International
1 min read

কমনওয়েলথ কি?

কমনওয়েলথ

কমনওয়েলথ হল বিশ্বের বিভিন্ন দেশের একটি সংগঠন। মূলত অতীতে ব্রিটেনের সাম্রাজ্যভুক্ত ছিল এমন স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ সমূহ নিয়ে এটি গঠিত। যদিও ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সাথে এটি ঐতিহাসিকভাবে সংযুক্ত রয়েছে। পূর্বের ব্রিটিশ উপনিবেশিক ছিল এমন যে কোন দেশ কমনওয়েলথের সদস্য হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারে।
বর্তমানে কমনওয়েলথ যুক্তরাজ্য, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান সহ ৫৪ টি দেশ নিয়ে গঠিত। এটি সর্বপ্রথম ১৯২৬ সালে শুরু হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হয় ১৯৪৯ সালে। কমনওয়েলথ এর আদি নাম ছিল ব্রিটিশ কমনওয়েলথ অব নেশন
ব্রিটিশ রাজা বা রাণী কমনওয়েলথের প্রধান হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই হিসেবে ব্রিটিনের বর্তমান রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ এই সংস্থার প্রধান। কিছু বিখ্যাত কমনওয়েলথ দেশে যেমন যুক্তরাজ্য, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়ায় ব্রিটিশ রাজা বা রাণীকে প্রতীকীভাবে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠিত করে। ইংল্যান্ডের রাজধানী লন্ডনের মার্লবরো হাউসে এই সংস্থার সচিবালয় অবস্থিত।
কমনওয়েলথ এর প্রধান হিসেবে একজন মহাসচিব থাকে। তিনি চার বছর মেয়াদে সর্বাধিক দুইবার নির্বাচিত হতে পারবে। মহাসচিব মূলত কমনওয়েলভূক্ত সরকার বা রাষ্ট্র প্রধানদের ভোটে নির্বাচিত হন। দুইজন উপ-মহাসচিব নিযুক্ত হয় সার্বিক সহযোগিতার জন্য। বর্তমান মহাসচিব প্যাটিসিয়া স্কটল্যান্ড। তিনি প্রথম কমনওয়েলথ এর নারী মহাসচিব। তিনি ডোমিনিকা ও যুক্তরাজ্যের নাগরিক। এছাড়া প্রথম মহাসচিব ছিলেন আর্নল্ড স্মিথ। তিনি ছিলেন একজন কানাডার নাগরিক।
কমনওয়েলথ সংগঠনটিকে ব্রিটেনই নেতৃত্ব দিয়ে থাকে। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও পারস্পরিক সম্প্রীতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে কমনওয়েলথ অব নেশন্স গঠিত হয়। সর্বপ্রথম ১৯৭১ সালে সিঙ্গাপুরে এই সংস্থার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

কমনওয়েলথ এর লক্ষ্য উদ্দেশ্য

  • আন্তর্জাতিক শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রক্ষায় জাতিসংঘ সহ অন্যন্য সংস্থাকে সহযোগিতা করা
  • প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র ও ব্যক্তি স্বাধীনতা এবং সাম্য প্রতিষ্ঠায় কাজ করা।
  • পারস্পরিক অবাধ ও মুক্তবাণিজ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
  • মৌলিক গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং মানবাধিকারের বিকাশ সাধন করা।
  • ক্ষুদ্র ও দুর্বল রাষ্ট্রের প্রয়োজনসমূহের স্বীকৃতি দেওয়া।
  • পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমঝোতা
5/5 - (15 votes)