কম্পিউটার ডিভাইসগুলোতে কিবোর্ড হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইনপুট ডিভাইস। কিবোর্ড ছাড়া কম্পিউটার, পিসি বা ল্যাপটপ সঠিকভাবে চালানো সম্ভব নয়। তাই কি-বোর্ডের গুরুত্ব অপরিসীম। আজকের আর্টিকেলে আমরা তাই কিবোর্ড কি? কি বোর্ড কত প্রকার ও কি? কি-বোর্ডের বিভিন্ন অংশ, কিবোর্ডের লেআউট ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।

কীবোর্ড কি (What is Keyboard)?

কম্পিউটারের একটি প্রধান ইনপুট ডিভাইস হলো কিবোর্ড। এর অন্য নাম হলো কন্ট্রোল বোর্ড। এর মাঝে বর্ণ, সংখ্যা এবং বিশেষ চিহ্নের বিভিন্ন কী-গুলো সারিবদ্ধভাবে সাজানো থাকে। যা ব্যবহারকারীকে কম্পিউটার বা অন্য কোন ইলেকট্রনিক ডিভাইসে পাঠ্য ইনপুট করতে সাহায্য করে।

কি-বের্ড একাধিক বাটন নিয়ে গঠিত। তাছাড়া এখানে অসংখ্য কী থাকে যার মাধ্যমে আমরা খুব সহজে কম্পিউটারকে কমান্ড করতে পারি।

কীবোর্ড কাকে বলে?

যে প্রধান ইনপুট ডিভাইসের মাধ্যমে কম্পিউটারকে Instructions দেওয়া হয় বা command করা হয় তাকে কি-বোর্ড বলে।

আবার বলা যায়, কোনো কম্পিউটারকে টেক্সট বা কমান্ড লিখে কোনো ইনপুট দেওয়ার জন্য, যে ডিভাইস ব্যাবহার করা হয়, তাকে কিবোর্ড বলে।

কম্পিউটারের সবচেয়ে বেশি ব্যাবহারযোগ্য ইনপুট ডিভাইস এটি। যার ভিন্ন ভিন্ন Key এর মাধ্যমে, কম্পিউটারকে বিভিন্ন ধরনের ইনপুট দেওয়া যায়।

এর ভিতরে একটি ছোট প্রসেসরযুক্ত সার্কিট এবং কতগুলো সহায়ক আইসি (ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট) থাকে। প্রতিটি কী হচ্ছে এক ধরণের সুইচ, যা সারি এবং কলামের সমন্বয়ের উপর বসানো থাকে।

কী বোর্ড এর পূর্ণরূপ  কি  (Full form of Keyboard)?

কিবোর্ড এর পূর্ণরূপ হলো –
K – keys
E – Electronic
Y – Ye
B – Board
O – Operating
A – A to Z
R – Response
D – Directly

কীবোর্ড এর লেআউট – Types of Keyboard Layouts

কোন কম্পিউটার কী বোর্ডের keys বা buttons গুলোর বিশেষ জমাট বাঁধাকেই কীবোর্ড লেআউট বলা হয়। কীবোর্ডের বামপ্রান্তের উপরের প্রথম ৬ টি বর্ণের ক্রম দিয়ে এই লেআউটের নামকরণ করা হয়। কিবোর্ডের কয়েকটি লেআউট হলো –

কিবোর্ড কি? কি বোর্ড কত প্রকার ও কি? কি-বোর্ডের বিভিন্ন অংশ
কীবোর্ড এর লেআউট – Types of Keyboard Layouts
  • QWERTY Keyboard Layout
  • Non-QWERTY Keyboard Layout
  • AZERTY Keyboard
  • DVORAK Keyboard

চলুন তাহলে প্রত্যেকটি keyboard layout এর বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নেই।

QWERTY Keyboard Layout

আপনারা যদি আপনাদের কম্পিউটার কিবোর্ড এর শুধু Letter Keys গুলো দেখেন এবং উপরের বামদিক থেকে পড়া শুরু করেন তাহলে দেখবেন যে Q – W – E – R – T – Y থেকে keys গুলো শুরু হচ্ছে। এ ধরণের ফর্মেটে থাকা কিবোর্ডগুলোকে QWERTY keyboard layout বলা হয়।

এটা পৃথিবীজুড়ে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত ও ব্যবহার হওয়া কি বোর্ড লেআউট। আধুনিক কম্পিউটারগুলোতেও এ ধরণের লেআউট ব্যবহার করা হয়।

QWERTY Layout এর ওপরে ভিত্তি করে কিছু অন্যান্য কীবোর্ড লেআউট রয়েছে। এগুলো হলো –

  • QWERTY
  • QWERTZ
  • AZERTY
  • QZERTY

Non-QWERTY Keyboard Layout

যে কীবোর্ড গুলোতে keys গুলোকে QWERTY Layout এর সাথে রাখা হয়না, সে কী বোর্ড লেআউট গুলোকে Non-QWERTY keyboard layout বলা হয়। যেমন –

  • Dvork
  • Colemak
  • Workman

AZERTY Keyboard

QWERTY কীবোর্ড এর ফরাসি সংস্করণ (French version) হলো AZERTY কিবোর্ড। AZERTY কীবোর্ড এর মাঝে Q এবং W নামের keys গুলোকে A এবং Z নামের keys এর সাথে অদল বদল করা হয়েছে।

DVORAK Keyboard

DVORAK কীবোর্ড একটি কম্পিউটার ইনপুট ডিভাইস। যাকে ১৯৩০ এর দশকে টাইপিং দক্ষতা বাড়ানোর জন্য এবং টাইপিং এর সাথে জড়িত ত্রুটিগুলোকে কমানোর ক্ষেত্রে ডিজাইন করা হয়েছিল।

কী-বোর্ড এর কোন বাটনের কাজ কি?

1. Alt Key :  Alternate অর্থাৎ বিকল্প কি। Alt Key সাথে অন্য  আরেকটি key চেপে ধরে রেখে আপনারা কম্পিউটারের বিকল্প কাজগুলো করতে পারবেন।

2. F1-F12 :  এগুলোকে কম্পিউটারের function keys বলা হয়। এই প্রত্যেকটি key গুলোর বিকল্প কিছু কমান্ড রয়েছে।

3. Tab Key :  কার্সরকে পরবর্তী Tab স্পেসে যেতে সাহায্য করে থাকে।

4. Backspace Key : আগের অবস্থানে থাকা অক্ষরটি মুছতে বা ডিলিট করতে সাহায্য করে।

5.  Caps lock key : এই key এর সাহায্যে সব লেখা বড় হাতের অক্ষরে লিখতে পারবেন।

6.  Shift key :  কোন একটি অক্ষর কে বড় বা ছোট অক্ষরের টাইপ করার জন্য এই key ব্যবহার করা হয়।

7. Enter Key : এই key তে চাপলে নতুন লাইন থেকে লিখা শুরু হয়।

8. Delet Key : কোনো অক্ষর বা বাক্য মুছতে সাহায্য করে।

9. Page Up : কার্সার কে উপরের দিকে নিয়ে যেতে সাহায্য করে ।

10. Page Down : কার্সরকে নিচের দিকে নামাতে সাহায্য করে।

কি বোর্ড কী এর প্রকারভেদ / কিবোর্ডের অংশ

কিবোর্ডে সাধারণত ৮৩/৮৪ টি বা কোন কোন কিবোর্ডে ১০০ টির অধিক কী থাকে।

কীবোর্ড এর বিভিন্ন Keys গুলোকে নিম্নোক্তভাবে ভাগ করা যায়। যেমন –

  • Function Keys
  • Typing Keys / Alphanumeric keys
  • Control Keys
  • Navigation Keys
  • Indicator Lights
  • Numeric Keypad

চলুন তাহলে এবার প্রত্যেক শ্রেণীর বাটনগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেই।

Function Keys / ফাংশন কী বলতে কী বুঝ?

কীবোর্ডের সবার উপরের দিকে এই Function Keys গুলোকে দেখা যায়। তথ্য সংযোজন, বিয়োজন বা নির্দেশ প্রদানের জন্য ফাংশন কী ব্যবহার করা হয়। ফাংশন কী ১২ টি। (F1 – F12) এগুলোর ব্যবহার নিম্নে দেওয়া হলো –

ফাংশন কী ফাংশন কী এর কাজ
এটি সাহায্য বা হেল্প কী হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যেকোনো প্রোগ্রামের হেল্প মেনু দেখতে এটি ব্যবহার করা হয়।
F2 সাধারণত কোন ফাইল বা ফোল্ডারের নাম পরিবর্তন করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
F3 মাইক্রোসফট উইন্ডোজ সহ অনেক প্রোগ্রামের সার্চ সুবিধা চালু হয়। উইন্ডোজ কমান্ডে এটি চাপ দিলে আগের কমান্ডটির পুনরাবৃত্তি ঘটে।
F4 এই কী দিয়ে মাইক্রোসফট ওয়ার্ড এর Last Action Preformed Repeat করা যায়। Alt+F4 চেপে সক্রিয় সব প্রোগ্রাম বন্ধ করা যায় এবং Ctrl +F4 চেপে সক্রিয় সব উইন্ডো বন্ধ করা যায়।
F5 এটা চেপে মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে Find, Replace, go to উইন্ডো খুলা হয়। তাছাড়া যেকোনো পেইজ রিফ্রেশ, পাওয়ার পয়েন্টে স্লাইড শো শুরু এবং বন্ধ করার জন্য এ বাটনটি ব্যবহার করা হয়।
F6 মাউসের কার্সরকে ইন্টারনেট ব্রাউজারের অ্যাড্রেসবারে নিয়ে যেতে চায়লে এ কী ব্যবহার করা হয়।
F7 মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে বানান ও ব্যাকরণ জনিত ভুল-ভ্রান্তির চেকিং চালু করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
F8 অপারেটিং সিস্টেম Safe Mood এ চালু করার জন্য ব্যবহৃত হয়। F8 দুবার চাপলে একটি ওয়ার্ড, তিনবার চাপলে একটি Sentence এবং চারবার চাপলে একটি Paragraph এবং পাঁচবার চাপলে পুরো Document সিলেক্ট হয়।
F9 কোয়ার্ক এক্সপ্রেসের মেজারমেন্ট টুলবার চালু করার জন্য এটি ব্যবহৃত হয়।
F10 এটি চেপে ইন্টারনেট ব্রাউজার বা কোনো খোলা উইন্ডোর মেনুবার নির্বাচন করা হয়।
F11 যেকোন সক্রিয় উইন্ডো ফুলস্ক্রিন জুড়ে দেখতে এবং স্বাভাবিক অবস্থায় আনতে এটি ব্যবহার করা হয়।
F12 মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের Save as উইন্ডো চালু করা হয়। কম্পিউটার শুধু F12 চেপে বাংলা থেকে ইংরেজি এবং ইংরেজি থেকে বাংলা মুডে যাওয়া যাবে। ল্যাপটপে fn+f12 চাপতে হবে।

Typing keys / Alphanumeric keys

কিবোর্ড এর মাঝে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয় Typing Keys. এখানে Alphabet এবং Numbers দুধরণের কী ব্যবহার করা হয়। একসাথে এ দু ধরণের কী গুলোকে Alphanumeric Keys বলা হয়।

কিবোর্ডের যে অংশ টাইপ রাইটারের মতো বর্ণ এবং অক্ষর অর্থাৎ Alphabet(a-z), এবং Numbers (0-9) দিয়ে সাজানো থাকে, সেই অংশের কী গুলোকে Alphanumeric Keys বলা হয়।

এগুলো ছাড়াও Typing keys গুলোর মধ্যে Symbols এবং Punctuation marks keys গুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

Control Keys

কী বোর্ড এর মাঝে Ctrl key, Alt key, Window key, Esc key এর ব্যবহার Control keys হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

তাছাড়া Menu key, Scroll key, Pause Break key, PrtScr key ইত্যাদি keys গুলোকেও control keys এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

কিছু বিশেষ ধরণের অপারেশন করার জন্য এ ধরণের Control keys গুলোকে ব্যবহার করা হয়।

Navigation Keys

Navigation keys এর মাঝে Arrow keys, Home, End, Insert, Page Up, Delete, Page Down ইত্যাদি keys গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন Document, Webpage বা Program গুলোতে এদিকসেদিক যাওয়ার জন্য এগুলো ব্যবহার করা হয়।

Arrow Key গুলো কিবোর্ডের ডানদিকে আছে এর সাহায্যে কার্সরকে এদিক সেদিক নেওয়া হয়। এগুলোকে কার্সর মুভমেন্ট কী বলা হয়।

Indicator Lights

কীবোর্ড এর মাঝে ৩ ধরণের Indicator Lights থাকতে পারে। এগুলো হলো –

  • Num Lock
  • Scroll Lock এবং
  • Caps Lock

যখন কীবোর্ড এর ভিতরে থাকা প্রথম light টি জ্বলতে থাকবে তখন তার মানে হলো Numeric Keypad চালু রয়েছে। তেমনভাবে এই light বন্ধ থাকা মানে, Numeric Keypad বন্ধ হয়ে আছে।

দ্বিতীয় লাইট, letters এর Uppercase এবং Lowercase এর সাথে জড়িত। যখন এই লাইট বন্ধ থাকে, তখন এর মানে হলো Letter গুলো Lowercase এর সাথে active হয়ে রয়েছে। এবং যখন লাইট জ্বলতে থাকবে এর মানে হবে Letter গুলো Uppercase এর সাথে একটিভ হয়ে রয়েছে।

তৃতীয় Light টি Scroll Lock এর নামের সাথে জানা যায়। এর দ্বারা Scroll Lock এর বিষয়ে সংকেত পাওয়া যায়।

Numeric Keypad

কিবোর্ডের ডান অংশে ক্যালকুলেটরের মতো অর্থাৎ (০-৯) এবং যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ ইত্যাদি চিহ্নিত কী গুলোকে নিউমেরিক কী প্যাড বলা হয়। ১৭ টি নিউমেরিক কী প্যাড রয়েছে।

এই ধরণের keys গুলোকে Calculator keys বলা হয়। এর কারণ হলো একটি Numeric keypad এর মধ্যে প্রায় একটি Calculator এর সমান keys থাকে। নাম্বার লিখার জন্য এই ধরণের keys গুলোর ব্যবহার করা হয়।

কীবোর্ড কত প্রকার ও কি কি?

সাধারণত ২ ধরণের কি বোর্ড পাওয়া যায়। এগুলো হলো –

  • স্ট্যান্ডার্ড কি-বোর্ড
  • এনহ্যান্সড কী-বোর্ড

এছাড়াও কিবোর্ডকে নিম্নোক্ত ভাগে ভাগ করা যায়। যথাঃ-

  • Flexible Keyboard
  • Mechanical Keyboard
  • Membrane Keyboard
  • Ergonomic Keyboard
  • Gaming Keyboard
  • Wireless Keyboard
  • Multimedia Keyboard
  • Handheld Keyboard
  • Vertical Keyboard
  • Virtual Keyboard
  • Projection Keyboard

Flexible Keyboard

Flexible Keyboard এর আকার অতি Flexible হয়ে থাকে। কারণ সিলিকনের মতো অনেক নরম পদার্থ দিয়ে এই কীবোর্ডগুলো তৈরি করা হয়। এ কি-বোর্ড গুলোকে সহজে ভাঁজ করে নেওয়া যায়।

Flexible keyboard গুলো সাংঘাতিক Portable. তাই এ কিবোর্ডগুলো নিজের পকেটে বা ব্যাগে করে যেকোনো জায়গাতে নিয়ে যাওয়া যায়। ছোট কম্পিউটার এবং ট্যাবলেটে এ ধরণের কিবোর্ড প্রচুর ব্যবহৃত হয়।

Mechanical Keyboard

Mechanical keyboard এমন কি-বোর্ড যার , প্রতিটি কী এর নিচে একটি করে সুইচ রয়েছে। সাধারণ Keyboard গুলোতে সুইচ এর পরিবর্তে রাবার ঝিল্লি ব্যবহার করা হয়।

এই Keyboard গুলোকে Spring Key Switch এর সাথে তৈরি করা হয়। বর্তমানে এই Keyboard গুলোর চাহিদা প্রচুর। এর একটি অসুবিধা হলো, টাইপিং করার সময় প্রচুর শব্দ হয়।

Membrane Keyboard

Membrane কীবোর্ড হলো এমন একটি কী-বোর্ড যেখানে “keys” গুলো আলাদা আলাদা ভাবে পৃথক হয়ে থাকে না। এটি একটি ভিন্ন ধরণের কি-বোর্ড।

এই ধরণের কি-বোর্ড গুলো মূলত একটি Pressure Pads. যেখানে একটি Flat এবং Flexible Surface এর মাঝে Outlines এবং Symbols গুলো Print করা থাকে।

Ergonomic Keyboard

যারা নিয়মিত কম্পিউটার টাইপিং করে, দেখা গেছে অতিরিক্ত চাপার কারণে অনেকে হাতের কব্জির সমস্যায় ভুগেন। তাদের সমস্যা নজরে রেখেই এ ধরণের কি-বোর্ড গুলো বানানো হয়েছে। যাতে করে ব্যবহারকারীরা প্রচুর সুবিধা পায়।

Gaming Keyboard

গেমিং কি-বোর্ড আকারে ছোট হয়ে থাকে, যা মূলত গেইম খেলার জন্যই তৈরি করা হয়। বর্তমানে অনেক লোক শুধু গেইম খেলার জন্য কম্পিউটার ব্যবহার করছে।

তাই তাদের প্রয়োজন লের দিকে লক্ষ্য রেখে এ কি-বোর্ড গুলো তৈরি করা হয়েছে। এ কিবোর্ড গুলোতে স্ট্যান্ডার্ড কি-বোর্ড এর তুলনায় কী এর সংখ্যা কম হয়ে থাকে।

Wireless Keyboard

বর্তমানে প্রায় সব জায়গায় ওয়ারলেস ডিভাইস ব্যবহৃত হচ্ছে। এমনকি কি-বোর্ড গুলোও ওয়ারল্যাস হিসেবে তৈরি হচ্ছে। Wireless Keyboard এমন ধরণের যা, ইউজারকে কম্পিউটার, ট্যাবলেট বা ল্যাপটপ এর সাথে রেডিও Frequency র মাধ্যমে যোগাযোগ করতে সাহায্য করে। যেমন – ওয়াইফাই, ব্লুটুথ ইত্যাদি টেকনোলজি ব্যবহার করে।

Multimedia Keyboard

Multimedia keyboard এর মাঝে প্রচুর Media keys থাকে। যেমন – E-mail Client ও Web Browser সরাসরি চালু করতে শর্টকাট বাটন, অডিও প্লে Back নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বাটন ইত্যাদি।

এ কি-বোর্ডে আলাদাভাবে media-control related keys দেওয়া থাকে। তাই একে সহজে চেনা যায়।

Handheld Keyboard

Handheld কীবোর্ডগুলো পেশাদার গেমারদের দ্বারা ব্যবহার করা হয়েছিল। এর দাম তুলনামূলকভাবে কম। গেমারদের জন্য এটি উপকারী।

Vertical Keyboard

Vertical keyboard গুলো একটি নির্দিষ্ট ধরণের কী-বোর্ড। যেটাকে মূলত ব্যবহারকারীর হাতের চাপ দূর করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এগুলো 3D ধারণার উপরে ভিত্তিক। এগুলো দুভাবে বিভাজত হয়ে থাকে।

Virtual Keyboard

Virtual keyboard গুলো মূলত software-powered keyboard হয়ে থাকে। যেভাবে আপনারা একটি standard keyboard এর ব্যবহার করে কম্পিউটারের স্ক্রিনে কিছু লিখেন, ঠিক একইভাবেই এ ধরণের ভার্চুয়াল কীবোর্ড গুলোকে ব্যবহার করে লিখা যায়। এগুলো মূলত এক ধরণের সফটওয়্যার। যেখানে কোন ফিজিক্যাল কী থাকে না।

Projection Keyboard

Projection কীবোর্ড গুলো মূলত virtual কীবোর্ডের একটি প্রকার। এটাকে সব জায়গায় ব্যবহার করা যায়। এগুলো যেকোনো ফ্ল্যাট এবং হার্ড পৃষ্ঠতলে কীবোর্ডের ছবি প্রদর্শন করার ক্ষেত্রে লেজার এর ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

কি-বোর্ড কীভাবে কাজ করে?

কিবোর্ড একটি ইনপুট ডিভাইস। প্রতিটা কী এক ধরণের সুইচ। যখন কী তে চাপ দেওয়া হয় তখন একটি বৈদ্যুতিক সংকেত নির্দিষ্ট সারি বা কলাম বরাবর কী-বোর্ড প্রসেসরে যায়। প্রসেসর সেই সংকেত দেখে নির্দিষ্ট কী এর অবস্থান বুঝতে পারে এবং এনকোডারের সাহায্যে একটি বাইনারি কোড CPU তে পাঠায়। এসকল কোডকে স্ক্যান কোড বলে। স্ক্যান কোডগুলো পূর্বনির্ধারিত ও নির্দিষ্ট।

প্রতিটি কী এর স্ক্যান কোড ভিন্ন। কম্পিউটারের মাদারবোর্ডে কীবোর্ড কন্ট্রোলার নামে এক ধরণের চিপ থাকে, যা কিবোর্ড থেকে পাঠানো স্ক্যান কোডগুলো গ্রহণ করে মেমোরিতে সংরক্ষণ করে। পরবর্তীতে স্ক্যান কোডের উপর ভিত্তি করে অপারেটিং সিস্টেম উক্ত কী এর অর্থ নিরূপণ করে। প্রতিটি কী এর জন্য অ্যাসকি কোড হবে না ইউনিকোড হবে তা অপারেটিং সিস্টেম নির্ধারণ করে দেয়। আর একারণেই একই কীবোর্ড ব্যবহার করে যেকোনো ভাষার বর্ণ ইনপুট করা সম্ভব।

Keyboard এর কাজ কি?

কম্পিউটারে টাইপিং করার জন্য কিবোর্ড মূলত ব্যবহার করা । কি-বোর্ডের মাধ্যমে আমরা খুব সহজেই যে কোন অক্ষর, শব্দ সংখ্যা আরো অনেক কিছু লিখতে পারি।

তাছাড়া এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো কিবোর্ডের মাধ্যমে অনেক কাজ শর্টকাটে করা যায়। এতে সময় কম লাগে, কষ্টও কম হয়।

ডাটা ও কমান্ডগুলো কিবোর্ড সরাসরি CPU তে প্রেরণ করে এবং আমরা কম্পিউটার স্ক্রিনে তার আউটপুট পায়।

কম্পিউটার কীবোর্ডের শর্টকাট

উইন্ডোজ এবং Mac OS এর অনেক কী-বোর্ড শর্টকাট রয়েছে তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। যেহেতু আপনার উভয় হাত ইতিমধ্যে কীবোর্ডে রয়েছে, কেন নেভিগেট করতে মাউস ব্যবহার করে সময় ব্যয় করবেন? তাছাড়া কীবোর্ডের শর্টকাট কোড (keyboard shortcut) জানা থাকে, যেকোনো Presentation তৈরি বা লেখালেখি করার সময় আপনার অনেক সাহায্য হবে।

নীচের সাধারণ শর্টকাটগুলি বেশিরভাগ ওয়ার্ড প্রসেসিং প্রোগ্রামগুলিতে ব্যবহৃত হয়:

Shortcuts Descriptions
Ctrl + C Copy করতে ব্যবহৃত হয়।
Ctrl + X Cut করার জন্য
Ctrl + V Paste করার জন্য
Ctrl + Z Undo করতে
Ctrl + S Save করতে ব্যবহার করা হয়
Ctrl + F ওয়ার্ড Search করতে ব্যবহৃত হয়
Ctrl + A Highlight everything
Shift + Left Arrow or Right Arrow পরবর্তী letter হাইলাইট করতে ব্যবহৃত হয়
Ctrl + Shift + Left Arrow or Right Arrow পরবর্তী word হাইলাইট করার জন্য ব্যবহৃত হয়
Ctrl + Left Arrow or Right Arrow Navigate text cursor to next word without highlight
Home লাইনের প্রথমে যাওয়ার জন্য
End লাইনের শেষে যেতে ব্যবহৃত হয়
Page Up পেইজের উপরে যাওয়ার জন্য
Page Down পেইজের নিচে যাওয়ার জন্য

ওয়েব ব্রাউজ করার সময়ও আপনি শর্টকাট কী গুলি ব্যবহার করতে পারেন। ওয়েব ব্রাউজারগুলিতে নেভিগেট করতে আপনি ব্যবহার করতে পারেন এমন কিছু শর্টকাট রয়েছে।এগুলো হলো –

Shortcuts Descriptions
Ctrl + Tab পরবর্তী ট্যাবে স্যুইচ করতে
Ctrl + Shift + Tab পূর্ববর্তী ট্যাবে স্যুইচ
Ctrl + T নতুন ট্যাব ওপেন করতে
Ctrl + W বর্তমান ট্যাব ক্লোজ করতে
Ctrl + Shift + T পূর্বতর্তী ক্লোজ ট্যাব ওপেন করতে
Ctrl + R বর্তমান ওয়েবপেইজ রিফ্রেশ করতে
Ctrl + N নতুন ওয়েব browser window ওপেন করতে
Backspace Go back one page
Shift + Backspace Go forward one page

একটি কম্পিউটারকে দ্রুত পরিচালনার ক্ষেত্রে উইন্ডোজ কী-বোর্ড কমান্ড (keyboard shortcuts) জেনে রাখা অতি জরুরি। যেমন -কম্পিউটার দ্রুত অফ করা, যেকোন প্রোগ্রাম ওপেন করা, বন্ধ করাসহ যে কোন ধরনের পরিচালনা ক্ষেত্রে উইন্ডোজ কীবোর্ড শর্টকাট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই কিছু গুরুত্বপূর্ণ উইন্ডোজ কীবোর্ড শর্টকাট তুলে ধরা হলো-

Shortcuts Descriptions
Win+D উইন্ডোজে ওপেন থাকা প্রোগ্রাম শো/ হাইড করতে ব্যবহৃত হয়।
Win+E ফাইল এক্সপ্লোরার খোলা হয়।
Win+R রান প্রোগ্রাম ওপন করার কাজে ব্যবহৃত হয়।
Win+M সকল প্রকার ফাইল মিনিমাইজ করার কাজে ব্যবহৃত হয়।
Win+Tab টাস্ক ভিউ ওপেন করা হয়।
Win+Up Arrow Key খোলা ফাইল মেক্সিমাইজ করার কাজে ব্যবহৃত হয়।
Win+Break Key সিস্টেম প্রোপারটিজ ডায়লগ বক্স ওপেন করা হয়।
Alt+Tab ওপেনকৃত প্রোগ্রাম বাছাই করার কাজে ব্যবহৃত হয়।
Ctrl+Shift+Esc টাস্ট ম্যানেজার ওপেন করা হয়।
Ctrl+Esc স্টার্ট মেনু ওপেন করা হয়।
Alt+F4 চালু প্রোগ্রাম বন্ধ করার কাজে ব্যবহৃত হয়।

তো আজ এপর্যন্তই থাকলো। আশা করি কিবোর্ড কি? কিবোর্ড কত প্রকার ও কি? কি-বোর্ডের বিভিন্ন অংশ, লেআউট ইত্যাদি সম্পর্কে কিছুটা হলেও ধারণা দিতে পেরেছি। আর্টিকেলটি পড়ে ভালো লাগলে কমেন্ট করতে ভুলবেন না কিন্তু। ধন্যবাদ।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x