Class 7 - হিন্দুধর্ম শিক্ষা
1 min read

৭ম শ্রেণি হিন্দুধর্ম শিক্ষা: ১ম অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর (PDF)

৭ম শ্রেণি হিন্দুধর্ম শিক্ষা ১ম অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর : এ বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সকল প্রাণী ও বস্তুর একজন স্রষ্টা রয়েছেন। তাঁকে আমরা সৃষ্টিকর্তা বা ঈশ্বর বলি। তিনি এক ও অদ্বিতীয়। তিনি নিরাকার, তবে তিনি সাকার রূপও ধারণ করতে পারেন। যেমন- অবতার, দেব-দেবী প্রভৃতি তাঁর সাকার রূপ। এ অধ্যায়ে স্রষ্টা এবং ঈশ্বর শব্দের অর্থ, ঈশ্বরের স্বরূপ এবং ঈশ্বরের একত্ব সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

অনুশীলনীর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের উত্তর

প্রশ্ন ॥ ১ ॥ ‘সকল সৃষ্টির মূলে ঈশ্বর’ – কথাটি দৃষ্টান্ত দিয়ে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : সকল সৃষ্টির মূলে রয়েছেন স্রষ্টা বা সৃষ্টিকর্তা, যাঁকে আমরা ঈশ্বর বলি।
স্রষ্টা মানে যিনি সৃষ্টি করেন। যেমন মৃৎশিল্পী মাটি দিয়ে হাঁড়ি-পাতিল, খেলনা, প্রতিমা ইত্যাদি সৃষ্টি করেন। কিন্তু তিনি মাটি সৃষ্টি করতে পারেন না। এমন সব উপাদান যেমন মাটি, জল, চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, নক্ষত্র, জীব ইত্যাদি সৃষ্টি করা কোনো মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। এ সকল সৃষ্টির পিছনে এক অসীম শক্তি বিরাজ করছে। এ অসীম শক্তিধর যিনি তাঁকেই আমরা বলি স্রষ্টা বা ঈশ্বর। এমনকি সৃষ্টির যিনি দেবতা, সেই ব্রহ্মেরও স্রষ্টা ঈশ্বর। তাই বলা যায়, সকল সৃষ্টির মূলে রয়েছেন ঈশ্বর।

প্রশ্ন ॥ ২ ॥ পৃথিবীতে ঈশ্বর কেন অবতাররূপে আবির্ভূত হন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : যখন ধর্মের গ্লানি হয় অর্থাৎ অন্যায় অবিচারে মানবজীবন বিপর্যস্ত হয় এবং অধর্ম বেড়ে যায় তখন ঈশ্বর অবতাররূপ ধারণ করে পৃথিবীতে আবির্ভূত হন। তিনি অবতাররূপে এসে সাধুদের পরিত্রাণ এবং পাপীদের ধ্বংস করে, ধর্মকে রক্ষা করেন। যেমন- তিনি ত্রেতাযুগে রামরূপে অবতীর্ণ হয়ে দুর্বৃত্তদের দমন করে ন্যায় ও সত্যের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

প্রশ্ন ॥ ৩ ॥ ‘ঈশ্বর বহুরূপে আমাদের সম্মুখেই আছেন’ – স্বামী বিবেকানন্দের উক্তিটি দৃষ্টান্ত দিয়ে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন, ‘ঈশ্বর বহুরূপে আমাদের সম্মুখেই আছেন’- এখানে ‘বহুরূপে’ কথাটির মাধ্যমে তিনি ‘জীব’কে নির্দেশ করেছেন। আমরা সবাই জানি, ঈশ্বর নিরাকার। তবে নিরাকার হলেও তিনি সাকাররূপ ধারণ করতে পারেন। তিনি তাঁর সৃষ্টি সকল জীবের মধ্যে আত্মারূপে অবস্থান করেন। এরূপে তাঁর অবস্থানকে বলা হয় জীবাত্মা। যেমন : মানুষ, জীবজন্তু ও গাছপালা। এগুলোর মধ্যে একেকটির আকৃতি একেক রকম। কিন্তু সবার ভেতরই প্রাণ আছে। আর এ প্রাণ মানেই হচ্ছেন ঈশ্বর। এ সত্যটি প্রকাশ করতেই বিবেকানন্দ এ উক্তিটি করেন।

প্রশ্ন ॥ ৪ ॥ ঈশ্বর সাকার রূপ ধারণ করেন কেন?
উত্তর : ঈশ্বর নিরাকার হলেও যেকোনো মুহূর্তে যেকোনো আকার বা রূপ ধারণ করতে পারেন। একেই বলে ঈশ্বরের সাকার রূপ। যখন পৃথিবীতে অন্যায়-অপরাধ বেড়ে যায়, ন্যায় লোপ পায়, তখন অত্যাচার দূর করে সেখানে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করার জন্য ঈশ্বর সাকার রূপ ধারণ করে পৃথিবীতে আবির্ভূত হন। আর এই সাকার রূপই অবতারও দেবদেবী। এছাড়াও বিভিন্ন কর্ম পরিচালনার জন্য ঈশ্বর নিজেকে বা নিজের অংশবিশেষকে সাকার রূপ দেন। এরূপে ঈশ্বরকে আমরা দেব-দেবীও বলে থাকি। ঈশ্বর বিভিন্ন দেবতার রূপে ভিন্ন ভিন্ন কাজ করে থাকেন। যেমন ব্রহ্মারূপে সৃষ্টি, বিষ্ণুরূপে রক্ষা বা পালন, শিবরূপে ধ্বংস ইত্যাদি।

প্রশ্ন ॥ ৫ ॥ ঈশ্বরের স্বরূপ উদাহরণসহ ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : এ বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সকল প্রাণী ও বস্তুর একজন স্রষ্টা রয়েছেন, যাঁকে আমরা সৃষ্টিকর্তা বা ঈশ্বর বলি। তিনি এক ও অদ্বিতীয়। তিনি নিরাকার, তবে তিনি সাকার রূপও ধারণ করতে পারেন। যেমন- অবতার, দেবদেবী প্রভৃতি তাঁর সাকার রূপ। ঈশ্বরের স্বরূপ দু’ধরনের। যথা : ১. সাকার এবং ২. নিরাকার। সাকার রূপ : ঈশ্বরের সাকার রূপ হচ্ছে তাঁর দৃশ্যমান রূপ। যেমন :

১. বিভিন্ন অবতার রূপ : শ্রীরাম, শ্রীকৃষ্ণ ইত্যাদি।
২. বিভিন্ন দেব-দেবী : লক্ষ্মী, দুর্গা, সরস্বতী, গণেশ ইত্যাদি।
৩. তাঁর সৃষ্ট সকল জীব। কারণ তিনি জীবের মধ্যে জীবাত্মারূপে অবস্থান করেন।

নিরাকার রূপ : ঈশ্বরকে আমরা মনে মনে শ্রদ্ধা ও উপাসনা করি। তিনি আমাদের কৃপা করেন। এরূপে তাকে মাত্র অনুভব করা যায়। আর এটিই তাঁর নিরাকার রূপ। যেমন- বায়ু, আলো, শব্দ, গন্ধ ইত্যাদি।

প্রশ্ন ॥ ৬ ॥ ‘সব সাকার রূপ একই ঈশ্বরের বিভিন্ন প্রকাশ’ – উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তর : ঈশ্বরের সাকার রূপ অনেক। এগুলোর কোনোটি অবতার- যেমন : শ্রীরাম, শ্রীকৃষ্ণ, আবার কোনোটি দেব-দেবী যেমন : গণেশ, শিব, দুর্গা, সরস্বতী, লক্ষ্মী ইত্যাদি। এসব রূপ এক ও অদ্বিতীয় ঈশ্বরের সাকার রূপ। আমরা এসব রূপের উপাসনা করে কেবলমাত্র তাঁরই উপাসনা করি। মহান ঈশ্বর এসব রূপেই আমাদের ধরা দেন, কৃপা করেন। এ রূপগুলো মূলত তাঁর শক্তি বা গুণাবলির প্রকাশ ঘটায়। তিনি ব্রহ্মরূপে সৃষ্টি, বিষ্ণুরূপে পালন এবং শিবরূপে ধ্বংস করেন।

৭ম শ্রেণি হিন্দুধর্ম শিক্ষা ১ম অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর

১. অনিতা রানি গৃহে লক্ষ্মীদেবীর বিগ্রহ স্থাপন করে নিয়মিত ভক্তিপূর্ণ মনে আরাধনা করেন। কিন্তু তারই প্রতিবেশী শিলাদেবী গৃহে গৌর-নিতাই-এর বিগ্রহ স্থাপন করে নিয়মিত শ্রদ্ধাভরে পূজা করেন। তাদের ছেলেমেয়েরাও লেখাপড়ার পাশাপাশি তাদের অনুকরণ করে। তাদের সংসারে রয়েছে সদা সুখ ও শান্তি।

ক. ঈশ্বরের পূর্ণ অবতার কে?
খ. ঈশ্বর কীভাবে জীব ও জগতের ওপর প্রভুত্ব করেন? ব্যাখ্যা কর।
গ. অনিতা রানি ও শিলাদেবীর আরাধনায় ঈশ্বরের কোন রূপটি প্রতিফলিত হয়েছে তা তোমার পঠিত বিষয়ের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
ঘ. অনিতা রানি ও শিলাদেবীর আরাধনায় ‘বিগ্রহের ভিন্নতা থাকলেও মূলত ঈশ্বরেরই পূজা করা হয়’-উক্তিটির মর্মার্থ তোমার পঠিত বিষয়বস্তুর আলোকে বিশ্লেষণ কর।

২. সুবীর তার কাজের জন্য পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত ভ্রমণ করেন। এ সময় তিনি স্রষ্টার অনন্ত সুন্দর সৃষ্টি দেখে মুগ্ধ হন। তিনি স্রষ্টা ও সৃষ্টি নিয়ে ভাবনা শুরু করেন। তিনি উপলব্ধি করেন, স্রষ্টার একটি গুণের জন্যই সবকিছু আবর্তিত হচ্ছে। তিনি অনন্ত ও অবিনশ্বর।

ক. ‘স্রষ্টা’ মানে কী?
খ. কীভাবে সবকিছু সৃষ্টি হয়েছে?
গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত সুবীরের ভাষ্যমতে, পৃথিবীর সবকিছু আবর্তিত হওয়ার পেছনে স্রষ্টার কোন গুণটি কাজ করছে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. ‘তিনি অনন্ত ও অবিনশ্বর’-উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ কর।

৩. সপ্তম শ্রেণীর ক্লাসে শিক্ষক বায়ু … নমস্তে শ্লোকটি পড়ে তার অর্থ বুঝাচ্ছিলেন। শিক্ষক বলেন, এ মন্ত্রটি ঈশ্বরের সর্বশক্তিমত্তা এবং সৃষ্টিকর্তা হিসেবে ঈশ্বরের স্বরূপ বোঝায়। এই রূপে আমরা ঈশ্বরের বন্দনা করি।

ক. কারা স্রষ্টাকে ভগবান নামে অভিহিত করেন?
খ. অবতার বলতে কী বোঝ?
গ. শিক্ষক যে শ্লোকটি বলছিলেন, তার সাহায্যে আমরা কীভাবে ঈশ্বরের বন্দনা করব? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপকের ঈশ্বরের স্বরূপ পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

৪. পড়শি সনাতন ধর্মের অনুসারী। সে বিভিন্ন দেব-দেবীর পূজা-অর্চনা করে। কিন্তু তার অন্য বন্ধুরা অন্যভাবে উপাসনা করে। সে এটি সম্পর্কে তার মায়ের কাছে জানতে চাইলে তার মা বলেন, যেকোনো পথে উপাসনা করলে তা এক ঈশ্বরের কাছেই পৌঁছায়। সবশেষে তিনি বলেন, এটি হলো ঈশ্বরের একত্ব।

ক. দেবী দুর্গা ঈশ্বরের কোন রূপ?
খ. ভক্তরা প্রার্থনা বা উপাসনা করেন কেন?
গ. উদ্দীপকে বর্ণিত পড়শির মায়ের প্রথম বক্তব্যটি কী? বুঝিয়ে বল।
ঘ. উদ্দীপকের পড়শির মায়ের সর্বশেষ উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।

ANSWER SHEET

Rate this post