৩৬১টি চাকরির সাক্ষাৎকার দিয়ে রিফাত এখন উদ্যোক্তা

তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সবার ছোট ছেলে রিফাত এম হক। বাবা খোন্দকার মোজাম্মেল হক ‘গেদুচাচার খোলা চিঠি’খ্যাত কলামিস্ট ও একটি সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদক। মা ফারজানা নূর গৃহিণী। ছোটবেলা থেকেই রিফাত একটু আলাদা রকমের। যেকোনো কিছু জানার জন্য লেগে থাকতেন।

রিফাত এম হক ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আউটসোর্সিংয়ের কাজ করতে করতে হয়েছেন উদ্যোক্তা। দিনরাত খেটেখুটে তৈরি করেছেন শিখবে সবাই এবং ইন্সট্রাক্টরি নামের দুটি প্রতিষ্ঠান। রিফাত এখন একজন সফল শিক্ষক, উদ্যোক্তা, ইউআই-ইউএক্স ডিজাইনার এবং ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস ফাইভারে ‘ওয়েব এবং মোবাইল ডিজাইন’ ক্যাটাগরিতে একমাত্র বাংলাদেশি শীর্ষ ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করছেন।

শুরু যেভাব

তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশলের ছাত্র ছিলেন রিফাত। ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় তখন ভাবতেন স্নাতক হলেই বুঝি মোটা অঙ্কের চাকরি পাওয়া যাবে। ২০১২ সালে স্নাতক হওয়ার পর প্রায় ৩৬১টি চাকরির সাক্ষাৎকার দেন রিফাত। কোনো জায়গায় কাজের ওপর বেতন আবার কোনো জাগায় একদমই কম বেতন, কোথাও আবার প্রকৌশলবিদ্যা পড়ে বিক্রয়ের কাজ—অনেক জায়গায় তো চাকরিই হয়নি রিফাতের।

প্রায় এক বছর ধরে চাকরির বাজারটা বোঝার চেষ্টা করেন রিফাত। সবশেষে ৫ হাজার টাকা বেতনে রিফাতের কর্মজীবন শুরু হয়। সে সময় রিফাতের পাশে ছিলেন স্ত্রী জেসমিন। তাঁদের এখন একটি মেয়েও আছে, নাম ফালাক। যেহেতু রিফাতের পড়াশোনার সঙ্গে চাকরির ক্ষেত্রের কোনো মিল ছিল না, তাই দেড় বছরের মধ্যে একে একে তিনটা চাকরি ছেড়ে দেন।

চাকরি ছাড়ার পর ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট নিয়ে পড়াশোনা বেশি করে করেন রিফাত। এমনও সময় ছিল তখন, যখন বড় বড় দোকানে, রেস্তোরাঁয় বা করপোরেট অফিসে গিয়ে রিফাত বলতেন, কারও ওয়েবসাইট ডিজাইন করে দিতে হবে নাকি।

অনেকে বলতেন লাগবে, আবার অনেকে বলতেন এসব ভুয়া জিনিস নিয়ে আসবেন না। কোম্পানির ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য ওয়েবসাইট কতটা জরুরি, তা বোঝানোর চেষ্টা করতেন রিফাত। কখনো বাসে, কখনো হেঁটে মহাখালী থেকে পল্টনের বাসার দিকে ক্লান্ত হয়ে ফিরতে হতো রিফাতকে। নিজের কাজগুলোকে কীভাবে সবার সঙ্গে শেয়ার করবেন, সেই সুযোগ খুঁজতেন সব সময়।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x