পড়াশোনা

পরিবার কাকে বলে? পরিবারের প্রকারভেদ ও গুরুত্ব

2 min read

পরিবার একটি মৌলিক সামাজিক প্রতিষ্ঠান। মানুষ হিসেবে সবাই কোন না কোন পরিবারের সদস্য। এর মাধ্যমেই আমরা জন্মগ্রহণ করি, বড় হই, নিজেও পরিবার গঠন করি এবং মৃত্যুবরণ করি। চলুন তাহলে পরিবার সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেই।

পরিবার কাকে বলে?

পরিবার (Family) হলো মানুষের সংঘবদ্ধ জীবন যাপনের এক বিশ্বজনীন (Universal) রূপ। পৃথিবীতে মানুষের সমাজ যতদিনের পরিবারের অস্তিত্বও ঠিক ততদিনের। পরিবারের একক কোনো সংজ্ঞা পাওয়া কঠিন। পরিবারের সংজ্ঞা নিয়ে সমাজবিজ্ঞানীদের মধ্যে মত পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। বিভিন্ন সমাজবিজ্ঞানী বিভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে পরিবারকে সংজ্ঞায়িত করেছেন।

পরিবারের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Family. যা ল্যাটিন শব্দ Familia থেকে এসেছে।

পরিবার একটি প্রাচীনতম সংগঠন। সাধারণত স্বামী-স্ত্রীর যৌন সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে এই সংগঠন গঠন করে এবং সন্তান সন্তনাদি উৎপাদন ও লালন পালনের মাধ্যমে তার অস্থিত্ব ধরে রাখে।

সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার ও পেজের মতে, “সুস্পষ্ট জৈবিক সম্পর্কের দ্বারা সৃষ্ট সুনির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠী হলো পরিবার যা সন্তান সন্ততির জন্মদান এবং লালন-পালনের একটি স্থায়ী প্রতিষ্ঠান।

সমাজবিজ্ঞানী Nimkoff বলেছেন, “Family is a union of husband & wife with or without children.”

কিংসলি ডেভিস বলেছেন, “পরিবার হচ্ছে এমন কতগুলো ব্যক্তির দ্বারা গঠিত গোষ্ঠী, যারা পরস্পর রক্তের সম্পর্কে আবদ্ধ এবং সে সূত্রে তারা একে অন্যের আত্মীয়।”

পরিবারের সাধারণ ধারণা

সাধারণভাবে পরিবার বলতে বোঝায় কতিপয় ব্যক্তির সমষ্টিকে যারা একত্রে বসবাস করে এবং যাদের মধ্যে প্রত্যক্ষ ও আন্তরিক সম্পর্ক বিরাজ করে।

বিবাহ, রক্ত সম্পর্ক ও আত্মীয়তা সূত্রের বন্ধনে আবদ্ধ একটি সামাজিক গোষ্ঠী হলো পরিবার। পরিবার হলো অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ, আন্তরিক ও মুখোমুখি সম্পর্কযুক্ত (Face to face relationship) একটি মৌলিক সামাজিক প্রতিষ্ঠান। যেখানে পরিবারের বাইরের কোনো ব্যক্তিরা স্থান পায়না।

তবে দত্তক গ্রহণের মাধ্যমে পরিবার বহির্ভূত ব্যক্তিকে পরিবারের অন্তর্ভূক্ত করা হয়ে থাকে। তখন সেই ব্যক্তি আর অন্য পরিবারের সদস্য থাকে না, হয়ে যায় নতুন পরিবারের অংশ

পরিবারের সদস্যদের মধ্যে প্রতিনিয়ত পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া (Interaction) চলতে থাকে। প্রত্যেক পরিবারের নিজস্ব আদর্শ, ঐতিহ্য, প্রথা থাকে যা সেই পরিবারের সদস্যরা বজায় রাখে, সযত্নে লালন করে ও সে অনুযায়ী তাদের আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে।

পরিবারের ধারণা বিচার বিশ্লেষণ করে বলা যায়, নারী-পুরুষের বিবাহের মাধ্যমে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের ভিত্তিতে সন্তান প্রজনন ও বংশ রক্ষার আকাঙ্ক্ষা থেকে পরিবার গঠিত হয়; তাই পরিবারকে একটি জৈব একক (Biological Unit) বলেও অভিহিত করা যায়।

পরিবারের সংজ্ঞা (Definition of Family)

পরিবার Family) হলো মানুষের সংঘবদ্ধ জীবন যাপনের এক বিশ্বজনীন (Universal) রূপ। পৃথিবীতে মানুষের সমাজ যতদিনের পরিবারের অস্তিত্বও ঠিক ততদিনের। পরিবারের একক কোনো সংজ্ঞা পাওয়া কঠিন। পরিবারের সংজ্ঞা নিয়ে সমাজবিজ্ঞানীদের মধ্যে মত পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। বিভিন্ন সমাজবিজ্ঞানী বিভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে পরিবারকে সংজ্ঞায়িত করেছেন।

পরিবারের ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘Family’ কথাটি এসেছে রোমান শব্দ ‘Famuleas’ শব্দ থেকে যার অর্থ ‘ভৃত্য বা সেবক’। রোমের আইন ব্যবস্থায় ক্রীতদাস ও উৎপাদক গোষ্ঠী, অন্য ভৃত্যগণ, অভিন্ন বংশ বা বিবাহসূত্রে সম্পর্কিত অন্য সদস্যদের বোঝানোর জন্য ‘Famulus’ শব্দটি ব্যবহৃত হতো।

আবার অনেকে মনে করেন, ‘Family’ ’শব্দটি ল্যাটিন ‘Familia’ শব্দ থেকে এসেছে যার অর্থ ‘সেবক’। শব্দের উৎপত্তি নিয়ে যেমন মতভেদ রয়েছে তেমনি সংজ্ঞা নিয়েও মতভেদ থাকাটাই স্বাভাবিক।

এখানে বিভিন্ন মতের বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা কয়েকজন সমাজবিজ্ঞানীর মতামত তুলে ধরা হলো:

  • সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক ম্যাকাইভার ও পেজ-এর মতে, Family is a group defined by a sex relationship sufficiently precise and enduring to provide for the procreation and upbringing of children (পরিবার হলো এমন একটি গোষ্ঠী যাকে সুস্পষ্ট জৈবিক সম্পর্কের মাধ্যমে অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট করা যায়। এটি সন্তান-সন্ততি জন্মদান ও লালন-পালনের এক স্থায়ী প্রতিষ্ঠান)।
  • পরিবার সম্পর্কে সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক নিমকফ (M. F. Nimcoff) তাঁর রচিত ‘ম্যারিজ অ্যান্ড দ্য ফ্যামিলি (Marriage and the Family) গ্রন্থে বলেন, Family is more or less durable association of husband and wife with or without children or of a man or women alone, with children (পরিবার হলো এমন এক ধরনের স্থায়ী সংঘ, যা স্বামী-স্ত্রী সন্তানসহ কিংবা সন্তান ছাড়া অথবা সন্তান-সন্ততীসহ নারী কিংবা পুরুষের দ্বারা গঠিত)।
  • অ্যান্ডারসন ও পার্কার-এর মতে, Family is a socially recognised unit of people related to each other by kinship, marital and legal ties (পরিবার হচ্ছে এমন একটি সমাজিকভাবে স্বীকৃত একক যেখানে সদস্যরা রক্তের বন্ধন, বৈবাহিক ও আইনানুগ সম্পর্কের মাধ্যমে ভূমিকা পালন করে)।
  • বারজেস এবং লক মনে করেন, Family is a group of persons united by the consisting of a single household: interacting and inter communicating with each other in their respective social roles of husband and wife, mother and father, son and daughter, brother and sister creating a common culture (পরিবার হচ্ছে এমন এক ধরনের গোষ্ঠী যেখানে বিবাহ, রক্তের বন্ধন ও দত্তক প্রথার মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি সংঘবদ্ধ হয় এবং এরা সবাই একসাথে একটি বাড়িতে বসবাস করে। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক ক্রিয়া ও যোগাযোগ বিদ্যমান। তারা অভিন্ন সংস্কৃতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে যথাযথ সামাজিক ভূমিকা পালন করে থাকে। তারা স্বামী ও স্ত্রী, মাতা-পিতা, ছেলে-মেয়ে এবং ভাই-বোন হিসেবে পরস্পর মিলেমিশে অন্তরঙ্গ সম্পর্কে আবদ্ধ থাকে)।

পরিবারের মার্কসীয় ধারণা

পরিবার সম্পর্কে মার্কসীয় একটি ধারণা প্রচলিত আছে। কার্ল মার্কসের (Karl Marx) ঘনিষ্ঠ সহচর এঙ্গেলস (F. Engels) পরিবার সম্পর্কে তার দুটি রচনা: ‘The origin of family’ এবং ‘Private property and the state’ এ বিস্তারিত ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করেছেন। মার্কসীয় ধারণা মতে, আদিম সমাজ ব্যবস্থায় শিকার ও খাদ্য সংগ্রহ যুগে পরিবার ব্যবস্থা ছিল মাতৃতান্ত্রিক।

ইতিহাসে মানব সভ্যতার ক্রমবিবর্তনের ফলে সমাজে কৃষির আবির্ভাব ঘটে ও কৃষি যুগের সূত্রপাত হয়। কৃষি কাজের বিকাশ ও বিস্তারের ফলে উদ্বৃত্ত সম্পদের সৃষ্টি হয়। এ উদ্বৃত্ত সম্পদের মালিকানা ক্রমান্বয়ে চলে আসে পুরুষের হাতে। ফলে পিতৃতান্ত্রিক পরিবার ব্যবস্থার সূচনা হয়। এভাবেই পিতৃতান্ত্রিক পরিবারের মাধ্যমে পুরুষ শাসিত সমাজের উদ্ভব হয়।

পরিবারের প্রকারভেদ

পরিবার প্রধানত ৬ প্রকার।এগুলো হলো –

  1. স্বামী-স্ত্রীর সংখ্যার ভিত্তিতে পরিবার
  2. কর্তৃত্বের ভিত্তিতে পরিবার
  3. আকারের ভিত্তিতে পরিবার
  4. বংশ মর্যাদা ও সম্পত্তির উত্তরাধিকারের ভিত্তিতে পরিবার
  5. বিবাহোত্তর স্বামী-স্ত্রীর বসবাসের ভিত্তিতে পরিবার
  6. পাত্র-পাত্রী নির্বাচনের ভিত্তিতে পরিবার

স্বামী-স্ত্রীর সংখ্যার ভিত্তিতে পরিবার

স্বামী-স্ত্রীর সংখ্যার ভিত্তিতে পরিবার ৩ ধরণের। যথাঃ-

  1. একপত্নী পরিবার
  2. বহুপত্নী পরিবার
  3. বহুপতি পরিবার

একপত্নী পরিবারঃ একজন পুরুষ যদি একজন স্ত্রী গ্রহণ করে পরিবার গঠন করে, তবে তাকে একপত্নী পরিবার বলে।

বহুপত্নী পরিবারঃ যখন একজন পুরুষ একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করে পরিবার গঠন করে, তখন তাকে বহুপত্নী পরিবার বলে।

বহুপতি পরিবারঃ একজন স্ত্রী যখন একের অধিক স্বামী গ্রহণ করে পরিবার গঠন করে, তখন তাকে বহুপতি পরিবার বলে।

কর্তৃত্বের ভিত্তিতে পরিবার

কর্তৃত্বের ভিত্তিতে পরিবার ২ প্রকার।

  1. পিতৃতান্ত্রিক বা পিতৃপ্রধান পরিবার
  2. মাতৃতান্ত্রিক বা মাতৃপ্রধান পরিবার

পিতৃতান্ত্রিক বা পিতৃপ্রধান পরিবারঃ যে পরিবারের কর্তৃত্ব পিতা,স্বামী বা অন্য কোন পুরুষের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়, তাকে পিতৃতান্ত্রিক বা পিতৃপ্রধান পরিবার বলে।

মাতৃতান্ত্রিক বা মাতৃপ্রধান পরিবারঃ যে পরিবারের কর্তৃত্ব মাতা, স্ত্রী বা অন্য কোন নারী সদস্য দ্বারা পরিচালিত হয়, তাকে মাতৃতান্ত্রিক বা মাতৃপ্রধান পরিবার বলে।

আকারের ভিত্তিতে পরিবার

আকারের ভিত্তিতে পরিবার ৪ ধরণের। এগুলো হলো –

  1. একক বা অনু পরিবার
  2. যৌথ পরিবার
  3. বর্ধিত পরিবার

একক বা অনু পরিবারঃ স্বামী, স্ত্রী ও তাদের অবিবাহিত সন্তান নিয়ে যে পরিবার গড়ে উঠে তাকে একক বা অনু পরিবার বলে।

যৌথ পরিবারঃ এ ধরণের পরিবারে স্বামী-স্ত্রী, সন্তান-সন্ততি,মাতা-পিতা, ভাই-বোন, দাদা-দাদি, ভাইয়ের সন্তান- সন্ততি এমনকি স্ত্রীর ভাই-বোন, পিতা – মাতা সহ একত্রে বসবাস করে।

বর্ধিত পরিবারঃ যে পরিবারের ৩ পুরুষ তথা বাবা, মা, দাদা-দাদি, চাচা-চাচী, সন্তান -সন্ততি সবাই মিলে বসবাস করে, তাকে বর্ধিত পরিবার বলে। এক কথায় তিন পুরুষের পরিবারকে বর্ধিত পরিবার বলে।

বংশ মর্যাদা ও সম্পত্তির উত্তরাধিকারের ভিত্তিতে পরিবার

বংশ মর্যাদা ও সম্পত্তির উত্তরাধিকারের ভিত্তিতে পরিবার ২ প্রকার। যথাঃ

  1. পিতৃসূত্রীয় পরিবার
  2. মাতৃসূত্রীয় পরিবার

পিতৃসূত্রীয় পরিবারঃ যে পরিবারে পিতার মাধ্যমে সন্তানের পরিচয় নির্ধারিত হয় এবং সন্তান পিতার বংশ পরিচয়ে বড় হয়, তাকে পিতৃসূত্রীয় পরিবার বলে।

মাতৃসূত্রীয় পরিবারঃ যে পরিবারে মাতার মাধ্যমে সন্তানের পরিচয় নির্ধারিত হয় এবং সন্তান মাতার বংশ পরিচয়ে বড় হয়, তাকে মাতৃসূত্রীয় পরিবার বলে।

বিবাহোত্তর স্বামী-স্ত্রীর বসবাসের ভিত্তিতে পরিবার

বিবাহোত্তর স্বামী-স্ত্রীর বসবাসের ভিত্তিতে পরিবার ৩ প্রকার। যথাঃ

  1. পিতৃবাস পরিবার
  2. মাতৃবাস পরিবার
  3. নয়াবাস পরিবার

পিতৃবাস পরিবারঃ বিবাহের পর নতুন দম্পতি স্বামীর পিতৃগৃহে বসবাসের মাধ্যমে যে পরিবার গঠন করে তাকে পিতৃবাস পরিবার বলে।

মাতৃবাস পরিবারঃ বিবাহের পর নতুন দম্পতি স্ত্রীর মাতৃগৃহে বসবাসের মাধ্যমে যে পরিবার গঠন করে তাকে মাতৃবাস পরিবার বলে।

নয়াবাস পরিবারঃ বিবাহের পর নতুন দম্পতি স্বামী-স্ত্রীর কার পিতৃ বা মাতৃ গৃহে বাস না করে, আলাদা বসবাস করে পরিবার গঠন করে, তাকে নয়াবাস পরিবার বলে।

পাত্র-পাত্রী নির্বাচনের ভিত্তিতে পরিবার

পাত্র-পাত্রী নির্বাচনের ভিত্তিতে পরিবার ২ প্রকার। যথাঃ

  1. অন্তর্গোত্র পরিবার
  2. বহির্গোত্র পরিবার

অন্তর্গোত্র পরিবারঃ অন্তর্গোত্র পরিবারের ক্ষেত্রে কোন ব্যক্তিকে অবশ্যই আপন জাতিবর্ণের মধ্যে পাত্র-পাত্রী খুঁজতে হয়। এটি আবার ২ প্রকার। যথাঃ

  • অনুলোম বিবাহ ভিত্তিক পরিবার
  • প্রতিলোম বিবাহ ভিত্তিক পরিবার

বহির্গোত্র পরিবারঃ বহির্গোত্র পরিবারের ক্ষেত্রে কোন ব্যক্তিকে অবশ্যই আপন জাতিবর্ণের বাইরে পাত্র-পাত্রী খুঁজতে হয়।

পরিবারের কার্যাবলি

প্রতিটি পরিবারেরই কিছু সাধারণ একই ধরনের কার্যাবলি থাকে যা সর্বজনীন ও বিশ্বজনীন। অর্থাৎ পরিবারের কিছু অপরিহার্য কার্যাবলি রয়েছে যার মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের মৌলিক চাহিদা পূরণ হয়। তাই পরিবারে এসব কার্যাবলি অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে এবং একটি পরিবারকে ঘিরেই এসব কাজ আবর্তিত হয় বা পরিবার এসব কাজ সম্পাদন করে। যেমন:

  1. জৈবিক কাজ (Biological Function)
  2. মনস্তাত্বিক কাজ (Psychological Function)
  3. অর্থনৈতিক কাজ (Economic Function)
  4. শিক্ষামূলক কাজ (Educational Function)
  5. রক্ষণাবেক্ষণ কাজ (Maintenance Function)
  6. বিনোদনমূলক কাজ (Recreational Function)
  7. ধর্মীয় কাজ (Religious Function)
  8. সামাজিক নিয়ন্ত্রণমূলক কাজ (Function of Social Control)
  9. সাংস্কৃতিক কাজ (Cultural Function)
  10. নিরাপত্তামূলক কাজ (ঝবপঁৎরঃরপধষ Function)
  11. রাজনৈতিক কাজ (Political Function)
  12. সামাজিকীকরণের কাজ (Function of Socialization)
  13. সামাজিক মর্যাদা বিষয়ক কাজ (Function Social Status)

পরিবারের গুরুত্ব

পরিবার হলো একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং সমাজ কাঠামোর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মৌল অঙ্গ সংগঠন। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, পরিবার হচ্ছে মানব সমাজের সবচেয়ে প্রাচীন, আদি, মৌলিক ও ক্ষুদ্রতম প্রতিষ্ঠান। তাই পরিবারকে সমাজের মুখ্য বা প্রাথমিক গোষ্ঠী হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। পরিবার হলো সমাজের কেন্দ্রবিন্দু।

মানব সমাজের উষালগ্ন থেকেই পরিবারের অস্তিত্ব দৃশ্যমান হয়েছে। পরিবারবিহীন সমাজের চিত্র কল্পনা করা যায় না। আদি থেকে বর্তমান পর্যন্ত সব সমাজেই পরিবার দৃষ্ট হয়েছে। হয়তো এর বিবর্তন ঘটেছে, রূপ বদলেছে কিন্তু সমাজে পরিবারের স্থায়ী আসন কখনো বিলুপ্ত হয়নি; পরিবারের প্রয়োজনীয়তা ফুরায়নি। এর অন্যতম কারণ হলো মানুষ সামাজিক জীব। সমাজবদ্ধ হয়ে বসবাস করা মানুষের বৈশিষ্ট্য। মানুষ একাকী থাকতে পারে না। স্বভাবতই মানুষ সঙ্গপ্রিয়। একে অন্যের পারস্পরিক সহযোগিতায় একত্রে মিলেমিশে বাস করতে চায় যা মানুষের সহজাত বৈশিষ্ট। এই সহজাত প্রবৃত্তিই মানুষকে পরিবার গঠনে ধাবিত করেছে। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত একজন মানুষ পরিবারের আবহেই অবস্থান করে।

পরিবারের মধ্যেই একজন মানুষ জন্মগ্রহণ করে, লালিত-পালিত হয়, বেড়ে ওঠে, শিক্ষাপ্রাপ্ত হয়, কর্ম করে এবং এক সময় পরিবারের মধ্যেই সে মুত্যুবরণ করে। এমন কি মৃত্যুর পর তার শেষ কৃত্যের অনুষ্ঠান পর্যন্ত পরিবারের মধ্যেই সম্পন্ন হয়। তাই বলা যায়, পরিবার একটি স্থায়ী ও সর্বজনীন (Universal) সামাজিক প্রতিষ্ঠান।

 

পরিবারের সংজ্ঞা দাও।
ভূমিকাঃ সমাজের মৌলিক ও ক্ষুদ্রতম মৌলিক প্রতিষ্ঠান হলাে পরিবার ও বিবাহ। পরিবার ও বিবাহ সমাজকাঠামাের মৌল অঙ্গসংগঠন। এই পরিবার মানব সৃষ্টির উষালগ্ন থেকেই সমাজে বিদ্যমান। পরিবারের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য বিবাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পরিবার ও বিবাহের সাথে মানুষের নিবিড় সম্পর্ক ও যােগাযােগ রয়েছে। পরিবারের সাথেই মানুষের আন্তরিক এবং অনেকটা অকৃত্রিম সামাজিক মিথস্ক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়।
পরিবারের সংজ্ঞাঃ সাধারণভাবে আমরা পরিবার বলতে বুঝি, বিবাহ-বন্ধনের মাধ্যমে একজন পুরুষ ও একজন স্ত্রীলােক এবং তাদের অবিবাহিত সন্তানদের নিয়ে বাস করা একটি সংগঠনকে। মূলত স্বামী-স্ত্রীর বন্ধন দ্বারাই পরিবারের সৃষ্টি।
প্রামাণ্য সংজ্ঞাঃ বিভিন্ন সমাজবিজ্ঞানী পরিবারকে বিভিন্ন ভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। নিম্নে তা তুলে ধরা হলােঃ
সমাজবিজ্ঞানী নিমকফ ‘Marriage and the Family’ নামক গ্রন্থে বলেন, পরিবার হচ্ছে মােটামুটিভাবে স্থায়ী এমন একটি সংঘ যেখানে সন্তানাদিসহ বা সন্তানবিহীনভাবে স্বামী-স্ত্রী একত্রে বসবাস করে।
সমাজবিজ্ঞানী স্পেনসার পরিবারের সংজ্ঞায় বলেন, ‘The family is a social group, which usually consist of members who are related either through blood ties or marriage.
সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার বলেন, “যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে সন্তান উৎপাদন ও প্রতিপালনের জন্য অতি সংক্ষিপ্ত অথচ স্থায়ী প্রতিষ্ঠান-ই হচ্ছে পরিবার।”
আগবার্নের মতে, “সন্তান-সন্তুতিসহ বা সন্তানবিহীন দম্পতি দ্বারা সৃষ্ট সংঘকে পরিবার বলে।”
সামাজিক নৃ-বিজ্ঞানী ম্যালিনস্কি তার ‘Kinship in Encyclopadia Britannica (London 1926)’ গ্রন্থে বলেন, “পরিবার হচ্ছে এমন একটি চুক্তি যার মূল লক্ষ্য হলাে সন্তান উৎপাদন ও সন্তান লালন-পালন।”
আমাদের কথাঃ উপরের সংজ্ঞাগুলাে এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আমরা বলতে পারি, পরিবার বলতে বুঝায় এমন একটি ক্ষুদ্র সামাজিক সংগঠন যেখানে বৈবাহিক এবং রক্তসম্পর্ক সূত্রে স্বামী-স্ত্রী তাদের অবিবাহিত সন্তানসহ এবং কোনাে কোনাে ক্ষেত্রে সন্তানাদির সন্তানসহ বসবাস করে।
পরিশেষঃ সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে বলা যায় যে, পরিবার ও বিবাহের মধ্যে তেমন কোনাে পার্থক্য নেই। বিবাহ ও পরিবার একটি অপরটির পরিপূরক। তাই বলা যায়, বিবাহ ও পরিবার দু’টি পরস্পর সম্পর্কযুক্ত প্রত্যয়। কেননা পরিবার মূলত বিবাহের মাধ্যমেই গড়ে ওঠে। বিবাহ না হলে পরিবারের প্রশ্নই আসে না। উন্নত বিশ্বে অবশ্য বিবাহকে এখন আর তেমন গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে না।
শেষ কথা:
আশা করি আপনাদের এই আর্টিকেলটি পছন্দ হয়েছে। আমি সর্বদা চেষ্টা করি যেন আপনারা সঠিক তথ্যটি খুজে পান। যদি আপনাদের এই “পরিবার কাকে বলে? পরিবারের প্রকারভেদ ও গুরুত্ব” আর্টিকেলটি পছন্দ হয়ে থাকলে, অবশ্যই ৫ স্টার রেটিং দিবেন।
5/5 - (43 votes)
Mithu Khan

I am a blogger and educator with a passion for sharing knowledge and insights with others. I am currently studying for my honors degree in mathematics at Govt. Edward College, Pabna.