Class 7 - হিন্দুধর্ম শিক্ষা
1 min read

৭ম শ্রেণি হিন্দুধর্ম শিক্ষা: ৮ম অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর (PDF)

৭ম শ্রেণি হিন্দুধর্ম শিক্ষা ৮ম অধ্যায় : ধর্মপালনের মধ্য দিয়ে নৈতিক শিক্ষা অর্জন করা যায়। এ পুস্তকের পঠিত অধ্যায়সমূহ থেকে আমরা জেনেছি, নৈতিকতা গঠনে ধর্ম খুবই সহায়ক। এ ছাড়া ত্যাগ-তিতিক্ষা ও দয়ার মতো নৈতিক গুণের দৃষ্টান্তমূলক ধর্মীয় উপাখ্যানের সঙ্গোও পরিচিত হয়েছি।

এ অধ্যায়ে আমরা উদারতা, পরোপকার, সেবা, সতসাহস ও পরমতসহিষ্ণুতা প্রভৃতি নৈতিক মৃল্যবোধসমূহ এবং এগুলো অর্জনের গুরুত্ব সম্পর্কে অবহিত হব। নৈতিকতার পাশাপাশি মাদকাসক্তির মতো একটি অনৈতিক কাজ এবংতা থেকে বিরত থাকার উপায় সম্পর্কে জেনে এ কাজকে আমরা ঘৃণা করব।

৭ম শ্রেণি হিন্দুধর্ম শিক্ষা ৮ম অধ্যায়

১. শ্বশুর-শাশুড়ি, দেবর-ননদ, ছেলে-মেয়ে নিয়ে পূরবী দত্তের সুখের সংসার। তাঁর স্বামী প্রবাসে চাকরি করেন। তিনি অত্যন্ত ধৈর্য সহকারে সংসারের সকল দায়িত্ব পালন করেন। তিনি পরিবারের বিভিন্ন কাজ যেমন- সন্তানের শিক্ষা, সম্পদ ক্রয়-বিক্রয়, বিবাহ প্রভৃতি ক্ষেত্রে সদস্যদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নেন। এতে পরিবারের সবাই তাকে পছন্দ ও শ্রদ্ধা করে।

ক. ধর্মের কয়টি লক্ষণ রয়েছে ?
খ. ‘ধর্ম হচ্ছে নৈতিক শিক্ষার একটি উপায়’Ñব্যাখ্যা কর।
গ. পূরবী দত্তের চরিত্রে যে নৈতিক গুণটি ফুটে উঠেছেÑতা নৈতিক মূল্যবোধ শিক্ষার আলোকে ব্যাখ্যা কর।
ঘ. পরিবার ও সমাজে শৃঙ্খলা আনয়নে উক্ত গুণটির ভূমিকা মূল্যায়ন কর।

২. রিপন একজন সজ্জন ব্যক্তি। সকল ধর্মের সকল সম্প্রদায়ের মানুষ তার কাছে সমান। তিনি নিজে ধর্মপালন করেন অন্যকেও এ কাজে উৎসাহী করে তোলেন। তিনি মানুষকে পরোপকারী হওয়ার জন্য উপদেশ দেন এবং নিজেও সেটি মেনে চলেন। তিনি মনে করেন ‘পরোপকার চরিত্রকে উন্নত করে। [ পাঠ-১, ২ ও ৩ ]

ক. পরোপকার কী?
খ. সৎসাহস কাকে বলে?
গ. উদ্দীপকে গৌতম পরোপকারী হওয়ার পেছনের কারণ বর্ণনা কর।
ঘ. ‘পরোপকার চরিত্রকে উন্নত করে’- পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

৩. বাসু সাহসী ও পরমতসহিষ্ণু। সে জানে, দুর্বলের পাশে দাঁড়ানো ও অন্যের মতামতের সাথে নিজেকে মিলিয়ে চলা এই দুটি নৈতিক গুণ থাকা প্রয়োজন। নিজ ও জাতির স্বার্থে সৎসাহস যেমন কাজ করতে সাহায্য করে, তেমনি সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে পরমতসহিষ্ণুতা বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখে। [ পাঠ-৪, ৫ ও ৬ ]

ক. মাদকাসক্তি কী?
খ. নৈতিক শিক্ষার কাজ কী?
গ. উদ্দীপকের উল্লিখিত বাসু কেন সৎসাহসকে গুরুত্ব দেয়, তা বর্ণনা কর।
ঘ. উদ্দীপকের সর্বশেষ কথাটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।

৪. সরোজ দেব মাদক সেবনের জন্য অসৎ পথে অর্থ উপার্জন করত। এক সময় সে সমাজ ও পরিবারের সহায়তায় সুস্থ হয়ে ওঠে। এখন সে উপলব্ধি করেছে, মাদকদ্রব্য সেবন একটি মারাত্মক রোগ। মাদকের নেশা পরিবার ও সমাজের জন্য অভিশাপস্বরূপ। [ পাঠ-৭ ও ৮ ]

ক. উদারতা কী?
খ. ধর্মীয় জ্ঞান কখন সার্থক হবে?
গ. সরোজ দেবের উপলব্ধি কতটা বাস্তবসম্মত? পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
ঘ. মাদক সেবনের ফলে সরোজ দেবের কি রোগ সৃষ্টি হতে পারতো তার বর্ণনা দাও।

অতিরিক্ত অনুশীলনীমূলক প্রশ্নের উত্তর

প্রশ্ন ॥ ১ ॥ ‘নৈতিক শিক্ষা ধর্মীয় শুভ চেতনাকে জাগ্রত করে’ – উক্তিটি দৃষ্টান্ত দিয়ে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : নৈতিক শিক্ষা ধর্মীয় শুভ চেতনাকে জাগ্রত করে কথাটি যথার্থ। কারণ নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে মানুষ অনেক গুণাবলি অর্জন করে। যেমন : সৎপথে চলা, সত্য কথা বলা, আত্মসংযমী হওয়া। এর মধ্য দিয়ে প্রকৃতপক্ষে ধর্মীয় চেতনাবোধ জাগ্রত হয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, জীবের দয়া করা এটা যেমন একদিকে নৈতিকতা শিক্ষা দেয় অন্যদিকে ধর্মীয় মনোভাব জাগিয়ে তোলে।

প্রশ্ন ॥ ২ ॥ উদারতার ধারণাটি উদাহরণসহ ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : উদারতা একটি মহৎ গুণ। এটি দ্বারা উদারভাব বোঝায়। উদার শব্দটি মহানুভবতা বা সাধুতাকে বোঝায়। উদারতা আমাদের চরিত্রকে উন্নত করে। মনে শান্তি বয়ে আনে। উদারতার কারণে আমরা সবাইকে আপন ভাবতে শিখি। সবার উপকারের জন্য আত্মনিয়োগে ব্রতী হই। উদাহরণস্বরূপ ঋষি বশিষ্ঠের বিশ্বামিত্রের প্রতি বার বার মহানুভবতা’ যা উদারতারই পরিচয় দেয়।

প্রশ্ন ॥ ৩ ॥ কীভাবে পরোপকার করা যায়? দৃষ্টান্ত সহকারে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : পরোপকার বলতে পরের বা অন্যের উপকার করাকে বোঝায়। আমরা নানাভাবে অন্যের উপকার করতে পারি। যেমন : যে কারো বিপদে সাহায্য করতে পারি। অসহায় দরিদ্রকে টাকা দিতে পারি। আশ্রয়হীনকে আশ্রয় দিতে পারি। যে কেউ অসুস্থ হলে তাকে সেবা করতে পারি। কেউ পথ-ঘাট পার হতে না পারলে তাকে সহায়তা করতে পারি। পরোপকার একটি মহৎ গুণ। আমরা এ গুণটি নিজেদের জীবনে অনুশীলন করব।

প্রশ্ন ॥ ৪ ॥ ন্যায় প্রতিষ্ঠায় সৎসাহসের গুরুত্ব দৃষ্টান্তসহ ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : ন্যায় প্রতিষ্ঠায় সৎসাহসের গুরুত্ব অনেক। যে কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসের সঙ্গে সংগ্রাম করাই সৎসাহসের পরিচায়ক। দেশকে রক্ষার জন্য প্রবীর ও বিদুলা প্রমুখ ব্যক্তিদের সাহসিকতাকে সৎসাহস বলা হয়। এ ধরনের সাহসিকতা সর্বক্ষেত্রে অন্যায় দূর করে ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য বিশেষভাবে প্রয়োজন।

প্রশ্ন ॥ ৫ ॥ মাদক সেবনে দেহের কী ক্ষতি হতে পারে?
উত্তর : মাদক সেবনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় আমাদের দেহ। মাদক সেবনে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস হতে থাকে। কিডনি নষ্ট হতে পারে, হৃৎপিণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এছাড়া খাবারে অরুচি, বদহজম, শ্বাসনালির ক্ষতি, হাঁপানি, ফুসফুসের ক্যান্সার ইত্যাদি অসুখ হতে পারে। এভাবে আমরা মৃত্যুমুখে পতিত হতে পারি।

প্রশ্ন ॥ ৬ ॥ ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষার পারস্পরিক সম্পর্ক উদাহরণসহ ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান। প্রতিটি ধর্মই আমাদের নৈতিক শিক্ষা দেয়। নৈতিক শিক্ষা অর্জন না করতে পারলে ধর্ম পালন যথার্থ হয় না। নৈতিকতা মানুষকে ধর্মপথে পরিচালিত করে। ধার্মিক ব্যক্তিদের জীবনাদর্শ থেকে আমরা প্রমাণ পাই যে, তাদের চরিত্র নৈতিক শিক্ষায় পরিপূর্ণ। নৈতিকতা না থাকলে কেউ সৎ ও ধার্মিক হতে পারে না। উদাহরণস্বরূপ, যে ব্যক্তি অন্যের ক্ষতি করে, পরের মঙ্গল চায় না, সে কখনই ধর্মের স্বাদ পায় না। ঈশ্বর তাকে কৃপা করেন না। তাই আমাদের সবাইকে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতে হলে অবশ্যই নৈতিক শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। এ শিক্ষা নিজের জীবনে কাজে লাগাতে হবে।

প্রশ্ন ॥ ৭ ॥ সমাজ ও ব্যক্তিজীবনে উদারতা অনুশীলনের প্রভাব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর : উদারতা একটি মহৎ গুণ। উদারতা মানুষকে মহৎ হতে শেখায়। এ গুণটির কারণে আমরা ব্যক্তি ও সমাজজীবনে শান্তি ও সমৃদ্ধি লাভ করতে সক্ষম হই। ব্যক্তিজীবনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ পাই। আমাদের সবার জীবনে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। উদারতার অনুশীলনের মাধ্যমে আমরা সমাজ ও ব্যক্তিজীবন সুন্দর করতে পারি। সমাজে একে অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে পারি। সমাজ ও ব্যক্তিজীবন সুন্দর করে গড়তে আমরা উদারতা অনুশীলন করব।

প্রশ্ন ॥ ৮ ॥ সমাজজীবনে পরোপকারের উপায় চিহ্নিত করে প্রয়োগ দেখাও।
উত্তর : সমাজজীবনে পরোপকারের ভূমিকা অনেক। আমরা নিম্নরূপ উপায়ে পরোপকার করে সমাজজীবনকে সুন্দর ও কল্যাণকর করতে পারি
১. সমাজে দরিদ্রদের আর্থিক সহায়তা করা; ২. দুর্বলদের প্রতি সবলদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা; ৩. সকলের সমান অধিকার নিশ্চিত করা; ৪. অন্যের বিপদে সহায়তা করা; ৫. প্রতিবন্ধীদের নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করা।

প্রশ্ন ॥ ৯ ॥ মাদক সেবনের আর্থ-সামাজিক প্রভাব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর : মাদক সেবন জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ। এর ক্ষতিকর দিক আর্থ-সামাজিক প্রভাব রয়েছে। মাদক সেবনের মাধ্যমে লোকেরা তাদের অর্থের অপচয় করে। এছাড়াও মাদক সেবনে বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি হয় যা ব্যক্তিতে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে পারে। সমাজে মাদক সেবনের ক্ষতিকর দিক অনেক। মাদক সেবনের মাধ্যমে সমাজের অন্যরাও এর প্রতি আকৃষ্ট হয়। এটি সমাজের সুুষ্ঠু বিকাশের পক্ষে ব্যাপক ক্ষতিকর। এর কারণে সমাজে অনেক অনৈতিক কর্মকাণ্ড ঘটে। সুতরাং বলা যায়, মাদক সেবনের উল্লেখযোগ্য আর্থসামাজিক প্রভাব রয়েছে। এজন্য মাদক সেবনের বিপক্ষে ব্যক্তি ও সমাজের এগিয়ে আসা দরকার।

অতিরিক্ত জ্ঞানমূলক প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন ॥ ১ ॥ জীবের মধ্যে আত্মারূপে কে অবস্থান করেন?
উত্তর : জীবের মধ্যে আত্মরূপে ঈশ্বর অবস্থান করেন।

প্রশ্ন ॥ ২ ॥ নৈতিক শিক্ষার একটি উপায় কী?
উত্তর : নৈতিক শিক্ষার একটি উপায় হলো ধর্ম।

প্রশ্ন ॥ ৩ ॥ ‘উদার’ শব্দটির অর্থ কী?
উত্তর : ‘উদার’ শব্দটির অর্থ হচ্ছে মহান, সজ্জন বা সাধু।

প্রশ্ন ॥ ৪ ॥ উদারতা কী করে?
উত্তর : উদারতা ব্যক্তির চরিত্রকে উন্নত করে।

প্রশ্ন ॥ ৫ ॥ ‘সাহস’ শব্দটির মানে কী?
উত্তর : ‘সাহস’ শব্দটির মানে হচ্ছে ভয় না পেয়ে কোনো কাজ করতে এগিয়ে যাওয়া।

প্রশ্ন ॥ ৬ ॥ সৎসাহস কী বাড়ায়?
উত্তর : মনোবল বাড়ায়।

অতিরিক্ত অনুধাবনমূলক প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন ॥ ১ ॥ কীভাবে ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন সার্থক হবে?
উত্তর : ধর্ম শিক্ষা দ্বারা লব্ধ জ্ঞান বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করলে ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন সার্থক হবে।
ধর্মশিক্ষার মধ্য দিয়ে আমরা যে জ্ঞান লাভ করি, তখন তাকে জীবনে ও সমাজে প্রয়োগ করতে হয়। জীবের মধ্যে আত্মারূপে ঈশ্বর অবস্থান করেন-এ ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করলাম এবং এর মধ্যেই থেমে থাকলাম, তাতে কোনো লাভ নেই। যদি আমরা জীবের মধ্যে আত্মারূপে ঈশ্বর আছেন জেনেও জীবকে ঈশ্বর জ্ঞানে শ্রদ্ধা করি এবং জীবের সেবা করি, তাহলেই সে জ্ঞান অর্জন সার্থক হবে।

প্রশ্ন ॥ ২ ॥ ‘উদারতা ব্যক্তির চরিত্রকে উন্নত করে’-ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : উদারতা হচ্ছে চরিত্রের মহত্ত্ব বা সাধুতা।
উদার ব্যক্তি কখনো এটা পেলাম না, ওটা পেলাম না বলে হা-হুতাশ করেন না। তিনি কখনো বঞ্চিত বোধ করেন না। পাওয়াতে নয়, দেওয়াতেই তার আনন্দ। এই ব্যক্তির চরিত্রকে উন্নত করে গড়ে তোলে।

প্রশ্ন ॥ ৩ ॥ কীভাবে পরমতসহিষ্ণুতা প্রকাশ পায়? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : অন্যের মতকে শ্রদ্ধা করা ও সহনশীলতা প্রকাশ করার মাধ্যমেই পরমতসহিষ্ণুতা প্রকাশ পায়।
অন্যের মতকে শ্রদ্ধা করা, অন্যের মতের প্রতি সহনশীল হওয়াকেই বলে পরমতসহিষ্ণুতা। পৃথিবীতে অনেক মত, অনেক পথ আছে। ধর্মপালনের ক্ষেত্রেও নানা মত ও পথের সৃষ্টি হয়েছে। ব্যক্তিজীবন, সমাজজীবন ও রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে পরমতসহিষ্ণুতা একটি গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক গুণ। তাই সকল মত ও পথকে, সকল ধর্মকে শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়ে পরমতসহিষ্ণুতা প্রকাশ পায়।

ANSWER SHEET

Rate this post