পড়াশোনা
1 min read

বজ্রপাত কাকে বলে? বজ্রপাত কীভাবে সৃষ্টি হয়?

Updated On :

তড়িতাহিত মেঘে যদি তড়িতের পরিমাণ বেশি হয়, তাহলে তা তড়িৎক্ষণের মাধ্যমে পৃথিবীতে চলে আসে। একে বজ্রপাত বলে।

বজ্রপাত কীভাবে সৃষ্টি হয়?
জলীয় বাষ্প বায়ুমন্ডলের আহিত আয়নগুলোর ওপর ঘনীভূত হয়ে পানি কণার সৃষ্টি করে এবং তাড়িতাহিত হয়। এই ধরনের পানির কণাগুলো একত্রিত হলেই মেঘের উৎপত্তি হয়। মেঘ ধনাত্মক বা ঋণাত্মক যেকোনো ভাবেই আহিত হতে পারে। তাড়িতাহিত মেঘে যদি তাড়িতের পরিমাণ বেশি হয়, তাহলে তা তড়িৎক্ষরণের মাধ্যমে পৃথিবীতে চলে আসে। এভাবে বজৃপাত সৃষ্টি হয়।

বছরের বিভিন্ন সময় পত্র-প্রত্রিকা, টেলিভিশনে  মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রপাতে  মৃত্যের কথা শোনা যায়। প্রতি বছল উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ আমাদের দেশে বজ্রপাতে মারা যায়। এবার আমরা জানার চেস্টা করব, কেন কিভাবে বজ্রপাত সৃস্টি হয়। বায়ূমন্ডলের উপরের অংশের তাপমাত্রা নীচের অংশের  তুলনায় কম থাকে। এই কারনে অনেক সময় দেখা যায়,নীচের দিক থেকে তুলনামূলক হালকা মেঘ উপরের দিকে প্রবাহিত হয়। উপরের দিকে উঠতে থাকা এ ধরনের মেঘকে থান্ডার ক্লাউড ( Thunder Clouds) বলে হয়।
অন্যান্য মেঘের মত এ মেঘেও ছোট ছোট পানির কনা বা অতি ক্ষুদ্র জলীয়বাষ্প থাকে। এভাবে উপরে উঠতে উঠতে পানির পরিমান বৃদ্ধি পেতে থাকে অর্থাৎ এ ধরনের মেঘে পানির ঘনত্ব বাড়তে থাকে। এ ভাবে বৃদ্ধি পেতে পেতে পানির পরিমান এক সময় 5 মিঃমিঃ এর বেশী হয়, তখন পানির অনুগুলো আর পারস্পারিক বন্ধন ধরে রাখতে পাড়ে না। তখন এরা আলাদা-Disintegrate হয়ে যায়, ফলে সেখানে বৈদ্যুতিক আধানের বা চার্জ (Electric Charge) সৃস্টি হয়।  আর এভাবে সৃষ্ট আধানের মান নিচের অংশের চেয়ে উপরে বেশী হয়। অর্থাৎ বিভব পার্থক্যের (Potential difference) সৃষ্টি হয়। এই কারনেই উপর হতে নিচের দিকে বৈদ্যুতিক আধানের বা চার্জের  নির্গমন (Transmission) হয়। বৈদ্যুতিক আধানের বা চার্জের  আকস্মিক স্থানান্তর এর কারনে এ সময় আমরা আলোর ঝলকানি (Lightning) দেখতে পাই।
আর ঘটনার সময় উক্ত এলাকায় বাতাসের প্রসারন (Expansion) এবং সংকোচনের (Contraction)ঘটে।  ফলে আমরা বিকট শব্দ শুনতে পাই। এ ধরনের বৈদ্যুতিক আধানের স্খানান্তর দুটি মেঘের মধ্যে অথবা একটি মেঘ এবং ভূমির মধ্যে ও হতে পারে।

বজ্রপাতের সময় আমাদের কি কি করণীয় – What should we do during lightning?

বজ্রপাতের সময় আমরা যদি সচেতন থাকি তাহলে আমরা এর হাত থেকে রক্ষা পেতে পারি এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমান কমাতে পারি-

  1. বজ্রপাতের সময় কোন খোলা স্থানে বা খেলার মাঠে দাড়াব না।
  2. গাছের উপর বজ্রপাত বেশী হয়। তাই বড় কোন গাছের নিচে দাঁড়ানো যাবে না।
  3. পানির কাছে অর্থাৎ কোন জলাশয়ের কাছাকাছি থাকবেন না,
  4. রাস্তায় সাইকেল বা মটরসাইকেলের উপর থাকলে, অতি দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় গ্রহন করুন।
  5. যদি খোলা মাঠ বা খোলা জমিতে থাকেন, তবে লক্ষ্য করুন তার টানা কোন বৈদুত্যক খুটি আছে কিনা। যদি থাকে তবে খুটি ২টির মাঝখানে তারের
  6. নিচে পায়ের পাতা উচু করে পাতার উপর মাথা নিচু করে বসে থাকুন।
  7. বজ্রাহত কোন ব্যাক্তিকে কোনভাবেই খালি হাতে স্পর্শ করা যাবে না, কারন তার শরিরে তখনও বিদুত্য থাকতে পারে।
  8. সমগ্র পৃথিবীতে প্রতি সেকেন্ডে কোথাও না কোথাও 100 বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে, সুতরাং সাবধান থাকতে হবে।

শেষ কথা:
আশা করি আপনাদের এই আর্টিকেলটি পছন্দ হয়েছে। আমি সর্বদা চেষ্টা করি যেন আপনারা সঠিক তথ্যটি খুজে পান। যদি আপনাদের এই “বজ্রপাত কাকে বলে? বজ্রপাত কীভাবে সৃষ্টি হয়?” আর্টিকেলটি পছন্দ হয়ে থাকলে, অবশ্যই ৫ স্টার রেটিং দিবেন।

5/5 - (31 votes)