পৃথিবীর ইতিহাসে যে কয়েকটি বংশ সবচেয়ে বেশি পরিচিত তাদের মধ্যে হযরত আবু বকর (রা) এর কুরাইশ বংশ অন্যতম।
কুরাইশ বংশের একটি শাখার নাম বনি তায়েম। এই বনি তায়েম বংশেই ৫৭৩ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন হযরত আবু বকর (রা)
সিদ্দিক আরবী শব্দ এর আভিধানিক অর্থ হচ্ছে সত্যবাদী,সত্যবাদিতা।
সত্য কে প্রতিষ্ঠা করার আপ্রাণ চেষ্টার নামই হলো সত্যবাদিতা। যিনি সত্য কে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সচেষ্ট তাকে সিদ্দিক বলা হয়।

সিদ্দিক বলার কারণঃ

১) অকপটে ইসলাম গ্রহণ

মক্কা থেকে প্রত্যাবর্তনের পর আবু জাহেল, উতবা, শায়বাসহ আরও কয়েকজন হযরত আবু বকর (রা) এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। তারা তাকে বলে আবু তালিবের ভ্রাতুষ্পুত্র নিজেকে নবী বলে ঘোষণা করেছে।
আমরা তোমার অপেক্ষায় রয়েছি যে, তুমি ফিরে এলে কিভাবে এই উৎপাত কে ঠেকানো যায় সে পরামর্শ করবো।
তাদের এই কথা শুনে হযরত আবু বকর (রা) নবী গণের সরদার হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর সাথে সাক্ষাৎ করতে যান। হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর মুখে সব কথা শুনে তৎক্ষণাৎ মুসলমান হয়ে যান।
তিনিই বয়স্ক পুরুষদের মধ্যে প্রথম ঈমান আনেন।

২) মিরাজের ঘটনাকে সত্য বলে স্বীকার করা

৬২০ খ্রিষ্টাব্দে মহানবী (সাঃ) রাতে প্রথমে কাবা শরীফ থেকে জেরুজালেমে অবস্থিত বায়তুল মুকাদ্দাস বা মসজিদুল আকসায় যান তারপর সেখান থেকে বোরাক নামক বিশেষ বাহনের মাধ্যমে জিবরাঈল (আঃ) এর সাথে ঊর্ধ্বাকাশে গমন করেন। তারপর প্রথম আসমানে হযরত আদম (আঃ) এর সাথে দেখা হয়। তাঁর সাথে সালাম বিনিময় করেন এবং কথা বলেন।
তারপর দ্বিতীয় আসমানে ইয়াহিয়া (আঃ) এবং ঈসা (আঃ) এর সাথে সাক্ষাৎ ও সালাম বিনিময় করেন।
তৃতীয় আসমানে ইউসুফ (আঃ) এর সাথে সাক্ষাৎ ও সালাম বিনিময় করেন। চতুর্থ আসমানে ইদ্রিস (আঃ) এর সাথে সাক্ষাৎ ও সালাম বিনিময় করেন। পঞ্চম আকাশে হারুন (আঃ) এর সাথে সাক্ষাৎ ও সালাম বিনিময় করেন। ষষ্ঠ আকাশে মুসা আঃ এর সাথে সাক্ষাৎ হয়। তাঁর সাথে সালাম বিনিময় এবং কথোপকথন হয়।

সপ্তম আসমানে মুসলিম জাতির পিতা ইবরাহীম (আঃ) এর সাথে সাক্ষাৎ হয়। তাঁর সাথে সালাম বিনিময় এবং কথোকপথন হয়।
এরপর বায়তুল মামুর পরিদর্শন করেন যেখানে প্রতিদিন ইবাদতের জন্য ৭০ হাজার ফেরেশতা প্রবেশ করে। আর যে দল একবার প্রবেশ করে সেই দল আর দ্বিতীয় বার প্রবেশ করার সুযোগ পায় না। বায়তুল মামুর হচ্ছে ফেরেশতাদের কাবা। এটি দুনিয়ার কাবার ঠিক উপরে অবস্থিত।
তারপর সিদরাতুল মুনতাহা নামক কুল বৃক্ষের ঐখানে যান। তারপর তিনি মহান আল্লাহ তায়ালার সাক্ষাৎ লাভ করেন।
তারপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নিয়ে আসেন।

সিদ্দিক উপাধি

পরের দিন মসজিদে নববীতে মিরাজের এই ঘটনা তিনি সকলের সামনে বর্ণনা করলে কেউ তাকে বিশ্বাস করছিলো না।
সমবেত অমুসলিমরা বিভিন্ন ধরণের বিরুপ মন্তব্য করছিলের।
কিন্তু, খলিফা হযরত আবু বকর (রা) এই ঘটনা শোনার সাথে সাথে তা সত্য বলে স্বীকার করেন।
এ কারণেই তাকে রাসূলুল্লাহ (সঃ) তখন সিদ্দিক উপাধি দেন।

হযেরত আবু বকর (রা) নিজে সত্যবাদী ছিলেন এবং সত্য প্রতিষ্টার জন্য কাজ করে গেছেন।
হযরত আবু বকর (রা) এর জীবন থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার রয়েছে।
হযরত আবু বকর (রা) ইসলাম কে প্রতিষ্ঠার জন্য এবং মিথ্যা ধর্ম প্রতিহত করার জন্য নিজের সকল সম্পত্তি দান করে দেন।
আমাদের সকলের হযরত আবু বকর (রা) এর মতো সত্যবাদীদানশীল হওয়া উচিত।

লেখকঃ মুসাফির সাজ্জাদ

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x