রোমান সংখ্যা হল প্রাচীন রোমে উদ্ভূত সংখ্যা পদ্ধতি। পুরো ইউরোপ জুড়ে মধ্যযুগ পর্যন্ত লিখার জন্য এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হতো। এ সংখ্যার ব্যবহার রোমান সাম্রাজ্যের পতনের পরেও অব্যাহত থাকে। ১৪শ শতাব্দীর পর থেকে, রোমান সংখ্যার পরিবর্তে আরও বেশি সহজ ও সুবিধাজনক আরবি সংখ্যার ব্যবহার শুরু হয়। কিন্তু এই প্রক্রিয়াটি একেবারে শেষ হয়ে যায় নি। বর্তমানেও অনেক ছোটখাটো কাজে এ সংখ্যার ব্যবহার প্রচলিত আছে।

রোমান সংখ্যা লিখার ৭ টি মূল চিহ্ন

রোমান সংখ্যাগুলো লাতিন বর্ণমালা থেকে অক্ষরের সমন্বয়ে উপস্থাপন করা হয়। বর্তমান ব্যবহৃত হিসাবে, এ সংখ্যা লিখার ক্ষেত্রে সাতটি চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। এর প্রতিটির একটি নির্দিষ্ট পূর্ণমান রয়েছে। নিম্নে রোমান সংখ্যা লিখার ৭ টি মূল চিহ্ন দেওয়া হলো–

  • ১ – |
  • ৫ – V
  • ১০ – X
  • ৫০ – L
  • ১০০ – C
  • ৫০০ – D
  • ১০০০ – 1000

রোমান সংখ্যা লেখার নিয়ম

রোমান পদ্ধতি লিখার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় লক্ষ্য রাখা উচিত। এগুলো হলো–

  • এ সংখ্যা লিখার ক্ষেত্রে V,L,D কখনও পরপর ব্যবহার করা যায় না।
  • এ সংখ্যায় শুধুমাত্র  I, X, C, M পরপর ব্যবহার করা যায়।
  • এ সংখ্যা লিখার ক্ষেত্রে কোন সংখ্যা ৩ বারের বেশি ব্যবহার করা যায় না।
  • কোন সংখ্যা পরপর বসলে সেগুলো সেই সংখ্যাগুলোর যোগফল। যেমন – III =  (1 + 1 + 1) = 3
  • রোমান পদ্ধতিতে | শুধু V ও XX এর থেকে বিয়োগ হয়।
  • এ সংখ্যা লেখার সময় বড় সংখ্যার চিহ্নর বামপাশে ছোট সংখ্যার চিহ্ন থাকলে ছোট সংখ্যাটি সবসময় বড় সংখ্যা থেকে বিয়োগ হয়ে থাকে। যেমন – |X = (10-1) = 9.
  • এ পদ্ধতিতে কখনও V, L, D কে বিয়োগ করা যায় না।
  • রোমান পদ্ধতিতে XX শুধুমাত্র L,C,M থেকে বিয়োগ হবে।
  • এ পদ্ধতিতে দুটি বড় সংখ্যার চিহ্নের মাঝে ছোট সংখ্যা চিহ্ন থাকলে শেষের বড়ো সংখ্যা থেক বিয়োগ হয়। যেমন – XIV = 10 + (5 – 1) = 10 + 4 = 14
  • এ পদ্ধতিতে বড় সংখ্যার চিহ্নের ডান পাশে ছোট সংখ্যা থাকলে সবসময় যোগ করতে হবে। যেমন – XV = 10 + 5 = 15

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x