মনোবিজ্ঞান
1 min read

মানসিক বয়স কাকে বলে? ও আইকিউ

Updated On :

মানসিক বয়স কাকে বলে?

বুদ্ধি অভীক্ষার জনক স্যার আলফ্রে বিঁনে সর্বপ্রথম মানসিক বয়সের ধারণা ব্যক্ত করেন। তিনি অনেক শিশু যে বয়সের মানসিক ক্ষমতা অনুযায়ী প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে সক্ষম হয় তাই হল শিশুর মানসিক বয়স। ৪ বৎসর বয়সী শিশু যদি ৭ বৎসর বয়সী শিশুর ক্ষমতা অনুযায়ী প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে সক্ষম হয় তাহলে মানসিক বয়স হবে ৯ বৎসর বয়সী। আবার কোন ৪ বৎসর বয়সী শিশু যদি ৪ বৎসর শিশুর মানসিক ক্ষমতা অনুযায়ী প্রশ্নের সঠিক হয় সেক্ষেত্রে তার মানসিক বয়স ৪ বৎসর বলে গন্য হবে। এইভাবে ৪ বৎসরের শিশুর মানসিক বয়স ৭ বৎসর যদি সে ৭ বৎসর শিশুর জন্য প্রস্তুত প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারে তার উপরে নয়।

আইকিউ (IQ)

আইকিউ (IQ) শব্দটির সাথে কমবেশি সবার পরিচয় আছে। কারো বুদ্ধিমত্তা নিরূপণের জন্যে আইকিউ টেস্ট একটি বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি। জীবনে আইকিউ পরীক্ষার মুখোমুখি হন নি এমন মানুষ খুঁজে পাবেন না। যদিও আইকিউ কী, কীভাবে আইকিউ হিসাব করা হয় এ বিষয়ে অনেকের ধারণাই স্পষ্ট নয়।

IQ হল Intelligence Quotient এর সংক্ষিপ্ত রুপ। সহজ বাংলা করলে যেটি দাঁড়ায় বুদ্ধিমাত্রা। আইকিউ পরীক্ষায় সাধারণত এমন কিছু প্রশ্ন দেওয়া হয়, যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান বা সাধারণ জ্ঞানের প্রয়োজন হয় না। বিচক্ষণতা, দ্রুততা ও বুদ্ধিবৃত্তিক উত্তর প্রদানের ক্ষমতার উপর ভিত্তি করে আইকিউ নির্ধারণ করা হয়।

জন্মগতভাবে মানুষ বুদ্ধিমত্তা নিয়ে জন্মায়। পরবর্তীতে পরিবেশ, খাদ্যগ্রহণ, স্নায়ুবিক ও মনস্তাত্ত্বিক কারণে বুদ্ধিমত্তা পরিবর্তিত হতে পারে। বুদ্ধিমাত্রা সম্পর্কে বলার আগে আরও দুটি বিষয়ে বলা জরুরী; যথাক্রমে কালক্রমিক বয়স (Chronological Age) ও মানসিক বয়স (Mental Age)। সময়ের সাথে বাড়তে থাকে তার বয়স। সময়ের সাথে বাড়তে থাকা বয়সকে বলা হয় কালক্রমিক বয়স বা ইংরেজিতে Chronological Age (সংক্ষেপে CA), যদিও তা সবসময় দৈহিক বয়সের সমান হয় না। এদিকে একই সাথে বাড়তে থাকে থাকে তার বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বয়স; এটাকে বলা হয় মানসিক বয়স বা ইংরেজিতে Mental Age (সংক্ষেপে MA)। বয়সের বিবেচনায় একজন মানুষ কতোটা বুদ্ধিমান সেটা নিরূপণ করতে মানসিক বয়স বা MA ব্যবহৃত হয়। আর এক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় বুদ্ধিমাত্রা পরীক্ষা বা আইকিউ টেস্ট।

কালক্রমিক বয়সের ক্ষেত্রে ১৩ বছর বয়স পর্যন্ত তার দৈহিক বয়সকে কালক্রমিক হিসেবে ধরা হয়। এরপর CA বৃদ্ধি হিসাবে বিশেষ নীতি অনুসরণ করা হয়ে থাকে। অর্থাৎ ১৩ বছরের পর প্রতি দুই মাস বয়স বৃদ্ধিকে ১ মাস কালক্রমিক বয়স বা CA বৃদ্ধি বিবেচনা করা হয়। একজন বালকের বয়স ১৩ বছর ২ মাস হলে তার CA হবে ১৩ বছর ১ মাস। আবার দৈহিক বয়স ১৩ বছর ৪ মাস হলে CA হবে ১৩ বছর ২ মাস। অনুরূপভাবে ১৬ বছর বয়সি বালকের CA ধরা হবে ১৫ বছর। এখানে উল্লেখ্য, একজন মানুষের CA সর্বোচ্চ ১৫ বছর হতে পারে। কারণ ধরে নেওয়া হয় একজন মানুষের দৈহিক বয়স ১৬ বছর হওয়ার পর থেকে তার বুদ্ধিমত্তা আর বাড়ে না।

IQ ও CA থেকে একজন মানুষের মানসিক বয়স বা MA নিরূপণ করতে নিম্নোক্ত সূত্র ব্যবহৃত হয়-

উদাহরণ হিসেবে, আপনি একটি আইকিউ টেস্ট দিয়েছেন। এক্ষেত্রে আপনার আইকিউ হল ৯০%। এখন উপরোক্ত সুত্রে আপনার কালক্রমিক বয়স ১৫ এবং আইকিউ ৯০ বসালেই আপনি আপনার মানসিক বয়স পেয়ে যাবেন। উদাহরণের ক্ষেত্রে মানসিক বয়স হবে- ১৩.৫ বছর! আবার আপনার আইকিউ যদি হয় ১১৯, তাহলে আপনার মানসিক বয়স হবে ১৭.৮৫ বছর। অনলাইনে খুঁজলে অনেক ওয়েবসাইট পাবেন, যেখানে আইকিউ পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা আছে। যদিও সেগুলো যথেষ্ট বিজ্ঞানসম্মত নয়, বরং এ ধরণের পরীক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়া উচিৎ।

শেষ কথা:
আশা করি আপনাদের এই আর্টিকেলটি পছন্দ হয়েছে। আমি সর্বদা চেষ্টা করি যেন আপনারা সঠিক তথ্যটি খুজে পান। যদি আপনাদের এই “মানসিক বয়স কাকে বলে? ও আইকিউ” আর্টিকেলটি পছন্দ হয়ে থাকলে, অবশ্যই ৫ স্টার রেটিং দিবেন।

5/5 - (22 votes)