আমরা সবাই স্ক্যানার দেখেছি। এটি দেখতে অনেকটা ফটোকপি মেশিনের মতো। এর মাধ্যামে যেকোনো লিখা, ছবি, ড্রয়িং অবজেক্ট ইত্যাদি স্ক্যান করে কম্পিউটারে ডিজিটাল ইমেজ হিসেবে কনভার্ট করা যায়। পরে বিভিন্ন সফটওয়্যার যেমন – Adobe Photoshop এর মাধ্যমে ডিজিটাল ইমেজকে ইচ্ছেমত এডিট করা যায়। কিন্তু অনেকেই স্ক্যানার সম্পর্কে জানে না। তাই আজ আমরা স্ক্যানার কি ? স্ক্যানার কত প্রকার ও কি কি ? স্ক্যানারের কাজ কী? এর সুবিধা-অসুবিধা ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানোর চেষ্টা করব।

স্ক্যানার কি?

স্ক্যানার হলো এক প্রকারের হার্ডওয়ার ইলেকট্রনিক ইনপুট ডিভাইস। যার মাধ্যমে যেকোনো ডাটা স্ক্যান করে কম্পিউটারে নেওয়া যায়। মূলত এর সাহায্যে  যেকোনো ধরণের লিখা, ডকুমেন্ট বা ফটো স্ক্যান করা যায় এবং সেগুলো কে ডিজিটাল ফরম্যাটে রূপান্তরিত করা যায়।

স্ক্যানার কাকে বলে?

যে ইনপুট ডিভাইসের সাহায্যে যেকোনো লিখা, Document, ফটো ইত্যাদিকে Hard copy থেকে Soft copy বা Digital Copy তে রূপান্তরিত করা হয় তাকে স্ক্যানার বলে।

স্ক্যানার কত প্রকার ও কি কি ?

স্ক্যানার বিভিন্ন ধরণের হয়ে থাকে। এর মাঝে কয়েকটি হলো –

  • Flatbed scanner
  • Sheet feed scanner
  • Handheld scanner
  • Drum scanner

Flatbed Scanner  

Flatbed Scanner স্ক্যানারগুলো বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়। আমরা সাধারণত বাড়িতে বা অফিসে যে ধরণের স্ক্যানার দেখতে পাই সেইগুলোর বেশিরভাগই Flatbed scanner ।

Flatbed Scanner কে কোন টেবিল বা মেঝের উপর রেখেই স্ক্যান করতে পারবেন। এ স্ক্যানারের উপরের অংশ তুললে একটি কাচের অংশ দেখা যায়, সেখানে কোন ফটো, টেক্সট বা ডকুমেন্ট রেখে দিয়ে স্ক্যান করা যায়। এ স্ক্যানার দিয়ে স্ক্যান করা অনেক সহজ।

Sheet Feed Scanner

Sheet Feed Scanner টি Flatbed scanner এর তুলনায় অনেক ছোট হয়ে থাকে। সাধারণত Single পেজ স্ক্যান করার জন্য মূলত এ ধরণের স্ক্যানার ব্যবহার করা হয় ।

এ ধরণের স্ক্যানারে সম্পূর্ণ বই স্ক্যান করা হয় না। অনেকগুলো Single-page স্ক্যান করার জন্য এটি একটি বেষ্ট স্ক্যানার। Flatbed scanner এর তুলনায় Sheet feed scanner এর সাহায্যে খুব দ্রুত স্ক্যান করা যায়।

Handheld Scanner

Handheld Scanner স্ক্যানারগুলোর সাইজ অনেক ছোট হয়ে থাকে। এ ধরণের স্ক্যানারগুলোকে হাতে করে সহজেই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায়বহন করা যায়। এ স্ক্যানারগুলো মূলত বারকোড স্ক্যান করার জন্য ব্যবহার করা হয়। এর দাম তুলনামূলকভাবে কম হয়ে থাকে।

সাধারণত শপিংমলে Handheld scanner গুলো বেশি ব্যবহার করা হয়। আপনারা যখন শপিংমলে কোন কিছু কেনেন এবং যখন টাকা পেমেন্ট করতে যান তখন খেয়াল করবেন যে এই স্ক্যানারগুলোর সাহায্যে প্রোডাক্টের উপর থাকা বারকোড গুলো স্ক্যান করা হয় এবং সেই আউটপুট কম্পিউটার দেখা যায়।

Drum Scanner

Drum Scanner কোন ডকুমেন্ট কে High Resolution এ স্ক্যান করার জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এ স্ক্যানারগুলোর দাম তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় এ স্ক্যানারগুলো খুব কম জায়গায় ব্যবহার করা হয়। এ Scanner গুলোতে Photo Multiplier Tube (PMT) টেকনোলজি ব্যবহার করা হয়েছে। যাতে করে কোনো ডকুমেন্টকে হাই রেজুলেশনে স্ক্যান করতে পারে। এর Resolution সাধারণত ৯৬০০×৯৬০০ হয়ে থাকে।

স্ক্যানার কীভাবে কাজ করে?

স্ক্যানার দেখতে অনেকটা ফটোকপি মেশিনের মতো। এতে ফটোকপি মেশিনের মতোই একটি কাচের উপর নির্দিষ্ট টেক্সট, ছবি বা কাগজকে কাচের দিকে মুখ করে রেখো স্ক্যানারের ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। এরপর নির্দিষ্ট কমান্ড দেওয়া হয়। কমান্ড দেওয়ার পর এর কাচের নিচে থাকা একটি আলো প্রক্ষেপনকারি বাল্ব পুরো কাগজটিকে আলোকিত করে। এই আলো পরার মাধ্যমে স্ক্যানারটি কাগজটির পুরো ডাটা পড়ে ফেলে এবং বৈদ্যুতিক তরঙ্গ হিসেবে মনিটরে প্রদর্শন করে।

প্রথমে একটি প্রাকদর্শন দেখায়, এতে করে ব্যবহারকারী তার প্রয়োজন নির্দিষ্ট করে, এরপর স্ক্যান কমান্ড দিয়ে কাগজের ডেটাগুলো চূড়ান্তভাবে কম্পিউটারে সংরক্ষণের জন্য উপস্থাপন করে। পরে ব্যবহারকারী তার প্রয়োজন অনুসারে নাম ও স্থান ঠিক করে এটিকে সংরক্ষণ করে রাখে।

স্ক্যানার এর ব্যবহার বা কাজ কি?

  • ScannerScanner এর মাধ্যমে ক্যামেরায় তুলা ছবি, ডকুমেন্ট, লেখা ইত্যাদি স্ক্যান করে হুবহু কম্পিউটারে ইনপুট আকারে গ্রহণ করা হয়।
  • এটি সাদা কালো বা রঙিন যেকোনো ছবি স্ক্যান করতে পারে।
  • স্ক্যানার ছবি, মুদ্রিত পাঠ্য, হাতের লেখা বা কোনো বস্তুকে স্ক্যান করে এবং একটি ডিজিটাল ছবিতে রূপান্তর করে।
  • এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল যেকোন ডকুমেন্ট, ফোটো  বা কোন লিখাকে কপি করা।
  • এটি গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টস ডিজিটাল ফরম্যাটে রেকর্ড করতে সাহায্য করে।
  • এটি গুরুত্বপূর্ণ ফিজিক্যাল ডকুমেন্ট (যেমন- ব্যক্তিগত নথিপত্র, ব্যবসায়িক কাগজ পত্র, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সার্টিফিকেট, চিঠি ইত্যাদি) স্ক্যান করে  ডিজিটাল কপি তৈরি করে।
  • পেশাদারী মানের কাজের ক্ষেত্রে মূলত প্রকাশনা ও ডিজাইনের কাজের জন্য এটি ব্যবহৃত হয়।
  • অনেক স্ক্যানার প্রিন্টকৃত লেখাকে স্ক্যান করে তা টেক্সট আকারে আউটপুট দিতে সক্ষম। কাজেই কম্পােজ না করে খুব সহজে যথাসম্ভব নির্ভুল টেক্সট পেতে আজকাল উক্ত উচ্চ মানের স্ক্যানার ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
  • খুব দ্রুত Document স্ক্যানিংয়ের ক্ষেত্রে থ্রিডি হ্যান্ডহেল্ড স্ক্যানারগুলো ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিজাইন, রিভার্স, ইঞ্জিনিয়ারিং, ইন্সপেকশন ও অ্যানালিসিস, অফিস-আদালতে, শিক্ষা – প্রতিষ্ঠানে, ডিজিটাল ম্যানুফেকচারিং এবং মেডিকেল অ্যাপ্লিকেশনসমূহের কাজে হ্যান্ডহেল্ড স্ক্যানারগুলাে বেশি ব্যবহৃত হয়।

স্ক্যানার ব্যবহার করা হয় কেন?

উপরের আলোচনা থেকে আমরা স্ক্যানার সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা পেয়েছি। তারপরও অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে যে, স্ক্যানার ব্যবহার করা হয় কেন? চলুন তাহলে জেনে নেই –

স্ক্যানার ব্যবহার করার মূল উদ্দেশ্য হলো বিভিন্ন ধরনের ছবি,লিখা, ডকুমেন্টস বা নথিপত্র কে কপি করে ডিজিটাল ফরম্যাটে রূপান্তর করা। কারণ আমাদের সবার কাছই ডকুমেন্ট থাকে কিন্তু কোন কারণে সেগুলো হারিয়ে যাবার বা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই সেগুলোকে পুনরায় ফিতে পেতে ডিজিটাল ফরম্যাটের প্রয়োজন হয়।

তাছাড়া স্ক্যানারের মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই ও অল্প সময়ে আপনার প্রয়োজনীয় ছবি,লিখা, ডকুমেন্টস অথবা নথিপত্র গুলো কে ডিজিটাল ফরম্যাটে রূপান্তর করে দিতে পারবেন।

ফলে দুর্ঘটনাবশত আপনার প্রয়োজনীয় ছবি,লিখা, ডকুমেন্টস অথবা নথিপত্রগুলো চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার কোন সম্ভাবনা থাকবে না। তাহলে বুঝতেই পারছেন স্ক্যানার কেন ব্যবহার করা প্রয়োজন।

স্ক্যানারের সুবিধা

  • স্ক্যানার Scan, copy ইত্যাদির চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম।
  • এটি ছবি, ডকুমেন্ট, টেক্সট, নথিপত্র ইত্যাদিকে হার্ড কপি থেকে সফট কপিতে রূপান্তরিত করতে সাহায্য করে।
  • যেকোনো Physical Data কে (যেমন -গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সার্টিফিকেট ইত্যাদি) Digitally স্ক্যান করে কম্পিউটারে সংরক্ষন করে রাখা যায়।
  • স্ক্যানার চালানো অনেক সহজ।
  • এর মাধ্যমে USB Cable,  Parallel Ports অথবা  Wifi ব্যবহার করে ল্যাপটপ ডেক্সটপ নোটপ্যাড সহ অন্যান্য ডিভাইস কানেক্ট করে স্ক্যান করা যায়।

স্ক্যানার এর অসুবিধা

  • Scanner এর মাধ্যমে কোন ডকুমেন্ট স্ক্যান করে প্রিন্ট প্রিন্ট করলে তার Quality কিছুটা খারাপ হয়ে যায়।
  • স্ক্যান করা ডকুমেন্ট স্কুলি হার্ডডিক্সে অনেক জায়গা নেয়।
  • অনেক ডাটা একত্রে স্ক্যান করতে চায়লে অনেক বেশি সময় লাগে।
  • কিছু কিছু স্ক্যানারের দাম অনেক বেশি হয়ে থাকে।

স্ক্যানারের দাম কেমন ?

উপরের আলোচনা থেকে আশা করি স্ক্যানার সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা হয়েছে। এবার অনেকের মাঝে মনে হতে পারে স্ক্যানারের দাম কেমন হয়? চলুন তাহলে স্ক্যানারের দাম সম্পর্কে জেনে নেই।

সর্বনিম্ন ১০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার মাঝে মোটামুটি ভালো মানের স্ক্যানার পাওয়া যায়। তবে বর্তমানে এর দাম আরও কিছুটা কমেছে। মূল কথা হলো, আপনি কি ধরণের স্ক্যানার কিনতে চান, তার উপর মূলত দাম নির্ভর করে।

FAQ

০১. স্ক্যানার কি ধরণের ডিভাইস ?
উত্তর: স্ক্যানার একটি ইনপুট ডিভাইস।

০২. স্ক্যানার এর দাম কত ? 
উত্তর: সর্বনিম্ন ১০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার মাঝে মোটামুটি ভালো মানের স্ক্যানার পাওয়া যায়। তবে বর্তমানে এর দাম আরও কিছুটা কমেছে। মূল কথা হলো, আপনি কি ধরণের স্ক্যানার কিনতে চান, তার উপর মূলত দাম নির্ভর করে।

বর্তমানে প্রায় সব ধরণের প্রিন্টারে স্ক্যানিং এর অপশন আছে। তাই বাজেট কম হলে আপনারা এ ধরণের প্রিন্টার কিনতে পারেন।
তো আজ এখানেই শেষ করছি। আশা করি আজকের আর্টিকেল থেকে আপনারা স্ক্যানার কি? স্ক্যানার কত প্রকার ও কি কি? স্ক্যানারের কাজ কী? এর সুবিধা, অসুবিধা ইত্যাদি বিষয়ে জানতে পারলেন। আর্টিকেলটি পড়ে কেমন লাগল তা কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না কিন্তু। ধন্যবাদ।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x