তথ্য প্রযুক্তি
1 min read

বাসার ওয়াইফাই সুরক্ষার জন্য যা জেনে রাখা প্রয়োজন

ওয়াইফাই এমন একটি ডিভাইস যা তারবিহীন ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত হয় ।ডিজিটাল ডিভাইস গুলোকে একসঙ্গে ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত রাখতে সেরা একটি মাধ্যম হচ্ছে ওয়াইফাই ।তবে দিন দিন ওয়াইফাই এর ব্যবহারকারী সংখ্যা যেমন বাড়তেছে তেমনি এর কিছু ঝুঁকির বাড়তেছে । ওয়াইফাই রাউটার হ্যাক করার মাধ্যমে অনেকের বাসার নেটওয়ার্কের  এর স্পিড  এর পরিমাণ কমে যাচ্ছে  । তাই ওয়াইফাই ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন  করা বেশি জরুরি হয়ে পড়েছে । আজকে আমি এই পোস্টের মাধ্যমে রাউটার ব্যবহারের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়ে থাকব । যাতে করে আপনার ওয়াইফাই এর   হ্যাক হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম থাকবে যাতে করে আপনারা রাউটার সুরক্ষিত থাকবে ।

 ১।রাউটারের অবস্থান পরিবর্তন করুন

আমরা অনেকেই রাউটার ব্যবহার করি কিন্তু এর সঠিক অবস্থান জানিনা । সঠিক অবস্থান বলতে রাউটারকে একটা নির্দিষ্ট জায়গায় সেট  করতে হবে । প্রথমে আপনার নজর দেওয়া উচিত রাউটারটি কোথায় রাখলে আপনার কাছে নিরাপত্তা মনে হবে । রাউটার তার সিগন্যাল কে চারোদিকে ছড়িয়ে দেয় এর ফলে ব্যবহারকারীগণ সহজেই এর ব্যবহার করতে পারে আবার রাউটারের সিগন্যাল কে এক পাশে রাখলেই হবে না চারটি সিগন্যাল কে চারদিকে চারপাশে ছড়িয়ে দিতে হবে এবং তিনটি সিগন্যাল হলে তিন পাশে দিতে হবে দুইটি হলে দুই পাশে দিতে হব।

 

তাই আপনার রাউটারকে এমন জায়গায় রাখা প্রয়োজন যাতে করে সিগনাল আপনার পুরো ঘরে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে । আপনার ঘরের অপর পাশে সিগন্যাল ভালো নাও পেতে পারে । আপনার পাসওয়ার্ড জানা থাকলে আপনার প্রতিবেশীর পক্ষে আপনার ওয়াইফাই সে ভালো গতিতে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবে । এতে করে আপনার ইন্টারনেটের গতি কমে দিতে পারে এবং অনেকটা ঝুঁকি দেখা দিতে পারবে তাই রাউটারকে সব সময় ঘরের মাঝে রাখার চেষ্টা করতে হবে এতে করে আপনার রাউটার রক্ষা পাবে এবং ঝুঁকি ও হ্যাক হওয়ার হাত হতে সুরক্ষিত থাকবে ।

 

২।রিমোট রাউটার এক্সেস বন্ধ রাখা

আপনাকে প্রথমে চিন্তা করতে হবে আপনার রাউটার যেন আপনি ব্যতীত অন্য কেউ হাত না দিতে পারে এবং নেটওয়ার্কের বাইরে কেউ রাউটারে যাতে প্রবেশ করতে না পারে তার জন্য আপনাকে রিমোট রাউটার এক্সেস বন্ধ রাখতে হবে । বিনা কারণে আপনার রাউটার সিটিং পরিবর্তন করার প্রয়োজন না হলেও রাউটার সেটিং কখনো অন রাখা যাবে না প্রয়োজনে আপনাকে      সেটিং অপশনটি বন্ধ রাখতে হবে । অনেক রাউটারে দেখা যায় রাউটার ব্যবহারকারী রাউটারে ডিফল্টভাবে অকারনে অপশনটি অন করে থাকে এরকম কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে  এতে করে আপনার রাউটার নিরাপত্তা থাকবে ।

৩.WPA3 রাউটার ব্যবহার করা

এটি একটি  সিকিউরিটি প্রটোকল নতুন প্রযুক্তি এর মাধ্যমে আপনার রাউটার আপনি সহজেই নিরাপদে রাখতে পারবেন । এখনকার রাউটার গুলো নতুন প্রযুক্তি গুলোতে এই প্রোটোকলটি রয়েছে কিন্তু আগের রাউটার গুলোতে  এমন প্রযুক্তি নেই  তাই আগের রাউটারগুলো ঝুঁকি সম্ভাবনা বেশি  তাই নতুন রাউটার কেনার মাধ্যমে  নিজের রাউটারকে আপনি নিরাপদে সুরক্ষিত রাখতে পারবেন । আপনাকে রাউটার কিনার সময় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যেন wpa3লেখারাউটারটি আছে কিনা অবশ্যই দেখে নিতে হবে এটি থাকলে হ্যাক হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কম ।

৪.সংযুক্ত ডিভাইস চেক করা

ডিভাইস চেক করা বলতে এখানে আপনার রাউটারের সাথে যে ডিভাইস গুলো আপনি ইন্টারনেট সংযোগ দিয়েছেন সেগুলো নিয়মিত চেক করা যেগুলো আপনার পরিচিত এবং যেগুলো আপনার কাছে অপরিচিত ডিভাইস মনে হলে আপনাকে সাথে সাথেই ডিভাইস ব্লক করে দিয়ে আপনাকে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করতে হবে এতে করে আপনার রাউটার নিরাপদ থাকতে পারে এবং আপনার রাউটার  হ্যাক হওয়ার তথ্য চুরি হওয়ার হাত থেকে আপনি সহজেই রেহাই পারতে পারেন ।

৫.নিয়মিত রাউটার আপডেট রাখা

কেননা আপডেট রাখলে আপনার রাউটারে সকল ডিভাইস নতুন করে দিতে হবে এতে করে আপনার জন্য ভালো হবে যদিও কিছুটা বিরক্তিকর তবে তা অত্যন্ত গুরুত্ব পূর্ণ আপডেটের মাধ্যমে আপনার পুরনো সিকিউরিটির ঝুঁকি গুলো ঠিক করা হয় । ঝুঁকি তথ্য নতুন করে জানা যায় তখন ব্রান্ডগুলো তাদের ডিভাইস এসব আপডেট প্রদান করে রাউটারকে সুরক্ষিত রাখে । রাউটারের মাধ্যমে ব্যবহৃত সকল ডিভাইস আপডেট  রাখা জরুরী । আপনার রাউটার ঝুঁকি অনেকটা কমে যাবে ।এতে রাউটার নিজেই নতুন আপডেট খুজে নিয়ে একা একা আপডেট করে নিতে পারবে । এতে আপনাররাউটার সিটিং হতে অটোমেটিক আপডেট অন করে রাখতে পারবেন  এর ফলে আপনার বাসার ওয়াইফাই সুরক্ষিত থাকবে ।

৬.ভিপিএন ব্যবহার করা

হ্যাকার আপনার আইপি ব্যবহার করে খুব সহজেই আপনার বাসার ওয়াইফাই রাউটার নেটওয়ার্ক হ্যাক করার চেষ্টা করতে পারে ।তাই আপনাকে ভালো vpn ব্যবহারের মাধ্যমে সংযোগ  করতে হবে তাই আপনাকে ভালো ভিপিএন এর মাধ্যমে ব্যবহারের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করলে এই ঝুঁকি থাকে না এই vpn টি আপনার আইপি লুকিয়ে ফেলতে পারে এবং খুব সহজেই আপনার ব্রাউজিং  ভিপিএন মুছে ফেলে দিতে পারে খুব সহজে। যখন কোন পাবলিক ওয়াইফাইয়ে আপনি যুক্ত হন তখন এই ভিপিএন ব্যবহার করা অনেক জরুরী । তাই বাসার ওয়াইফাই রাউটারের ক্ষেত্রে ভিপিএন থাকলেও ভালো মানের একটি vpn ব্যবহার করায় জরুরী কেন না এতে আপনার রাউটার সুরক্ষিত থাকবে ।

৭.ফায়ার ওয়াল অন করা এবং ওয়াইফাই এনক্রিপশন চালু রাখা

অনেক রাউটারে আলাদা করে ফায়ারওয়াল  ফিচার থাকে যা বাইরে থেকে বিভিন্ন হেকিং থেকে আপনার রাউটার  কে সুরক্ষা দিতে পারবে । ওয়াইফাই এনক্রিপশন বাইরের কাউকে আপনি ওয়াইফাই দিয়ে কি ডাটা আদান প্রদান করছেন তা জানতে দেয় না । দুটি ফিচার মূলত প্রথম থেকেই একটিভ করা থাকে এগুলো চালু আছে কিনা তা চেক করে নিতে পারেন আপনার রাউটার সেটিংস হতে।কেননা অপশন অফ করা থাকলে সাথে সাথে আপনাকে চালু করে নিতে হবে।

উপরের উল্লেখিত তথ্যগুলো মাধ্যমে আপনার বাসার ওয়াইফাই রাউটার  হ্যাক হওয়ার হাত থেকে রেহাই পেতে পারেন এবং সেই সাথে ওয়াইফাই স্পিড ভালো পেতে পারেন এবং ওয়াইফাই রাউটারব্যবহারের ক্ষেত্রে  আপনি উপকৃত হতে পারেন ।আশা করি উল্লেখিত  পদক্ষেপগুলো মেনে  ব্যবহার করলে আপনার ওয়াইফাই রাউটার সুরক্ষিত থাকবে।

Rate this post