপর গুরুত্ব দেয়। এ অর্থব্যবস্থার মূলভিত্তি হচ্ছে পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহ। তাই অন্যান্য অর্থনৈতিক ব্যবস্থার তুলনায় ইসলামি অর্থনীতির বৈশিষ্ট্য ভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। নিম্নে ইসলামি অর্থনীতির প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো আলোচনা করা হল।

১. ইসলামি শরিয়ত

ইসলামি অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মৌলিক নীতিমালা ইসলামি শরিয়তের উপর নির্ভরশীল। ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক ইসলামি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা পরিচালিত হয়ে থাকে। সুতরাং, ইসলামি অর্থনীতিতে পবিত্র কুরআনের নির্দেশ, ইসলামের মূল দর্শন ও রাসূল (স) এর হাদিসের সাথে সামঞ্জস্য রেখে অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হয়।

২. সম্পদের মালিকানা

ইসলামি অর্থনীতিতে সম্পদের ব্যক্তিগত মালিকানা স্বীকৃত। তবে সূক্ষ্ম বিশ্লেষণে একমাত্র আল্লাহই বিশ্বের সমুদয় ধনসম্পদের মালিক। মানুষ আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে তার আদেশ ও নিষেধের অনুবর্তী হয়ে এসব সম্পদ ভোগ, দখল ও রক্ষণাবেক্ষণ করে। তাই ইসলামি অর্থব্যবস্থায় সম্পদের ব্যক্তিগত মালিকানা স্বীকার করে নেওয়া হলেও এর অপব্যয়, অপচয় বা খেয়ালখুশিমতো ব্যবহারের অধিকার কোন ব্যক্তির নেই।

৩. সম্পদের বণ্টন

ইসলামি অর্থনীতিতে সম্পদের বণ্টনের মূল লক্ষ্য হল ন্যায়নীতি ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা। ইসলামে ধনী দরিদ্রের মধ্যে বিরাজমান অর্থনৈতিক অসমতা দূরীকরণের লক্ষ্যে জাকাত, সাদকা, ফেতরা প্রভৃতির মাধ্যমে ধনীদের সম্পদ কমানো এবং তা গরিবের মধ্যে বণ্টনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সমাজের সর্বস্তরে সম্পদের স্বাভাবিক ও ন্যায়ভিত্তিক প্রবাহ নিশ্চিত করাই হল ইসলামি অর্থনীতির বণ্টন ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য।

৪. ব্যক্তিস্বাধীনতা

ইসলামি অর্থনীতির সাথে নৈতিক মূল্যবোধ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ইসলাম ব্যক্তিস্বাধীনতাকে স্বীকার করে কিন্তু স্বেচ্ছাচারিতাকে প্রশ্রয় দেয় না। সীমাহীন ভোগ সমাজে যেসব বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করে এবং ব্যক্তি জীবনে যে স্বার্থপরতা ও আত্মচিন্তার জন্ম দেয় তা নির্মূল করার জন্য ইসলামি অর্থনীতিতে কতকগুলো জিনিসের উৎপাদন, ভোগ ও ব্যবহার হারাম বা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

৫. শ্রমের মর্যাদা

শ্রমই যে কোন অর্থনৈতিক অধিকারের একমাত্র মানদণ্ড। তাই ইসলামি অর্থব্যবস্থায় গুরুত্বসহকারে শ্রমের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। ইসলামি অর্থনীতিতে নারীকেও শ্রমের বিনিময়ে ভোগের অধিকার দেওয়া হয়েছে। সুতরাং, ইসলামি অর্থনীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে শ্রমের মর্যাদা।

৬. সামাজিক কল্যাণ

ইসলামি অর্থব্যবস্থায় সমস্ত সম্পদ মানবকল্যাণে ব্যয় করার বিধান রয়েছে। জাকাত, সদকা, ওশর, ফিতরা প্রভৃতি ব্যয় দ্বারা রাজস্বনীতি পরিচালনা করলে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে সাথে সামাজিক কল্যাণের পথও সুগম হবে। অর্থাৎ, ইসলামি অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় সমুদয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পদের কল্যাণমূলক ব্যবহার দ্বারা সামাজিক কল্যাণের জন্য পরিচালিত হবে।

৭. যাকাতের প্রবর্তন ও যাকাতের প্রবর্তন করা

ইসলামি অর্থনীতির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। ইসলামি অর্থব্যবস্থায় ধর্মীদের সম্পদের উপর জাকাত ফরজ করা হয়েছে। ইসলামি বিধান অনুযায়ী, “নেছাব পরিমাণ বা তার অধিক অর্থসম্পদ কারও কাছে এক বছর জমা থাকলে তাকে জাকাত প্রদান করতে হয়।” সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা ও সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণের ক্ষেত্রে জাকাত একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার।

৮. সুদ হারাম

ইসলামি অর্থনীতিতে সুদের অর্থ হল রিবা। কোন পরিশ্রম না করে বসে অর্থ শোষণ করা এবং লোকের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে বা ক্রয়বিক্রয়ের সময় ফাঁকি দিয়ে অর্থনৈতিক সুবিধা আদায় করার নাম হল সুদ বা রিবা। ইসলাম মানুষের অভাব ও অসহায়তার সুযোগ নিয়ে শোষণ করাকে সমর্থন করে না। তাই ইসলামি অর্থব্যবস্থায় ব্যবসাকে হালাল করা হয়েছে, আর সুদকে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে।

৯. বায়তুল মাল প্রতিষ্ঠা

ইসলামি অর্থব্যবস্থায় বায়তুল মাল হল রাষ্ট্রীয় কোষাগার বা সরকারি তহবিল । ইসলামি রাষ্ট্রে বায়তুল মাল প্রতিষ্ঠা করা একান্ত অপরিহার্য বিষয়। কেননা, কোন রাষ্ট্রই অর্থ বা সম্পদ ছাড়া চলতে পারে না। ইসলামি অর্থনীতিতে নাগরিকদের মঙ্গলের জন্য যেসব পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়, সেগুলো বাস্তবায়নের খরচ বায়তুল মাল থেকেই নির্বাহ করা হয়।

১০. সুদমুক্ত ব্যাংকিং ব্যবস্থা

বিশ্বের অন্যন্য ব্যাংকিং ব্যবস্থাগুলো সুদের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। কিন্তু ইসলামি ব্যাংকিং পদ্ধতি পূর্ব নির্ধারিত সুদের স্থলে লাভ লোকসানের অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। যেহেতু সুদ তারল্য ফাদ সৃষ্টি এবং মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি করা ছাড়াও অর্থনীতিতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে থাকে, তাই ইসলামি ব্যাংক ব্যবস্থায় সুদের কোন স্থান নেই।

১১. অপব্যয় ও বিলাসিতার সমর্থন নেই

ইসলামি অর্থব্যবস্থায় শরীয়াহ বিধিবিধান দ্বারা ভোগ কর্ম নিয়ন্ত্রিত। এজন্য এখানে অপচয় বা বিলাসিতাকে সমর্থন করা হয় না। আল্লাহ তায়ালার প্রতি অবাধ্যতা, অন্যায় ও অনর্থক কাজে ধনসম্পদ ব্যয় করাকে অপব্যয় বলা হয়। আবার ইসলাম কৃপণতাকেও প্রশ্রয় দেয় না। এক্ষেত্রে অর্জিত আয়ের ব্যয় ও বণ্টন অবশ্যই উৎপাদনমুখী হতে হবে।

১২. জীবনের সামগ্রিক দিক নিয়ে আলোচনা

ইসলামি অর্থব্যবস্থা মানবজীবনের কোন বিচ্ছিন্ন বা আংশিক ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করে না, বরং মানবজীবনের সমগ্র ক্ষেত্র এর আওতাভুক্ত। ইসলামি অর্থনীতিতে বলা হয় যে, সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ আল্লাহর একত্ব ও সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে আল্লাহ প্রদত্ত সম্পদ তার নির্দেশমতো ব্যবহার করবে।

১৩. বৈধ উপার্জন

ইসলামি অর্থনীতিতে বৈধ উপার্জনের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। ইসলামি অর্থব্যবস্থায় আদর্শ জীবন পদ্ধতিকে সমর্থন করা হয়েছে। তাই এ ব্যবস্থায় সুদ, ঘুস, মদ, জুয়া, চোরাকারবারি, কালোবাজারি, অতিরিক্ত মুনাফা প্রভৃতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

ইসলামি অর্থনীতির গুরুত্ব

১. ন্যায় পথে আয় করার বিধান : আল্লাহ তাআলা মানবজাতিকে তার জীবিকানির্বাহের জন্য বহুবিধ ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। তবে তা অবশ্যই হালালভাবে হতে হবে। আল্লাহ তাআলা ব্যবসায়কে হালাল করেছেন। অন্যের সম্পদকে অন্যায়ভাবে ভোগ করাকে হারাম করেছেন। ইসলামি অর্থনীতিতে মনোপলি, কার্টেল, অলিগপোলিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মজুদদারি, মুনাফাখোরি, কালোবাজারি ইসলামে নিষিদ্ধ, আর এসবই মানুষের কল্যাণের জন্য। এসব নিষিদ্ধ থাকায় এমন পরিবেশ সৃষ্টি হয় যাতে মানুষ কর্মপ্রেরণা পায়। ফলে সঞ্চয়, বিনিয়োগ ও ব্যবসায়ে কোনরূপ বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় না।

২. অর্থের মোহ দূরীকরণ : ইসলামি অর্থনীতি সব মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত। অর্থের মোহ মানুষকে অন্ধ করে দেয়। মানুষকে অমানুষ করে তোলে। যদি সমাজে অর্থের মোহ দূর করা সম্ভব হয় তবে সেখানে শান্তি ও নিরাপত্তা আসতে বাধ্য। এক্ষেত্রে ইসলামি অর্থব্যবস্থার কোন বিকল্প নেই।

৩. ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সৃষ্টি : ইসলামি অর্থনীতি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন সম্ভব হলে একে অপরের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সৃষ্টি হতে বাধ্য। এখানে একে অপরের সাহায্য সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে। ইসলামি অর্থনীতি মুসলমানদের মধ্যে বিশ্বভ্রাতৃত্বের সৃষ্টি করে।

৪. উত্তরাধিকার আইন : ইসলামি অর্থনীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল উত্তরাধিকার আইনের মাধ্যমে সবার অধিকার সুনিশ্চিত করা। এ নীতির মাধ্যমে নারী-পুরুষ উভয়ে তাদের অধিকার পুরোপুরিভাবে প্রাপ্ত হয়। এখানে কারো প্রতি সামান্যটুকুও প্রতারণার সুযোগ নেই। ফলে সমাজে শান্তি আসবেই।

৫. রাষ্ট্রের ভূমিকা : ইসলামি অর্থনীতিতে রাষ্ট্রের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর্থসামাজিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্ব এ রাষ্ট্রই পালন করে। বায়তুলমাল হচ্ছে ইসলামি রাষ্ট্রের বীমাব্যবস্থা। বায়তুলমাল অক্ষম, দুঃস্থ, বৃদ্ধ, এতিম ও বিত্তহীনদের মৌলিক অধিকার পূরণের গ্যারান্টি। মহানবী (স) বায়তুলমাল প্রতিষ্ঠার পর ঘোষণা করেছিলেন, “যদি কেউ সম্পত্তি রেখে মারা যায়, তবে তা তাদের উত্তরাধিকারীর । আর যদি কেউ সহায়হীন এতিম ও বিধবা রেখে মারা যায়, তবে তার উত্তরাধিকারী আমি।”

৬. অর্থনৈতিক ভারসাম্য : সমাজে শান্তি আনয়নে প্রয়োজন সমাজের সকলের মধ্যে অর্থনৈতিক ভারসাম্য। অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে না পারলে সমাজে দেখা দিবে হিংসা, বিদ্বেষ, মারামারি, ধনী-গরিব বিভেদ। এজন্য ইসলামি অর্থনীতি অর্থনৈতিক ভারসাম্য আনয়নে সদা সচেষ্ট। এখানে কেউ অঢেল ধনসম্পদের মালিক হবে, আবার কেউ নিঃস্ব হবে এমনটি হওয়ার নয়। কেননা, ধনীদের সম্পদে গরিবদের অংশ রাখা হয়েছে। এভাবেই ভারসাম্য রক্ষা করা হয়েছে।

৭. আল্লাহর পথে ব্যয় : ইসলামি অর্থনীতি ইনফাক ফি সাবিলিল্লাহর প্রতি জোর দেয়। আল্লাহর পথে খরচ মানুষের কল্যাণের জন্যই করা হয়। এর মাধ্যমে সম্পদের মোহমুক্ত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইসলামি অর্থনীতিতে সম্পদ খরচের মধ্যেই কল্যাণ নিহিত রয়েছে বলে মনে করা হয়।

উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, ইসলামি অর্থব্যবস্থা হল একটি আদর্শ অর্থব্যবস্থা এবং সমাজে নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা, বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কল্যাণ সাধন এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করাই হল ইসলামি অর্থনীতির মূল বৈশিষ্ট্য। বস্তুত ইসলামি অর্থনীতি ইসলামের মূল আদর্শ ও দর্শনের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত এবং ইসলামি শরীয়তের উপর ভিত্তি করে সকল অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হয়।

Rate this post
Mithu Khan

I am a blogger and educator with a passion for sharing knowledge and insights with others. I am currently studying for my honors degree in mathematics at Govt. Edward College, Pabna.