আমাদের মাঝে এমন অনেক লোক আছে যারা ইনশাআল্লাহ অর্থ সম্পর্কে জানে না। আবার অনেকে ইনশাআল্লাহ লিখার নিয়মও জানে না। তাই ইনশাআল্লাহ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পোস্টটির সঙ্গেই থাকুন। আজকের এ আর্টিকেলটি পড়ে আপনি নিম্নের বিষয়গুলো জানতে পারবেন –

ইনশাআল্লাহ অর্থ কি? ইনশাআল্লাহ উত্তর কি?

আমরা প্রায়ই ইনশাআল্লাহ শব্দটি ব্যবহার করে থাকি। এর অর্থ হলো আল্লাহর ইচ্ছা বা আল্লাহ যদি চান। ভবিষ্যতে কাজ করার জন্য যখন কেউ কথা দেয় তখন ইনশাআল্লাহ বলা হয়। মহান আল্লাহ তা’আলার ইচ্ছে ছাড়া গাছের একটি পাতাও নড়ে না। তাই কখন কি হবে আল্লাহ ছাড়া কেউ বলতে পারে না। এজন্য যখনি আপনি কোন কাজের জন্য কাউকে কথা দিবেন, তখন কিন্তু আপনি জানেন না আপনি কাজটি শেষ করতে পারবেন কিনা। কাজটি করে যেরকম ফলাফল আশা করছেন সেরকম নাও পেতে পারেন। কারণ সবই আল্লাহ তা’আলার ইচ্ছা।

তিনিই (আল্লাহ) ভালো জানেন কিসে আপনার ভালো আর কিসে আপনার মন্দ। তাই বলে কিন্তু বসে থাকলে হবে না। আপনাকে আপনার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। সর্বাবস্থায় আল্লাহর উপর ভরসা রাখতে হবে। কারণ আল্লাহ যা করবেন ভালোর জন্যই করবেন। এ কথার উপর পূর্ণ বিশ্বাস রাখতে হবে। ইনশাআল্লাহ অর্থ হলো আল্লাহ যদি চান। তাই ভবিষ্যতের কোন কাজ বুঝাতে অবশ্যই ইনশাআল্লাহ শব্দটি ব্যবহার করবেন। ইনশাআল্লাহ বলা সুন্নত।

ইনশাআল্লাহ বলতে হয় কেন?

আল্লাহ তা’আলা আমাদের একমাত্র তার ইবাদাত করার জন্যই সৃষ্টি করেছেন। পৃথিবীতে যা হচ্ছে সবকিছুই আল্লাহ পাক নিয়ন্ত্রণ করেন। অন্য কার পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না। তাই আল্লাহ যেহেতু সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন, সেজন্য আমাদের পক্ষে জানা অসম্ভব ভবিষ্যতে আমাদের জীবনে কি হতে চলেছে। বিভিন্ন সময় দেখা যায় আমরা কাউকে কোন কাজের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। কিন্তু আমরা জানি না সেটা আদৌ পূরণ করতে পারব কিনা। যেমন – আমরা বলে থাকি আগামীকাল বা পরশু অমুক সময়ে আপনার সাথে সাক্ষাৎ করব। সে সময় আসার আগে এমন কোন ঘটনা ঘটতে পারে যেকারণে আমি সাক্ষাৎ করতে পারব না অথবা আমি মারা যেতে পারি।

তাই এসব প্রতিশ্রুতি দেওয়ার সময় ইনশাআল্লাহ বলতে হয়। এ নিয়ে আমাদেরকে আল্লাহ তা’আলা সতর্ক করে দিয়েছেন। কোরআন ও হাদিসের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে, একবার নবী (সাঃ) ইনশাআল্লাহ বলতে ভুলে গিয়েছিলেন। তখন সে ব্যাপারে আল্লাহ তা’আলা সতর্ক বার্তা দিয়েছিলেন।

মহান আল্লাহ তা’আলা বলেন : ‘ইনশাআল্লাহ’ কথাটি না বলে। যদি (কথাটি বলতে) ভুলে যাও, তাহলে (যখনই তোমার স্মরণে আসবে) তোমার রবকে স্মরণ কোরো এবং বলো, সম্ভবত আমার রব আমাকে এর (গুহাবাসীর বিবরণ) চেয়ে সত্যের নিকটতর পথনির্দেশ করবেন। [সুরা : কাহফ, আয়াত : ২৩-২৪ ]

তাই আমাদের উচিত কোন কাজ অথবা কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পূর্বে ইনশাআল্লাহ শব্দটি সংযুক্ত করে নেওয়া।

কোথায় কোথায় ‘ইনশাআল্লাহ’ বলা নিষিদ্ধ?

যেকোনো বৈধ কাজে ইনশাআল্লাহ বলা ফজিলতপূর্ণ। তবে কোন অবৈধ কাজ করার আশা ব্যক্ত করে ইনশাআল্লাহ বলার সুযোগ নেই। এটি করা হারাম। যেমন – চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, দুর্নীতি, ব্যভিচার, সন্ত্রাসী ইত্যাদি কাজ করার ইচ্ছে করে ইনশাআল্লাহ বলা সম্পূর্ণ হারাম।

আবার কিছু কিছু বৈধ কাজেও ইনশাআল্লাহ ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। যেমন – এমন কোন ভাষায় দোয়া করা (হে আল্লাহ আমাকে অমুক জিনিস দান করো। তুমি চায়লে ক্ষমা কর, আরোগ্য দান কর ইত্যাদি)। কারণ এর মাঝে এক ধরণের অবজ্ঞা অবহেলা প্রতিভাত হয়। অথচ নবী (সাঃ) ইরশাদ করেন, “তোমাদের কেউ যেন দোয়ায় এভাবে না বলে—হে আল্লাহ, তুমি চাইলে আমাকে ক্ষমা করো। তুমি চাইলে আমার প্রতি দয়া করো। বরং দৃঢ়তার সঙ্গে দোয়া করো। কেননা আল্লাহ যা চান তা-ই করেন। তাঁকে বাধ্য করার মতো কেউ নেই।” (বুখারি ও মুসলিম)

ইনশাআল্লাহ লেখার সঠিক নিয়ম – ইনশাল্লাহ নাকি ইনশাআল্লাহ  (In Shaa Allah)

ইনশাআল্লাহ বানান লিখা নিয়ে কিছু বিতর্ক রয়েছে। অনেকের ধারণা ইনশাআল্লাহ লিখা উচিত নয়। এর কারণ হলো – তারা ইনশাআল্লাহ এবং ইনশাইল্লাহ এর মাঝে পার্থক্য করতে পারেন না। ইনশাআল্লাহ অর্থ হলো আল্লাহ যদি চান । আর ইনশাইল্লাহ অর্থ হলো ‘ Create Allah’. এ থেকে বুঝা যাচ্ছে ভবিষ্যতে কিছু করার জন্য আপনাকে ইনশাআল্লাহ বলতে হবে। আরবিতে ৩ ভাগে ভাগ করে ইনশাআল্লাহ লিখা হয়। তাই সবচেয়ে বেশি ভাল হয় আপনি যদি ইনশাআল্লাহ শব্দটিকে “ইন শা আল্লাহ” এভাবে ভাগ করে লিখেন। আপনি যদি আরও শুদ্ধভাবে লিখতে চান তাহলে আরবি অনুযায়ী লিখতে পারেন “ইন শা’ আল্লাহ”। এর কারণ হলো আরবিতে শা এর পর একটি হামজা আছে যা বাংলায় লিখার সময় শা’ এভাবে লিখতে হয়।

ইনশাআল্লাহ লিখার ইংরেজি নিয়ম হলো In Shaa Allah. ইংরেজিতে আরবি অনুযায়ী এটায় সবচেয়ে শুদ্ধ উপায়। এক্ষেত্রেও কিছুটা বিতর্ক রয়েছে। ইংরেজি মাতৃভাষার মানুশজন In Shaa Allah এভাবে লিখলেও ওনেক সময় দেখা যায় In কে প্রেপজিশন মনে করেন। এজন্য In Shaa Allah এর পরিবর্তে বর্তমানে InshaAllah এভাবে লিখা হয়। মূলত এভাবে লিখলেও অর্থের কোন পরিবর্তন হয় না। কিন্তু আরবি নিয়ম অনুযায়ী শুদ্ধভাবে লিখার নিয়ম হলো In Shaa Allah.

ইনশাআল্লাহ সঠিক বাংলা বানান – ইনশাল্লাহ নাকি ইংশাআল্লাহ

আরবি অনুযায়ী ইনশাআল্লাহ এর সঠিক বানান হলো “ইন শা’ আল্লাহ”। এটিকে আরবিতে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। যার অর্থ হলো আল্লাহ যদি চান। তাই সঠিক বানান হলো ইনশাআল্লাহ। ইনশাল্লাহ কিংবা ইংশাআল্লাহ হলো ভুল বানান।

ইনশাআল্লাহ ইংরেজি কি?

ইনশাআল্লাহ আরবি শব্দ। যার অর্থ হলো আল্লাহর ইচ্ছা বা আল্লাহ যদি চান। ইনশাল্লাহ বলে কোন শব্দ নেই। সঠিক বানান হলো ইন শা’ আল্লাহ। আর ইংরেজিতে সঠিক বানান হলো In Shaa Allah.

ইংশাআল্লাহ বলা সঠিক কেন? অন্য গুলো বলা সঠিক নয় কেন?

মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ হলো আল কোরআন। এটি আরবি ভাষায় নাযিল হয়। তাই আমাদের আরবি ভাষার বানান উচ্চারণ সম্পর্কে সতর্ক হওয়া জরুরি। কারণ ভুল বানান লিখে ভুল উচ্চারণ করলে আসল অর্থের পরিবর্তন হয়ে যায়। উদাহরণস্বরূপ সূরা ইখলাসের কথা বলতে পারি।

قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ উচ্চারণঃ ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ। এর অর্থঃ বলুন, আল্লাহ এক। কিন্তু এখানে যদি আমরা ق (ক্বফ) হরফকে ك (কা্‌ফ) এর মত করে উচ্চারণ করি, তাহলে এর অর্থ দাঁড়ায়, “খাও, আল্লাহ এক” (নাউজুবিল্লাহ! আস্তাগফিরুল্লাহ !)

দেখলেন তো , কেন শুদ্ধভাবে আরবি উচ্চারণ করা জরুরী?

ছোটবেলা আমরা অনেকেই মাদরাসার মক্তব বা নুরানী বিভাগে পড়েছি যে,তাজবীদ এর নিয়মানুসারে নুন সাকিন ও তানভীন এর পরে ইখফার ১৫টি হরফের যেকোনো একটি হরফ থাকলে নুন সাকিন ও তানভীন কে নাকের ভেতর লুকিয়ে বা ইখফা করে গুন্নাহর সাথে পড়তে বা উচ্চারণ করতে হয়। যেমনঃ ﻣِﻦْ ﺷَﺮِّ (উচ্চারণ হওয়ার কথা, মিন – শাররি কিন্তু হচ্ছে মিং – শাররি) , إِنْ شَاءَ (উচ্চারণ হওয়ার কথা, ইনশা, কিন্তু হচ্ছে ইং – শা) , فَلَنْ تَجِدَ (উচ্চারণ হওয়ার কথা, ফালান তাজিদা, কিন্তু হচ্ছে ফালাং – তাজিদা)

ইখফার ১৫টি হরফ হলোঃ ت ث ج د ذ ز س ش ص ض ط ظ ف ق ك

তো আজ এখানেই শেষ করছি। আশা করি ইনশাআল্লাহ নিয়ে কিছুটা হলেও বুঝাতে পেরেছি। ইনশাআল্লাহ বলা সুন্নাত। এর মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদাত করা হয়। আপনি যত বেশি ইবাদাত করবেন তত বেশি নেক আমল লাভ করতে পারবেন এবং পুরস্কার স্বরূপ পরকালের জীবন সুখের হবে।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x