পড়াশোনা
1 min read

গ্লোবাল ভিলেজ বা বিশ্বগ্রাম কি? বিশ্বগ্রাম বা গ্লোবাল ভিলেজের সুবিধা ও অসুবিধা

আজ আমরা যে বিষয়টি নিয়ে জানব তা হলঃ গ্লোবাল ভিলেজ বা বিশ্বগ্রাম কি? বিশ্বগ্রাম বা গ্লোবাল ভিলেজের সুবিধা ও অসুবিধা

ভিলেজ বা গ্রাম হল একটি ছোট গোষ্ঠী বা কতগুলো বাড়ির সমষ্টি। আর গ্লোবাল অর্থ হল বিশ্ব। অর্থাৎ গ্লোবাল ভিলেজ হলো বিশ্বগ্রাম।গ্লোবাল ভিলেজ বা বিশ্বগ্রাম বলতে সাধারণত এমন একটা ধারণাকে বোঝায়, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের লোকজন পরস্পরের সাথে সহজে যাতায়াত, ভ্রমণ, গণমাধ্যম ও ইলেকট্রনিক যোগাযোগের (টেলিভিশন, রেডিও,টেলিফোন ,মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ইত্যাদি) মাধ্যমে যুক্ত থাকে এবং ক্রমেই একটি একক কমিউনিটিতে পরিণত হয়।

www এর মাধ্যমে ওয়েব এর ব্যাপক ব্যবহারও প্রভাবের কারণে বর্তমানে বিশ্বের যে কোন এক দেশের এক প্রান্ত লোকজন ,অন্য প্রান্তের অন্য কোন দেশের লোকের সাথে খুব সহজে যোগাযোগ করতে পারছে।তথ্যের আদান-প্রদান বিশ্বকে এতটাই কাছে নিয়েছে যে এটি একটি গ্রাম বা ভিলেজ হিসেবে পরিণত হয়েছে।

যেমন- বাংলাদেশে অবস্থানকারী কোন ব্যক্তি বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করে কোন ব্যক্তির সাথে তাৎক্ষণিকভাবে অনলাইনে যোগাযোগ করতে পারে। টেলিফোন ,টেলিভিশন ,কম্পিউটার ,ইন্টারনেট ,মেসেঞ্জার , ই-মেইল, সোশ্যাল মিডিয়া ইত্যাদি ছাড়াও আরো অনেক ইলেকট্রনিক মাধ্যম বর্তমানে দূরত্বের ব্যবধানটি অনেক কমিয়ে দিয়েছে।

কানাডিয়ান দার্শনিক ও লেখক হার্বাট মার্শাল ম্যাকলুহান সর্বপ্রথম বিশ্বগ্রাম বা গ্লোবাল ভিলেজ শব্দটি সকলের সামনে তুলে ধরেন।

গ্লোবাল ভিলেজ বা বিশ্বগ্রাম কি? কাকে বলে?

গ্লোবাল ভিলেজ হলো একটি ধারনা, যেখানে মানুষ সহজে যাতায়াত ,গণমাধ্যম, ইলেকট্রনিক কমিউনিকেশন দ্বারা পরস্পর-সংযুক্ত এবং একটি একক কমিউনিটিতে পরিণত হয়।

আবার বলা যায় গ্লোবাল ভিলেজ বা বিশ্বগ্রাম হচ্ছে একটি আধুনিক দুনিয়া যেখানে সব দেশ একটি অপরটির উপর নির্ভরশীল এবং আধুনিক যোগাযোগ এবং যাতায়াত ব্যবস্থার মাধ্যমে খুব কাছাকাছি মনে হয়।

অক্সফর্ড আমেরিকান ডিকশনারি অনুযায়ী গ্লোবাল ভিলেজ হচ্ছে- The world considered a single community linked by telecommunications.

সহজ ভাবে বলতে পারি, গ্লোবাল ভিলেজ হলো তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নির্ভর এমন একটি পরিবেশ ,যেখানে দুরবর্তী স্থানে অবস্থান করেও পৃথিবীর সকল মানুষই একটি একক সমাজে বসবাস করার সুবিধা পায় এবং একে অপরকে সেবা প্রদান করে থাকে অর্থাৎ গ্লোবাল ভিলেজ হচ্ছে এমন একটি ধারণা যেখানে গোটা পৃথিবীকে একটি গ্রাম হিসেবে মনে করা হয়।

বিশ্বগ্রাম বা গ্লোবাল ভিলেজের সুবিধা

বিশ্বগ্রাম বা গ্লোবাল ভিলেজ এর কয়েকটি সুবিধা হল-

  • মুহূর্তের মধ্যে যে কোন দেশের তথ্য জানা যায়।
  • বিভিন্ন দেশ সম্পর্কে জানা যায়।
  • বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানা যায়।
  • মানুষের কাজের দক্ষতা ও স্পিড বৃদ্ধি পাচ্ছে।
  • সহজে বিভিন্ন গবেষণার ফলাফল জানা যাচ্ছে।
  • যেকোনো সময় বিশ্বের যেকোন প্রান্তে ই-মেইলের মাধ্যমে টেক্সট, অডিও ও ভিডিও আদান-প্রদান করা যায়।
  • বিভিন্ন শিক্ষামূলক ওয়েবসাইট থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে জ্ঞান অর্জন করা যায়।
  • অনলাইনের মাধ্যমে যেকোনো লাইব্রেরী থেকে বই পড়া যায়।
  • ঘরে বসেই বিশ্বের নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা যায়।
  • টেলিমেডিসিন পদ্ধতি ব্যবহার করে পৃথিবীর যেকোন প্রান্তে বসে বিশ্বের নামকরা চিকিৎসকদের কাছ থেকে সেবা নেওয়া যায়।
  • ঘরে বসে থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পত্র-পত্রিকা পড়া যায়।
  • ঘরে বসে আউটসোর্সিং করে উপার্জন করা যায় ইত্যাদি।

গ্লোবাল ভিলেজ বা বিশ্বগ্রাম এর অসুবিধা

  • ইন্টারনেট হ্যাকিং করে তথ্য চুরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে।
  • জনগণ কিছু পড়ে তার সত্যতা যাচাই না করেই তা সত্য বলে গ্রহণ করতে পারে।
  • ইন্টারনেটে বেশি সময় দেওয়ার জন্য সত্যি কারের বন্ধুর চেয়ে ভার্চুয়াল বন্ধুর সংখ্যা বাড়তে পারে।
  • বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য চুরি করা।
  • ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি।
  • পর্নোগ্রাফির মাধ্যমে সামাজিক অবক্ষয়ের সৃষ্টি হওয়া।
  • সাইবার আক্রমণ সংঘটিত হওয়া।
  • প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি হওয়া ইত্যাদি।
Rate this post