পৌরনীতি

রাজনৈতিক সংস্কৃতি কি | রাজনৈতিক সংস্কৃতির মূল উপাদান কয়টি এবং কি কি

1 min read

রাজনৈতিক সংস্কৃতি কি

রাজনৈতিক সংস্কৃতি বলতে কোনো দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি জনগণের মনোভাব, মূল্যবোধ, বিশ্বাস, অনুভূতি ও দৃষ্টিভঙ্গির সমষ্টিকে বোঝায় । বিংশ শতাব্দীতে রাজনৈতিক সংস্কৃতির ধারণাটি গুরুত্ব পায়।
মার্কিন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী গ্যাব্রিয়েল অ্যালমন্ড তার “The Civic Culture” গ্রন্থে রাজনৈতিক সংস্কৃতি (political culture) শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন। তার মতে, ‘রাজনৈতিক সংস্কৃতি হলো রাজনৈতিক ব্যবস্থার সদস্যদের রাজনীতি সম্পর্কে মনোভাব এবং দৃষ্টিভঙ্গির রূপ ও প্রতিকৃতি।’ অর্থাৎ কোনো দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে সে দেশের জনগণ কীভাবে গ্রহণ করছে সেটার ধরনই হলো রাজনৈতিক সংস্কৃতি। রাজনৈতিক সংস্কৃতির মাধ্যমে একটি সমাজের রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে। একটি দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার গতি প্রকৃতি দেখে সে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়। কোনো অঞ্চলের মানুষ রাজনৈতিক বিষয়ে কী চিন্তা করে তা রাজনৈতিক সংস্কৃতির মধ্যদিয়েই প্রকাশিত হয়।

রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি বলা হয় কেন

রাজনৈতিক সংস্কৃতি হচ্ছে রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি। এটি রাজনৈতিক ব্যবস্থার নির্ধারক। সাধারণ অর্থে রাজনৈতিক সংস্কৃতি বলতে রাষ্ট্রের নাগরিকদের রাজনৈতিক জীবনধারা সম্পর্কে তাদের মনোভাব, বিশ্বাস ও মূল্যবোধকে বোঝানো হয়। রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক বিষয় সম্পর্কে সমাজের মানুষের মনোভাব, বিশ্বাস, অনুভূতি এবং মূল্যবোধের সমন্বয়ে রাজনৈতিক সংস্কৃতি গঠিত হয়। তাই বলা যায়, রাজনৈতিক সংস্কৃতি হচ্ছে রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি।

রাজনৈতিক সংস্কৃতির মূল উপাদান কয়টি এবং কি কি

রাজনৈতিক সংস্কৃতির মূল উপাদান হচ্ছে ৬টি, যথাঃ-

  • রাজনৈতিক মূল্যবোধ (political values): প্রতিটি দেশের মানুষের কিছু রাজনৈতিক মূল্যবোধ রয়েছে। স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগ। সার্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের ভিত্তিতে নির্বাচন।
  • রাজনৈতিক বিশ্বাস (political beliefs): রাজনৈতিক মূল্যবোধের ভিত্তি হল রাজনৈতিক নৈতিকতা এবং রাজনৈতিক বিশ্বাস এর হল জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা। একটি দেশের আর্থ-অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধানের জন্য একাধিক দলীয় ব্যবস্থা দায়ী।
  • মানসিক মনোভাব (emotional attitudes):  প্রভাবিত রাজনৈতিক মতাদর্শ, অতীত সরকারের নীতি, ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো আবেগপ্রবণ বা মানসিক মনোভাবের উদাহরণ।
  • জ্ঞানীয় অভিযোজন (cognitive orientation):  রাজনৈতিক সমস্যা, ঘটনা, রাজনৈতিক কার্যকলাপ এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে জনগণের কাছে থাকা তথ্যের পরিমাণ এবং তথ্যের প্রকার।
  • কার্যকর অভিযোজন (effective orientation): রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা ও আগ্রহের পরিমাণ। রাজনৈতিক ইভেন্টে অংশগ্রহণ। রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান গণতন্ত্রের সাথে সংযুক্তি।
  • মূল্যায়নমূলক অভিযোজন (evaluative orientation):  প্রতিটি রাজনৈতিক ব্যবস্থার কিছু উদ্দেশ্য থাকে এবং এটি কিছু কার্য সম্পাদন করে। রাজনৈতিক ব্যবস্থার অর্জন ও ব্যর্থতাকে মানুষ মূল্যায়ন করার চেষ্টা করে।
Rate this post
Mithu Khan

I am a blogger and educator with a passion for sharing knowledge and insights with others. I am currently studying for my honors degree in mathematics at Govt. Edward College, Pabna.