Health

মোটা হওয়ার উপায় এবং কিছু কার্যকরী টিপস।

1 min read

আজকে আমরা আলোচনা করবো মোটা হওয়ার উপায় নিয়ে।

মোটা হওয়ার সহজ উপায়ঃ

আজকাল বেশিরভাগ মানুষ মূলত চিকন হওয়ার জন্য চেষ্টা করে থাকে কেননা অধিক মোটা হয়ে যাওয়ায় নানান ধরনের অস্বস্তিতে পরে এবং বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

আবার অন্যদিকে অধিক চিকন হলেও তা দেখতে দৃষ্টিকটু লাগে। তাই আমাদের সকলের ইচ্ছা থাকে একটি সুস্থ সুন্দর জীবন কাটানো এবং সুস্বাস্হ্য বজায় রাখা।

ওজন কম কেন হয়

অতিরিক্ত চিকন মানুষেরা বিভিন্ন রোগে ভোগেন। তার মাঝে খাবার অনিয়ম, ডায়রিয়া,  আমাশয়, ডায়বেটিস, এইডস অন্যতম। ওজন বাড়াতে এই রোগগুলো থেকে প্রথমে মুক্তি পেতে হবে অথবা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে হবে।
চিকন মানুষের  জন্য কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া, পেশি শক্তি হ্রাস পাওয়া সহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। তাই আজকে আমরা ওজন বাড়ানো নিয়ে আলচনা করব।

মোটা হওয়ার সহজ উপায় গুলো হল

১. নিয়মিত ব্যায়াম করা:

আমরা অনেকেই  মনে করি যে শুধুমাত্র ব্যায়াম করার উদ্দেশ্য হচ্ছে মোটা স্বাস্থ্য চিকন করার জন্য।  আসলে এই ধারণাটি একদম ভুল।

আপনি যদি চান তাহলে আপনি ব্যায়ামের মাধ্যমে আপনার শারীরিক গঠন বা আপনার ওজন বৃদ্ধি করতে পারেন।

সে ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে নির্দিষ্ট কিছু ব্যায়াম করতে হবে।

আপনার যদি মোটা হওয়ার জন্য কি ধরনের ব্যায়াম করবেন সে সম্পর্কে ধারনা না থাকে তাহলে দয়া করে কোন জিমন্যাস্টিক সেন্টার এ কথা বলতে পারেন।

তাদের দেখানো পদ্ধতি অনুসরণ করলে আশা করি আপনি অতি দ্রুত আপনার ওজন বাড়াতে পারবেন।

অথবা আপনি ইউটিউব থেকে দেখেও মোটা হওয়ার ব্যায়াম সম্পর্কে বেসিক ধারণা পেতে পারেন।

২. ক্যালোরি যুক্ত খাবার গ্রহন:

চিকন হওয়ার ক্ষেত্রে যে রকম আমরা ক্যালোরি কমিয়ে নিই, তেমনি মোটা হতে চাইলে ক্যালোরি বাড়িয়ে নিতে হবে। আপনার প্রয়োজনের চেয়েও ৪০০/৫০০ বা ৭০০ ক্যালোরি বেশি গ্রহন করুন এবং স্বাস্হ্য বৃদ্ধি করুন৷

৩. বারবার খাবার না খাওয়া:

অনেকেই লেখেন যে বারবার খেলে ওজন বাড়বে। এটা মোটেও সঠিক না, সম্পূর্ণ ভুল। বরং নিয়ম মেনে পেট পুরে খান।

কেননা পেট পুরে খাওয়া হলে মেটাবলিজম হার কমে যায়।

ফলে খাবারের ক্যালোরির অনেকটাই বাড়তি ওজন হয়ে শরীরে জমা হয়। অল্প অল্প করে বারবার খাওয়াটা মেটাবলিজম বাড়িয়ে দেয়। ফলে ওজন কমে যায়।

৪. ভেজানো কাঁচা ছোলা ও তার পানি:

মোটা হওয়ার জন্য ছোলার বিকল্প হতে পারে না। তাই প্রতিদিন রাত্রে ১০/১২ টি ছোলা ভিজেয়ে রাখুন। আর সকালে ওঠে ছোলা ও তার পানি খেয়ে নিন।

এটি মোটা হওয়ার একটি প্রাকৃতিক উপায়। খুবই কম সময়ে এটি আপনার ওজন বাড়াতে দারুণভাবে সাহায্য করবে।

৫. মোটা হবার জন্য পাস্তা ও নুডুলস:

আমরা ছোট বড় প্রায় সকলেই পাস্তা কিংবা নুডলস খেতে ভালোবাসি। আর যারা পাস্তা নুডলস ভালোবাসে তাদের জন্য রয়েছে সুখবর।

কারণ কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ পাস্তা ও নুডলস উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত খাবার।

এটি খুব দ্রুত আপনার ওজন বাড়াতে সাহায্য করবে। তাই মোটা হতে চাইলে প্রতিদিন পরিমাণমতো পাস্তা অথবা নুডলস খেতে পারেন। এটি হয়তো আপনার মনের মতো মোটা হওয়ার সহজ উপায় গুলোর মধ্যে একটি।

৬. নিয়মিত ঘুমান

নিয়মিত ৬/৮ ঘন্টা ঘুমালে আমাদের শরীর অন্যদিনের চেয়ে অনেকটা ভালো থাকে। তাই সুস্থ থাকার জন্য নিয়মিত ঘুম জরুরী। শরীর ঠিক থাকলেই তাড়াতাড়ি মোটা হওয়া যায়।

৭. অধিক পরিমান প্রোটিন গ্রহণ:

ওজন বৃদ্ধি করতে প্রোটিন এর বিকল্প নেই। ওজন বৃদ্ধি করতে শুধুমাত্র ক্যালোরিই যথেষ্ট না। ক্যালোরির পাশাপাশি সঠিক প্রোটিন গ্রহণ করতে হবে।

সঠিক প্রোটিন গ্রহন না করলে ক্যালোরি বাড়তি ফ্যাটের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তাই প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় প্রোটিন জাতীয় খাবার যেমন- ডিম, ডাল,মাছ, মাংস অবশ্যই রাখবেন।

৮. টেনশনমুক্ত থাকা:

সব সমস্যার সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে টেনশন। ওজন বৃদ্ধিতে যেমন টেনশনমুক্ত থাকা প্রয়োজন ঠিক তেমনি ওজন কমাতেও টেনশনমুক্ত থাকা খুবই আবশ্যক। আজকাল টেনশনমুক্ত থাকা খুবই কঠিন তাও চেষ্টা করতে হবে যতটা সম্ভব টেনশনমুক্ত থাকার।

৯. ডায়েটে চকলেট এবং চিজ রাখা:

সচরাচর বাহিরের খাবার খেতে নিষেধ করা হয়ে থাকে। কিন্তু ওজন বৃদ্ধিতে বাহিরের খাবার যেমন- আইসক্রিম, পেস্ট্রি, বার্গার, পিজ্জা ইত্যাদি খাবার খুবই কার্যকরী।

এতে ফ্যাট থাকে, বেশি খেলে শরীরের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর।

তাই আপনি চাইলে এগুলো খেতে পারেন কিন্তু তা হবে পরিমাণমতো। আপনার প্রতিদিনের ডায়েটে চকলেট এবং চিজ রাখতে পারেন।

১০. পর্যাপ্ত পানি পান:

ওজন বৃদ্ধি, হ্রাস অথবা শারীরিক যেকোন কাজের ক্ষেত্রেই পানি খুব উপকারী। প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে।

নিয়ম করে এই মোটা হওয়ার সহজ উপায় লক্ষ্য করলেই আপনি ওজন বৃদ্ধি করতে পারবেন । নিজের যত্ন নিন ভালো থাকুন সুস্থ্য থাকুন।

১১. ঘুমানোর আগে দুধ মধু খান:

ঘুমোতে যাওয়ার আগে এমন কিছু খেতে পারেন যা বেশ পুষ্টিকর এবং ক্যালোরিযুক্ত।

কারণ সেটা ঘুমিয়ে পরছেন বলে খরচ হচ্ছে না এবং পুরো রাত আপনার শরীরে ক্যালোরির কাজ করবে এবং ওজন বৃদ্ধি করবে।

তাই প্রতিদিন ঘুমানোর আগে দুধ ও মধু মিশিয়ে খেতে পারেন। এটি ওজন বৃদ্ধিতে পরীক্ষিত এবং মোটা হওয়ার সহজ উপায়।

১২. কার্বোহাইড্রেট যুক্ত খাবার:

ওজন বৃদ্ধিতে কার্বোহাইড্রেড খুবই প্রয়োজন। খাবারের তালিকায় কার্বোহাইড্রেড অবশ্যই রাখবেন।

ভাত ও রুটি কার্বোহাইড্রেডের প্রধান উৎস। তাই প্রতিদিন অন্তত ২ বার কার্বোহাইড্রেড খাবেন। ভাত ও রুটি কার্বোহাইড্রেডের প্রধান উৎস তার মানে এই নয় যে বেশি বেশি খাবেন। আপনাকে অতিরিক্ত ফ্যাটের দিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে

। তাই প্রতিদিন কার্বোহাইড্রেড খাবেন পরিমিত কিন্তু সাধারণের তুলনায় কিছুটা বেশি। মোটা হওয়ার সহজ উপায় গুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।

১৩. ভাতের মাড়:

আপনি হয়তো জানেন না যে মাড়ের সাথে ভাতের স্টার্চের অনেকটাই চলে যায়। ওজন বাড়াতে চাইলে ভাতের মাড় খুবই উপকারী। তাই ভাতের মার না ফেলে খেয়ে নিন।

১৪. অতিরিক্ত হস্তমৈথুন থেকে বিরত থাকা:

পর্ণো ও অশ্লীল চটি পড়ে অনেকেই অতিরিক্ত হস্তমৈথুন করেন। আপনি যা খেয়েছেন তার থেকে বেশিই যদি ঝরেই যায় তাহলে তো আপনি রোগা হবেনই। তাই হস্তমৈথুন থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে৷

ইসলামিকভাবে মোটা হওয়ার  উপায়:

অনেকেই ইসলামিকভাবে মোটা হওয়ার  উপায় জানতে খুঁজেল।

তাই আপনাদের জন্য আমরা এখন ইসলামিক উপায়ে আপনি কিভাবে স্থায়ীভাবে মোটা হতে পারেন সে সম্পর্কে জানাবো।

শরীয়তের দৃষ্টিতে মোটা হওয়ার উপায় হলো “খেজুরের সাথে শসা খাওয়া”। এসম্পর্কে দুটি হাদীস রয়েছে-

হাদীস(১)

‘আয়িশাহ (রাঃ) বর্ণনা করেছেন তিনি বলেন,আমার মায়ের ইচ্ছা ছিল আমাকে স্বাস্থ্যবতী বানিয়ে রাসূলুল্লাহ(সাঃ)-এর নিকট পাঠাবেন।

এজন্য তিনি অনেক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন, কিন্তু কোন ফল হয়নি।

শেষে তিনি আমাকে পাকা খেজুরের সাথে শসা বা খিরা খাওয়াতে থাকলে আমি তাতে উত্তমরূপে স্বাস্থ্যের অধিকারী হই।

(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৩৯০৩ হাদিসের মান: সহিহ)

.

হাদীস(২)

আয়িশাহ (রাঃ) বর্ণনা করেছেন আমার মা আমাকে রাসূলুল্লাহ(সাঃ)এর সংসারে পাঠাতে চাচ্ছিলেন বিধায় আমার দৈহিক

পরিপুষ্টির জন্য চিকিৎসা করাতেন। কিন্তু তা কোন উপকারে আসলো না।

অবশেষে আমি তাজা খেজুরের সাথে শসা মিশিয়ে খেলাম এবং উত্তমরুপে দৈহিক পরিপুস্টি লাভ করলাম। (আবু দাউদ,হাদিস নংঃ৩৩২৪)

খেজুর আর শসা একসঙ্গে খাওয়া সুন্নাহ!!

আবদুল্লাহ ইবনু জাফর (রাঃ) বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, নবী (সাঃ) শসা খেজুরের সাথে একত্রে খেতেন।

(সহীহ্, ইবনু মা-জাহঃ৩৩২৫)

শরীর সুস্থ এবং স্বাভাবিক রাখতে,খেজুর আর শসা নরমাল উপায়েই খান এর জন্য তেমন বিশেষ কোনো নিয়ম পদ্ধতি জানা নাই।

আশাকরি উপরে উল্লেখিত নিয়ম মেনে চললে আপনি খুব সহজেই স্থায়ীভাবে মোটা হতে পারবেন।

কাজেই দয়া করে উপরে দেখানো পদ্ধতি গুলো অনুসরন করুন এবং সুস্থ সবল দেহের অধিকারী হন।

5/5 - (15 votes)
Mithu Khan

I am a blogger and educator with a passion for sharing knowledge and insights with others. I am currently studying for my honors degree in mathematics at Govt. Edward College, Pabna.