সমাজকর্ম
1 min read

মাদকাসক্তি কি | মাদকাসক্তির কারণ এবং মাদকাসক্তি প্রতিরোধে করণীয়

মাদকাসক্তি কি

বর্তমান বিশ্ব বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি পর্যায়েই মানুষকে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। তেমনি একটি মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে মাদকাসক্তি (Drug Addiction)। বিশ্বের ধনীদরিদ্র সব দেশই মাদকাসক্তি সমস্যার শিকার। এটি নিছক একটি মানসিক সমস্যা নয়, বরং এর সাথে রয়েছে আর্থসামাজিক বহুবিধ সমস্যার অবিচ্ছেদ্য যোগসূত্র। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশও মাদকাসক্তির শিকারে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের যুবসমাজের এক বিরাট অংশ এ সমস্যায় জর্জরিত। ফলে সমাজে দেখা দিচ্ছে নানারকম অশান্তি, হতাশা, বিশৃঙ্খলা, অন্যায় অত্যাচার ও অবিচার। এ সমস্যা বর্তমান আধুনিক সুস্থ সমাজের জন্য এক বিরাট অভিশাপ। বিশ্বব্যাপী মাদকাসক্তির বিরূপ প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি ও জনমত জাগ্রত করার লক্ষ্যে ১৯৮৯ সাল হতে জাতিসংঘ ১৬ জুনকে আন্তর্জাতিক মাদক প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালন করছে

মাদকাসক্তি কাকে বলে

মাদকাসক্তি একটি স্নায়বিক ধারণা। তবে এর প্রভাবে নেশাগ্রস্ত ব্যক্তির আচার আচরণে অসঙ্গতি দেখা দেয়। তাই মাদকাসক্তি বলতে বুঝায় কোন ব্যক্তি যখন প্রাকৃতিক অথবা বৈজ্ঞানিক উপায়ে তৈরি কোন ওষুধ কারণ ছাড়া বারবার সেবন করে এবং উক্ত ওষুধের উপর শারীরিক বা মানসিকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়ে তাকেই মাদকাসক্তি বলা হয়

মাদকাসক্তির বিভিন্ন সংজ্ঞা

মাদকাসক্তির সংজ্ঞা বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। নিম্নে এ বিষয়ে কয়েকটি সংজ্ঞা প্রদান করা হল,
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এর সংজ্ঞানুযায়ী মাদকাসক্তি বা নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি বলতে “যদি কোন ব্যক্তি অত্যধিক পরিমাণে কোন ড্রাগ বারবার গ্রহণ করে এবং ফলশ্রুতিতে এমন কোন অবস্থায় পৌঁছায় যে, অবস্থা নিজের ও সমাজের জন্য ক্ষতিকর, তবে তাকে আসক্ত বলা হয়।”

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এর আরও একটি সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, “নেশা বা মাদকাসক্তি এমন একটি মানবিক, কখনও বা শারীরিক প্রতিক্রিয়া যা, জীবিত প্রাণী ও মাদকের মিথষ্ক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়। প্রতিক্রিয়ার উল্লেখযোগ্য লক্ষণগুলো হল, মাদকদ্রব্যটি কমবেশি নিয়মিত গ্রহণের দুর্দমনীয় ইচ্ছা, মাদকদ্রব্য সৃষ্টির ফল বা প্রতিক্রিয়া পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা অথবা মাদকদ্রব্য না থাকার অস্বস্তি এড়ানোর প্রচেষ্টা।”

আভিধানিক ব্যাখ্যানুযায়ী, “Addiction is physiological and psychological dependence on a chemical that results in increased tolerance and in withdrawal symptoms when the substance is unavailable.”

অন্যভাবে একে সংজ্ঞায়িত করলে, “Drug addiction means strong attraction for any harmful thing. In this sense taking tea, coffee, smoking and drinking, alcohol may be called addiction. Nowadays drug addiction means taking opium, heroine, cocaine, morphia etc.”

বাংলাদেশে ১৯৮৯ সালে প্রণীত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের কার্যকরী সংজ্ঞায় মাদকাসক্ত বলতে, “শারীরিক বা মানসিকভাবে মাদকদ্রব্যের উপর নির্ভরশীল ব্যক্তি বা অভ্যাসবশে মাদকদ্রব্য ব্যবহারকারীকে বুঝানো হয়েছে।”

উপরিউক্ত সংজ্ঞার আলোকে বলা যায়, মাদকাসক্তি একটি বদভ্যাস, যা কোন হতাশাগ্রস্ত ব্যক্তি তার ক্ষণিকের মজা বা স্বাদ গ্রহণের জন্য মাদকদ্রব্যের উপর শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্ভরশীল হয়ে এবং আস্তে আস্তে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

মাদকাসক্তির কারণ

১. অসৎ সঙ্গ

বাংলাদেশে মাদকাসক্তির একটি অন্যতম প্রধান কারণ অসৎ সঙ্গ। ডা. ইকবাল কবীর ‘প্রথম আলোতে বলেছেন, “স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণরা অধিকাংশই মাদক গ্রহণ করে বন্ধুদের প্ররোচনায় কৌতূহল মিটাতে। পাড়া, মহল্লা, ক্লাবের খারাপ সংসর্গ, আড্ডা থেকে এটি ছড়িয়ে থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নেশা শুরুর আগে এর ভয়াবহ পরিণতির কথা জানা থাকে না।” (২৯ আগস্ট, ২০০৪)। সঙ্গ দোষের কারণে প্রতিনিয়ত কোমলমতি শিক্ষার্থীরাও মাদকের ছোবলে পড়ে জীবন দুর্বিষহ করে তুলছে।

২. হতাশা

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ‘প্রথম আলো’তে জানান, “মাদকাসক্তের সংখ্যা বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় সামাজিক কারণ হল যুবসমাজের মধ্যে হতাশা।” (২৮ নভেম্বর, ২০০৪)। যুবসমাজ প্রধানত বেকারত্ব, প্রেমে ব্যর্থতা, পারিবারিক বিশৃঙ্খলা, দারিদ্র্য, একাকিত্ব থেকেই এ হতাশাবোধের সৃষ্টি। তারা হতাশা দূর করার জন্য ভ্রান্ত মাদকাসক্তি গ্রহণে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে।

৩. মাদকদ্রব্যের সহজপ্রাপ্যতা

বাংলাদেশে মাদকাসক্তের একটি অন্যতম কারণ হল মাদকদ্রব্যের সহজলভ্যতা। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, নেপাল, মায়ানমারে মাদকাসক্তের প্রবণতা খুব বেশি। এসব দেশ থেকে সীমান্ত পেরিয়ে চোরাপথে এ দেশে প্রচুর মাদকদ্রব্য আসে। একশ্রেণীর ব্যবসায়ী ও সরকারি কর্মকর্তার দুর্নীতির কারণে বাংলাদেশে অবাধে মাদকদ্রব্য আসছে। কেউ ইচ্ছা করলে পাঁচ টাকার বিনিময়ে গাঁজা সেবন করতে পারে। মাদকদ্রব্যের এরূপ সহজপ্রাপ্যতা যুবসমাজকে সহজেই মাদকাসক্তের পথে ধাবিত করছে।

৪. বেকারত্ব

বেকারত্ব বাংলাদেশের যুবকদের জন্য চরম অভিশাপ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। বেকার যুবক সমাজের কাছে বোঝা, নিজের কাছেও সে প্রবঞ্চনার শিকার। বেকারত্ব জীবন ব্যক্তিকে ক্রমশ কর্মবিমুখ এবং হতাশ করে তোলে। দেশে মাদকাসক্তদের বেশিরভাগই বেকার বা অর্ধবেকার ।

৫. সামাজিক অস্থিরতা

সামাজিক অস্থিরতা থেকেও মাদকাসক্তের ঘটনা আমাদের দেশে ঘটছে। জাতিতে জাতিতে দ্বন্দ্ব, পারিবারিক সংঘাত, অর্থনৈতিক মন্দা অবস্থা, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করে। এরূপ সামাজিক অস্থিরতা থেকে মাদকাসক্তি বৃদ্ধি পায় ।

৬. অসাধু ব্যবসায়ী

বাংলাদেশে একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী মাদক ব্যবসায় জড়িত। তারা মাদকদ্রব্যকে সমাজের প্রতিটি স্থানে পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে। মাদক ব্যবসায় খুব লাভজনক পর্যায়ের। ব্যবসায়ীরা অল্প সময়ে অধিক মুনাফা লাভের জন্য এ ধরনের ব্যবসায় অর্থ বিনিয়োগ করছে।

৭. বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান

আন্তর্জাতিক মাদক পাচারের রুট হিসেবে পরিচিত গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল ও গোল্ডেন ক্রিসেন্ট বাংলাদেশের খুব কাছাকাছি অবস্থিত। এসব রুটের কাছাকাছি বাংলাদেশ অবস্থিত হওয়ায় এ দেশে মাদকের সহজলভ্যতা সৃষ্টি এবং মাদকাসক্তি প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

৮. পিতা-মাতার মাদক গ্রহণ

বাংলাদেশের অনেক দম্পতিই (পরিবারেই) মাদকদ্রব্য গ্রহণ করে। তাদের সন্তানেরাও ক্রমান্বয়ে মাদক সেবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। আমাদের দেশে যশোর, ঝিনাইদহসহ বিভিন্ন জায়গায় একই পরিবার সদস্যদের সবাই মাদকদ্রব্য গ্রহণ করে।

৯. আকাশ সংস্কৃতি (অপসংস্কৃতি)

আমাদের দেশে ব্যাপকভাবে আকাশ সংস্কৃতি প্রবেশ করেছে। তাছাড়া কুরুচিকর পত্রিকা, ইন্টারনেটের সেন্সরবিহীন ওয়েবসাইট, অশ্লীল দেশী-বিদেশী ছায়াছবি, নাটক, সিনেমায় অবাধে মাদকদ্রব্য গ্রহণের দৃশ্য যুবসমাজকে ভুল পথে পরিচালিত করছে। এভাবে দেশে মাদকাসক্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

১০. সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়

আধুনিক পাশ্চাত্য শিক্ষা, পরিবারের ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের অবনতি, পিতা-মাতা ও সন্তান সম্পর্কের অবনতি প্রভৃতি কারণে যুবসমাজ মূল্যবোধের অবক্ষয়ের শিকার। আমাদের সমাজ থেকে মূল্যবোধ প্রায় বিদায় নিয়ে চলে গেছে অসীম আকাশের শূন্যতায়। সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে এ দেশে যুবসমাজ মাদকাসক্তিকে সহজেই গ্রহণ করছে। তারা মাদকাসক্তি গ্রহণকে স্বাভাবিক প্রয়োজন বা স্ট্যাটাস বজায় রাখার উপায় হিসেবেও গ্রহণ করছে।

১১. ব্যক্তিত্বের ভিন্নতা

আমাদের সমাজে একই পরিবারের একটি সন্তান মাদকদ্রব্য গ্রহণ করে আবার অন্য সন্তান মাদকদ্রব্য গ্রহণ করে না। মূলত সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের ফলশ্রুতিতে মানুষের ব্যক্তিত্বের ভিন্নতা দেখা যায়। এভাবে নির্দিষ্ট ব্যক্তিত্বের লোকেরা মাদক গ্রহণ করে।

১২. মানসিক অবস্থা

সমাজে মানুষের মানসিক অবস্থা মাদকাসক্তির কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। কোন কোন ব্যক্তির নাজুক মানসিকতা থেকে মাদকাসক্তির উদ্ভব ঘটে। ব্যক্তি মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি না পেলে ভ্রান্ত সমাধানের পদ্ধতি হিসেবে মাদকাসক্তিকে বেছে নেয়।

১৩. ধর্মীয় মূল্যবোধের অবক্ষয়

পৃথিবীতে ধর্মের নামে রাজনীতি, সমাজনীতি, সংস্কৃতি, আধিপত্যবাদ পরিচালিত হলেও মানুষ ধর্ম থেকে অনেক দূরে সরে পড়েছে। ধর্মের মহৎ শক্তি থাকলেও মানুষ ধর্মবিমুখ হয়ে পড়েছে। ইসলামসহ পৃথিবীর অধিকাংশ ধর্মে মাদককে নিষিদ্ধ করা হলেও মানুষ ধর্মীয় মূল্যবোধের অভাব হেতু মাদকাসক্তির পথে পা বাড়াচ্ছে।

মাদকাসক্তি প্রতিরোধে যা করণীয়

বাংলাদেশে শিশু, কিশোর (ছেলে, মেয়ে সবাই), যুবক, বৃদ্ধ, ছাত্র, শ্রমিক, চাকরিজীবী, কৃষক, রাজনীতিবিদ, উপজাতি, যৌনকর্মী, শিল্পপতি, ব্যবসায়ী, কেরানিসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষ মাদকাসক্তির কবলে আচ্ছন্ন। তাই সমাজকর্মীকে মাদকাসক্তি নিরাময়ে কতকগুলো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যেমন-

১. প্রচার মাধ্যমে প্রচার

‘মাদকাসক্তি’ সমাজের জন্য চরম সমস্যা এ সত্যটিকে বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার করতে হবে। বেতার, টেলিভিশন সংবাদপত্রসহ বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে মাদকাসক্তির কুফলগুলো বেশি বেশি প্রচার করে জনগণকে সচেতন করে তুলতে হবে।

২. পথনাটক

মাদকাসক্তির ক্ষতিকর দিক, সমাজে এর ক্ষতিকর প্রভাব পথনাটকের মাধ্যমে উপস্থাপন করতে হবে। জনগণের দ্বারপ্রান্তে এভাবে পথনাটকের মাধ্যমে মাদকের ক্ষতিকর দিকগুলো ফুটিয়ে তুলতে হবে।

৩. ডকুমেন্টারি সিনেমা প্রদর্শন

বাংলাদেশে সিনেমার প্রতি মানুষের বিমুখ প্রবণতা থাকলেও ডকুমেন্টারি সিনেমা প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। একজন মানুষ মাদকের ছোবলে পড়ে কিভাবে ধীরে ধীরে তার সবকিছু ক্ষয় করে ফেলে সে প্রসঙ্গে ডকুমেন্টারি সিনেমা (প্রামাণ্য চিত্র) তৈরি করে জনসমক্ষে প্রদর্শনের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

৪. ধর্মীয় উপাসনালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলোচনা

ধর্মীয় উপাসনালয় যেমন মসজিদ, মন্দির, গির্জায় ইমাম ও পুরোহিতদের মাধ্যমে মাদকাসক্তির ক্ষতিকর দিকগুলো জনগণের মধ্যে পৌঁছে দিতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষকদের বিশেষ সহায়তায় মাদকাসক্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে।

৫. গবেষণা পরিচালনা

ব্যাপক ও কার্যকর গবেষণা পরিচালনার মাধ্যমে মাদকাসক্তি নিরাময়ের গ্রহণযোগ্য উপায় বের করতে হবে। তবে যে বিষয়টির প্রতি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন সেটি হল গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফলকে কার্যকরী করে তুলতে হবে।

৬. মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র স্থাপন

মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র স্থাপনের জন্য সমাজকর্মীকে সরকারি, বেসরকারি, বৈদেশিক সংস্থাকে পরামর্শ প্রদান ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে আগ্রহী হতে হবে।

৭. চিকিৎসা পরবর্তী পুনর্বাসন

মাদকাসক্তদের সঠিক চিকিৎসা প্রদানের মাধ্যমে সুস্থ করে তোলা সম্ভব। সমাজকর্মীকে চিকিৎসা পরবর্তী সামাজিক পুনর্বাসনের জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

Rate this post