রসায়ন

সিএফসি (CFC) কি, কাকে বলে, এর সংকেত, ব্যবহার ও ধর্ম

1 min read

সিএফসি (CFC) কি

সিএফসি (CFC) যার পূর্ণ রূপ হচ্ছে ক্লোরোফ্লোরো কার্বন। গ্রিন হাউজ গ্যাসের মধ্যে অন্যতম একটি গ্যাস হচ্ছে সিএফসি (CFC)। বায়ু মণ্ডলকে উত্তপ্ত করতে এক অণু সিএফসি (CFC) গ্যাস, এক অণু কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাসের চেয়ে দশ হাজার গুন উত্তপ্ত করণ ক্ষমতা রাখে। এর মাধ্যমেই বুঝা যায়, CFC গ্যাস কতটুকু বিষাক্ত আমাদের পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের জন্য। CFC নিঃসরণ করে এমন পদার্থ ব্যবহার বা পুড়ানো থেকে আমাদের বিরত থাকতে হবে। একশ ভাগ বায়ুতে ১৫% পরিমাণ CFC গ্যাস থাকে। CFC বিভাজিত হয়ে বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার স্তরে অবস্থান করে। তারপর, আলট্রা-ভায়োলেট রশ্মির সাহায্য পুনরায় বিভাজিত হয়ে ওজোনস্ফিয়ারের ওজোন (O3) গ্যাসের সাথে বিক্রিয়া করে ওজোন গ্যাসকে নিমিষ করে দেয়। যার ফলে ওজোন স্তরের ক্ষতি সাধন হয় ও সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি পৃথিবীতে পৌছাতে সক্ষম হয়। এই ক্ষতিকর আলো বা রশ্মি পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ায়। CFC গ্যাস গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর অন্যতম কারন।

সিএফসি (CFC) কাকে বলে

যেসব জৈব যৌগে ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (C-ক্লোরো, F-ফ্লোরো, C-কার্বন) অর্থাৎ ক্লোরিন (Cl), ফ্লোরিন (F) ও কার্বন (C) এই তিনটি মৌল মিলে ক্লোরোফ্লোরো কার্বন তৈরি করে, সেই সব জৈব যৌগ সমূহকে সিএফসি (CFC) বলে। CFC জৈব যৌগ কয়েকটি জৈব গ্যাসের সমষ্টি। তাই, CFC কে CFC না বলে, CFCs বলাই উত্তম। ক্লোরোফ্লোরো কার্বনের ন্যায় আরেকটি জৈব যৌগ হচ্ছে হাইড্রোক্লোরোফ্লোরো (HCFC)। HCFC, CFC গ্যাসের তুলনায় কম ক্ষতিকর এবং নিষ্ক্রিয়।

সিএফসি (CFC) এর সংকেত

সিএফসি (CFC) এর সংকেত হচ্ছে CFClবা CCl3। এই সংকেতটি CFCs গ্যাসসমূহের মধ্যে ফ্রেয়নের সংকেত। CFCs এর কয়েকটি সংকেত আছে, তার মধ্যে সিএফসি (CFC) – ১১ এর সংকেত হচ্ছে CFCl3, সিএফসি (CFC) – ১২ এর সংকেত হচ্ছে CF2Cl2, সিএফসি (CFC) – ১১৩ এর সংকেত হচ্ছে CF2Cl.CFCl2 ।

সিএফসি (CFC) এর গাঠনিক সংকেত নিচে দেখানো হল। CFC এর গাঠনিক সংকেত থেকে দেখা যায় যে কার্বন, ফ্লোরিন ও ক্লোরিন একে অপরের সাথে প্রথম বন্ধনী ইলেকট্রন দ্বারা আবদ্ধ। কার্বনের যোজ্যতা বেশি হওয়ায়, গাঠনিক সংকেতে কার্বন পরমাণু কেন্দ্রীয় মৌল হিসেবে গন্য হয়েছে।

সিএফসি (CFC) এর বাণিজ্যিক নাম কি ও এর ব্যবহার

সিএফসি (CFC) যেমন ক্ষতিকর তেমনি বেশ ব্যবহার উপযোগী একটি গ্যাস। আমাদের দৈনন্দিন জীবন যাপনে CFC ব্যবহার দেখতে পাই। CFC সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় অ্যারোসেল তৈরি করতে এবং রেফ্রিজারেটর কুলিং করতে। রেফ্রিজারেটরের নিম্নদেশে মারকারি কন্টেইনারের ঠিক পাশে CFC কন্টেইনারটি অবস্থিত। সিএফসি (CFC) এর বাণিজ্যিক নাম হচ্ছে ফ্রেয়ন। CFC বাজারে ফ্রেয়ন নামেই পরিচিত।

সিএফসি (CFC) এর ব্যবহার

  • নরম ফোম ও কঠিন প্লাস্টিক ফোম
  • রেফ্রিজারেটর, ফ্রিজারে ও এয়ারকন্ডিশনারের কুলিং জোনে
  • অ্যারোসেল, বিভিন্ন ধরণের স্প্রে ক্যান বা সুগন্ধি স্প্রে ক্যান
  • গ্রিজ ও গ্ল তৈরিতে
  • বিভিন্ন ধরণের ইলেক্ট্রিক সার্কিট ধৌত করতে

সিএফসি (CFC) এর ধর্ম এবং বৈশিষ্ট্য

  • সিএফসি এক ধরণের গ্যাস জাতীয় পদার্থ
  • এই গ্যাসটির কোনো গন্ধ বা স্বাদ নেই
  • সাধারণত CFC আগুনে জ্বলে না
  • এটি সাধারন তাপমাত্রা ও পরিবেশ কোন ধরনের বিক্রিয়কের সাথে বিক্রিয়া করে না। উপযুক্ত পরিবেশ, তাপমাত্রা ও প্রভাবকের ফলে নির্দিষ্ট সংখ্যক বিক্রয়কের সাথে বিক্রিয়া করতে পারে।
Rate this post
Mithu Khan

I am a blogger and educator with a passion for sharing knowledge and insights with others. I am currently studying for my honors degree in mathematics at Govt. Edward College, Pabna.