সান্দ্রতা কাকে বলে? (What is called Viscosity in Bengali/Bangla?)

সান্দ্রতা প্রবাহীর একটি বিশেষ ধর্ম। তরল ও বায়বীয় উভয় প্রকার প্রবাহীরই একটি সাধারণ ধর্ম। সান্দ্রতা কোন প্রবাহীর প্রবাহকালে এর বিভিন্ন স্তরের মধ্যে আপেক্ষিক বেগ বিদ্যমান থাকে। এ অবস্থায় পরস্পর সংলগ্ন দুটি স্তরের মধ্যবর্তী স্থানে গতির বিপরীতে ক্রিয়াশীল বাধা বলই সান্দ্রবল এবং প্রবাহীর এ ধর্ম সান্দ্রতা নামে পরিচিত।

প্রবাহীর যে ধর্মের জন্য এর অন্তঃস্থ বিভিন্ন স্তরের আপেক্ষিক গতিতে বাধার সৃষ্টি হয় তাকে ঐ প্রবাহীর সান্দ্রতা বলে।

বিভিন্ন প্রবাহীর সান্দ্রতা ভিন্ন ভিন্ন। পানি, তেল, মধু ইত্যাদি কোন তরলেরই সান্দ্রতা এক নয়। এদের মধ্যে মধুর সান্দ্রতা সবচেয়ে বেশি এবং পানির সান্দ্রতা সবচেয়ে কম। কোন প্রবাহীর সান্দ্রতা তার ঘনত্বের উপর নির্ভরশীল।

উদাহারণস্বরূপ প্রবাহমান নদী বিবেচনা করা যাক। নদীর স্রোত কম হলে অর্থাৎ প্রবাহ শান্ত হলে দেখা যায়, নদীর তীরে লোক গোসল করে কাপড় কাঁচে এবং এখানে পানিতে প্রবাহ নেই বললেই চলে। কিন্তু যত নদীর মাঝখানে যাওয়া যায় ততই স্রোত তথা প্রবাহের বেগ বাড়তে থাকে। সুতরাং নদীর পানির বিভিন্ন স্তরের মধ্যে অপেক্ষিক বেগ বিদ্যমান থাকে। এ অবস্থায় বেশী বেগের পানি স্তরকে কম বেগের পানি স্তর তার বেগের বিপরীতে বাধা দেয় এবং বেগ রোধ করার প্রায়াস পায়। এ ধর্মই সান্দ্ৰতা।

প্রবাহীর বিভিন্ন স্তরের মধ্যে আপেক্ষিক বেগের জন্য সৃষ্ট ঘর্ষণই হল ঐ প্রবাহীর সান্দ্রতা। সান্দ্রতা প্রবাহীর তলের ক্ষেত্রফল, প্রবাহীর স্তরের আপেক্ষিক বেগ এবং স্থির তল হতে এর দূরত্বের উপর নির্ভর করে।

সান্দ্রতা গুণাঙ্ক কাকে বলে? (What is called Coefficient of Viscosity in Bengali/Bangla?)

নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় প্রবাহীর দুটি পাশাপাশি স্তরের মধ্যে একক বেগ অবক্রম বজায় রাখতে প্রবাহী স্তরের প্রতি একক ক্ষেত্রফলে যে স্পর্শকীয় বলের প্রয়োজন হয়, তাকে উক্ত তাপমাত্রায় প্রবাহীর সান্দ্রতা গুণাঙ্ক বা সান্দ্রতা সহগ বলে। একে দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x