রিকম্বিনেন্ট DNA তৈরী

খুব সহজেই তৈরী করুন রিকম্বিনেন্ট DNA

রিকম্বিনেন্ট DNAকি?

একটি DNA অনুর কাঙ্খিত দু জায়গা কেটে খন্ডটিকে আলাদা করে অন্য এক DNA অনুর নির্দিষ্ট জায়গায় সংযুক্ত করার ফলে যে নতুন ধরনের DNA অনু পাওয়া যায়, তাকে রিকম্বিনেন্ট DNA বলে।


রিকম্বিনেন্ট DNAতৈরীর প্রক্রিয়াকে বলা হয় রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তি। তাহলে রিকম্বিনেন্ট DNA তৈরি করি এবার-
১/ রিকম্বিনেন্ট DNA তৈরীর প্রথম পদক্ষেপ হল কাঙ্খিত DNA অনু নির্বাচন এবং নির্বাচনের পর কাঙ্খিত জীবের কোষ থেকে DNA কে পৃথক করতে হবে। আর এ পৃথকীকরণ এর জন্য সাধারনত CsCl বা সুক্রোজ এর দ্রবণ ব্যবহার করা হবে।

২/ কাঙ্খিত DNA এর প্রয়োজনীয় অংশ বহন করার জন্য একটি বাহক নির্বাচন করতে হবে। Agrobacterium tumefaciens ব্যাকটেরিয়া একটি উত্তম বাহক। ১নং এ বর্নিত কাঙ্খিত DNA এর নির্দিষ্ট অংশ, বাহকের প্লাসমিড DNA তে সংযুক্ত করতে হবে।
৩/সুনির্দিষ্ট রেস্ট্রিকশন এনজাইম প্রয়োগ করে কাঙ্খিত DNA এর নির্দিষ্ট অংশ কেটে নিতে হবে। একই এনজাইম প্রয়োগ করে বাহক DNA (যেমন- Agrobacterium tumefaciens এর প্লাসমিড DNA) হতেও অনুরুপ খন্ড কেটে নিতে হবে।

৪/ কাঙ্খিত DNA খন্ডকে পরে বাহকের প্লাসমিড DNA তে প্রতিস্থাপন করতে হবে (প্লাসমিড DNA হতে বের করে নেয়া অংশের ফাকা স্থানে)।  এখন DNA- ligase এনজাইম ব্যবহার করে, কাঙ্খিত DNA খন্ডকে প্লাসমিড DNA এর ফাকা স্থানে প্রতিস্থাপন করে সংযুক্ত করতে হবে। কাঙ্খিত DNA খন্ড প্লাসমিড DNA তে সংযুক্ত হওয়ায় রিকম্বিনেন্ট DNA তৈরী হল।

৫/রিকম্বিনেন্ট DNA অনুকে পরে কোন পোষক ব্যাকটেরিয়াতে প্রবেশ করতে হবে। প্লাসমিড গ্রহনকারী এই ব্যাকটেরিয়াকে বলা হয় ট্রান্সফরমড ব্যাকটেরিয়া।

৬/সাধারণত  রিকম্বিনেন্ট DNA প্রস্তুত করার কাজটি সফলভাবে হয়েছে কিনা তা প্রমান করার জন্য প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করে দেখতে হবে। রিকম্বিনেন্ট DNA যুক্ত ঐ ব্যাকটেরিয়া Agar medium এ জন্মিয়ে সংখ্যাবৃদ্ধি করতে হবে।

রিকম্বিনেন্ট DNA কাঙ্খিত জিন বহন করছে কিনা তা শনাক্ত করতে হবে আর এটি করা হয় জেনেটিক প্রোব উপায়ে (genetic probe device)। এটি মেটাল ডিটেক্টর এর তুলনীয় একটি উপায়। জেনেটিক প্রোব হল রেডিও এক্টিভলি চিহ্নিত টার্গেট/কাঙ্খিত জিনের পরিপুরক এক স্ট্র্যান্ডবিশিষ্ট DNA বা mRNA।

যাইহোক, কাঙ্খিত জিনসমৃদ্ধ কোন কাঙ্খিত উদ্ভিদ সৃষ্টি করতে হলে কাঙ্খিত জিনকে ঐ উদ্ভিদকোষে টিস্যু কালচারের মাধ্যমে প্রবেশ করাতে হবে।
৮/ সঠিকভাবে প্রস্তুতকৃত রিকম্বিনেন্ট DNA পরে টিস্যুকালচার প্রক্রিয়ায় কাঙ্খিত উদ্ভিদের কোষে প্রবেশ করাতে হবে। পরে ঐ কোষ থেকে নতুন ও কাঙ্খিত জিন সহ নতুন প্রকৃতির উদ্ভিদ সৃষ্টি করা হয়।এবং সংখ্যাবৃদ্ধি করা হয়। এরূপ উদ্ভিদকে বলা হয় ট্রান্সজেনিক উদ্ভিদ।

শেষ কথা:
আশা করি আপনাদের এই আর্টিকেলটি পছন্দ হয়েছে। আমি সর্বদা চেষ্টা করি যেন আপনারা সঠিক তথ্যটি খুজে পান। যদি আপনাদের এই “রিকম্বিনেন্ট DNA” আর্টিকেলটি পছন্দ হয়ে থাকলে, অবশ্যই ৫ স্টার রেটিং দিবেন।

5/5 - (44 votes)

I am a blogger and educator with a passion for sharing knowledge and insights with others. I am currently studying for my honors degree in mathematics at Govt. Edward College, Pabna.