পড়াশোনা
1 min read

তন্তু কি? তন্তু কত প্রকার ও কি কি? (Fiber in Bangla)

Updated On :

তন্তু কি? (What is Fiber in Bengali/Bangla?)
ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আঁশ দিয়ে তন্তু তৈরি হয়। তাই তন্তু বলতে আঁশ জাতীয় পদার্থকেই বুঝায়। কিন্তু বস্ত্র শিল্পে তন্তু বলতে বুনন ও বয়নের কাজে ব্যবহৃত আঁশসমূহকেই বুঝায়। তন্তু দিয়ে সূতা ও কাপড় ছাড়াও কার্পেট, তড়িৎ নিরোধক ইত্যাদি বিভিন্ন রকম পদার্থ তৈরি করা হয়। তন্তু দু’ধরনের। সূতি কাপড় তৈরির জন্য ব্যবহৃত তুলা, পাট, লিনেন, পশম, উল, সিল্ক, অ্যাসবেস্টস ইত্যাদি যেগুলো প্রকৃতিতে পাওয়া যায়, তাদেরকে প্রাকৃতিক তন্তু বলে। অন্যদিকে পলিস্টার রেয়ন, ডেক্রন, নাইলন ইত্যাদি যেগুলো বিভিন্ন পদার্থের রাসায়নিক বিক্রিয়া দ্বারা কৃত্রিম উপায়ে তৈরি করা হয়, তারা হলো কৃত্রিম তন্তু।

তন্তুর বৈশিষ্ট্য (Characteristics of Fiber)
তন্তুর বৈশিষ্ট্যকে দুই ভাগে উল্লেখ করা যায়। যথা :
১. ভৌত বৈশিষ্ট্য এবং
২. রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য।

নিম্নে বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হলো :

১. ভৌত বৈশিষ্ট্য :

  • প্রাকৃতিক তন্তু সাদা থেকে কালচে হয়। অন্যদিকে কৃত্রিম তন্তু সাদা বর্ণের।
  • এগুলো নরম।
  • এগুলো স্থিতিস্থাপক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন।
  • এগুলো আলোর প্রতিফলন ঘটায়।

২. রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য :

  • পানিগ্রাহী তন্তু সহজে আদ্রতা শোষণ করে।
  • এগুলো বিদ্যুৎ অপরিবাহী।
  • এগুলো তাপে নরম হয় এবং গলে যায়।
  • এসিড মাধ্যমে প্রাকৃতিক তন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
  • ক্ষার মাধ্যমে প্রোটিনধর্মী তন্তু ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

তন্তুর প্রকারভেদ (Types of Fiber)
উৎস অনুসারে তন্তুকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

১। প্রাকৃতিক তন্তু এবং
২। কৃত্রিম তন্তু।

১। প্রাকৃতিক তন্তু
প্রকৃতি থেকে পাওয়া তন্তুকে প্রাকৃতিক তন্তু বলে। প্রাকৃতিক তন্তু তিন প্রকার। যথা :

১. উদ্ভিজ তন্তু
২. প্রাণিজ তন্তু এবং
৩. খনিজ তন্তু।
তুলা বা কটন, পাট, লিনেন, উল, সিল্ক ও অ্যাসবেস্টস প্রাকৃতিক তন্তু। প্রাকৃতিক তন্তু থেকেই বিশ্বের প্রয়োজনীয় বস্ত্রাদির অর্ধেকের বেশি চাহিদা মেটানো হয়।

প্রাকৃতিক তন্তুর মধ্যে কার্পাস তুলা, পাট ইত্যাদি পাওয়া যায় উদ্ভিদ থেকে। রেশম, পশম এ তন্তু পাওয়া যায় প্রাণী থেকে। আবার প্রকৃতিতে ধাতব তন্তুও পাওয়া যায়। এগুলো খনিতে পাওয়া যায়, এজন্য এগুলোকে খনিজ তন্তু বলে।

২. কৃত্রিম তন্তু
বিভিন্ন পদার্থ বা রাসায়নিক দ্রব্যাদির সংমিশ্রণে গবেষণাগারে উৎপাদিত তন্তু কৃত্রিম তন্তু। কৃত্রিম তন্তুর বেশিরভাগই হলো প্লাস্টিক শ্রেণির। পলিস্টার, রেয়ন, নাইলন ইত্যাদি কৃত্রিম তন্তু। কৃত্রিম তন্তুকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়—

i. সেলুলোজিক তন্তু এবং
ii. অসেলুলোজিক বা নন-সেলুলোজিক তন্তু।

সেলুলোজ প্রক্রিয়াজাত করে সেলুলোজিক তন্তু তৈরি করা হয়। সেলুলোজ হচ্ছে সুক্ষ্ম আঁশযুক্ত পদার্থ যা উদ্ভিদ বা প্রাণীর বিভিন্ন অঙ্গ কোষ গঠিত। রেয়ন, এসিটেট রেয়ন, ভিসকাস রেয়ন, কিউপ্রাতঅ্যামোনিয়াম রেয়ন ইত্যাদি সেলুলোজিক তন্তু। সেলুলোজ ছাড়া অন্যান্য পদার্থের (কার্বন, অক্সিজেন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন ইত্যাদি) মধ্যে রাসায়নিক ক্রিয়া দ্বারা তৈরি তন্তু নন-সেলুলোজিক তন্তু। নাইলন, পলিএস্টার, এক্সাইলিক, এরামিড, স্পানডেস্ক, পলিপ্রপাইলিন ইত্যাদি নন সেলুলোজিক তন্তু।

কৃত্রিম ও প্রাকৃতিক তন্তুর মধ্যে পার্থক্য কি?
কৃত্রিম ও প্রাকৃতিক তন্তুর মধ্যে পার্থক্য নিম্নে দেওয়া হল:

কৃত্রিম তন্তু

  • কৃত্রিম তন্তু পরীক্ষাগারে নিয়ন্ত্রিত উপায়ে জৈব ও অজৈব যৌগের সমন্বয়ে তৈরি করা হয়।
  • সকল কৃত্রিম তন্তু হতে সুতা তৈরির প্রক্রিয়া প্রায় একই রকম।
  • কৃত্রিম তন্তু তৈরির জন্য রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি অপরিহার্য।
  • উদাহরণ : রেয়ন, নাইলন, পলিয়েস্টার, ডেক্রন ইত্যাদি।

প্রাকৃতিক তন্তু

  • প্রাকৃতিক তন্তু উদ্ভিদ, প্রাণী ও খনিজ উৎস থেকে পাওয়া যায়।
  • প্রাকৃতিক তন্তু হতে ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে সুতা তৈরি করা হয়।
  • উৎস হতে তন্তু সংগ্রহের সময় রাসায়নিক বিক্রিয়া না ঘটালেও চলে।
  • উদাহরণ : তুলা, পাট, রেশম, পশম, অ্যাসবেস্টস ইত্যাদি।

 

শেষ কথা:
আশা করি আপনাদের এই আর্টিকেলটি পছন্দ হয়েছে। আমি সর্বদা চেষ্টা করি যেন আপনারা সঠিক তথ্যটি খুজে পান। যদি আপনাদের এই “তন্তু কি? তন্তু কত প্রকার ও কি কি?” আর্টিকেলটি পছন্দ হয়ে থাকলে, অবশ্যই ৫ স্টার রেটিং দিবেন।

5/5 - (43 votes)