কোষপ্রাচীর (Cell wall)
  • গঠন : উদ্ভিদকোষে অবস্থিত জড় পদার্থ (সেলুলোজ, হেমিসেলুলোজ, পেকটিন পেকটিন প্রভৃতি) দিয়ে গঠিত পুরু প্রাচীর বিশেষ। এটি মধ্যল্যামেলা, প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি প্রাচীর নিয়ে গঠিত।
  • কাজ : কোষের আকৃতি প্রদান এবং কোষের সজীব অংশকে রক্ষা করা এর প্রধান কাজ। অনেক সময় এটি কোষের বর্জ্য পদার্থ জমা রাখে।

কোষঝিল্লি (Cell membrane)

  • গঠন : সজীব, বৈষম্যভেদ্য এবং প্রোটিন ও লিপিড দিয়ে গঠিত ঝিল্লি।
  • কাজ : কোষের প্রোটোপ্লাজমকে রক্ষা করা, কোষের আকৃতি প্রদান করা এবং অন্তঃকোষীয় ব্যাপন ও অভিস্রবণে সহায়তা করা এর প্রধান কাজ। কোষ অঙ্গাণু সৃষ্টিতে এর বিশেষ ভূমিকা আছে।
নিউক্লিয়াস (Nucleus)
  • গঠন : প্রোটোপ্লাজমের সবচেয়ে ঘন, গোলাকার ঝিল্লিবেষ্টিত অংশ। এটি নিউক্লিয়ার ঝিল্লি, নিউক্লিওপ্লাজম, নিউক্লিওলাস এবং ক্রোমাটিন নিয়ে গঠিত। প্রোটিন ও নিউক্লিক এসিড এর প্রধান উপাদান।
  • কাজ : কোষের বিপাক নিয়ন্ত্রণ, কোষ বিভাজন, এবং বংশগতি বৈশিষ্ট্যাবলির বংশ পরম্পরায় বহন করা এর প্রধান কাজ।
সাইটোপ্লাজম (Cytoplasm)
  • গঠন : নিউক্লিয়াস ছাড়া সব ধরনের কোষ-অঙ্গাণু ও নির্জীব বস্তুসহ প্রোটোপ্লাজমের অর্ধতরল জেলির মতো সজীব অংশ। এটি এক্টোপ্লাজম ও এন্ডোপ্লাজমে বিভেদিত।
  • কাজ : কোষের অঙ্গাণু এবং নির্জীব বস্তুকে ধারণ করে এবং কোষের বিভিন্ন বিপাক ক্রিয়ায় প্রধান স্থানরূপে ব্যবহৃত হয়।
মাইটোকন্ড্রিয়া (Mitochondria)
  • গঠন : দ্বিস্তরী ঝিল্লিবেষ্টিত ক্ষুদ্র গোলাকার, ডিম্বাকার বা সূত্রকার অঙ্গাণু। এর অন্তঃপর্দার ভাঁজগুলিকে ক্রিস্টি বলে। এর অন্তঃপ্রকোষ্ঠে ধাত্র থাকে। ক্রিস্টির গায়ে বৃন্তযুক্ত ATP-synthases থাকে।
  • কাজ : শ্বসনে সহায়তা করা এর প্রধান কাজ। এটি কোষের শক্তির উৎসরূপে কাজ করে।
প্লাস্টিড (Plastid)

  • গঠন : উদ্ভিদকোষে অবস্থিত প্লাস্টিড দুটি ঝিল্লিবেষ্টিত নানান আকৃতির অঙ্গাণু। এটি প্রধানত তিন প্রকারের, যেমন- ক্লোরোপ্লাস্ট, ক্রোমোপ্লাস্ট এবং লিউকোপ্লাস্ট। ক্লোরোপ্লাস্ট স্ট্রোমা ও গ্রানা নিয়ে গঠিত।
  • কাজ : প্লাস্টিড উদ্ভিদের বর্ণ সৃষ্টিতে, খাদ্য সংশ্লেষে এবং খাদ্য সঞ্চয়ে সহায়তা করে।
গলজি বস্তু (Golgi body)
  • গঠন : একক ঝিল্লিবেষ্টিত চ্যাপ্টা থলির মতো অঙ্গাণু। এটি সিস্টারিন, ভেসিকল ভ্যাকুওল নিয়ে গঠিত।
  • কাজ : বিভিন্ন বস্তুর ক্ষরণে সহায়তা করে এবং সংশ্লেষিত প্রোটিন ও এনজাইমের সঞ্চয় ভান্ডাররূপে কাজ করে।
সেন্ট্রিওল (Centriole)
  • গঠন : দুটি পিপের মতো ফাঁপা, দু-মুখ খোলা অঙ্গাণু বিশেষ, যার প্রাচীরটি ত্রয়ী অণুনালিকা নিয়ে গঠিত। এটি প্রাণিকোষের অঙ্গাণু।
  • কাজ : কোষ বিভাজনের সময় স্পিন্ডলতন্তু গঠন এবং ফ্ল্যাজেলা বা সিলিয়া সৃষ্টি করা এর প্রধান কাজ।
লাইসোজোম (Lysosome)
  • গঠন : একক ঝিল্লিবেষ্টিত এনজাইমপূর্ণ থলির মতো বা গহ্বরের মতো অঙ্গাণু।
  • কাজ : এরা প্রধানত অন্তঃকোষীয় পরিপাকে সহায়তা করে।
এন্ডোপ্লাজমিক রেটিক্যুলাম (Endoplasmic reticulum)
  • গঠন : একক ঝিল্লিবেষ্টিত, শাখা-প্রশাখাযুক্ত, চ্যাপ্টা থলির মতো অঙ্গাণু যা সাইটোপ্লাজমকে অসংখ্য প্রকোষ্ঠে বিভক্ত করে রাখে। এদের গাত্র মসৃণ বা দানাযুক্ত (রাইবোজোম দানা) হয়।
  • কাজ : সাইটোপ্লাজমের কাঠামো গঠন করে, রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলোকে আলাদা করে রাখে এবং নিঃসৃত দ্রব্যের পরিবহনতন্ত্র হিসেবে কাজ করে।
রাইবোজোম (Ribosome)
  • গঠন : প্রোটিন ও RNA দিয়ে গঠিত এক ধরনের অঙ্গাণু, যা দুটি উপএকক সমন্বয়ে গঠিত। 80S = 60S + 40S; 70S = 50S + 30S.
  • কাজ : প্রোটিন সংশ্লেষ করা এর প্রধান কাজ।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x